somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রতনের রাজি হতে একটি রতন-০২

০৮ ই জানুয়ারি, ২০১৬ ভোর ৪:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রতনের রাজি হতে একটি রতন- ০১
একইসাথে জিলাপি আর সিনেমার লোভে রতনের চোখ ঝলমল করছে ও বুকটা সামান্য দুরু দুরু করছে মোরগ হাতে বাজারে যাওয়ার পথে কখন যে কার চোখে পড়ে যায়। পরক্ষণেই ভাবে আর যার চোখেই পরি এখানেত আর দাদি আসতেছেনা দেখতে তাই পরে যা হবার হবে এখন আগে গুড়ের জিলেপী খাবে আর সিনেমা দেখবে। মাটির রাস্তা ছেড়ে ডানের মোড়টা ঘুরে বড় রাস্তায় উঠবে এমন সময় রতনের কাকা হাতেম আলীর সাথে মুখো-মুখি। হাতেম আলীর সোজা প্রশ্ন- রতন কই যাস ?
রতনের খানিকটা থতমত উত্তর, কাআ...কা বাজারে যাআই। তুঅমি?
হাতেম আলী মুচকী হেঁসে বলে, ঘটনাকি রতন? হঠাত আম্মার লাল মোরগ নিয়া তুই বাজারে?
রতন হাতেম আলীর সংকেত বুঝতে পারল সহজেই। না হাতেম আলীকে তার ভয় নেই। হাতেম আলী রতনের তিন বছরের বড় আর দুষ্টুমিতেও রতনের চেয়ে তিন ধাপ এগিয়ে। রতন আর হাতেম আলীর মধ্যে বোঝাপড়াটাও ভালই। রতন সংকোচ না করে বলে দিল, তোমার আম্মা পাঠাইছে ইমাম সাহেবকে দিতে। কিন্তু কাকা মেলাদিন হইল গুড়ের জিলাপি খাই নাই। তুমি খাইতে চাইলে মোরগটা বেইচা দাও।
হাতেম আলী লোভনীয় হাসি দিয়া বলল আমিও খামু কিন্তু আমার কোন দোষ দিবিনা। তুইত তর দাদীরে চিনস, বাড়িতে উঠতে দিবনা জানবার পাইলে।
তোমার দোষ হব কেন? মোরগ’ত আর তোমার কাছে পাঠায় নাই। পরেরটা পরে দেখা যাবে, আগে গরম গরম গুড়ের জিলাপী খাওয়ার ব্যবস্থা কর।
অত:পর চাচা-ভাতিজা মিলে খুব সহজেই নাজমা বেগমের নাদুস নুদুস লাল মোরগ বেচে ভালই দাম পেল। দুজনে সোজা কালু মিয়ার জিলাপির দোকানে গেল। আশে পাশের কয়েক গ্রামে এই দোকানের জিলাপীর সুখ্যাতি আছে। রতন জিলাপির কড়াই এর সামনে দাড়িয়ে গেল। কালু মিয়া কড়াইয়ের গরম তেলের মধ্যে ময়দা পেচিঁয়ে পেঁচিয়ে জিলাপি বানাচ্ছে।রতনের কাছে মনে হচ্ছে যেন কোন শিল্পি কোন এক বিশেষ ধরণের ফুলের ছবি বার বার একে যাচ্ছে। তার খুব ইচ্ছে করে একদিন নিজের হাতে এমন করে পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে জিলাপি বানাবে। হাতেম আলী এতক্ষনে দোকানের ভিতরে গিয়ে বসেছে আর মোটামুটি চিতকার করে ডাকছে- এই রতন আয় এখানে, তুই জিলাপী খাইতে আইছস নাকি দেখবার আইছস?
এক কেজি গুড়ের জিলাপী কিনে দুজনে বসে মন ভরে খাচ্ছে। কারো মুখে কোন কথা নেই দুজনেই জিলাপীর স্বাদ নিতে ব্যস্ত। হঠাতই হাতেম আলী স্ব-শব্দে হাসতে হাসতে বলে উঠল বেচারা ইমাম সাহেবের রিজিকেই নাই মোরগটা, তর দোষ কি? বলেই আবার হাসতে শুরু করল।
এবার রতনও না হেসে পারেনা। হাসি থামিয়ে বলে কিন্তু তোমার আম্মা-ত সেইটা বুঝবনা কাকা। বুড়ি খালি বক বক করে। সকাল বেলা বারান্দায় বইসা অত সুন্দর একটা স্বপ্ন দেখতাছিলাম বুড়ি চেচাইয়া নস্ট কইরা দিল।
তুই জাইগা জাইগা স্বপ্ন দেখস?
হুম, দেখি।
কি স্বপ্ন দেখস?
স্বপ্নে দেখি আমি সেনাবাহিনীর বড় অফিসার হইছি। আমার হাতে মেলা বড় বন্দুক দেইখা সবাই ডরাইতাছে আর তোমার আম্মাও আমারে ডরাইতাছে। বলতে বলতে জোরে জোরে হেসেই ফেলল রতন।
হাতেম আলী কৌতুহল বশত বলে, কত বড় বন্দুক?
রতন লম্বা টেনে উত্তর দেয়, অনেক বড়।
হবি। তুই একদিন অনেক বড় হবি। তুই আমাদের গর্ব। আমাদের সারা গায়ের গর্ব। সারা গায়ের মধ্যে তুইি-ইত একমাত্র শহরে যাইয়া হোস্টেলে এ থাইকা পড়াশুনা করস। আইচ্ছা তগরে শহরের ইশকুলের মাস্টারাও কি মোটা মোটা কাঁচা কইঞ্চা দিয়া মারে??? আমি মৌলবী মাস্টারের মাইরের ডরেত আর ইশকুলেই গেলাম না।
কাকা সব ইস্কুলেইত মাইর দেয় পড়া না পারলে তবে শহরে কাঁচা কইঞ্চা পাওয়া যায়না। ঠিকমত পড়া লেখা করলে আর স্যারদের সাথে বেয়াদবী না করলে মারব ক্যা? কিন্তু কাকা আমার হোস্টেলে থাকতে একদম ভালা লাগে না। আমার খালি এপাড়া-ওপাড়া ঘুরতে ইচ্ছা করে। বলতে বলতেই ওদের থালার জিলাপী শেষ! রতন বলল কাকা আরো খাবা?
হাতেম আলী হাসিয়া বলে আর আধাসের হইলে ভালা হইত।
মনের কথাটা বলছ কাকা। আমারও পেট ভরে নাই।
তাদের সামনে থালায় আরো আধা কেজি জিলপী আসল। তাদের চোখ মুখে ঠিক প্রথম বারের মতই হয়ত তার চেয়ে একটু বেশিই আগ্রহ আর ক্ষুধা ভেসে উঠেছে এবারও। এখন আর কারও মুখে কোন কথা নাই, মুখ কেবলই জিলাপী চর্বনে ব্যস্ত আর জিহ্বা ব্যস্ত গরম গরম মচমচে গুড়ের জিলেপীর স্বাদ নিতে। নিমিষেই থালা শূন্য হয়ে গেল। কিন্তু তবু যেন ওদের মন ভরেনা। মন না ভরলেও কিছু করার নাই, পেটত ভরছে। রতন একটু মোচড় দিয়া বসে বলল কাকা সিনেমা দেখবা? অনেকদিন সিনেমাওত দেখিনা।

