somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বন্ধুত্ব

২২ শে আগস্ট, ২০১১ রাত ১২:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

স্বজনের জন্য খোলা থাকুক বন্ধুত্বের দোয়ার

আমরা প্রায়ই লক্ষ্য করি অনেকে তার পরিচিত ব্যক্তিকে বন্ধু বলে পরিচয় দেন। যেমন কোন অ-পরিচিত ব্যক্তির সাথে পরিচয় হল বা পরিচিত কোন ব্যক্তির সাথে মাঝে মধ্যে অথবা প্রায়ই কথা-বার্তা হল, দেখা সাক্ষাত হল। কিন্তু তাই বলে কি ঐ ব্যক্তি বন্ধু হয়ে গেলেন? সত্যিকার অর্থে বন্ধু শব্দের অর্থ কি, বন্ধুত্ব কেমন করে হয়? বন্ধুত্বের কি কোন রঙ আছে, যদি থাকে তা হলে সে রঙ সাদা, কালো, নীল না বাদামী ? বন্ধুত্ব কি আগে থেকে প্রস্তুতি নিয়ে তৈরী করতে হয়, না এটা নিজ থেকেই তৈরী হয়।

অনেকের বেলায় এই প্রশ্নগুলোর হিসেব মিলানো বেশ কঠিন, আবার অপর দিকে অনেকের ক্ষেত্রে বন্ধু নির্বাচন বা প্রকৃত বন্ধুর স্বার্থহীন হাতছানি বুঝে নিতে মোটেই কষ্টকর হয় না । কিন্তু যাদের বেলায় প্রকৃত বন্ধু নির্বাচন করতে ভুল হয় বা যারা আবেগের কাছে হার মেনে অপরের সাজানো কথা মরুভুমির বুকে এক ফুটো বৃষ্টির মত অমৃত সুধার মনে করে না জেনে না বুঝে বন্ধুত্বে হাত বাড়ান, তারাই কিন্তু প্রতারণার স্বীকার ও ধোকায় পড়ে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েন । তাদের বিশ্বাসের আয়নায় এমন ভাবে মরিচিকা পড়ে যাতে নতুন বা পরিচিত কোন ব্যক্তির চেহারা তো দূরের কথা মুখের আদলও ষ্পষ্টভাবে দেখা যায় না। তাদের হৃদয়ের আকুতি, ভালোবাসার আর্তি শাদা কাফনে এমন ভাবে ঢাকা পড়ে যেখানে নতুন কারো প্রবেশাধীকার দূরের কথা, পরিচিতজনদের সাথেও ঘনিষ্টভাবে মেলামেশার আগ্রহটুকু মেরুদন্ডহীন হয়ে পড়ে। অবশেষে ভুলের মাশুল হিসেবে বুকবন্দী প্রতারণা আর দীর্ঘশ্বাসই হয় বাকী জীবনের সঙ্গী।

স্বার্থহীন ব্যক্তিকে যারা বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেন তারা কিন্তু জীবনে পরাজিত হন না। কারণ, তারা জানেন প্রকৃত বন্ধু বসন্তে কোকিল ডাকলে বা আকাশে কালো মেঘের পরিন্দা উড়ে গিয়ে রোদ্রের ঝলক উঁকি দিলে অথবা কষ্টের দিন সীমানা পেরিয়ে চলে গেলেও বন্ধুর চোখের রঙ বা কথা বলার বচন-ভঙ্গি, চাওয়া পাওয়ার আগ্রহ মরে না। আর এ জন্যই এরিষ্টটল বলেছেন- ”বন্ধু হচ্ছে- দু’টি দেহের মধ্যে এক আত্মার বাস”। আর সেটা একজন প্রকৃত বন্ধু তার নিজের মধ্যে ধারণ করার ক্ষমতা রাখেন। রঙহীন, স্বার্থহীন যে বন্ধুত্ব তৈরী হয় সেটা-ই খাঁটি বন্ধুত্ব। অনেকের মতে, একজন ভালো বন্ধু আছে যার তার মতো ভাগ্যবান না কি আর কেউ হয় না। তবে প্রশ্ন হলো, এ কথা সব বন্ধুর বেলায় কি প্রযোজ্য? আমার মনে হয় সবার ক্ষেত্রে এ বাক্যটি প্রয়োগ করা যাবে না। শুধুমাত্র তাদের বেলায় প্রয়োগ করা যাবে যারা লোভ লালসার উর্ধ্বে বন্ধুকে লালন এবং ধারণ করেন। বন্ধুত্ব কখনো টাকা, পয়সা, ধন-সম্পদ আর কাঁচা মাংসের লোভে তৈরী হয় না। এটা নিজ থেকেই তৈরী হতে হয়, একে অন্যের প্রতি অদৃশ্য টান ও সফেদ ভালোলাগার মাধ্যেমেই বন্ধৃত্বের চারাগাছ জন্মায়। হেনরি এডামস ও একই কথা বলেছেন- ’বন্ধু কখনো তৈরি হয় না, জন্ম নেয়”। যে বন্ধু নিজ স্বার্থে বন্ধুকে এভয়েড করে, সুযোগ বুঝে ডাষ্টবিনে ছুড়ে দেয় এবং তার অবদান অস্বীকার করে সে কখন বন্ধুর আওতায় পড়ে না। প্রস্তুতি নিয়ে যারা বন্ধুত্বে হাত বাড়ান তারা স্বার্থপর এবং অনেকটা অমাবশ্যার মতো ক্ষণস্থায়ী, যা ভোর হবার পূর্বেই আকাশে মিলিয়ে যায়। এ জাতীয় মনোভাবের বন্ধু কোন সময়ই সৎ মানুষেরর অন্তরে দীর্ঘদিন স্থায়িত্ব পান না।


