পবিত্র কুরানের পাশাপাশি রাসুলুল্লাহ সঃ এর বিভিন্ন হাদীসের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি ইসলামে চরিত্রের গুরুত্ব কত বিশাল। ইসলামে চারিত্রিক সৌন্দর্যের কদর বুঝতে কোন মুসলমানের পন্ডিত হবার প্রয়োজন নেই। কিন্তু বরাবরের মতই মক্কার মানুষ যেমন হজ্জ্ব পায় না তেমনি মুসলমান হয়ে এবং কোরান হাতের কাছে পেয়েও আমরা এই বিষয়টির গুরুত্ত পুংখানুপুংখ রুপে অনুধাবন করতে পারিনি। যার কারনে যাকিছু আমাদের চরিত্র ধংশের কারন তা আমরা এড়াতে পারিনি বরং অন্ধের মত অনুকরন ও গলধকরন করেছি। মুসলমান জাতি যেসকল আত্নধংসাত্বক উপকরন অন্ধেরমত না ভেবে চিন্তে গ্রহন করেছে সে সকল উপকরনের মধ্যে “প্রেম” হল অন্যতম একটি যা পুরো মুসলিম যুব সমাজের মধ্যে এমন চারিত্রিক অধপতন রচনা করেছে যা সত্যিই বর্ননাতীত। শুধু তাই নয়, এই অধপতন থেকে উঠে আসার বিন্দুমাত্র প্রচেষ্টাও এদের মাঝে পরিলিক্ষিত হচ্ছে না।
বলা হয়ে থাকে যে “প্রেম স্বর্গ থেকে আসে” আমার অভিজ্ঞতায় যতগুলো প্রেম দেখেছি তার প্রায় সব গুলোকেই দেখেছি পেমিক-প্রেমিকার উভয়ের জীবনকে ধংশ করে দিতে। আমার বড়ই কৌতুহল যে এ কোন স্বর্গীয় জিনিস যা এসে মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলে? আর এ কোন স্বর্গ যেখান থেকে জীবনে ধংসাত্বক সর্বনাশা জিনিস আসে?
ইসলামের প্রাথমিক যুগ ও স্বর্নযুগে মুসলমান ও মুশরিকদের মাঝে যে শক্তির পার্থক্য ছিল তা হল চারিত্রিক শক্তির পার্থক্য । এই একটি যায়গায় মুসলমানরা অন্যদের থেকে জোযন জোযন এগিয়েছিল।আর এটিই হল আল্লাহর থেকে সাহায্য আসার একমাত্র নির্ভরযোগ্য উপলক্ষ। যতদিন মুসলমানরা তাদের চরিত্রকে সমুন্নত রাখতে পেরেছিল ততদিন তাদের আত্না ছিল নিষ্কলুষ এবং তাক্কওয়া ছিল পরিপুর্ন, আর ততদিন তারাই ছিল স্বর্নাসনে অধিষ্ঠিত। এখানে অবশ্য উল্লেখ্য যে মুসলিম সমাজের মধ্যথেকে যুবসমাজ এক্ষেত্রে যতদিন তাদের চারিত্রিক মান উন্নত রাখতে পেরেছিল ততদিন গোটা জাতি ছিল নিরাপদ ও সীশা ঢালা প্রাচীরের ন্যায় শক্ত।
মুসলমানরা তাদের শক্তির মুল কেন্দ্রকে তখন কতটুকু চিনহিত করতে পেরেছিল জানিনা তবে একথা নিঃসন্দেহে বলতে পারি যে নাস্তিকতাবাদি ও ধর্ম্ননিরপেক্ষতাবাদীরা অত্যন্ত সফলতার সাথে এই বিষয়টি ধরতে পেরেছিল এবং তারা এও বুঝতে পেরেছিল যে তাদের পক্ষে এই চারিত্রিক শক্তির অর্জন কোন কালেই সম্ভব হবে না। আর তাই তারা বিকল্প পথ খুজতে লাগলো। তাদের গবেষনায় বিকল্প হিসেবে সবচেয়ে উপযুক্ত ও মোক্ষম দাওয়াই হিসেবে ফলাফল যেটা আসলো সেটা হল, মুসলমানদেরকে বিশেষ করে তাদের যুবসমাজকে যদি কোন ভাবে চরিত্রগত ভাবে দেউলিয়া করে দেয়া যায় তাহলে আর যায় কোথায়? এটা করতে পারলেই একেবারে কেল্লা ফতেহ।এখন শুধু বাকী রইল একটি উপযুক্ত উপায় যার মাধ্যমে গোটা জাতি কে একই ফাঁদে ফেলে সায়েস্তা করা যায়।
