বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সব দলকেই কম বেশী অপপ্রচার অপবাদ সইতে হয়, তবে ইসলামি দলগুলোর ক্ষেত্রে সে অবস্থা ভিন্ন, ইসলামি দল বিশেষ বাংলাদেশের অত্যন্ত অত্যাচারিত দল, তাদের কে একাধারে আন্তর্জাতিক ও আভ্যন্তরিন অপবাদ ও অপপ্রচারের মোকাবেলা করতে হয়, হাজার কন্ঠে শতমুখী অপপ্রচার, কিন্তু আল্লাহ সহায় স্বাধীনতার পর হতে অদ্যাবধি কোন অপবাদ - অভিযোগের সত্যতা মিলেনি।
বিশেষ করে জামায়াত শিবির কে আমি বিগত ২০ বছর ধরে খুব কাছ থেকে দেখছি, এ সংগঠনের লোকেরা যদি গত বিশ বছর ধরে কোন অপরাধে অভিযুক্ত প্রমানিত না হয়ে থাকেন, তবে তার আগে তারা মানবতার বিরুদ্বে কোন অপরাধ করেছেন ... তা আমি বিশ্বাস করব কিভাবে ? বরং বর্তমান অবস্থা দেখে এটাই প্রতিয়মান হয় সব কিছুই অপবাদ - অপপ্রচার।
তবে হ্যাঁ, বাংলাদেশে যুদ্ব যেহেতু হয়েছে - যুদ্বাপরাধও হয়েছে, তবে তার জন্য ইসলামি বিশেষ একটি দলকেই শুধু দোষানোর কারন কি, স্বাধীনতার বিরোধিতা তো মুসলিম লীগও করেছে, বামপন্থী কিছু দলও স্বাধীনতার বিপক্ষে অর্থাৎ ভারতীয় তাবেদারী রাস্ট্র গঠনের বিরোধিতা করেছেন - কই তাদের তো রাজাকার বা স্বাধীনতা বিরোধি বলা হয়না ! তাছাড়া স্বাধীনতা পূর্ব সময়ে জামায়াতের আহামরি এমন কোন জমসমর্থন বা জনবল ছিলনা যে তারা ৯ মাস ধরে দেশ ব্যাপি গনহত্যা চালাবে .... ৩০ লাখ লোককে হত্যা করবে কিংবা লাখ লাখ মা বোনের ইজ্জত লুন্ঠন করবে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিবেকের কাটগড়ায় দাঁড়িয়ে দুচোখ মেলে দেখুন তো কোন কোন দলের নেতা কর্মীগন দূর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, খুন, ধর্ষনের অভিযোগে অভিযুক্ত, আকন্ঠ নিমজ্জিত কিংবা শাস্তি প্রাপ্ত? তার মধ্যে ইসলামপন্থী কি একজনও আছেন? আপনার পাড়া মহল্লায় বখাটে সন্ত্রাসী চাঁদাবাজ লোকগুলো কে? তাদের কেউই কি ইসলামপন্থী ? তবুও মিডিয়াতে অনবরত অভিযোগ কাদের বিরুদ্বে? অপরপক্ষে যে লোক গুলো শশ্রুমন্ড়িত, টুপি পরিহিত, সৎ জীবন যাপন করে ... মসজিদে যায় ... তারা কি কোন চাঁদাবাজি - সন্ত্রাসে লিপ্ত ?
জেএমবি, হরকাতুল জিহাদের আদর্শ (যদিও মৌখিক) যেহেতু ইসলামের নামে সন্ত্রাস করে, সেহেতু জামায়াতসহ ইসলামি রাজনৈতিক দল বা ধর্মীয় রাজনীতি নিষিদ্বের দাবী তুলে স্বঘোষিত কিছু জ্ঞানপাপী, কিন্তু তারা স্বাধীনতার পর হতে অদ্যাবধি দেশের দক্ষিন পশ্চিমাঞ্চলের হাজার মানুষ হন্তারক জনযুদ্ব, কমিউনিষ্টপার্টি, সর্বহারা নাম ধারীদের আদর্শে বিশ্বাসি বাম গোষ্ঠির রাজনীতিকে নিষিদ্ব করার দাবী করেননা।
আসলে, বাংলাদেশের বৃহত্তম ইসলামি দল জামায়াত অপ্রতিদ্বন্দ্বি ইসলামি আদর্শের কারনে অন্যান্য তন্ত্র মন্ত্রধারী দলগুলোর এতমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বি হিসেবে দিন দিন প্রতিভাত হচ্ছে, বাংলাদেশের অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর ভিত / শক্তি কতটাই ভঙ্গুর তাতো দেখাই গেল, হাসিনা খালেদাকে কোন ছুতোয় বিদেশ পাঠানো গেলে দল ভাঙনের ষোল কলা দেখতে পাবে জনগন।
যা বলছিলাম, শুধূ বাংলাদেশে নয় সমগ্র বিশ্বময় ইসলাম এখন প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বি এবং একমাত্র বিকল্প। আর তাই দেশে দেশে চলছে ইসলামের বিরুদ্বে চলছে কুৎসা, অপপ্রচার আর অপবাদ, শুধু দেশ ভেদে অভিযোগের ধরন বা মাত্রাটা ভিন্ন। কোথাও বিচ্ছিন্নতাবাদি, কোথাও তালেবান আবার কোথাও আল কায়েদা, আর কোথাও ব্যাপক বিধ্বংসী অস্ত্র, কোথাও জঙ্গীবাদ আর বাংলাদেশে যুদ্বাপরাধি।
তদ্রুপ জামায়াতের বিরুদ্বে এই যে নানা অভিযোগ, গোত্র বিশেষের হহ্নি তহ্নি ... সব কিছুর মূল কারন একটাই ... ইসলাম কে প্রতিহত করা - আর অন্য কিছু নয়, বলা যায় বাংলাদেশে জামায়াত বিরোধিতা আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের এদেশীয় সংস্করন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

