somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জনগণকে ভয় পেয়ে ১৪৪ ধারা দিয়েছে সরকার : খালেদা জিয়া। অবশ্যই সত্যি।

২৯ শে জানুয়ারি, ২০১২ সকাল ৯:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, সরকার জনগণের আন্দোলনে ভয় পেয়েছে। শান্তিপূর্ণ গণমিছিলকে বাধাগ্রস্ত করতে ১৪৪ ধারা জারি করেছে সরকার। ১৪৪ ধারা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ষড়যন্ত্র ও নির্যাতনের মাধ্যমে জনগণের গণতান্ত্রিক আন্দোলন দমন করা যাবে না। এর ফলাফল শুভ হবে না। অনেকদিন আগে ঘোষিত গণমিছিলের কর্মসূচি বানচালের জন্য আওয়ামী লীগ দুদিন আগে কর্মসূচি ঘোষণা করে। আর সাজানো নাটকের মাধ্যমে অগণতান্ত্রিক ও গণবিরোধী বিধি প্রয়োগ করেছে। গতকাল বিকালে রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের ১৯তম জাতীয় কাউন্সিল ও ৩৫তম কাউন্সিলের সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
রাজধানীতে আজ মিছিল-সমাবেশে পুলিশের জারি করা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বেগম খালেদা জিয়া বলেন, আমাদের নিয়মতান্ত্রিক শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে ব্যাপক মানুষের অংশগ্রহণ দেখে ভয় পেয়েছে সরকার। এ জন্য তা নস্যাত্ করতে নানা অপকৌশলের আশ্রয় নিয়েছে।

বিদ্যুত্ সেক্টরে সরকারের লুটপাট ও মিথ্যা প্রচারণার নানা চিত্র তুলে ধরে বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া বলেন, বিদ্যুতের অগ্রগতিই হচ্ছে একটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতির পরিমাপক। সে কারণেই বিদ্যুত্ বা বিদ্যুেকন্দ্রকে ‘মাদার অব অল ইন্ডাস্ট্রিজ’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। সেদিক বিবেচনায় রেখে সরকারে থাকার সময় আমরা বিদ্যুত্ উত্পাদনের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুত্ লাইন নির্মাণ, পুরনো বিদ্যুেকন্দ্র সংস্কার ও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে বিদ্যুতের ভোগান্তি কমানোর পরিকল্পনার বাস্তবায়ন করেছিলাম। বর্তমান সরকার প্রণীত অর্থনৈতিক সমীক্ষা প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে যে, ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত ১২৭০ মেগাওয়াট উত্পাদন ক্ষমতাসম্পন্ন নতুন বিদ্যুেকন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। তিনি বলেন, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড এবং আরপিসিএলসহ আমাদের সরকার আমলে বিদ্যুত্ উত্পাদন বেড়েছিল প্রায় ১ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট। বিদ্যুত্খাতে আমাদের সরকারের নেয়া পরিকল্পনা ও পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন করা হলে ২০১২ সালের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে স্বল্প ব্যয়ে নতুন প্রায় চার হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত্ ক্ষমতা সংযোজিত হতো। বর্তমানে বিদ্যুত্ খাতে যে সঙ্কট দেখানো হচ্ছে, তা থাকত না। বর্তমানে যে গ্যাস সঙ্কট চলছে, তাও থাকত না। বিদ্যুতের দাম এত বাড়ত না। এখাতে হাজার হাজার কোটি টাকা ভর্তুকিও দিতে হতো না। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারও সামগ্রিকভাবে বিদ্যুত্ ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য গৃহীত প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে না এগিয়ে, বিদ্যুত্খাতে প্রথম দেড় বছর ধরে কৃত্রিম সঙ্কট জিইয়ে রাখে। তারপর বিদ্যুত্ উত্পাদনে স্বল্পতার অজুহাতে বিনা টেন্ডারে ব্যয়বহুল তরল জ্বালানিভিত্তিক রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল বিদ্যুেকন্দ্র স্থাপনে অতি উত্সাহী হয়ে পড়ে। এতে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি ছাড়াও সার্বিক জাতীয় অর্থনীতি এক দুঃসহ চাপের মধ্যে পড়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে নিস্তার পেতে আগামীতে আমাদের ব্যাপকভিত্তিক একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। কেবল বিদ্যুত্খাতেই নয়, দেশের প্রায় প্রতিটি প্রকল্পেই আজ ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে। এ অভিযোগ আজ আর দেশের সীমানার মধ্যেই সীমিত থাকছে না। বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া বলেন, দুর্নীতির অভিযোগে বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতাসংস্থা পদ্মা সেতুর অর্থায়ন বন্ধ করে দিয়েছে। সরকার হাস্যকর ও লজ্জাজনক গলাবাজির আশ্রয় নিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে এবং অপরাধীদের রক্ষা করতে চাইছে। উদ্ভট ও অবাস্তব প্রক্রিয়ায় পদ্মা সেতুর জন্য অর্থায়নের কথা সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে বলা হচ্ছে। এ ধোঁকাবাজির রাজনীতি কোনো সুফল বয়ে আনবে না।
বেগম খালেদা জিয়া বলেন, ফারাক্কা বাঁধের মাধ্যমে দেশের উত্তরাঞ্চলকে মরুভূমি করা হয়েছে। এখন টিপাইমুখে এরকম আর একটি বাঁধ নির্মাণে ভারতীয় তোড়জোড় চলছে। আজ তাই এদেশের সচেতন নাগরিক হিসেবে আমাদের বসে থাকলে চলবে না। আমাদের একদিকে সম্মিলিতভাবে সব ফোরামে সোচ্চার হতে হবে, অপরদিকে নদীকেন্দ্রিক আমাদের সভ্যতা ও অর্থনীতি তথা অস্তিত্ব রক্ষায় পানির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×