শিক্ষক, ছাত্রকে ডাকিয়া কহে,
দেখ নদী তার আপন স্রোতেই বহে।
সময়কে কাজে লাগাও এখনো রয়েছো কলি,
সময়তো স্রোতের মতই যাইবে চলি।
না আজ কোন ছড়া না একজন দূর্দান্ত ছাত্রের কাহিনী শুনাই
পড়ালেখায় আমার কোন কালেই তেমন মনোযোগ ছিল না। পড়ালেখা নিয়া জীবনে বহু মাইরও খাইছি। অবশ্য স্কুলে না বাসায়
আমার সরল উত্তর- কিছু না।
এই সরল উত্তর গরল করার জন্য বাসায় বিভিন্ন ষড়যন্ত্র চলতো। আমারে প্রশিক্ষন দেওয়া হইতো কেউ এই কথা জিজ্ঞেস করলে বলবে-
জ্বি! ডাক্তার হব, ইঞ্জিনিয়ার হব উমুক হব তুমুক হব।
কিন্তু ফলাফল অশ্বডিম্ব।
আমার মুখ দিয়ে কখনোই মিথ্যা কথা বের হয়নাই। আমি সত্যিই আজ কিছু না
হয়তো সেদিন যদি কোন কিছু বলতে পারতাম তাইলে কিছু একটা হওয়া যাইতো। আফসুস আমি সেদিনও বলিতে পারিনাই
সে যাই হোক কিভাবে যে আমার দ্বারা পড়ালেখা নামক অসম্ভব জিনিস স্বম্ভব হইলো
আমি দূর্ভাগ্যক্রমে পুরাই আমার স্বভাবের বাইরের একটা কলেজে ভর্তি হইছিলাম ইন্টারে। হায়রে আমার জ্বালা কে বুঝে।রেগুলার ক্লাস করা, স্কুলের মত পড়া দেওয়া । পড়া না পারলে ডায়রীতে রিপোর্ট লেখা আবার বাপের সাইন নিয়া জমা দেওয়া,
আমার একটা বেল্ট আর একটা নেমপ্লেট এখনো স্যারের কাছে। কারণ নিয়ম ছিলো বেল্ট থাকবে কালো আর নেমপ্লেট থাকবে বাংলায়। কিন্তু আমার ছিলো দুইটাই উলটা। বেল্ট ছিলো চকলেট কালার আর নেমপ্লেট ছিলো ইংরেজীতে তাও আবার দুই সাইডে ভালোবাসা চিহ্নের দুইডা লাইট ছিলো যেগুলা রাতের বেলা জলতো।:#> (ঐগুলার নাম মনে আইতাছেনা) শুধু এই দুই জিনিস যদি উলট পালট থাকতো তাহলেও চলতো। আমার সবকিছুই ছিলো উলটা পালটা কিন্তু এগুলা আমি মোটেও ইচ্চা করে করতাম না কেন যেন উলটা পালটা হয়া যাইতো।
কাজেই ক্লাস টিচার কারণে অকারণে আমারে খালি অপমান করতো।
স্যার আমাদের টেস্ট পরীক্ষা শুরুর আগে ক্লাসে আইসা লেকচার দিতাছে….
শোন আমি জানি তোমরা সবাই খুব ভালো রেজাল্ট করবে ফাইনালে। কিন্তু এমন একজন ছাত্র আছে আমাদের ক্লাসে যে এবার টেস্টে ১২ টা সাবজেক্টেই ফেল করবে। শুইন্নাতো আমরা সবাই হাসতে হাসতে পইরা যাওয়ার যোগার।
হুম! থামো সবাই। (স্যার খুব গম্ভীর গলায়।)
আমরা সবাই চুপ!
তোমরা কি জানতে চাও সে কে?
সবাই একস্বরে জ্বী স্যার।
সে হচ্ছে ...
স্যার অত্যন্ত রসপূর্ন কন্ঠে আমার নামটা উচ্চারণ করলেন :-&
মেজাজটা পুরাই খারাপ হইলো। কয় কি? না পইরা পরীক্ষা দিলেওতো সবগুলায় ফেল করুম্না। যাউক কিচ্ছু করার নাই। বুচ্ছি এতদিন স্যাররে প্রচুর ডিস্টার্ব করছি এর প্রতিশোধ নিতাছে।
এদিকে পোলা পাইনতো পারে না হাততালি দেয়।
আর সাইডে মাইয়াগুলায় মুচকী মুচকী হাসতাছে। মন চাইতাছে গিয়া দেই দুই খান।
যাক যথারীতি টেস্ট গেল ফাইনালও গেলো।
রেজাল্ট ও খুব একটা খারাপ হলোনা। যেদিন মার্কশিট আনার জন্য গেলাম কলেজে সেদিন স্যার আমাকে দেখাও করতে বলেছিলেন। কিন্তু ক্লাসে সেই অপমান তখনো ভুলতে পারিনি। স্যারের সাথে দেখাও করিনি। কিন্তু এখন মনে হয় কাজটা ভুল করেছিলাম। স্যারের সাথে দেখা করা উচিত ছিল। তিনি অবশ্যই আমার খারাপ চাননি। হয়তো নিয়মিত নিয়ম ভাঙ্গার কারণে স্যার আমার উপর কিছুটা বিরক্ত ছিলো আর আমাকে এভাবে বলার উদ্দ্যেশ্য ছিলো যাতে আমি রেগে ঠিকমত পড়ালেখা করি। (যদিও এসব কথা আমার এক কান দিয়া ঢুইকা আরো কিছু সাথে নিয়া আরেক কান দিয়া বাইর হয়
এই পোস্ট পইড়া এই ঘটনা মনে পড়ার জন্য কিনাদিরে মাইনাস।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে এপ্রিল, ২০১২ রাত ১২:৩৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



