somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মানুষরা কি এমনই হয়! সুখে থাকলেই ভূত উঠে মাথায়

২৬ শে অক্টোবর, ২০১১ বিকাল ৪:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হাদিসে বর্নিত একটি গল্প দিয়েই শুরু করি:

মুসা নবীর আমলে নবী যখন তার অনুসারীদের নিয়ে নতুন একটি জায়গাতে চলে আসলেন তখন তার অনুসারীরা মুসাকে জানালো, হে মুসা আমরা তো আল্লাহর উপর বিশ্বাস রেখে তোমার কথায় নিজেদের সব কিছু ফেলে রেখে তোমার সাথে চলে এসেছি। তাই তুমি এবার আল্লাহকে বলো আমাদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করতে। আমরা কোন চাষবাস করতে পারব না।

নবী হুশিয়ার উচ্চারন করে বললেন, হে আমার ভাইয়েরা তোমরা এমন কথা বলো না আর এমন কাজ আমাকে করতে বলো না, তাহলে আল্লাহ আমাদের উপর নাখোশ হতে পারেন। কে শোনে কার কথা, তারা আরো জোর গলায় বলতে লাগল, তখন তো তুমি বলেছিলে আমরা বিপদে পড়লে আল্লাহ আমাদের দেখবে। এখন ভাই আমরা এত কিছু বুঝি না তুমি আল্লাহকে বলে আমাদের বসে বসে খাওয়ার ব্যবস্থা করো।

ওদের সাথে না পেরে মুসা নবী আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করল আর আল্লাহ তার দোয়া কবুল করল। তখন ভোর বেলা মুসা এবং তার অনুসারীদের জন্য কুয়াশার মত আব নামে এক ধরনের বেহেস্তী খাবার পাঠাতে লাগল আল্লাহ তায়ালা। সকালে উঠে আল্লাহর পাঠানো খাবার খায় আর সারাদিন কার্যকর্ম ছাড়া বসে থাকে। কিছু দিন পর দেখা গেল কিছু লোক আল্লাহর পাঠানো সেই খাবার পর্যন্ত সংরক্ষন করা শুরু করছে।
তখন নবী আবার হুশিয়ার দিয়ে বলল, হে আমার অনুসারীগন তোমরা কি জান না, আল্লাহ তায়ালার কাছে সব কিছু অসীম, তাই তোমরা তার পাঠানো খাবার সংরক্ষন করো না কারন এটা করার দরকার নেই। আল্লাহ তো তোমাদের চাহিদামত দিচ্ছেন।

কিন্তু তারপরও এসব বন্ধ হওয়া তো দুরের কথা তারা আবার নতুন বায়না নিয়ে নবীর কাছে এল। এবার তাদের দাবি, আল্লাহ কে বলো আমাদের জন্য আর খাবার পাঠাতে হবে না। এরচেয়ে বলো আমাদের জমিগুলো যেন উর্বর করে দেয়, আমরা চাষবাস করে খাব। বসে বসে খেতে আর ভালো লাগছে না।

নবীজি আবার হুশিয়ার দিয়ে বললেন, ওরে তোমরা এমন কথা বলো না। আল্লাহ আমাদের কে যা দিয়েছেন তা দিয়েই সন্তুষ্ট থাক। বেশী লোভ করা ভালো না। কিন্তু কে শোনে কার কথা, তাদের একটাই দাবি আল্লহকে বলে যেন তাদের জবি উর্বর করে ভলো চাষবাসের ব্যবস্থা করা হয়।

কি আর করা অবশেষে নবী আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলেন আর আল্লাহ তার প্রিয় বান্দার দোয়া কবুল করলেন।

জমি উর্বর হল, ভালো ফসল ফলতে লাগল। এখনো কোন অসুবিধা নাই। এভাবে বেশ কিছু দিন যাওয়ার পর, আবার একদিন সবাই মিলে মুসা নবীর কাছে আসল। এবার তাদের বড় কোন দাবি নাই। শুধু একটাই ছোট দাবি আর তা হল আল্লাহ যেন তাদের উপর যুদ্ধ ফরজ করে দেয়।

কারন, কারন একটাই, এভাবে চাষ করা আর বসে বসে খাওয়া তাদের একদমই ভালো লাগছে না।

তাই আল্লাহকে বলে যদি নবী তাদের উপর যুদ্ধ ফরজ করে দেয় তাহলে তারা যুদ্ধে যাবে।

এবারো নবী বরাবরের মত হুশিয়ার দিয়ে বললেন, তোমরা এমন কথা বলো না। আল্লাহ যা দিয়েছেন তা নিয়ে সন্তুষ্ট থাক। বেশী লোভ করো না। কিন্তু কে শোনে কার কথা। তাদের একটাই দাবি, বসে বসে তো অনেক দিন খাওয়া হল এবার যুদ্ধ করতে চাই।

কি আর করা, নিরুপায় হয়ে নবী আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলেন এবং আল্লাহ তার দোয়া কবুল করলেন। ফরজ হয়ে গেল যুদ্ধ মুসা নবী এবং তার অনুসারীদের উপর।


