somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্পটা খরগোস অথবা নির্বোদ অলসের

২৯ শে মে, ২০০৯ দুপুর ১২:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছেলেটা বড্ড অলস, যদিও কাজ করার মতো যতেষ্ঠ শক্তি তার আছে কিন্তু কাজ তার খুব অনাগ্রহের বিষয় তার বুড়ো বাপটাও হয়ে পড়েছে প্রায় কর্ম অক্ষম আর মা নিজেদের ছোট আঙ্গিনায় সবজি চাষ করে কোন এক ভাবে টিকিয়ে রেখেছে সংসার টাকে ।

অলস ছেলটার কাজ করার গুন না থাকলেও একটা গুন অবশ্য ছিল তা হলো পশু পাখিদের প্রতি অক্রিত্তিম ভালোবাসা, কয়দিন যাবত ও একটা খরগোশ পুশছে যেটাকে ও একটা সাপের মুখ থেকে বাঁচিয়ে এনেছে
মারক্তক জখম ছিলো খরগোশটার শরীরে ছেলেটা খুব যত্ন নিয়ে সারিয়ে তুলেছে তা, অলস যুবক ছেলেটা যখন দেখলো খরগোশ টাকে সুস্থ্য বলা যায় তখন ও খরগোশটাকে ছেড়ে দিলো বনের ভেতর ।

রাতে ওদের ভাঙ্গা ঝুপরি ঘরে ঘুমিয়ে ছিলো ওরা, আর বাইরে ঝর বইছিলো প্রচন্ড গতিতে এই ঝরের রাতে কোন এক অচেনা নারী কন্ঠ বাইরে থেকে ডাকতে থাকে,
প্রথম অলস ছেলেটার মা এর ঘুম ভাঙ্গে দরজা খুলে দিলে হুরমুর করে ভেতরে ঢোকে অসম্ভব সুন্দর একটা মেয়ে ক্রিম রংয়ের শাড়ি পরা মেয়েটাকে পরি অথবা তার চেয়েও সুন্দর মনে হচ্ছিলো, মেয়েটা বলল-
আমি আমার ঠিকানা হারিয়ে ফেলেছি আমাকে তোমরা আশ্রয় দাও
ততক্ষনে জেগে উঠেছে অলস ছেলেটা এবং ওর বুড়ো বাপ ।
বাপ বলল- কিন্তু আমার ঘরে যুবক ছেলে আছে তোমাকে এখানে আশ্রয় দেয়া শোভনিয় নয় তাছাড়া তুমি খুব সুন্দর মেয়ে মানুষ আমার ভাঙ্গা ঘর
তুমি চাইলে খুব ভালো বাড়িতে আশ্রয় নিতে পারো,
মেয়েটা বলল- কিন্তু আমার ইচ্ছে আমি তোমাদের এখানেই থাকি তোমার চাইলে আমি তোমাদের অলস ছেলের সাথে বিয়ে বসতেও রাজি আছি তাতে করে আললাহ হয়তো তোমাদের অবস্থার উন্নতি করবেন ।
সুন্দর মেয়েটার কথায় ওরা আপত্তি করলোনা বিয়ে হয়ে গেল ওদের ।

বিয়ের দুদিন পরে মেয়েটা ওর স্বামি অলস ছেলেটাকে বলল- তুমি আমাকে একটা চিকন সুঁই এনে দাও আর দাও সেলাই করার জন্য একটা কাঠের ফ্রেম, আমি তোমাকে একটা চাদর বুনে দেবো যা হবে খুব মুল্যবান আর সেটা বিক্রি করে ঘুচে যাবে তোমাদের অভাব ।
ছেলেটা যদিও অলস তবু তার সুন্দর বউয়ের চাওয়া টা সে পূরন করলো
সুঁই আর ফ্রেম নিয়ে মেয়েটা ঢুকলো ওদের শোবার ঘরে আর বলে গেল আজ সারাদিন এবং সারা রাত যতক্ষ ন না সে নিজে কাজ শেষ করে বের
হয় ততক্ষন কেউ যেন তাকে না বিরক্ত করে
ও কেউ ঠিক বুঝতে পারলোনা কি ঘটছে, যতক্ষন না সুন্দর মেয়েটা ঘর থেকে বের হলো, মেয়েটার হাতে অত্যন্ত মিহি কারুকাজ করা একটা চাদর
যা ওরা সারা জীবনেও দেখেনি এতটাই কারুকাজ করা ছিলো তাতে
মেয়েটা ওর অলস স্বামির হাতে তুলে দিলো চাদরটা, বলল- এটা বাজারে নিয়ে যাও আর বিক্রি করো খুব বেশি দামে যা দিয়ে তোমাদের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন করা যায় আর হ্যা, এটা যার কাছেই বিক্রি করো তাকে বলে দিও সে যেন এমন চাদর দিতিয়টা আশা না করে কারন আমি এমন চাদর সুধু একটাই বুনতে পারি ।

