এক সময় আমাদের সাংস্কৃতিক আগ্রাসন, অর্থনৈতিক শোষণ, রাজনৈতিক নিপিড়নের কারণ ছিল পাকিস্তান। স্বাধীনতার পর সেই জায়গা দখল করে নিয়েছে ভারত। ভারতের সবগুলো টিভি চ্যানেল বাংলাদেশে উম্মুক্ত। আজকাল ফেসবুকে ভাষা দক্ষতার জায়গায় অনেকে বাংলা, ইংরেজীর পাশাপাশি হিন্দিও যুক্ত করেন। হিন্দি চ্যানেলগুলোইতো এই দক্ষতা এনে দিয়েছে। অথচ এই ভাষাটি আমাদের কোনই কাজে লাগে না। একমাত্র ভারতের অঙ্গরাজ্য না হলে এই ভাষার কোনই উপকারীতা পাওয়া যাবে না বাংলাদেশে। গণমাধ্যম যে কি পরিমাণ পরিবর্তন আনতে পারে তা আমরা বুঝতে পারি এই থেকে। একই কারনে ভারত আমাদের টিভি চ্যানেলগুলো দেখতে দিচ্ছে না বাংলা ভাষাভাষি পশ্চিম বঙ্গে। আমাদের অল্প যে ক’টি ভাল জিনিস আছে তার একটি হলো আমাদের নাটক। বাংলাদেশের টিভি নাটক খুবই উন্নতমানের। ভারত চায় না এইসব নাটকের প্রতি ভারতীয় নাগরিকরা ঝুকে পডুক। কেননা এর সাথে আমদানী হবে বিজ্ঞাপন। বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশি পণ্যের প্রসার ঘটুক এটা ভারতের জন্য আকাঙ্খিত নয়। বাংলাদেশের বাঙ্গালীদের মধ্যে স্বাধীনতার যে চেতনা আছে তা যদি আবার সেদেশের বাঙ্গালীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এমন আশঙ্কাতো থাকেই। ভারতে সমস্ত বই-পত্র, প্রত্রিকা আমরা আমদানী করি এটা খুবই ভাল বিষয়। বইপত্র, প্রত্রিকা এইসব ক্ষেত্রে বাধা না থাকাই ভাল। কিন্তু আমাদের দেশে প্রকাশিত বইয়ের বিষয়ে তাদের কোন আগ্রহ নেই। এর কোন পৃষ্ঠপোষকতা নেই। কোলকাতার কবিসাহিত্যিকরা আমাদের দেশের লেখকদের মশামাছি মনে করে।
আজকে পত্রিকায় দেখলাম ভারতের চলচ্চিত্র বাংলাদেশের হলে প্রদর্শনের অনুমতি দেয়া হয়েছে। কেন দেয়া হয়েছে? একটা প্রশ্ন থাকে আমাদের সিনেমা কী ভারতের হলে প্রদর্শনের অনুমতি দিয়েছে ভারত? আামাদের টিভি চ্যানেল কি দেখতে পারছে সেদেশের লোকেরা? পশ্চিমবঙ্গের বাংলা সিনেমা ভাল হয়েছে ইদানিং এর আগে তাদের বাণিজ্যিক ছবিগুলো ছিলো আমাদের চেয়ে নিম্নমানের। তখন কী তারা আমাদের ছবি আমদানী করেছিলো? আমাদের সরকার কেন অনুমতি দিয়েছে?
সরকারের অনুমতি দেয়ায় খারাপ লেগেছে? তবে আমি হতাশ নই। আমরা এর বিরুদ্ধে অবশ্যই লড়বো। একেবারে চেপেচুপে না ধরলে আমরা লড়েচড়ে উঠি না। আমরা অবশই আবার জেগে উঠবো। কেননা স্বাধীন হয়েছি মাথা উঁচু করে থাকতে চাই বলে। আমারা স্বাধীন হয়েছি সমান সমান অধিকার চাই বলে।
আজকে ভারতীয় সাংস্কৃতিক আগ্রাসন নিয়ে সামান্য লিখলাম। আগামীতে ইচ্ছে আছে অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে লিখার। এক সমুদ্র ফারাক ভারত-বাংলাদেশ ব্যবসা। ভারতের সাথে আমাদের বাণিজ্য ঘাটতি এখন ৩২ হাজার কোটি টাকা। রহিম আফরোজের ব্যাটারী ভারতে বাজারে গেলে পড়ে এন্টি ডাম্পিং মামলায়। কাঁটা তারের বেড়ায় বন্ধ হয়েছে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর সাথে অনানুষ্ঠানিক ব্যবসা...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


