ভানুয়াতুর পতাকা। বাংলাদেশের মতই লাল সবুজ।
১। দেশের নাম বাংলাদেশ
অন্যসব দেশের কাস্টমসে প্রায়শঃ যেমনটি হয়, সবুজ রঙা পাসপোর্ট দেখে আমাকে ভানুয়াতুর কাস্টমসে থামানো হলো।
দ্বীপদেশীয় মেলেনেশিয়ান চেহারার বিশালদেহি অফিসার বললো, এ কি তোমার কোন ভিসা নেই কেন?
আমি বললাম, কমনওয়েলথ দেশগুলোর জন্য তোমার দেশে ভিসা লাগে না, যদি রিটার্ন টিকেট থাকে।
সে বললো, তুমি কোন দেশের?
আমি বললাম, বাংলাদেশ।
- কিন্তু তোমার টিকেট তো দেখি অস্ট্রেলিয়া থেকে?
-আমি ওখানে থাকি
-হুমম... তারপরে সে তার সহকর্মীর সাথে কি যেন কথা বললো... তার নিজের কাছে থাকা একটা লিস্ট চেক করে আমাকে বললো, তোমার দেশের নাম আমাদের লিস্টে নাই। তুমি শিওর বাংলাদেশ কমনওয়েলথের দেশ?
আমি জোর দিয়ে বললাম, অফ কোর্স।
আমি ভাবলাম এই বুঝি আমাকে স্পেশাল রূমে নিয়ে যাবে আরো জিজ্ঞাসাবাদের জন্য (এই কু-অভিজ্ঞতা আমার কয়েকটি দেশে ছিল, ভিসা থাকা সত্ত্বেও, আর এখন তো ভিসাই নাই
কিন্তু সে আমাকে অবাক করে এক মাসের ভিসার সীল দিয়ে হেসে বললো, ওকে। ওয়েলকাম টু ভানুয়াতু!
আমি অন্যদের দিকে যুদ্ধজয়ী বীরের হাসি হেসে এগিয়ে আসলাম। ভাবটা এরকম, দেখলা এমুন দেশের মানুষ আমি, আমার দেশরে চেনা লাগে না, নাম শুনলেই একমাসের ভিসা পাওয়া যায়!
আমাদের রাজশাহী এয়ার পোর্টের মত ছোট ভানু্য়াতুর রাজধানী পোর্ট ভিলার আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্ট। তবে বেশ ছিমছাম ও পরিচ্ছন্ন। একদল লোকাল গাতক স্থানীয় বিসলামা ভাষায় উচ্চস্বরে বেশ জমজমাট একটা গান গাচ্ছিলো সদ্য ভানু্য়াতুর মাটিতে পা রাখা বিদেশিদের উদ্দেশ্যে, যাদের বেশির ভাগই ট্যুরিস্ট। মূলতঃ ট্যুরিজমই এদের প্রধান বৈদেশিক আয়ের উৎস। বাহিরে ঝিরঝিরে বৃষ্টি। হালকা ঠান্ডা। ২০০৮ এর মে মাসের এক রাত্রিতে আমার প্রথম বিদেশী কর্মক্ষেত্র ভানুয়াতুতে পা রাখলাম।
পোর্ট ভিলা আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্ট
ভানুয়াতুর মানচিত্র ও অবস্থান।
২। দেশের নাম ভানুয়াতু
ভানুয়াতু যেতে হবে শুনে সিডনীতে আমার খালু বলে উঠলো,ওটাতো জংলীদের দেশ। এখনো ওখানে মানুষখেকো আছে।