যুদ্ধ কাদের সাথে? যুদ্ধ হল পাশের আরেকটি রাজ্যের সাথে। তো নবী মনে হয় হাজার খানেক অনুসারী নিয়ে যুদ্ধ করতে রওনা হলেন। পথে তারা শুনতে পেল, পাশের রাজ্যের ৭০ হাজার যোদ্ধা আসছে তাদের সাথে যুদ্ধ করতে।

এই কথা শুনে মুসা নবীর অনুসারীরা বলল, হে মুসা আমরা তোমার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে যুদ্ধ ফরজ করার জন্য বলেছি, তাই বলে বিপক্ষ দলের ৭০ হাজার লোকের সাথে যুদ্ধ করতে হবে এটা কোন কথা। আমরা বাপু এমন যুদ্ধে যেতে পারব না। তুমি আর তোমার আল্লাহ মিলে যুদ্ধ করো গিয়ে, আমরা এর মধ্যে নাই।

নবী হুংকার দিয়ে বললেন, তোমরা এমন কথা বলো না। জয়-পরাজয় আল্লাহর হাতে। তোমরা যুদ্ধে চল, জয় আমাদের হবেই ইনশাল্লাহ। আর এ যুদ্ধ তো তোমরাই চেয়েছিলে।

তখন অনুসারীরা বলল, হুম যুদ্ধ চাইছি দেখে কি এত লোকের সাথে যুদ্ধ করে প্রানটা খোয়াবো নাকি। না..বাপু আমরা যুদ্ধে যেতে পারব না। তুমি বরং একলাই যাও। একথা বলে বেশীর ভাগ অনুসারী উল্টোপথে বাড়ির দিকে রওনা হলো আর কিছু অনুসারী মুসা নবীর সাথে থেকে গেল।

কিন্তু আল্লাহর লীলা তো বোঝা দায়, তাই ঐসব অনুসারীরা কিন্তু উল্টো পথ ধরলেও বাড়িতে আসতে পারেনি। বরং তারা একঐ পথে টানা ৭০ বছর চক্রাকারে ঘুরেছে।


আমার আলোচ্য বিষয় কিন্তু এই হাদিস বয়ান করা নয়।

আমি চিন্তা করছি, আমাদের এই বাংলাদেশের মানুষের চাহিদা কি..?

একটু ভালো থাকা, একটু ভালো খাওয়া, জীবনের নিরাপত্তা, আর আগামী প্রজন্ম যেন একটা ভালো ভবিষ্যত পায় তার বন্দোবস্ত করা। এই তো চাওয়া, তাই না..? কিন্তু এই চাওয়া পুরুন করা তো চাট্রিখানি কথা নয়। এর জন্য আমরা নিরবধি পরিশ্রম করে যাচ্ছি, যেন খুব দ্রতই লক্ষ্য পৌছানো যায়। কেউ কেউ আবার ক্ষমতার শীর্ষে থেকে ভাবছে ধুর শালা সবাইকে নিয়ে কবে না কবে লক্ষ্যে পৌছাবো, তারচেয়ে ভালো সুযোগ যখন একবার পেয়েছি বরং নিজের আর ছেলে মেয়েদর জন্য কিছু আখের গুছিয়ে নেই। শুরু করে দুর্নীতি, হয়ে যায় মুষ্টি মেয় লোক খুউব ধণী।

এবার আসনি আমার আলোচ্য বিষয়ে....

কয়দিন ধরে গাদ্দাফি সরকারের আমলে তার উন্নয়ন কর্ম কান্ডের খবরগুলো খুউব চোখে পড়ছে। আর মনে পড়ছে উপরের হাদিসটি, যার মর্মকথাই হল- সুখে থাকতে ভূতে কিলায়।

এখন দেখার বিষয় ইউএস আর পশ্চীমাদের লেজ ধরে চলা বর্তমান লিবিয়ায়, যারা ঘর হারিয়েছে তারা কত দ্রুত তাদের ঘর পাবে। যারা বেকার এবং চাকরি হারিয়েছে তারা কত দ্রুত চাকরি পাবে। দুর্নীতি তাদের প্রশাসনে প্রবেশ করে কত দ্রুত স্বনির্ভর দেশটিকে পরনির্ভরশীল করে দিবে।

আমরা খুবই ভাগ্যবান আমাদের জীবন দশায় আমরা অনেক ইতিহাসের সাক্ষী হতে পেরেছি। কিন্তু তার থেকেও আরো মজার বিষয়, যদি আমরা আরো কিছুদিন বেচে থাকি তবে এইসব ঘটে যাওয়া ঘটনার পরিনতিও দেখতে পাব।

ভাবছি লিবিয়ার জনগণও কি মুসা নবীর ঐসব অনুসারীর মত ভুল করল। অনুসারীদের পরিনতি কি হয়েছিল তা সবার জানা কিন্তু লিবিয়দের পরিনতি কি হয় তা দেখতে হয়ত বেচে থাকতে হবে আরো কয়েক দশক।
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×