somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ক্রিকেট এবং চাতক পাখির গল্প

১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১১ রাত ৩:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১৯৯৭ সালে যখন বাংলাদেশ আইসিসি ট্রফির সেমিফাইনালে জিতে বিশ্বকাপ ক্রিকেটে জায়গা করে নিয়েছিল তখন আমার প্রাথমিক বিদ্যার দৌড়ও শেষ হয়নি। ক্রিকেট উন্মাদনায় গা ভাসিয়ে দিয়েছিলাম তখনি। ফাইনালে কি হয়েছিল তা এখন বলা’ই বাহুল্য। তখন ক্রীড়ালোক’র খুব কাটতি। ক্রীড়ালোকের মধ্য পাতায় প্রকাশিত সেই সময়ের জাতীয় দলের পোস্টারটা বাসার দেওয়ালে লাগিয়ে দিয়েছিলাম। ‘১৯৯৯ বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ অর্জনকারী বাংলাদেশ’ ক্যাপশনে ছাপা সেই পোস্টারের দিকে তাকিয়ে থাকতাম অনেকক্ষণ ধরে। অবাক দৃষ্টির বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ড আর পাকিস্তানকে হারিয়ে পুরো দেশকে উদ্বেলতায় ভাসিয়ে দিয়েছিলেন নান্নু, বুলবুল আর আকরাম খানরা। বিশেষ করে পাকিস্তানকে হারিয়ে ক্রিকেটাররা সেইদিন যখন নর্দাম্পটনের আকাশে লাল সবুজ উড়িয়েছিলেন তখন হাজার মাইল দূর থেকে আমিও এবং আমরা উড়ছিলাম অন্যরকম ভালোলাগায়। ২০০০ সালের ২৬ জুন টেস্ট স্ট্যাটাস প্রাপ্তি, নভেম্বরের টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেকের মধ্য দিয়ে স্বপ্ন তখন ডানা মেলা পাখি। এরপর ওয়ানডে ক্রিকেটে একে একে সব ক্রিকেট পরাশক্তিসমূহ বধ, টেস্ট ক্রিকেটে সর্বকনিষ্ট সেঞ্চুরিয়ানের আগমন, প্রথম টেস্ট জয়, সাকিবের সেরা টেস্ট অলরাউন্ডারের স্বী্কৃতি, লডসের অনার্স বোর্ডে তামিমের নাম লেখানো সহ আরো অনেক অমূল্য প্রাপ্তির মাধ্যমে লাল-সবুজ আরো বিস্তৃত হয়েছে পুরো বিশ্বে। ক্রিকেট বিশ্বে বাংলাদেশ নামটা তখন শুধু কিছু শব্দের সমাহার না, কিছু অহংকারের অলঙ্কার। সারা বিশ্বে সেই সাথে একটা বিষয় অবচেতন মনে আমাদের মাঝে জায়গা করে নেয়, "একতাবদ্ধ বাঙ্গালী"। রাজনৈতিক টানাপোড়েন আর দ্বন্ধ-সংঘাতের বাংলাদেশ একটা জায়গায় এসে ভুলে যায় সব বিভক্তি। আজন্ম বিপরীতভাষী দুই মেরুর দুই রাজনৈ্তিক শক্তিও এক সুরে কথা বলে ক্রিকেট নিয়ে। এই ক্রিকেটেই আমরা খুঁজে পাই কিছু নতুন পরিচয়, কিছু অমুল্য স্বী্কৃতি, ভুলে যাওয়া বাংলাদেশত্ব, আর কিছু অসাধারণ ভাল লাগার মূহুর্ত। এই ভাল লাগা পূর্ণতা পায় একটা বিরাট আয়োজনের অধিকার অর্জনের মধ্য দিয়ে। চমক লাগানো বিশ্বকাপ উদ্বো্ধনী অনুষ্টান আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ দেখিয়ে দেয় “in the school of life, life is about endless learning. বুক ভরে যাওয়া ‘Beautiful Bangladesh’ প্রমাণ করে দিয়ে গেছে আমরা এখনও ‘সারা বিশ্বের বিস্ময়”।
আমরা চাতকের দল অপেক্ষা করছিলাম কিছু বৃষ্টির জন্য। তোমাকে ধন্যবাদ ক্রিকেট, তুমি বৃষ্টি হয়ে এসেছে আমাদের মাঝে। এই বৃষ্টির ফোঁটায় সিক্ত হোক গাছের পাতা, খড়ের চাল, কংক্রিটের ছাদ,ধানের মাঠ, পিচ ঢালা রাস্তা, মেঠো পথ আর প্রত্যেকটি চাতক।
তোমাকে ধন্যবাদ দেশমাতা, তুমি আমাকে এমন একটি school এর গর্বিত শিক্ষার্থী বানিয়েছ যেখানে দাঁড়িয়ে আমি সারা বিশ্বকে জানিয়ে যায় ‘ Here life happens, welcome to the school of life……… Admission going on………welcome to Beautiful Bangladesh.



****** মাত্র'ই অসমাপ্ত বিজয় মিছিল শেষ করে আসলাম। বিজয় উৎসব চলুক সারা রাত, অবিভাজ্য বাঙ্গালীদের মিছিল...
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই মার্চ, ২০১১ সকাল ৭:৪৬
১১টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×