somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাবু তুমি বড় হয়ে কি হবে?? কিছু না/:)

২১ শে নভেম্বর, ২০১০ রাত ১২:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শিক্ষক, ছাত্রকে ডাকিয়া কহে,
দেখ নদী তার আপন স্রোতেই বহে।
সময়কে কাজে লাগাও এখনো রয়েছো কলি,
সময়তো স্রোতের মতই যাইবে চলি।



না আজ কোন ছড়া না একজন দূর্দান্ত ছাত্রের কাহিনী শুনাই;);)

পড়ালেখায় আমার কোন কালেই তেমন মনোযোগ ছিল না। পড়ালেখা নিয়া জীবনে বহু মাইরও খাইছি। অবশ্য স্কুলে না বাসায় :P কারণ আম্মা পিটায়া স্কুলের পড়া পড়ায়া ছাড়তো । এখনো মনে পরে খুব ছোট বেলা আব্বা হুজুরের সাথে বিকালে হাটতে যাইতাম। তখন বিভিন্ন মুরুব্বিরা প্রশ্ন করতো বাবু তুমি বড় হয়ে কি হবে?
আমার সরল উত্তর- কিছু না। :|
এই সরল উত্তর গরল করার জন্য বাসায় বিভিন্ন ষড়যন্ত্র চলতো। আমারে প্রশিক্ষন দেওয়া হইতো কেউ এই কথা জিজ্ঞেস করলে বলবে-
জ্বি! ডাক্তার হব, ইঞ্জিনিয়ার হব উমুক হব তুমুক হব।
কিন্তু ফলাফল অশ্বডিম্ব। :||
আমার মুখ দিয়ে কখনোই মিথ্যা কথা বের হয়নাই। আমি সত্যিই আজ কিছু না :(
হয়তো সেদিন যদি কোন কিছু বলতে পারতাম তাইলে কিছু একটা হওয়া যাইতো। আফসুস আমি সেদিনও বলিতে পারিনাই:(

সে যাই হোক কিভাবে যে আমার দ্বারা পড়ালেখা নামক অসম্ভব জিনিস স্বম্ভব হইলো :|| আমি আজো ভেবে টাস্কিত হই। আমার কলেজ লাইফের ছোট্ট একটা উদাহরন দিলেই ব্যাপারটা পানির মত ক্লিয়ার হয়া যাইবো।

