বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, সরকার জনগণের আন্দোলনে ভয় পেয়েছে। শান্তিপূর্ণ গণমিছিলকে বাধাগ্রস্ত করতে ১৪৪ ধারা জারি করেছে সরকার। ১৪৪ ধারা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ষড়যন্ত্র ও নির্যাতনের মাধ্যমে জনগণের গণতান্ত্রিক আন্দোলন দমন করা যাবে না। এর ফলাফল শুভ হবে না। অনেকদিন আগে ঘোষিত গণমিছিলের কর্মসূচি বানচালের জন্য আওয়ামী লীগ দুদিন আগে কর্মসূচি ঘোষণা করে। আর সাজানো নাটকের মাধ্যমে অগণতান্ত্রিক ও গণবিরোধী বিধি প্রয়োগ করেছে। গতকাল বিকালে রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের ১৯তম জাতীয় কাউন্সিল ও ৩৫তম কাউন্সিলের সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
রাজধানীতে আজ মিছিল-সমাবেশে পুলিশের জারি করা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বেগম খালেদা জিয়া বলেন, আমাদের নিয়মতান্ত্রিক শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে ব্যাপক মানুষের অংশগ্রহণ দেখে ভয় পেয়েছে সরকার। এ জন্য তা নস্যাত্ করতে নানা অপকৌশলের আশ্রয় নিয়েছে।
বিদ্যুত্ সেক্টরে সরকারের লুটপাট ও মিথ্যা প্রচারণার নানা চিত্র তুলে ধরে বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া বলেন, বিদ্যুতের অগ্রগতিই হচ্ছে একটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতির পরিমাপক। সে কারণেই বিদ্যুত্ বা বিদ্যুেকন্দ্রকে ‘মাদার অব অল ইন্ডাস্ট্রিজ’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। সেদিক বিবেচনায় রেখে সরকারে থাকার সময় আমরা বিদ্যুত্ উত্পাদনের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুত্ লাইন নির্মাণ, পুরনো বিদ্যুেকন্দ্র সংস্কার ও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে বিদ্যুতের ভোগান্তি কমানোর পরিকল্পনার বাস্তবায়ন করেছিলাম। বর্তমান সরকার প্রণীত অর্থনৈতিক সমীক্ষা প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে যে, ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত ১২৭০ মেগাওয়াট উত্পাদন ক্ষমতাসম্পন্ন নতুন বিদ্যুেকন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। তিনি বলেন, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড এবং আরপিসিএলসহ আমাদের সরকার আমলে বিদ্যুত্ উত্পাদন বেড়েছিল প্রায় ১ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট। বিদ্যুত্খাতে আমাদের সরকারের নেয়া পরিকল্পনা ও পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন করা হলে ২০১২ সালের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে স্বল্প ব্যয়ে নতুন প্রায় চার হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত্ ক্ষমতা সংযোজিত হতো। বর্তমানে বিদ্যুত্ খাতে যে সঙ্কট দেখানো হচ্ছে, তা থাকত না। বর্তমানে যে গ্যাস সঙ্কট চলছে, তাও থাকত না। বিদ্যুতের দাম এত বাড়ত না। এখাতে হাজার হাজার কোটি টাকা ভর্তুকিও দিতে হতো না। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারও সামগ্রিকভাবে বিদ্যুত্ ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য গৃহীত প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে না এগিয়ে, বিদ্যুত্খাতে প্রথম দেড় বছর ধরে কৃত্রিম সঙ্কট জিইয়ে রাখে। তারপর বিদ্যুত্ উত্পাদনে স্বল্পতার অজুহাতে বিনা টেন্ডারে ব্যয়বহুল তরল জ্বালানিভিত্তিক রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল বিদ্যুেকন্দ্র স্থাপনে অতি উত্সাহী হয়ে পড়ে। এতে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি ছাড়াও সার্বিক জাতীয় অর্থনীতি এক দুঃসহ চাপের মধ্যে পড়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে নিস্তার পেতে আগামীতে আমাদের ব্যাপকভিত্তিক একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। কেবল বিদ্যুত্খাতেই নয়, দেশের প্রায় প্রতিটি প্রকল্পেই আজ ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে। এ অভিযোগ আজ আর দেশের সীমানার মধ্যেই সীমিত থাকছে না। বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া বলেন, দুর্নীতির অভিযোগে বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতাসংস্থা পদ্মা সেতুর অর্থায়ন বন্ধ করে দিয়েছে। সরকার হাস্যকর ও লজ্জাজনক গলাবাজির আশ্রয় নিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে এবং অপরাধীদের রক্ষা করতে চাইছে। উদ্ভট ও অবাস্তব প্রক্রিয়ায় পদ্মা সেতুর জন্য অর্থায়নের কথা সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে বলা হচ্ছে। এ ধোঁকাবাজির রাজনীতি কোনো সুফল বয়ে আনবে না।
বেগম খালেদা জিয়া বলেন, ফারাক্কা বাঁধের মাধ্যমে দেশের উত্তরাঞ্চলকে মরুভূমি করা হয়েছে। এখন টিপাইমুখে এরকম আর একটি বাঁধ নির্মাণে ভারতীয় তোড়জোড় চলছে। আজ তাই এদেশের সচেতন নাগরিক হিসেবে আমাদের বসে থাকলে চলবে না। আমাদের একদিকে সম্মিলিতভাবে সব ফোরামে সোচ্চার হতে হবে, অপরদিকে নদীকেন্দ্রিক আমাদের সভ্যতা ও অর্থনীতি তথা অস্তিত্ব রক্ষায় পানির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


