somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এক ঈশ্বরের সংজ্ঞা এবং আত্মা ও ঈশ্বর তথ্যে নাস্তিক্যবাদীদের কর্মপন্থা।

১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৭ রাত ৮:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ধর্ষক গুরু রাম-রহিম সিং

ঈশ্বর:
ঈশ্বর কারো মুখাপেক্ষী নন, তিনি কারো জন্ম দেননি, আর তিনি কারো জন্মের নন।
ইসলাম ধর্মে ঈশ্বরের যে সমস্ত বৈশিষ্ট্য দেয়া আছে, এই সমস্ত বৈশিষ্ট্য সূচক সিম্বলের মধ্যে পরস্পর যোগ সাজেশ করলেও ঈশ্বরের কর্ম ক্ষমতা নির্ধারণ করা এবং তার গঠন আকৃতিকে মূর্ত করা যায়না। অর্থাৎ কোরানিক বর্ণনা মতে, ঈশ্বর একটি বিমূর্ত ধারণা (নিরাকার)।

এখন প্রশ্ন আসে ঈশ্বর তাহলে কেমন বা কি?


আমার মতে, সৌরজগৎ/ মহাজগৎ/ সৃষ্টির জগৎের দৃশ্যমাণ বা অদৃশ্যমান অথবা এর বাইরে যা কিছু থাকুক না কেন তা সচল রাখতে এবং সৃষ্টির ধারাক্রম ঠিক রাখতে একটি কেন্দ্রীয় একক শক্তির প্রয়োজন হয়। এই কেন্দ্রীয় একক শক্তিই হলেন আমাদের বিশ্বাসকৃত ঈশ্বর।

ধর্মে ঈশ্বরের কনসেপ্ট (ধারণার) তারতম্যের কারণে অনেক সময় তার সাধারণ অনুসারীদের বিপদ ডেকে আনতে পারে। বর্তমান সময়ে ভারতের রাম-রহিম এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ। এই ধর্ষক গুরুর কারণে অনেকগুলো প্রাণের অকাল প্রায়াত হয়েছে। এখন এই রাম-রহিমের জন্য যে আত্মাগুলো বিগত হইছে তারা যখন জানতে পেরেছে রাম-রহিম ঈশ্বরের বৈশিষ্ট সূচক কেউনা, তখন তাদের (রাম-রহিমের জন্য উৎসর্গকৃত আত্মা) আত্মার ভিতর যে উত্তেজক সৃষ্টি হয়েছে তা নিশ্চয় সুবিধাজনক ছিলোনা। এখানে এই দায় কে নিবে?
ধর্মের প্রবর্তকগণ নাকি রাম-রাহিম অথবা যারা অহেতুক জীবন দিয়েছে তারা?


------ -
আত্মার প্রস্হান এবং নাস্তিকদের কর্মপন্থা:


আমি জানি, একদিন আমাদের আত্মা খাঁচা ছাড়া হবে। আচ্ছা, আত্মা যখন খাঁচা ছাড়া হবে তখন কি দেহ আত্মা কে ত্যাগ করতে চাইবে? আর আত্মাই কি দেহকে সঙ্গ পাওয়ার জন্য আকুতি জানাবেনা? কেননা দেহ ছাড়া আত্মা তার রুপ/স্বরুপ প্রকাশিত করতে পারেনা। তাহলে কেন তাদের মধ্যে এই প্রস্হান?

প্রকৃত পক্ষে আত্মার অবস্হান নির্ভর করে দেহের অবস্হানের উপর। যতক্ষণ পর্যন্ত দেহে আত্মা ধারণের উপযোগী থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত আত্মা দেহের মধ্যেই থাকে। কিন্তু কোন কারণে দেহ তার আত্মাকে ধরে রাখার যোগ্যতা হারালে তখন আত্না দেহ থেকে চলে যায়।

এখন প্রশ্ন হলো আত্মা কোথায় যায়?

