রাজধানীর কাকরাইলে সাংবাদিক দীনেশ দাস যে বাসের চাপায় নির্মমভাবে নিহত হন, ঘাতক সেই গাড়িটি ৫০ বছরের পুরনো। এমনকি এটি ২৯ বছর ধরে ছিল পরিত্যক্ত। ১৯৮২ সালের নভেম্বরে বাসটিকে (ঢাকা মেট্রো-জ-১৪-২৪৩৫) মারাত্দক ত্রুটিপূর্ণ, অকেজো ও রাস্তায় চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী বলে ঘোষণা দেয় বিআরটিএ। এ কারণে মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়িটির কাগজপত্র আর নবায়ন করা সম্ভব হয়নি। ২৯ বছর আগেই গাড়িটি ভেঙেচুরে 'ভাঙ্গারির পণ্য' হিসেবে ক্রয়-বিক্রয় হয়ে গেছে বলে জানতেন বিআরটিএর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। কিন্তু অর্ধ শতাধিক যাত্রীবোঝাই করে রাজধানীর রাস্তায় যে গাড়িটি দাপিয়ে বেড়াত, তা সার্জেন্ট-পুলিশের অজানা ছিলনা। থানা ও ট্রাফিক বিভাগের মাসোহারার তালিকায়ও ছিল গাড়িটির নম্বর। গাড়িটি থেকে প্রতিদিন মাসোহারা হিসেবে ৩২০ টাকা হারে চাঁদা আদায় করা হতো। পরিবহন মালিক সমিতির সাবেক নেতা আনোয়ার হোসেনের মালিকানাধীন ঘাতক বাসটি আরও পাঁচ বছর আগে জোড়াতালি দিয়ে সাড়ে সাত ফুট লম্বা বানানো হয়। ৩২টির স্থলে করা হয় ৪৪ আসন। একটি সরকারি সংস্থার কর্মচারীদের পরিবহনের চুক্তিবদ্ধে বহাল তবিয়তে ছিল বাসটি।
সাংবাদিক দীনেশ দাসকে চাপা দেওয়া ঘাতক বাসটির মতো ত্রুটিপূর্ণ, চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী, পরিত্যক্ত-ঘোষিত প্রায় পাঁচ হাজার গাড়ি রাজধানীর রাস্তা দাপিয়ে বেড়ায়। সরকারি কর্মচারী বহন করার অজুহাতে এসব বাসে সংস্থাপন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সচিবালয়, ভূমি মন্ত্রণালয় নামে সাইনবোর্ড লাগানো থাকে, চলাচল করে দাপটের সঙ্গে। মন্ত্রণালয়ের সাইনবোর্ড লাগানো ব্যক্তিমালিকানার গাড়িগুলো মডেলবিহীন, শতভাগই ত্রুটিপূর্ণ। বৈধ কোনো কাগজপত্র নেই গাড়িগুলোর। ব্লু বুক, রোড পারমিট, ইন্স্যুরেন্সের কাগজ নেই, চালকদেরও নেই বৈধ লাইসেন্স। তবু গাড়িগুলো অদৃশ্য ইশারায় যাত্রীবোঝাই করে নির্বিঘ্নে চলাচল করছে রাজধানীর সর্বত্র। দিনের অফিস-সময়সীমায় পার্কিং অবস্থায় থাকার কারণে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান থেকেও এসব গাড়ি ও চালকরা রেহাই পেয়ে যায়। অন্যদিকে ট্রাফিক পরিদর্শকদের মোটা অঙ্কের মাসোহারা দেওয়ায় অন্য কোনো ঝুটঝামেলাও পোহাতে হয় না তাদের।
কোথায় থাকে, চাঁদা কত : চলাচলের অনুপযোগী '১৯৬২ মডেলের সুপিরিয়র কোচ' নামের এমন তিন শতাধিক পরিত্যক্ত বাস রাখা হয় যাত্রাবাড়ীর অদূরে ঢাকা-চট্টগ্রাম সড়কঘেঁষা আবর্জনাপূর্ণ স্থানে। এগুলো নিরাপদে চলাচলের জন্য ডেমরা ও যাত্রাবাড়ী থানা এবং ট্রাফিকের (পূর্ব জোন) কতিপয় কর্মকর্তার নামে প্রতিদিন প্রতিটি গাড়ি থেকে ৩২০ টাকা করে চাঁদা দিতে হয়। চাঁদা তোলার দায়িত্ব পালন করেন জনৈক হালিম ও হাসমত। লাইনম্যানরা প্রতিটি গাড়ি থেকে ২০ টাকা হারে নিজেদের জন্য আদায় করে থাকেন। ১০০ টাকা করে থানায় ও ২০০ টাকা ট্রাফিক বিভাগে পেঁৗছে দেন তারা। একইভাবে মতিঝিল এলাকায় মডেলবিহীন, কাগজপত্রহীন এসব স্টাফ বাসকে ঝুটঝামেলামুক্ত রাখার বিনিময়ে ট্রাফিক বিভাগের কতিপয় কর্মকর্তা প্রতি মাসে আদায় করে থাকেন তিন লক্ষাধিক টাকা।
একজন সাংবাদিক, একজন আপনি আমি মরলে কার কি আসে যায়????
পুলিশের তো আয় হচ্ছে, দ্যাশ এগিয়ে যাচ্ছে ডিজিটালে।
কি আজিব দ্যাশে আমাদের বাস।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

