somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

উঁইপোকাদের ঢিবি - ৩

০৭ ই এপ্রিল, ২০১২ সকাল ৭:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মহানগর উঠছে বেড়ে উঁইপোকাদের ঢিবি'র মতন
চৈত্রমাসের আর্দ্র বাতাস, দেয়াল-তোষক ভ্যাপসা গরম
ঘড়ির কাঁটায় আটকে সময় - মধ্যরাতের রেল ইস্টিশন
শান্তাহারের কলাওয়ালা'র দীর্ঘশ্বাসে মেঘ জমে না।
দু-তিন টাকায় দুঃসংবাদ, আশি টাকায় ফ্যাশন জগৎ
কারেন্ট আসলে ডুকরে কাশে চা-দোকানের টেলিভিশন
ছুটছে সবাই - এত্ত কী কাজ ! কার তরে? - কে বলতে পারে?
আমি শুধু জানি, তুমি বৃষ্টি আনবে শুক্রবারে...

উঁইপোকারা শহর গড়ে, এখন ভীষণ অশান্তিতে
মৌনমুখর মিছিল চলে বুকের তেষ্টা জানান দিতে
পেপসি কেবল তেষ্টা বাড়ায়, চা খাব না - ধুত্তোরি ছাই -
আঁখের রসের দশ টাকা মগ- ওসবও না - বৃষ্টিকে চাই !
গজগজিয়ে একটা সময় সবাই ঢুকে পড়ে খাঁচায়
আমি তখন অপেক্ষাতে - বৃষ্টি আসবে সকালবেলায়।

ভোরের দিকে ট্রেন'টা আসে, খেয়াল করার কেউ ছিল না
সবাই তখন গভীর ঘুমে, উদাস অল্প ক'জন জেগে
যেই না তুমি নেমে এলে বিষন্ন এই প্লাটফরমে
অমনি আমি বুঝে ফেলি - এই গাড়িটা বোঝাই মেঘে !
সবাই ভাবে 'রাত কাটেনি', আমি বুঝি 'মেঘের কালো'
এত্ত কালো ! - দুশ্চিন্তায় আকাশটার'ও কপাল ঘামে
চোখের পাতায় একফোঁটা জল ঘুম ভাঙাতে - ঠিক তারপর
আকাশ ভেঙে উথাল-পাতাল বৃষ্টি নামে বৃষ্টি নামে !

উঁইপোকারা বাঁধ ভেঙে সব ভীষণ জলে আছড়ে পড়ে !
উঁইপোকারা আমার মত - ভীষণ সুখে কাতরে মরে...








আলাদা কথা : গত মঙ্গল কী বুধবারে এক বন্ধু জানালো, সপ্তাহ-শেষে 'ঢাকা' আসবে; উদ্দেশ্য শুধুই বেড়ানো। এমন চৈত্রের গরমে বিদ্যুৎ-পানির বিকট সংকটে এই ধুলা-বালি'র নগরে কেউ 'হাওয়া-বদল' করতে আসবে - এরকম চমকপ্রদ সংবাদ ইতোপূর্বে অনেকদিন শুনি নাই। যাই হোক, তাকে শুধু জানালাম, 'এমনি আসবা না। পারলে কিছু বৃষ্টি-বাদল নিয়ে আসবে সাথে করে, ঢাকা'য় এখন খুব প্রয়োজন।'
বন্ধুটি রওনা হল বৃহস্পতিবার রাতে। ঢাকা'র আকাশও টের পেয়ে মেঘে ঢাকা'র ব্যবস্থা করতে শুরু করল। শুক্রবার সকালে সে যখন ঢাকা'য় নামে, আকাশ কালো করে বৃষ্টিও আর দেরি করে না। আমার চমকে উঠা'র কথা না। অন্ততঃ আমি তো জানি, কেউ একজন এই সকালে বৃষ্টি নিয়ে আসবে বলে কথা দিয়েছিল।


সৃষ্টিকর্তা এইসব 'সেন্স অব হিউমার'-এর নিদর্শন দেখান বলেই আমরা এখনও মাঝে মাঝে কবিতা-টবিতা লিখি।
৩২টি মন্তব্য ৩২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জীবন পর্ব -১

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ১৮ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫২



(শালবন ভ্রমণ)
২০১২ সাল। সদ্য পাশ করে বের হয়েছি। কঠিন সময় পার করছিলাম। এদিক-সেদিক স্টেজ শো করে যে পেমেন্ট পেতাম, বাড়িতে ফিরতে ফিরতেই প্রায় শেষ হয়ে যেত। সকালে মায়ের হাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

'তুমি আমাকে এটা কোন ধরনের হোটেলে নিয়ে এলে?'

লিখেছেন এমএলজি, ১৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ১:২৮

এ লেখাটি ম্যাচিউর পাঠকদের জন্য। সে কারণে reader discretion is advised, অর্থাৎ, অস্বস্তি লাগলে পড়বেন না।

ব্যবসায়িক কাজে চায়না গেলেন হাজি মামুন (ছদ্মনাম)।

পঞ্চাশোর্ধ বয়সের সংসারী মানুষ তিনি। ঘরে পরহেজগার... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের শাহেদ জামাল- ৯৮

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৯ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:২২



আজ শুক্রবার। শুক্রবার মুসলমানদের জন্য বিশেষ একটি দিন।
আজ বাংলা আষাঢ় মাসের ৫ তারিখ। যদিও বর্ষাকাল। আজ আকাশে মেঘ নেই। বরং রোদ উঠেছে। রোদের তাপ ভালোই। শাহেদ পথে বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইউরোপের সবচেয়ে বড় ফিনটেঁক কোম্পানী রিপাবলিক ইউরোপকে ছেড়ে দেওয়ার সত্য ঘটনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৩

বাংলাদেশের আইটি ফার্মগুলোর মাঝে আমার ফার্মই তাঁর ইঞ্জিনিয়রাদের সবচেয়ে বেশি বেতন দিতো। আমার সিনিয়র রুবি অন রেইলস ব্যাকএন্ড ডেভেলপার ছিলো রিফাত। বয়স ৩০, সেই বয়সেই সে মাসে পেতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে এসো পূর্ণিমায়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:৫৫



তুমি ছাড়া ভালো লাগে না পূর্ণিমা চাঁদ, তুমি লুকিয়ে চন্দ্রিমার হলুদ বর্ণে। মায়াবী জোছনা মাখা রাত সবই যেন নিস্ফল, মন যেন হারিয়েছে আঁধারে সব সময় কাঁদে। চারিদিকে যেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×