somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি কৈশোর গল্প

০৩ রা জানুয়ারি, ২০১২ বিকাল ৫:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

চাঁদকে দেখে প্রথম যেদিন পড়েছিলাম প্রেমে,
চমকে গিয়ে দমকা হাওয়া দাঁড়িয়েছিল থেমে;
উড়ছিল এক প্রজাপতি রঙিন ডানা মেলে
হলদে আলোর মায়ায় ভরা তেমনি এক বিকেলে-
ছাদে উঠে এসে যখন প্রশ্ন করল মিতু,
"বুঝলে কিছু?" - বুঝিনি আমি, বসন্ত সেই ঋতু।।



গ্রীষ্মকালে অলসবেলা; সন্ধ্যা নামে ধীরে
ভ্রমণ শেষে হাওয়ায় ভেসে পাখিরা ফেরে নীড়ে
সারাটি ক্ষণ কিসের যেন অপেক্ষাতে থাকি
নীল আকাশের বুকে একা দলছুট এক পাখি;
একা তো নই, আরও কেউ যেন আছে কাছাকাছি !
মুচকি হেসে বলছে এ মন, "বেশ তো ভালই আছি !"



বর্ষা এল সাথে নিয়ে ঝুমবৃষ্টির বহর
বৃষ্টি-ভেজা সয়না আমার, ফের বাধালাম জ্বর;
অভিমান ভরে বলল মিতু, "এই বুঝি ভাল থাকা?"
সেদিনের সেই ছোট্ট মিতু এখন কত্ত পাকা !
কিংবা আমিই বুঝতে পারিনি - দিনবদলের খেলায়
কবে শৈশব ছেড়ে গেছে সব, এমনি করে হেলায় !



সেই ছোট্ট মিতুকে আজ পড়ছে যে খুব মনে -
ধমক দিলেই উঠত কেঁদে, লুকাত ঘরের কোণে;
দুষ্টুমি করে ভাঙতাম তার পুতুলের বিয়েটাকে
কাঁদতে কাঁদতে চলে যেত সে নালিশ করতে মা'কে।
প্রতি সকালেই ঝগড়া হত, ভাব হত সন্ধ্যায়
পরদিন গিয়ে থাকতাম ফের ঝগড়ার ধান্দায়,
এলোমেলো সেই শৈশব যে কবে হয়ে গেল চুরি
বুঝতে পারিনি অমনোযোগী দুই কিশোর-কিশোরী;
হঠাৎ বুঝি হারিয়ে গেছে সে অবাক ছোট্টবেলা !
আনমনে কবে হয়ে গেছে শুরু মনের নতুন খেলা...



শরৎকালে মনটা উদাস যেন আত্মহারা
গুনতে গুনতে হারিয়ে গুনি রাতের যত্ত তারা;
চাঁদখানি যেন এসেছে নেমে ঠিক আমারই পাশে
চাঁদছাড়া ঐ অন্ধ আকাশ অন্ধকারে হাসে।।
কত কথাই বলে যাও তুমি সারাটা দিন, আর
তারই খুঁটিনাটি ভেবে আমার রাত হয়ে যায় পার।
স্বপ্নে দেখি, হাসছ তুমি, করছ যে দুষ্টুমি,
মনটা কোথায়? - জানিনা, তবে মনের মাঝে তুমি !



হেমন্তের এক বিকেলবেলা কনে দেখা আলোয়
দখিনা হাওয়ার শীতল পরশ লাগছিল বেশ ভালই
আমার কনে, মনের কোনে, ছাড়ছেনা তো পিছু
হঠাৎ দেখি এল মিতু, বলবে নাকি কিছু?
চোখ ছলছল, গলাটা ভেজা, কথাটা বলতে গিয়ে
কিছু কথা তো শোনাই গেল না, বাকিটা ফিসফিসিয়ে...
তখন তো ছাই, এখনও বুঝিনা আমার হৃদয়ে কভু
'আবেগ' বা 'বেগ' বস্তুগুলো দিয়েছিল নাকি প্রভু?
হাসব নাকি কাঁদব সেটাই বুঝতে না আর পেরে
হাঁটতে হাঁটতে এলাম চলে মিতুকে একা ছেড়ে...



শীতের বুড়ি এল কুয়াশার চাদর মাথায় দিয়ে
শিশিরগুলো হাসছে দেখো - আজকে মিতু'র বিয়ে।
আনন্দের সাড়া পড়ল সারা বাড়ি জুড়ে
হাসি-কান্নায় মিশে সানাই বাজছে একই সুরে
কাঁদছি কেন, ভাবছি আমি, চমকে হঠাৎ থামি
কোথায় মিতু, কোথায় আমি - কী সব পাগলামী?
হঠাৎ হঠাৎ মাথা চাড়া দেয়, করার কী নেই কিছুই?
চাপা-কৈশোর-দ্বন্দ্ব আমায় টেনে রাখে পিছু
সাধ্য তো কভু ছিলনা, তবে সাধ কেন কেঁদে মরে?
অসহায় হয়ে দেখছি আমার চাঁদটা যাচ্ছে সরে...



একটি বছর আগেও এমনি এসেছিল বসন্ত
এবারও এল, আবারও আসবে, নেই যেন এর অন্ত।
তবু কে যেন আসছে না আর, বসে আছি আমি একা
চেয়ে থাকি দূরে রাতের আকাশে, যদি পাই তার দেখা !
কিছু না হারিয়েও সব হারানোর দুঃখটা বেশ মজার
কেবলই খুঁজে বেড়াই আমি, পাইনা কিছু খোঁজার !
"বুঝলে কিছু?" - শোনার জন্য মন হয়ে আছে হন্য
"বুঝেছি মিতু!" - তাই তো লিখছি কবিতা তোমার জন্য...




********************************************************************

গল্প'টা ওখানেই শেষ। এখন নিজের কিছু কথা।

গত পোস্টের মত এটাও রিপোস্ট, আর এটাও আমার প্রথম দিকের লেখা। সেটা অবশ্য বলে দিতে হয় না। গল্পের ছেলেমানুষী বাড়াবাড়ি রকমের - সেটা এর মাঝেই টের পেয়ে গেছেন। (আমি কিন্তু দাবী করছি না যে, এখন খুব একটা ম্যাচ্যুরড হয়ে গেছি ! ;))

ইদানিং বেশ ক'জন কবি-লেখক-পাঠক ব্লগারের সাথে ভালই বন্ধুত্ব হল। মুগ্ধ হয়ে তাদের লেখা পড়ি, আমার পোস্টে তাদের প্রশংসাও খুব উপভোগ করি (নিজের প্রশংসায় ভরা কমেন্টগুলো কতশত'বার যে দেখতে আসি ! :P)। তো ইচ্ছে হল তাদের সাথে আমার ছেলেমানুষী লেখাগুলোও শেয়ার করা যাক !

এ গল্পের ছেলেটা-মেয়েটা'র মত কবিও ছিল একজন কিশোর কবি; লেখায় সেই ভাব স্পষ্ট ! ভাল-মন্দ যে কমেন্টই পড়ুক, যদি পারতাম সেই কিশোরটা'কে জানাতে !

(ছবির ঋণ সমস্ত'টাই গুগল ডট কম-এর)
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জানুয়ারি, ২০১২ দুপুর ২:১৪
২৭টি মন্তব্য ৩০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×