somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তারাদের মানচিত্র

১৭ ই জুলাই, ২০১৩ রাত ৮:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আজ আমি আপনাদের সবাইকে একটা করে টেলিস্কোপ দিতে এসেছি। রাতের আকাশ দেখার টেলিস্কোপ। বিনামূল্যে, ঘরে বসেই পাবেন; নেটের স্পিড ভাল থাকলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই পেয়ে যাবেন হয়তো ! ঠিক আমি দেব না, আমি শুধু সন্ধানটুকু দিয়ে যাব। আর জিনিসটা এত্ত দারুণ, এ শুধু আপনাকে 'তারা' দেখাবে না, চিনিয়েও যাবে ! মহাকাশের অপার সৌন্দর্যে বিভোর হওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে বসুন !

সেই কবে থেকে তারা দেখার অভ্যাস - সমস্তটাই বই পড়ে, ছাদে অথবা ক্যাম্পাসের মাঠে চিৎ হয়ে শুয়ে থেকে। একটা একটা করে তারামন্ডল চিনে নেয়া, আর তাদের গল্পগুলো খুঁজে বের করা - খানিক কষ্টের হলেও কী যে আনন্দের সময় ছিল সেসব। তবে যারা এতটা কষ্ট করতে চান না, তাদের জন্যও দেখি ভালরকম সব ব্যবস্থা করাই আছে - শুধু খুঁজে পাওয়ার বাকি। চমৎকার এই 'free open source planetarium' সফটওয়্যার'টা আমি আজই প্রথম ব্যবহার করলাম এবং ব্যাপারটা এত চমকপ্রদ যে, সবার সাথে শেয়ার করতে চলে এলাম ! অল্প ক'টা স্ক্রিনশট দিয়ে আগে এর সাথে আপনাকে পরিচিত করিয়ে দিই-


এই হল ভালুকা থেকে দেখা আজকের সন্ধ্যার আকাশ। ইংরেজী 'S' অক্ষরটা বোঝাচ্ছে, এই দৃশ্য South বা দক্ষিণ দিকে মুখ করে দেখা। তবে যারা আমার মত অনেকটা আনাড়ি, তাদের জন্য তো এই দৃশ্য দেখা আর অপরিচিত আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকা অনেকটা একই ব্যাপার। তাই আপনি চাইলে রেখাচিত্রের সাহায্যে তারামন্ডলগুলোর মানচিত্র দেখে নিতে পারেন ~



মানচিত্র দেখে তো এমনে চিনব না, কোনটার নাম কী - সেটাও জানা দরকার ! অবশ্যই সেই ব্যবস্থাও আছে ~



এসব দেখে আপনার মনে প্রশ্ন জাগাটাই স্বাভাবিক, কেন অনর্থক এইসব নক্ষত্রপুঞ্জের নাম এমন রাখা হল? কী হিসাবে ওদের বৃশ্চিক, তুলা ইত্যাদি ডাকা হয়? গ্রীক, মিশরীয় বা ভারতীয় জোতির্বিদেরা ঠিক কেমন ছবি কল্পনা করে এসব নাম রেখেছিলেন? হায় রে, কত বই ঘাঁটাঘাঁটি করে আমি এসব পড়লাম, আর আপনি চাইলে মাউসের একটা ক্লিকেই সবটার চিত্র দেখে নিতে পারবেন !



এই ছবিটা আরেকবার দেখুন?


সবটা কেমন আবছা, শুধু প্রধান তারাগুলো পরিস্কার। এই আকাশই আমরা দেখি। আমাদের বায়ুমন্ডল আর মেঘ-ধুলিকণার জন্য আকাশের অনেক তারা দেখা হয় না। আচ্ছা, যদি বায়ুমন্ডল না থাকত, তবে আকাশটা কেমন দেখা যেত? ভাবতে না বসে নিজ চোখে এখান থেকে দেখে নিতে পারেন সেটাও ~


এ তো গেল তারা পরিচিতি। টেলিস্কোপ যখন হাতে পেয়েছেন, তারাগুলো আরো কাছে থেকে দেখবেন না? নিশ্চয়ই দেখবেন ! মাউস টেনে আকাশের উপরের দিকে চলুন ~


জানি না, ব্লগপোস্টে ছবির নামগুলো পরিস্কার আসবে কি না, তাই আমি বলে রাখি - উপরের ছবিতে বড় গোল্লাটা হল চাঁদ, আর তার একটু ডানে-উপরে জ্বলজ্বলে তারাটা শনিগ্রহ। চাঁদের ওপর মাউস রেখে 'যুম' করে কাছে টানতে থাকলে এর পাহাড়-পর্বত আর কিছু অদেখা থাকবে না !



আর শনিগ্রহের প্রধান চাঁদগুলো (টাইটান ইত্যাদি) এবং বলয়সহ একদম পরিস্কার দেখতে পাবেন 'যুম' করতে করতে ! তবে গ্রহগুলোর যত কাছে যেতে থাকবেন, তাদের গতিবেগ ততই বেশি পাবেন, সারাক্ষণ আপনাকে মাউস টেনে টেনে তারার পেছন পেছন ছুটতে হতে পারে !



