রোজদিনকার মতো
ক্লিনসেভ, ড্রেসআপ, পারফিউম স্প্রে শেষে
ছোট ছোট চুমুকে দ্রুত চা টুকু শেষ করে
সকালের পেপারে নজর বুলিয়ে
বাইরে বেরিয়ে গেল ওর প্রিয় মটরসাইলেকটা নিয়ে।
পুরো বাড়ী ভরপুর হয়ে থাকল পরিচিত সুগন্ধে।
নরোম মনের উজ্জল শ্যাম এক সুদর্শন তরুণ।
আটাশ বছর হতে আর ছিল কেবলই দশ দিন বাকি।
উড়ন্ত পঙ্খীরাজ থেকে হাত দেখাল বন্ধুকে
‘এইতো আসছি’ বলে।
সময়ের ঘোড়াটা কেবল কয়েক মিনিট দৌড়াল
তারপর: দানব বাস মোটরসাইকেলটা দুমড়ে মুচড়ে
রক্তাক্ত ওকে ফেলে দিল কাল পিচ ঢাকা পথে।
ফিনকি দিয়ে বের হয়ে যাওয়া লাল স্রোতের সাথে
ছিটকে গেল সব স্বপ্ন-সম্ভাবনা
একটু গাঢ় চায়ের জন্য ও আর
কোনদিন ব্যস্ত হবে না।
ঘন্টার পর ঘন্টা ঘুরে বেছে
সুন্দর সার্ট ও আর কিনবে না।
মাত্র তিন মাস আগের নব পরিণীতা
পড়েছে এখন বিধবার বেশ।
কেউ এখন আর উচ্চারণ করছে না ওর নাম
ও এখন কেবলই লাশ। অবশিষ্ট আছে কেবল
লাশের প্রয়োজন।
তিন টুকরো সাদা কাপড়, আগরবাতি, আতর, কফিন।
স্বজন-বন্ধু আত্মীয় প্রতিবেশীরা ব্যস্ত ওর শেষ বিদায়ে
গোসল কাফন জানাজা দাফন দেনা পাওনা পরিশোধ
কান্না আহাজারি প্রিয় মানুষদের অপার শূন্যতা শোক
মৃত্যুর সাথেই বন্ধ হয়ে যায় প্রতিটা আত্মার হিসেবের খাতা
চলমান সৎকাজগুলোই লেখা হতে থাকে কেবল
তারপর মহাবিশ্বের প্রতিপালক
যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করবেন
যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেবেন।
এ জন্যেই তিনি উদ্ভাবন করেছেন মৃত্যু ও জীবন
(২০০২ সালে রোড এক্সিডেন্টে নিহত ছোটভাই এর স্মরণে )

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


