আগে বলে নিই : এই কবিতার কবি আমি একা না। এর অর্ধেকটা সহব্লগার কবি-মাহী ফ্লোরা'র লেখা।
কবিতা নিয়ে কী টেবিল-টেনিস খেলা যায়? কলম (অথবা কি-বোর্ড'টাকে) ব্যাট বানিয়ে লিখে ছুড়ে দিলাম অন্যজনের কোর্টে, সে আবার তার জবাব দিয়ে শট করল আমার দিকে... এভাবে চলতে থাকা? মাথা নষ্ট থাকলে বুঝি তা-ও করা সম্ভব, যেমনটা কবি মাহী'র সাথে করে বসলাম হঠাৎ।
সেই কবেকার আমার করা একটা পোস্ট "রাত - ২", আমার নিজের অবহেলাতেই পড়ে ছিল। মাহী হঠাৎ সেটা পড়ে বলল, কবিতা'টা শেষ হয়ে যায় নি ! এটা চাইলেই আরও চলতে পারে।
রাতজাগা কিশোরী'র সমস্ত মনোযোগ হাসনাহেনা থেকে কেড়ে নিয়েছে সেলফোন - এমনটা ভেবেই হাসনাহেনা'র পক্ষে বাদী হয়ে আমি লেখা'টা শুরু করি... এরপর মাহী এসে কিশোরী'র বিষাদী মন'টার কথা যোগ করে একদম জমিয়ে দিলেন !!! আমি বলতে থাকলাম হাসনাহেনা আর বাইরের প্রকৃতির কথা, মাহী দেখাতে লাগল কিশোরী আর তার বিষাদী মন...
প্রথম ৫ লাইন আমার আগের লেখা। মাহী লাইনের মাত্রা একটু বড় করে এরপর থেকে এগিয়ে নিল। সেটাই ভাল লেগে যাওয়ায় আমিও ওই তালেই লিখে গেলাম।
আচ্ছা, এবার তবে কবিতায় গেলাম:
শাহেদ:
ঘুম নেই শহরে,
নির্জন প্রহরে,
সেলফোন জেগে রয়
কিশোরীর মুঠো জুড়ে...
অভিমানে চেয়ে রয় হাসনাহেনা....
মাহী:
তুমি গেলে শহরটা শূণ্য
চিৎ হয়ে গা পেতে পূন্য
পিচ ঢালা নির্জন পরিখায়
বুক পেতে জোছনারা বন্য।
ঢেউ হয়ে হৃদয়ে উত্তাল দেনা....
শাহেদ:
বুনো ওই জোছনার হাহাকার
বুকপাতা শহরে - তাহা কার?
নির্জন পিচ ঢালা পথ'টায়
চোখ পেতে চেয়ে রয় কে আবার?
সব পেয়েও কার মন মানে না?
মাহী:
মন তার মানা মেনে তানসেন
দুয়ারে বাকি থাক লেনদেন
এলোচুল বিষাদের বনলতা
টুপটাপ দু'চোখের কোনে রেইন!
এমন বৃষ্টি তাকে টানেনা....
শাহেদ:
বাতাস যে উদাসীন পান্থ
তা-বুঝি সে কিশোরীও জানত;
ঘুম ঘুম মেঘেদের আকাশে
রাতজাগা চাঁদটাও ক্লান্ত -
বোঝে না তা অভিমানী হাসনাহেনা।
মাহী:
বাতাসের পথ চেয়ে সে আবার
অভিমান ভেঙে দেবে কবে তার-
ঘুমের পাপড়ি ছুঁয়ে রঙ ফুল
সুযোগ খোঁজে ঘর পালাবার!
পাথরের এ হাওয়া যে নোনা....
শাহেদ:
পাথরের এ হাওয়া কি অন্ধ?
নাকি তার এমনই পছন্দ?
ইচ্ছে করেই যায় এড়িয়ে -
হাসনাহেনার মৃদু গন্ধ???
কিশোরী যে জানে, সেটা জানল না হেনা!
মাহী:
গন্ধরা কিশোরীর মন জুড়ে
ফুল পাতা থাকেনা আর ঘিরে
হাসনার কষ্টেরা ভোর হলে
লুকায় আঁচলের বন্দরে!
সেলফোনে লেগে আছে কিশোরীর বেদনা...
শাহেদ:
হেনা বলে, "তবে কার আদেশে
অমন নীরব চোখে কাঁদে সে?
রাত ভোর হয়ে গেলে তারপর
নির্জন এ শহরে বা দেশে -
অভিমানী হেনা'কে সে আর পাবে না !''
মাহী:
কিশোরীর বুকে যে কি কষ্ট
রাতভর বিরহে আড়ষ্ট
কেটে যাক ধোঁয়াশা যেভাবেই
সেলফোন চুপচাপ নষ্ট !
আরশীর ফাঁক গলে দলে দলে জোছনার হেনা...
এরপর... দু'জন কবিই আর কথা খুঁজে পায়নি।
বোধহয় রাত শেষ হয়ে আসে।
বোধহয় ভোর হয়ে আসে...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