আমি দূর্ভাগ্যক্রমে পুরাই আমার স্বভাবের বাইরের একটা কলেজে ভর্তি হইছিলাম ইন্টারে। হায়রে আমার জ্বালা কে বুঝে।রেগুলার ক্লাস করা, স্কুলের মত পড়া দেওয়া । পড়া না পারলে ডায়রীতে রিপোর্ট লেখা আবার বাপের সাইন নিয়া জমা দেওয়া, :((আমার জীবনডা দূর্বিসহ কইরা ফালাইছিল দুই বছরে। আর আমার নামে তো দুনিয়ার রিপোর্ট ছিলোই। এমনকি ১ সপ্তাহ কলেজে যাই নাই এই কারণে বাসায় চিঠিও আইছে। /:) কাজেই স্বাভাবিক ভাবেই ক্লাস টিচার আমারে দেখতে পারতো না দুইচোক্ষে। আমিও না X(
আমার একটা বেল্ট আর একটা নেমপ্লেট এখনো স্যারের কাছে। কারণ নিয়ম ছিলো বেল্ট থাকবে কালো আর নেমপ্লেট থাকবে বাংলায়। কিন্তু আমার ছিলো দুইটাই উলটা। বেল্ট ছিলো চকলেট কালার আর নেমপ্লেট ছিলো ইংরেজীতে তাও আবার দুই সাইডে ভালোবাসা চিহ্নের দুইডা লাইট ছিলো যেগুলা রাতের বেলা জলতো।:#> (ঐগুলার নাম মনে আইতাছেনা) শুধু এই দুই জিনিস যদি উলট পালট থাকতো তাহলেও চলতো। আমার সবকিছুই ছিলো উলটা পালটা কিন্তু এগুলা আমি মোটেও ইচ্চা করে করতাম না কেন যেন উলটা পালটা হয়া যাইতো। :|যেমনঃ শীতের দিনে ফুলহাতা শার্ট গরমের দিনে হাফহাতা। আর আমি হাফহাতা জীবনে পরতাম্না। কি শীত কি গরম। আবার শীতের সময় একটা সোয়েটার ছিল। যেইডা দেখতে পুরা আবুল মার্কা। এইডা পরলে স্টাইল নস্ট হয়া যাইবো দেইখা আমি ঐডা পড়া দূরে থাক কিনিই নাই।B-) ইত্যাদি ইত্যাদি...
কাজেই ক্লাস টিচার কারণে অকারণে আমারে খালি অপমান করতো।:((
স্যার আমাদের টেস্ট পরীক্ষা শুরুর আগে ক্লাসে আইসা লেকচার দিতাছে….
শোন আমি জানি তোমরা সবাই খুব ভালো রেজাল্ট করবে ফাইনালে। কিন্তু এমন একজন ছাত্র আছে আমাদের ক্লাসে যে এবার টেস্টে ১২ টা সাবজেক্টেই ফেল করবে। শুইন্নাতো আমরা সবাই হাসতে হাসতে পইরা যাওয়ার যোগার।=p~
হুম! থামো সবাই। (স্যার খুব গম্ভীর গলায়।)
আমরা সবাই চুপ! :-*
তোমরা কি জানতে চাও সে কে?
সবাই একস্বরে জ্বী স্যার।:)
সে হচ্ছে ...
স্যার অত্যন্ত রসপূর্ন কন্ঠে আমার নামটা উচ্চারণ করলেন :-&
মেজাজটা পুরাই খারাপ হইলো। কয় কি? না পইরা পরীক্ষা দিলেওতো সবগুলায় ফেল করুম্না। যাউক কিচ্ছু করার নাই। বুচ্ছি এতদিন স্যাররে প্রচুর ডিস্টার্ব করছি এর প্রতিশোধ নিতাছে।
এদিকে পোলা পাইনতো পারে না হাততালি দেয়।
আর সাইডে মাইয়াগুলায় মুচকী মুচকী হাসতাছে। মন চাইতাছে গিয়া দেই দুই খান।X((
যাক যথারীতি টেস্ট গেল ফাইনালও গেলো।
রেজাল্ট ও খুব একটা খারাপ হলোনা। যেদিন মার্কশিট আনার জন্য গেলাম কলেজে সেদিন স্যার আমাকে দেখাও করতে বলেছিলেন। কিন্তু ক্লাসে সেই অপমান তখনো ভুলতে পারিনি। স্যারের সাথে দেখাও করিনি। কিন্তু এখন মনে হয় কাজটা ভুল করেছিলাম। স্যারের সাথে দেখা করা উচিত ছিল। তিনি অবশ্যই আমার খারাপ চাননি। হয়তো নিয়মিত নিয়ম ভাঙ্গার কারণে স্যার আমার উপর কিছুটা বিরক্ত ছিলো আর আমাকে এভাবে বলার উদ্দ্যেশ্য ছিলো যাতে আমি রেগে ঠিকমত পড়ালেখা করি। (যদিও এসব কথা আমার এক কান দিয়া ঢুইকা আরো কিছু সাথে নিয়া আরেক কান দিয়া বাইর হয়:P।)। স্যারের সাথে অনেক দিন পর দেখা হয়েছিল এয়ারপোর্টে। খুব ভালো লেগেছিল সেদিন। সবচেয়ে ভালো লেগেছে স্যার আমাকে চিনতে পেরেছেন।

এই পোস্ট পইড়া এই ঘটনা মনে পড়ার জন্য কিনাদিরে মাইনাস।


সর্বশেষ এডিট : ২১ শে এপ্রিল, ২০১২ রাত ১২:৩৪
৬১টি মন্তব্য ৬২টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×