গত কাল প্রায় সকল টি ভি তে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের কর্মী ফারুক হোসেন হত্যার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে ইকরাম হোসাইনের চেহারা দেখা গেছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হত্যাকান্ডের পরিকল্পনা কারিদের একজন এই ইকরাম। টেলিভিসন ক্যামেরার সামনে তার দেয়া স্বীকারোক্তিতে শিউরে উঠলেও অবাক হইনি। কারন জামায়াত শিবির এমনই। ইকরাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আমির আলী হল শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি। তাঁর অতীত জানিনা। তবে সরকারী বিশ্ব বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে হলে আজকাল মেধাবী হতে হয়। সেই হিসাবে তাঁকে মেধাবী হিসাবে ধরে নিতে হয়। জামায়েতর রিক্রুটিং পলিসি চমৎকার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিছুদিন চাকরী করার সুবাদে দেখেছি, বোর্ডের পরিক্ষার ফল প্রকাশের পর মেধাবী ছাত্রদের কাছে জামায়াতের পক্ষ থেকে অভিনন্দন পত্র সহ বই উপহার আসে । অনেক প্রয়োজনীয় বই এর সাথে জামায়াতের মতাদর্শ সম্বলিত পুস্তিকাও থাকতো উপহার প্যাকেজে। কোমল মতি শিক্ষার্থীদের এভাবেই ধীরে ধীরে দলে টেনে আনে জামায়ত শিবির। প্রথম দিকে আদর্শিক কিছু শিক্ষা দীক্ষার পর একটু একটু করে হত্যা আর সতন্ত্রাসের রাজনীতিতে হাতে খড়ি হয় তাদের। এদের অনেকেই এই স্তর পার হবার পর জামায়াত নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানে চাকুরী পায়। নিজেদের মতাদর্শীদের সহায়তায় অধিষ্টিত হয় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে। বাংলাদেশের মানুষ সন্ত্রাসের রাজনীতিতে বিশ্বাস না করলেও জামায়াত শিবিরের ক্যাডারদের জন্য সন্ত্রাসই মুক্তির প্রধান পথ বলে বিবেচিত। অবশ্য তারা এটাকে জেহাদ হিসাবে বর্ণনা করে সমাজ কে বিভ্রান্ত করতে চায়।
যা হোক ইকরাম জানান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার সময় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি শামছুল আলম গোলাপ জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ এবং ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতিসহ অনেকের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁদের দিকনির্দেশনা অনুসারে ক্যাম্পাসে হামলা হয়।
RAB এর গোয়েন্দা ইউনিটের পরিচালক জানান, গত ৮ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের তাণ্ডবের পর ইকরাম পালিয়ে যান। ওই রাতে তিনি ছাত্রলীগের কর্মীদের ওপর অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন। রাত তিনটার দিকে ইকরাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে কর্মরত হামীমের বাসায় অবস্থান নেন। ওই বাসায় শিবিরের অনেক কর্মীই তখন অবস্থান নেন। সে সময় ইকরাম শিবিরের বিতর্কবিষয়ক সম্পাদক শিহাবের কাছ থেকে জানতে পারেন, শাহ মখদুম হল শাখা শিবিরের সাবেক সভাপতি আনিস রড দিয়ে ফারুকের মাথায় আঘাত করেন। ঘটনাস্থলে ফারুক মারা গেলে শাহ মখদুম হল শাখার বর্তমান সভাপতি আহাদ, একই হলের শিবিরের সেক্রেটারি বাপ্পী, বিশ্ববিদ্যালয় শাখার প্রশিক্ষণ সম্পাদক সুমন গাজী ও শাহ মখদুম হলের ছাত্র রাজুসহ ১০-১২ জন শিবিরকর্মী প্রথমে লাশটি টেনে হলের গেট পর্যন্ত আনেন। লাশটি কোথায় রাখা হবে তা নিয়ে তাঁরা পরিকল্পনা করতে থাকেন। একপর্যায়ে আহাদ জানান, ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এস তাহের আহমেদকে হত্যার পর লাশ যেভাবে ম্যানহোলে ফেলা হয়েছিল, ফারুকের লাশটিও সেভাবে ফেলে দেওয়া হোক। পরে আমীর আলী হলে যেতে পূর্ব-দক্ষিণ দিকের একটি ম্যানহোলে লাশ ফেলা হয়। এ ই হচ্ছে জামায়াত শিবির।
আমর ভাবতে কষ্ট হয় দলে অনেক মুক্তি যোদ্ধা থাকা সত্তেও বি এন পি জামায়াত কে কি ভাবে আঁকড়ে থাকতে চায়?
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই মার্চ, ২০১০ দুপুর ২:০৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




