খসড়া বেসরকারি সম্প্রচার নীতিমালার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিশিষ্ট সাংবাদিক, দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক এবং সাংবাদিক নেতারা বলেছেন, এটি স্বাধীন মতপ্রকাশের অন্তরায় এবং গণতন্ত্রের জন্য হুমকি। এই নীতিমালা কার্যকর করা হলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বলে কিছুই থাকবে না এবং গণমাধ্যম রাবারস্ট্যাম্পে পরিণত হবে। তারা বলেন, গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণের জন্য কোনো নীতিমালা বা আইন করা উচিত নয়। বিধিনিষেধ দিয়ে কোনোদিন গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। অতীতেও আওয়ামী লীগ এমন পদক্ষেপ নিয়েছিল; কিন্তু তা দেশের জন্য কোনো সুফল বয়ে আনেনি। তারা আরও বলেন, আওয়ামী লীগের ঘাড়ে বাকশালী ধরনের ভূত সবসময়ই ছিল—তা কখনোই নামেনি। আওয়ামী লীগ কখনোই কার্যত পরমতসহিষ্ণু ছিল না। নিজেদের ইচ্ছা, মত ও সিদ্ধান্ত অন্যদের ওপর জোর করে চাপিয়ে দেয়ার স্বভাব তাদের চিরকালের। অতীতে বাকশাল গঠনের সঙ্গে সঙ্গে দেশের চারটি সংবাদপত্র সরকারের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাদবাকি সব খবরের কাগজ এবং সাময়িকী নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এভাবে আওয়ামী লীগ চিন্তার স্বাধীনতা এবং বাকস্বাধীনতা নিষিদ্ধ করেছিল। খসড়া বেসরকারি সম্প্রচার নীতিমালা সেই একই অসত্ উদ্দেশ্য হাসিল করার একটি পদক্ষেপ মাত্র। এই প্রস্তাবমালা আলোচনার অযোগ্য এবং জাতি এটা প্রত্যাখ্যান করে। আওয়ামী লীগ যদি সরকারি ক্ষমতা ব্যবহার করে এটি জাতির ওপর চাপিয়ে দেয়, তার পরিণাম হবে ভয়াবহ।
পৃথক প্রতিক্রিয়ায় বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিস্ট আতাউস সামাদ, নিউজ টুডে সম্পাদক জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, নয়া দিগন্ত সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন, আমাদের সময় সম্পাদক নাইমুল ইসলাম খান, মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কামালউদ্দিন সবুজ, সাংবাদিক নেতা মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল এসব কথা বলেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি একটি বেসরকারি সম্প্রচার নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে এবং তথ্য মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কাছে এ সংক্রান্ত খসড়া পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোনো আলোচনামূলক অনুষ্ঠানে কোনো প্রকার অসঙ্গতিপূর্ণ বিভ্রান্তিমূলক তথ্য বা উপাত্ত দেয়া যাবে না। প্রয়োজনে এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে টেলিভিশন বা রেডিও বা অনুষ্ঠান পরিচালক জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকবে। নীতিমালায় বলা হয়, জাতির পিতার প্রতি কোনো অবজ্ঞা বা অসম্মান করা যাবে না। রাজনীতির বিষয়ে নেতিবাচক কিছু প্রচার করা যাবে না। বন্ধু রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হয় এমন কোনো বিষয়ে প্রচার চালানো যাবে না। সরাসরি বা বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে কোনো রাজনৈতিক দলের বক্তব্য বা মতামতও প্রচার করা যাবে না। রাজনৈতিক উদ্দেশে কোনো বিদ্রোহ, নৈরাজ্য এবং হিংসাত্মক ঘটনা প্রদর্শন করা যাবে না। রাজনৈতিক ব্যক্তি, বিদেশি কূটনীতিক ও জাতীয় বীরদের পণ্যের বিজ্ঞাপনে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না। রেডিও, টেলিভিশন চ্যানেলকে নিজ দায়িত্বে বিজ্ঞাপন সংক্রান্ত ছাড়পত্র প্রদান করতে হবে এবং এক্ষেত্রে টেলিভিশন বিজ্ঞাপন নীতিমালা সঠিকভাবে অনুসরণ করা না হলে তথ্য মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট টিভি চ্যানেলের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



