১৯৯৭ সালে যখন বাংলাদেশ আইসিসি ট্রফির সেমিফাইনালে জিতে বিশ্বকাপ ক্রিকেটে জায়গা করে নিয়েছিল তখন আমার প্রাথমিক বিদ্যার দৌড়ও শেষ হয়নি। ক্রিকেট উন্মাদনায় গা ভাসিয়ে দিয়েছিলাম তখনি। ফাইনালে কি হয়েছিল তা এখন বলা’ই বাহুল্য। তখন ক্রীড়ালোক’র খুব কাটতি। ক্রীড়ালোকের মধ্য পাতায় প্রকাশিত সেই সময়ের জাতীয় দলের পোস্টারটা বাসার দেওয়ালে লাগিয়ে দিয়েছিলাম। ‘১৯৯৯ বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ অর্জনকারী বাংলাদেশ’ ক্যাপশনে ছাপা সেই পোস্টারের দিকে তাকিয়ে থাকতাম অনেকক্ষণ ধরে। অবাক দৃষ্টির বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ড আর পাকিস্তানকে হারিয়ে পুরো দেশকে উদ্বেলতায় ভাসিয়ে দিয়েছিলেন নান্নু, বুলবুল আর আকরাম খানরা। বিশেষ করে পাকিস্তানকে হারিয়ে ক্রিকেটাররা সেইদিন যখন নর্দাম্পটনের আকাশে লাল সবুজ উড়িয়েছিলেন তখন হাজার মাইল দূর থেকে আমিও এবং আমরা উড়ছিলাম অন্যরকম ভালোলাগায়। ২০০০ সালের ২৬ জুন টেস্ট স্ট্যাটাস প্রাপ্তি, নভেম্বরের টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেকের মধ্য দিয়ে স্বপ্ন তখন ডানা মেলা পাখি। এরপর ওয়ানডে ক্রিকেটে একে একে সব ক্রিকেট পরাশক্তিসমূহ বধ, টেস্ট ক্রিকেটে সর্বকনিষ্ট সেঞ্চুরিয়ানের আগমন, প্রথম টেস্ট জয়, সাকিবের সেরা টেস্ট অলরাউন্ডারের স্বী্কৃতি, লডসের অনার্স বোর্ডে তামিমের নাম লেখানো সহ আরো অনেক অমূল্য প্রাপ্তির মাধ্যমে লাল-সবুজ আরো বিস্তৃত হয়েছে পুরো বিশ্বে। ক্রিকেট বিশ্বে বাংলাদেশ নামটা তখন শুধু কিছু শব্দের সমাহার না, কিছু অহংকারের অলঙ্কার। সারা বিশ্বে সেই সাথে একটা বিষয় অবচেতন মনে আমাদের মাঝে জায়গা করে নেয়, "একতাবদ্ধ বাঙ্গালী"। রাজনৈতিক টানাপোড়েন আর দ্বন্ধ-সংঘাতের বাংলাদেশ একটা জায়গায় এসে ভুলে যায় সব বিভক্তি। আজন্ম বিপরীতভাষী দুই মেরুর দুই রাজনৈ্তিক শক্তিও এক সুরে কথা বলে ক্রিকেট নিয়ে। এই ক্রিকেটেই আমরা খুঁজে পাই কিছু নতুন পরিচয়, কিছু অমুল্য স্বী্কৃতি, ভুলে যাওয়া বাংলাদেশত্ব, আর কিছু অসাধারণ ভাল লাগার মূহুর্ত। এই ভাল লাগা পূর্ণতা পায় একটা বিরাট আয়োজনের অধিকার অর্জনের মধ্য দিয়ে। চমক লাগানো বিশ্বকাপ উদ্বো্ধনী অনুষ্টান আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ দেখিয়ে দেয় “in the school of life, life is about endless learning. বুক ভরে যাওয়া ‘Beautiful Bangladesh’ প্রমাণ করে দিয়ে গেছে আমরা এখনও ‘সারা বিশ্বের বিস্ময়”।
আমরা চাতকের দল অপেক্ষা করছিলাম কিছু বৃষ্টির জন্য। তোমাকে ধন্যবাদ ক্রিকেট, তুমি বৃষ্টি হয়ে এসেছে আমাদের মাঝে। এই বৃষ্টির ফোঁটায় সিক্ত হোক গাছের পাতা, খড়ের চাল, কংক্রিটের ছাদ,ধানের মাঠ, পিচ ঢালা রাস্তা, মেঠো পথ আর প্রত্যেকটি চাতক।
তোমাকে ধন্যবাদ দেশমাতা, তুমি আমাকে এমন একটি school এর গর্বিত শিক্ষার্থী বানিয়েছ যেখানে দাঁড়িয়ে আমি সারা বিশ্বকে জানিয়ে যায় ‘ Here life happens, welcome to the school of life……… Admission going on………welcome to Beautiful Bangladesh.
****** মাত্র'ই অসমাপ্ত বিজয় মিছিল শেষ করে আসলাম। বিজয় উৎসব চলুক সারা রাত, অবিভাজ্য বাঙ্গালীদের মিছিল...
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই মার্চ, ২০১১ সকাল ৭:৪৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



