যথা সময়ে ই.সি.জি এর রিপোর্ট পেডাক্তার রিপোর্ট দেখে বল্লেন “হালকা একটু সমস্যা আছে, হাসপাতালে অ্যাডমিশন নিতে হবে” ডাক্তারের কথা অনুযায়ী ঐ দিনই বাবাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হল।
উৎপত্তিঃ
আমার জীবনের সবচেয়ে বড় দুঃখজনক ঘটনা ঘটে ১৯৯৬ইং সালে। আমায় যে ব্যক্তি সবচেয়ে বেশি ভালবাসতো, আমার ব্যথায় যার চোখ দিয়ে সর্বপ্রথম অশ্রু ঝরতো, আমার সেই মমতাময়ী মা, এ বছর আমাদের সবাইকে ছেড়ে পাড়ি জমান ওপারের দুনিয়ায়। মার ইন্তেকালে পর আমাদের অবস্থা খুব করুন হয়ে দাড়ায়। বাবা রন্না-বান্না করে, আমাদের খাইয়ে অফিসে যেতেন, আবার অফিস থেকে ফিরে রান্না-বান্না করে আমাদের খাইয়ে তারপর নিজে খেতেন। অতপর আমাদেরকে ঘুম পারিয়ে দিতেন। এভাবে কেটে গেল প্রায় ছয় মাস। যাইহোক বাবার হার্টের রোগের উৎপত্তির মূল কারন হচ্ছে, মায়ের মৃত্যু। আর এ রোগ প্রথম দৃষ্টিগোচর হয় ১৯৯৭ইং সালে।
একাকীত্বঃ
বাবাকে হাসপাতালে ভর্তি করার পর আমি খুব একাকীত্ব অনুভর করতে লাগলাম। এর কারন হচ্ছে, ওখানে রোগীর সাথে কাউকে থাকতে দেয়া হয়না। বিষয়টা আমার জানা ছিলনা। এর আগে আমি এমনটি দেখিনি। অর্থ্যাৎ বিষয়টির সাথে আমি ছিলাম সম্পূর্ন অপরিচিত। বেডের বাহিরে কয়েকটা চেয়ার ফেলে রাখা হয়েছে, ওখানেই থাকতে হয় অপেক্ষায়। কখন কোন রোগীর কি প্রয়োজন। প্রথম দু’টা দিন কেটে গেল মোটামুটি ভালভাবেই। সমস্যা শুরু হলো তৃতীয় দিন থেকে। কেননা, নেই ঠিকমত খাওয়া-দাওয়া, নেই ঠিকমত গোসল। অবস্থাটা এমন হলো যে, আমি অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়লাম শারীরিক ভাবে। যেখানে বসতাম ওখানেই ঘুমিয়ে পড়তাম। বাসে বসলেতো কথাই নেই, বসতে দেরি আমার ঘুম আসতে দেরি হতোনা।
আমার ভাবনাঃ
এক পর্যায়ে মনে হলো, এক কাজ করলে কেমন হয়? আশেপাশে যেসব বন্ধু-বান্ধব আছে তাদেরকে খবর দিলে কেমন হয়। কেউনা কেউতো ঠিক আমার ডাকে সাড়া দিবে। তখন ওকে কিছুক্ষনের জন্য হলেও এখানে রেখে আমি একটু ফ্রেশ হয়ে আসতে পারবো। যেই ভাবা সেই কাজ। ভাবতে ভাবতে মোবাইল ফোনটা হাতে নিলাম। এবার পড়লাম আরেক মুছিবতে। কাকে ফোন দিবো আগে? তখন মানসপটে কয়েকজনের ছবি ভেসে এলো। তন্মধ্যে প্রথম যে ছবিটা ছিল, সেটা ছিল সাইফের। কেননা, ওর সাথে আমার বন্ধুত্বটা একটু ভিন্ন রকম। ওর সবচেয়ে যে জিনিসটা ভাল লাগতো তা হচ্ছে, দেখা হলেই শুরু ও শেষে বলত “ডিয়ার নিয়ার অলঅয়েস”
বিশেষ কারনঃ