(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জানুয়ারি, ২০১৬ ভোর ৪:৩৩
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে যে-সব সাবেক চ্যাম্পিয়নদের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হবার সম্ভাবনা একেবারেই নাই

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২৮ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২

এ দলটি ১৯৩৪, ১৯৩৮, ১৯৮২ ও ২০০৬ সালে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়। ২০১৪ সালে তারা গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। ২০১৮ ও ২০২২ সালে তারা মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আহা! ছবি।

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ২৮ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:০০

কত দিন হয়ে গেলো....................


এ মাসেতো একটাও পোস্ট দেওয়া হলো না........................


ইদে গ্রামের বাড়ি গিয়ে কিছু ছবি তুলেছিলাম।







আজকের ছবি ব্লগে থাকছে সেই ছবিগুলো।








---------------------------------------------------
































---------------------------------------------------------------



















------------------------------------------------------------------






















... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৮ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৩

মেট্রোরেল পুরো বাংলাদেশের জন্য শান্তির বিষয়।
শুধু মেট্রোরেল না পদ্মাসেতুও। দারুণ এক কাজ হয়েছে। আগে মতিঝিল থেকে মিরপুর বা উত্তরা যেতে খবর হয়ে যেতো। তিন ঘন্টার বেশি সময় লাগতো। এখন মুহুর্তেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

কারণে অকারণে ছবি

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ২৮ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৬

আমি ছবি তুলি। পরে সেগুলো দেখি। বেশ ভালো লাগে। ফোনের স্টোরেজ এ আজ দেখলাম মোট ছবি ৬৮৯৩ টি। ব্লগে কখনোই ছবি দিয়ে লেখা হয়নি। আজ মাইদুল ভাইয়ের লেখা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ বাবার প্রত্যাবর্তন

লিখেছেন সামিয়া, ২৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ৩:০৩



একটা মাস হয়ে গেল।
ইউনাইটেড হাসপাতালের সিসিইউর সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে সময়ের হিসাব হারিয়ে ফেলেছে রিপা। দেয়ালে ঝোলানো ঘড়ির কাঁটা ঘুরছে, নার্সরা ডিউটি বদলাচ্ছে, ডাক্তাররা আসছেন, যাচ্ছেন। শুধু একটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×