এক্ষেত্রে আপনি দুটি মাধ্যমের আশ্রয় নিতে পারেন:

এক. ধর্ম
দুই. বিজ্ঞান

এক. বিভিন্ন ধর্মে আত্মার প্রস্হান সম্পর্কে কতগুলো তথ্য প্রধান করেছে। এর মধ্যে আলোচিত তথ্য হলো- নরক (জাহান্নাম) স্বর্গ (জান্নাত)। এটা স্ব-স্ব অনুসারীরা ধর্ম অনুযায়ী বিশ্বাস করে থাকে যে আত্মা হয় নরকে না হয় স্বর্গে যাবে।

দুই.: বিজ্ঞান এই বিষয়ে এখনো পরিস্কার কোন ধারণা দিতে পারেনি। বিজ্ঞান যদি এবিষয়ে প্রমাণযোগ্য কোন ব্যাখ্যা দাড় করাতে পারে; আর সে ব্যাখ্যা যদি কোন কারণে ধর্মের বিরুদ্ধে যায় তাহলে পৃথিবীর বড় বড় ধর্মগুলো তার বিশ্বাস যোগ্যতা হারাবে। এবং বিলুপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে।


তাই যে সমস্ত নাস্তিকরা ঈশ্বর তথ্যকে ব্যর্থ করার জন্য বার বার বিফল মনোরথে ফিরে আসছেন তাদের উচিৎ হবে মৃত্যু পরবর্তী আত্মার রহস্যের প্রামাণ ও বিজ্ঞান ভিত্তিক তথ্য আবিষ্কার করা। তারা যদি এই কর্মে সফল হন এবং তাদের নব্য আবিষ্কৃত বিজ্ঞান ও প্রমাণ ভিত্তিক তথ্য যদি ধর্মীয় মতবাদের বাহিরে যায়, তাহলে যুগ যুগ ধরে ঈশ্বর মতবাদ নিয়ে আস্তিক এবং নাস্তিকদের মধ্যে যে মত বিরোধ চলছিল তার সমাধান হবে- আশা করা যায়। ধর্মীয় কারণে পৃথিবীতে যে হানাহানি বিদ্যামান রয়েছে তাও লোপ পাবে।
আর যদি ধর্মীয় মতবাদের সাথে মিলে যায় তাহলেও মঙ্গল; কারণ এতে বিশ্বাস- অবিশ্বাস ব্যবধান ঘুচে যাবে।

খেয়াল: আত্মার রহস্যের প্রমাণ ও বিজ্ঞান ভিত্তিক তথ্য কোন আস্তিক আবিষ্কার করতে পারবেনা বা সেদিকে যাবেনা বিশ্বাসের কারণে। আর যে সমস্ত নাস্তিক ঈশ্বর তথ্যকে ব্যর্থ করার প্রচেষ্টা চালান তারা পারবেনা তাদের মানুষিক অক্ষমতার কারণে। কারণ তাদের মানুষিক সংকীর্ণতার ধরুণ তাদের মস্তিষ্ক এই তথ্য আবিস্কারের পর্যায়ে যাবেনা বা তারা কখনো তাদের মাথার ঘিলুকে সে লেভেলে নিতে পারবেনা ।

বুঝতে হবে:
আজ পর্যন্ত যে সমস্ত বিজ্ঞানীরা মানব সভ্যতার আবদান রেখেছেন তার অধিকাংশ কোননা কোন ধর্মের অনুসারী ছিলেন। দুই চারজন নাস্তিক থেকে থাকলেও তারা ঈশ্বর তথ্যকে নিয়ে এত ভাবতে যাননি। কারণ ঈশ্বর নিয়ে ভাবলে তারা মানব সভ্যতা নিয়ে ভাবার অবকাশ পেতেন না। এছাড়াও যদি দুই চারজন ভেবে থাকেন তারা 'ঈশ্বরের ব্যর্থ তথ্য' আবিস্কারে পর্যায়ে যেতে পারেনি । আর সবচেয়ে বড় কথা হলো, বর্তমানে নব্য নাস্তিকতায় অভিনয় কারীদের মত তারা অত গোড়াপন্হী ছিলেন না।

এখন আমাদের মধ্যম পন্থা অবলম্ভনকারী বিজ্ঞানীদের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে আত্মার অর্ন্তধানের রহস্য নিয়ে।

(আমার ব্যক্তিগত চিন্তাধারা)।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৭ রাত ৯:২৩
২২টি মন্তব্য ১৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৭

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

মঙ্গলবার রাত ১০টা ২৭ মিনিট। গুলশানের একটি হাসপাতালে থেমে গেল ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের হৃদয়- দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর।

আর ঠিক তখন, শহরের অন্য প্রান্তে, মুন্সিগঞ্জ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×