সাইফ চাঁদপুরের একটা মেয়ের সাথে প্রেম করত। বিষয়টা আমি জানতে পারি বেশ কিছুদিন পরে। যখন ওদের প্রেমটা বেশ জমে উঠেছে। একদিন বিকেলে সংক্ষেপে ওর প্রেমের কাহিনী বর্ননা করে বল্লো “সাদিক ভাই! আমরা বিয়ে করবো, আর এ জন্য যা কিছু করা দরকার, আপনাকে করতে হবে। আমি আপনার উপর ১০০% আস্থাশীল। আপনি ছাড়া আর কেউ এ কাজ করতে পারবেনা। ইত্যাদি আরো অনেক কথা হল” যাই হোক অনেক ঘটনা। শেষ মেষ আমি ওদেরকে নিয়ে গেলাম, মানিকগঞ্জে আমার বড় খালার বাড়ীতে। সেখানেও অনেক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল। আমার এক কাজিন আমাদে কে অনেক হেল্প করেছে। যার জন্য আমরা কাজটি সুষ্টভাবে সম্পন্ন করতে পেরেছি।
কথাগুলো ভাবতে ভাবতে সাইফের নম্বরে ফোন দিলাম। ওকে সবকিছু খুলেও বল্লাম। শুনে ও যা বল্লো তা শুনে আমি বিষ্ময়ে থ বনে গেলাম। ও এভাবে বলছিল “দেখুন সাদিক ভাই! যেভাবে ভাল হয় করেন, আগামীকাল যদি সম্ভব হয়, সময় পাই আমি একবার এসে দেখে যেতে পারি”। ও ওর বিয়ের জন্য যেভাবে আমায় জোর দিয়ে বলেছিল “আপনাকেই সব কাজ করে দিতে হবে, আপনার উপরেই সবকিছু নিভূর করছে” ওর কথা শুনে, আমি আর পারলামনা ওর মত করে জোর দিয়ে কিছু বলতে। লাইনটা কেটে গেল।
এর পর মনে পড়লো, রুপার কথা। ও পড়ে ইডেন কলেজে। ওকে ফোন দিলাম। সব কিছু খুলে বলার পর ও আমার উপর ভীষন রাগ করে বল্লো “গতকাল আঙ্কেলকে এনেছেন, আর আজ বলছেন আমায়? গতকাল কেন বল্লেননা। আজতো বিকেল হয়ে গেছে, আমি আগামীকাল অবশ্যই আসবো আঙ্কেলকে দেখতে। যাইহোক ওর কথায় অনেকটা আশ্বস্ত হলাম।
এভাবে আরো কয়েকজনকে ফোন করলাম। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে শাহিন, মনির, শরিফ ও জহির। সবাই বল্লো, আগামীকাল আসবে। আমি প্রতিক্ষার প্রহর গুনতে লাগলাম। কাল ওরা সবাই আসবে! ভাবতেই খুব ভাল লাগলো। ভাবতে ভাবতে সন্ধ্যা পেড়িয়ে আসল রাত। আবার রাত পোহায়ে এলো সকাল। আমি মাঝে মাঝে ঘড়ির দিকে দেখছি আর মনে মনে বলছি ওরা আসছেনা কেন? এখনো। এভাবে ভাবতে ভাবতে দিনটা কেটে গেল, কেউ আর এলোনা। মনটা আমার খুব খারাপ হয়ে গেল। নিজের কাছে নিজেই ছোট হয়ে গেলাম। পিছনের দিনগুলোর কথা মনে পড়তে লাগল। কিভাবে সাইফের সাথে প্রথম পরিচয়, কিভাবে আস্তে আস্তে বন্ধুত্ব। কিভাবে শাহিন, রুপা, জহির মনির ওদের সাথে পরিচয়, ওরা আমার জন্য কি করেছে, আমিইব কতটুকু করতে পেরিছি। ইত্যাদি ভাবতে ভাবতে রাতের আধার নেমে এলো চারপাশ জুড়ে।
ওদের উপর খুব রাগ হতে লাগল। ওরা কেমন বন্ধু আমার। যারা আমার মনের অবস্থা বুঝেনা, বুঝেনা আমার চাওয়া-পাওয়া। ইচ্ছে করছে সবার নম্বর দেই ডিলেট করে। আর করবোনা ওদের সাথে যোগাযোগ। এমন বন্ধুত্ব! দরকার নেই আমার । এসব ভাবতে ভাবতে এক সময় চোখে পানি চলে এলো।
আবার ভাবতে লাগলাম, না ওদের উপর রাগ করে কি হবে। কাজটাতো আর ওদেরনা। বাবাতো ওদেরনা, আমার। সুতরাং কাজটা আমাকেই সম্পন্ন করতে হবে।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০১০ ভোর ৪:০৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