অনেক তো বললাম, এবার আপনার আবিস্কারের পালা ! সফ্টওয়্যার'টা ডাউনলোড করবেন নিচের ওয়েবসাইট থেকে~

http://www.stellarium.org/

ওয়েবসাইটে গিয়ে আপনার পিসির অপারেটিং সিস্টেম (উইন্ডোস/লিনাক্স/ম্যাক) সিলেক্ট করে দিলে কোনও ঝামেলা ছাড়াই ডাউনলোড হয়ে যাওয়ার কথা ! ইন্সটল হয়ে গেলে আগে আপনার লোকেশন সেট করে নিন। তারপর মনের আনন্দে দেখতে বসুন। মাউসের বাম বাটন চেপে ডানে-বামে ঘোরালেই আপনার আকাশের মানচিত্রের আশপাশটা আসতে থাকবে, অনেকটা গেম খেলার সময় যেমন মুভ করেন তেমনি।

শ্রাবণ মাস চলছে। গাঢ় মেঘের ভীড়ে আমি এখানে আকাশে পরিস্কার কিছু দেখছি না আজও। তবে শরৎ আসছে। আলো ঝকমকে এক বিশাল ক্যানভাস নিয়ে আসবে ভাদ্র-আশ্বিনের আকাশ ! আমি আগেও কখনও কখনও সবাইকে তারা দেখার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। তারা-ভরা রাতে মহাকাশের মাঝে নিজেকে বিলীন করে দেয়ার যে আনন্দ, অন্য কিছুর সাথে তার তুলনা হয় না ! আকাশের মেঘ কাটুক। ততদিনে আমরা কিছু তারামন্ডল চিনে-টিনে নিজেদের একটু প্রস্তুত করে নিতে পারি, কী বলেন?

সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই জুলাই, ২০১৩ রাত ৮:২৯
৩৯টি মন্তব্য ৪০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবিতাঃ দহনবেলার কহন কথা

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৭:১৫




বুকের অভিমান, ক্ষত লুকিয়েছি মনে


নিঝুম রাতের সঙ্গী তারা গভীর গোপনে।


অচেনা নক্ষত্র জ্বলে নেভে দুরে একাকী 


বিচ্ছিন্নতার উপমা হিসেবে নিজেকেই রাখি। 


আসমুদ্রহিমাচল জ্বালা বুকে তবু দায়িত্ববান 


হাজার দহনে পুড়ে খাঁটি শিখা অনির্বাণ।


© রফিকুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০০১ সালেও বিএনপিকে ডোবানোর দায়িত্ব নিয়েছিল টুকু!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৫১


ভয়াবহ লোডশেডিং। মধ্যরাতে ঢাকবাসীর হাঁসফাঁস। হঠাৎ করে এতো লোডশেডিং হওয়ার কোন কারণ নেই অথচ মধ্যরাতে ভয়াবহ লোডশেডিং। গ্রামে বিদ্যুৎ থাকেনা বললেই চলে। গ্রামে বিদ্যুৎ যাওয়ার সময় আছে কিন্তু আসার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে বাষ্ট্রপতি নির্বাচন নাকি রাষ্ট্রীয় খরচে তামাশা!!!

লিখেছেন শাহিন-৯৯, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


বাংলাদেশে সম্মানিত রাষ্ট্রপতি (হবু)


নির্বাচন, এই শব্দটি শুনা মাত্র যে বিষয়টি আমাদের মাথায় আসে তা হচ্ছে ভোট প্রদানের যোগ্য ভোটারদের স্বাধীন ভোটের মাধ্যমে একজন যোগ্য ব্যাক্তিকে দায়িত্ব অর্পণের জন্য নির্বাচিত করা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

গজব পরিস্থিতি দেশের: বিদ্যুৎ নেই বিল ডাবল

লিখেছেন অর্ক, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৭



হাহাকার পড়ে গেছে দেশে। গ্যাস, বিদ্যুৎ সংকট চরম আকার নিয়েছে, নিচ্ছে। একদিকে বিদ্যুৎ নেই, অপরদিকে ভূতুড়ে বিল। অদ্ভুত ব্যাপার। বিদ্যুৎ নেই, নিয়মিত লোডশেডিং হচ্ছে, স্বাভাবিকভাবেই বিল কম হওয়ার কথা; সেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ ভাড়াটে কান্নাকারী

লিখেছেন রাজসোহান, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



লোকে ভাবে আমরা কান্না বিক্রি করি। আমরা কান্না বিক্রি করি না। আমরা শব্দ বিক্রি করি।

শোকসভায় সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো নীরবতা। বক্তা বক্তৃতা শেষ করে বসে পড়লেন, পরের বক্তা এখনো মাইকের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×