অলস ছেলেটা বাজারে গেল সেই চাঁদর নিয়ে তার চাঁদরটা কিনতে চাইলো অনেকে কিন্তু সেই ধনি ব্যাবসায়িটাই পেল যে দিলো সবার চেয়ে বেশি দাম
একটা মাত্র চাঁদর বিক্রি করে ঘুচে গেল ওদের অভাব ওরা হয়ে উঠলো গ্রামের বিত্তশালি পরিবার ।

চাঁদর কিনে নেয়া ধনী ব্যাবসায়িকে যদিও বলেছিলো যে এমন চাঁদর আর হবেনা তবু সে বারবার আসতে থাকলো সেই অলস ছেলেটার কাছে এমন আরও চাঁদর এর জন্য আর সেই অলস নির্বোদ ছেলেটাও হয়ে উঠলো লোভি । তাই বারেবারে তার সুন্দর বউকে বলতে থাকলো এমন আরও চাঁদর বানিয়ে দিতে, তার বউ একরকম বাধ্য হয়েই বানিয়ে দিলো আরও একটি চাঁদর কারন এটা না করলে তাকে তার অলস নির্বোদ স্বামির অত্যাচার সইতে হবে,
এমন করে কেটে গেল আরও কিছুদিন তৈরি হলো আরও কিছু চাঁদর
ওরা হতে থাকলো আরও ধনী কিন্তু কেউ দেখলোনা তার সুন্দর বউ ধিরে ধিরে হয়ে যাচ্ছে রুপহীন রষহীন মলিন একজন মানুষ

সুন্দর মেয়েটার সৌন্দর্য কমে যাওয়াতে আকর্ষনও কমে গেল সবার এবং অলস নির্বোদ ছেলেটা ওকে আরও চাঁদর বুনতে বলল ।

তোমরা খুব লোভি চাওয়াটা সীমাহীন খুব তারতারি হয়তো এ লোভ তোমাকে ছাড়তে হবে এই বলে মেয়েটা সুঁই আর ফ্রেম নিয়ে ঢুকলো ঘরে
একে একে কেটে গেলো তিনটা দিন ও বের না হওয়াতে অলস ছেলেটা কিছুটা ঘাবরে গেল মেয়েটা চাঁদর তৈরি করার সময় কাউকে বিরক্ত করতে না করে যায় তাই বলে কখনও এত দেরি হয়না অলস ছেলেটা ওর বুড়ো বাপ আর মা কে নিয়ে দরজা ভেঙ্গে ভেতরে ঢুকলো আর দেখলো ওর সেই বনে ফিরিয়ে দেয়া খরগোসটা শরীরের শেষ পশম টেনে তুলে তা দিয়ে চাঁদর বুনছে চাঁদর বোনা শেষ হতেই শরীর ফুটো করে রক্ত বের করে চাঁদরে দিতেই সেটা সুন্দর কারুকাজে ছেয়ে গেল ,

এরপর খরগোশটা ছুটে গেল বনের দিকে, অলস ছেলেটা চেয়ে দেখলো ওর সর্বশেষ পষম আর সর্বশেষ রক্ত বিন্দু দিয়ে তৈরি করা চাঁদর রেখে
চলে যাচ্ছে লোমহীন রক্তহীন খরগোশটা ।।

৬টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×