বন্ধুত্ব হলো একটা পবিত্র বন্ধন। এই সোনালি বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে কারো তো কষ্ট পাবার তো কথা নয়। যেখানে এক বন্ধুর কষ্ট, দুঃখ ও বেদনায় অন্য বন্ধুর হৃদয়ে হাহাকার ও রক্তক্ষরণের কথা। সেখানে দেখেছি বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বাজে বেদনার সুর আর বিদ্রুপ হাসির ঝংকার। ইসাবেলা নরটন তার জীবদ্দশায় বলেছিলেন, ’বন্ধুর মধ্যে তুমি খুঁজে পাবে দ্বিতীয় জীবন’। এ কথার রেশ ধরে একটি প্রশ্ন বারবার ঘুরপাক খায় সেটা হল- সত্যিকার অর্থে বাস্তবে ক’জন বন্ধু খুঁজে পান তার অপর বন্ধুর মধ্যে দ্বিতীয় জীবন? খোঁজ নিলে হয়তো হাজারের মধ্যে হাতে গোনা মাত্র কয়েকজন পাওয়া যাবে। তবে ইসাবেলা নরটনের কথা মনোযোগ দিয়ে পড়লে আমরা আমরা বুঝতে পারি তিনি কিন্তু সব বন্ধুর কথা বলেননি, বলেছেন তাদেরকে যাদের মধ্যে সত্যিকার অর্থে খাঁটি বন্ধুত্বের শক্ত বন্ধন রয়েছে।

সুতরাং বন্ধু কেমন হওয়া চাই? বন্ধু হিসেবে কাকে গ্রহণ করা যায় বা কোন ধরণের মানুষের ডাকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেওয়া যায়, সেটা নির্ভর করে একান্ত নিজের উপর। না জেনে না বুঝে শুধু মুখের কথা বিশ্বাস করে বন্ধুতের ডাকে সাড়া না দেওয়াই ভাল। এতে ইমোশনালি ব্লাকমেইলের সম্ভাবনা থাকে বেশি। প্রতিটি মানুষেরই বন্ধুর প্রয়োজন হয়। তাই বলে আবেগের বশিভুত হয়ে বা ক্ষণিকের মোহে পড়ে অন্ধের মত বন্ধু নির্বাচন করা ঠিক নয়। আমরা লক্ষ্য করেছি, অনেকেই বন্ধুত্ব তৈরী হওয়ার পূর্বে এমন ভাবে নিজেকে উপস্থাপন করেন, যা ঐ মুহুর্তে অপর ব্যক্তির কাছে মনে হয় স্বর্গীয় দেবতার মতো । কিন্তু কিছুদিন পর যখন স্বর্গীয় দেবতার কথাবার্তা ভাব ভঙ্গি, কাজকর্মের অমিল খুঁজে পান তখনই ফাঁটল ধরে মধুর বন্ধুত্বে। যার ফলশ্রুতিতে এক সময়ের হৃদয় কাঁপানো মানুষটি হয়ে উঠে বেদনার উৎস এবং সময়ের সাথে ধীরে ধীরে বন্ধুত্বের ও ঘটে অপমৃত্যু ।

বন্ধুত্ব এমন এক সম্পর্ক যেটা ধারণ বা বহন করার ক্ষমতা সবার মধ্যে থাকে না। আমার মতে, বন্ধুত্ব হওয়া চাই শাদা গ্লাসের মতো ঝকঝকে পরিষ্কার। আর একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ, ভালবাসা, পছন্দ, অপছন্দ ও মন-মানসিকতা বোঝার ক্ষমতার মধ্যেই নিহিত থাকে বন্ধুত্বের মূল শিকড়। আর সে জন্যই আমাদের উচিত বন্ধু নির্বাচনে যথেষ্ট সাবধানতা অবলম্বন করা এবং উড়াল হাওয়াকে বিশ্বাস না করে প্রকৃত মানুষের অপেক্ষায় বন্ধুত্বের দোয়ার খুলে রাখা।
২০/০৮/২০১১
লন্ডন


সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই এপ্রিল, ২০১৮ ভোর ৪:০৭
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×