আমার প্রোজেক্ট ম্যানেজার এর আগে আমাকে একটা ভানুয়াতুর ট্র্যাভেল লিফলেট দিয়েছিল- সেখানে নেংটি পড়া আদিবাসীদের ছবি ছিলো ঠিক ই কিন্তু সেখানে মানুষখেকো আছে এটা কোথাও লেখা ছিলো না। যাক গে, আমার মানুষ খেকো ভীতি টারজান বেলায় (যখন ছোটবেলায় টারজান দেখতাম) ছিল, এখন আর নেই। তবে আসার পথে এয়ার ভানুয়াতুর পর্যটক সাময়িকী পড়ছিলাম। সেখানে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসগরীয় দ্বীপদেশ এই ভানুয়াতুর ব্যাপারে বেশ কিছু ইন্টারেস্টিং খবর ছিলো। যেমন ৮৩ টি দ্বীপের সমন্বিত দ্বীপরাষ্ট্র ভানুয়াতু বিশ্বের সুখীতম মানুষের দেশ (যে সংস্থার জরীপে এই বছর পুয়ের্তো রিকা সুখীতম দেশ হয়েছে, সেই একই সংস্থার ২০০৬ এর জরীপ অনুযায়ী)। এখানে স্বল্পতম মানুষের জন্য রয়েছে সর্বাধিক সংখ্যক ভাষা (২ লাখ লোকের দেশে ১১০টি স্থানীয় ভাষা)। বিশ্বের মোস্ট একসেসিবল জীবন্ত আগ্নেয়গিরি রয়েছে এ দেশে (টা'না দ্বীপে)। একসময়ের মানুষ খেকো থাকা এই ভানুয়াতু এখন বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল রিয়েল এস্টেটের দেশ ।
তবে আমি প্রবাল দ্বীপময় এদেশের অপরূপ প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলীতেই বেশি চমৎকৃত হচ্ছিলাম।
পরবর্তীতে আরো দুমাস এদেশে থেকে জেনেছি, শহুরে যান্ত্রিকতা কিংবা তথাকথিত সভ্যতার মেকি আধুনিকতা থেকে মুক্ত পৃথিবীর এক প্রান্তে থাকা এদেশটির সহজ-সরল, দিলখোলা, আমুদে মানুষের হৃদয়, এদেশের স্বর্গীয় প্রকৃতির চেয়েও সুন্দর!!!
আগামী পর্বগুলোতে আমি তাদের কথাও বলবো আশা রাখি।
(চলবে...)
ভানু্য়াতুর চলার পথে মিলবে এমন সুদৃশ্য পর্যটন কানন
চলার পথে হামেশা দেখতে পাবেন প্রশান্ত মহাসাগরীয় পেলিক্যান নীলের পাশে শুয়ে থাকা এমন সুনসান সাগর সৈকত। প্রকৃত সৌন্দর্য ছবির চেয়েও সুন্দর!
চন্দন (স্যান্ডাল) বনানী। ইউরোপীয়অসি ব্যাবসায়ীদের তত্ত্বাবধায়নে পাহাড়ে চাষ হয় চন্দন গাছ।পারফিউম ইন্ডাস্ট্রীর কাঁচামাল হিসেবে এই চন্দনের বেশ কদর আছে।
ভানুয়াতুর সুরন্জনা সন্ধ্যামালা
পথের বাঁকে দূর সাগরের হাতছানি
ভানুয়াতু দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় আগ্নেয় মেখল দ্বীপরাজির একটি অংশ। এমনি এক জীবন্ত অগ্নিগিরি মাউন্ট ইয়ারুসের অগ্নুৎপাত। আগ্নেয় দ্বীপ বলে কোন বিষাক্ত সরীসৃপ জাতীয় জীব নেই এ দ্বীপে। হিংস্র প্রানীর মধ্যে আছে এক ধরনের বুনো শুয়োর। তাও কিছু প্রত্যন্ত দ্বীপে।
লাভাভস্ম ছাওয়া অগ্নিগিরি।
ভানুয়াতুর মেলানেশিয়ান শিশু। ভানুয়াতু, সলোমন আইল্যান্ড, নিউ ক্যালিডোনিয়া, ফিজি আর পাপুয়া নিউগিনির মানুষ মেলানেশিয়ান গোত্রের।
ছবিসূত্র: ইন্টারনেট ও ব্যাক্তিগত
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ১:৩৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