আতিপাতি করে খোজা শুরু হল ঠিক কোথায় কিভাবে ফাঁদ পাতা, যায় যেখানে সহজেই শিকারির পা পড়বে। এ কথা গাধাও জানে যে যুবসমাজের সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয় হল তাদের যৈবিক চাহিদা। আর চরিত্র ধংসের জন্য যে যায়গায় আঘাত হানতে হবে অর্থাৎ, যেখানে আঘাত করলে চরিত্র নামক দালানটি মড় মড় করে ভেঙ্গে পড়বে সেটাও কিন্তু ঐ যৈবিক চাহিদা থেকে উৎসারিত পাশবিক লালসা।এই পয়েন্ট টি খুজে পেতে নাস্তিক ও ধর্মনিরপেক্ষতাবাদিদের বেশি সময় লাগে নি।মুসলমানদের বিলাশিতার খাটিয়ায় গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন রেখে তারা এটা বেরকরে ফেল্ল অতি অল্প সময়ে।
শক্তির মুল কেন্দ্রটি পাওয়া গেল, স্পর্শকাতর তথা দুর্বল যায়গাটিও পাওয়া গেল, এখন শুধু পেতে বাকী থাকলো ফাঁদটা কি হবে তা খুজে বের করা। তারা এমন একটি ফাঁদ তৈরীর জন্য লেগে গেল যেই ফাঁদে চরিত্র ধংশের তাবৎ উপকরনগুলো বিদ্যমান। পরিশ্রম সৌভাগ্যের চাবি কাঠি, যে পরিশ্রম করবে সাফল্য তারকাছে এসে আপনাতেই ধরা দেবে। মুসলিম সমাজকে বিলাশিতার আলিষান গদিতে ঘুমপাড়িয়ে, নিজেরা যে অক্লান্ত পরিশ্রম করলো তার পাওনা তারা পেয়ে গেল। যে মোক্ষম ফাঁদটি তারা আবিষ্কার করলো তা হল “প্রেম”।চিন্তা করে দেখুন চরিত্র ধংশের সবগুলো উপাদান এই প্রেমে বিদ্যমান।
উপরের কথাগুলো যারা মেনে নিতে পারছেন না তাদের জন্য আমি কিছু চিন্তার উপলক্ষই মাত্র দিতে পারি। বিষয় গুলো নিয়ে ভাবতে থাকুন আশাকরি আপনার উপসংহার আমার উপরের লেখার সারমর্মই হবে। চিন্তা করে দেখুন ছড়া, কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাস, যাত্রাপালা, নাটক, নাটিকা, কৌতুক, টকশো, ম্যাগাজিন, বিজ্ঞাপন, সহ সকল কিছুতেই কেন এই প্রেমের ছড়াছড়ি? কেন এগুলোতে নারীর উপস্থিতি মাত্রই স্বল্প বসনা ও যৌন আবেদন ময়? কেন ঘুরে ফিরে সব কিছুই প্রেমে এবং নির্লজ্জ যৌনতায় এসে থামে? কেন সকলে একযোগে শুধুই নারী-পুরুষের ভালোবাসার গল্পই শুধু ফেঁদে বসে।নারী-পুরুষের যৌন আবেদনময়ী প্রমাভিসারের তুলনায় পিতা-পুত্র, মা-সন্তান, ভাই-বোন, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার ভালোবাসার উপস্থাপনা কেন এত বেশী নগন্য? যদি ভেবে থাকেন এসবের উদ্দেশ্য নিছক “বিনোদন” তাহলে আপনাকে বলছি, জেনেরাখুন বিনোদন হল শিক্ষার অন্যতম কার্যকর একটি মাধ্যম। তাহলে আপনাকে আমাকে এই তথাকথিত বিনোদনের মাধ্যমে কি শিক্ষা দেয়া হচ্ছে?
উপরের প্রশ্ন গুলো রেখে গেলাম চিন্তাশীলদের জন্য, আর প্রগতী নামক মরিচীকার চোখ ঝলসানো গোলক ধাঁধায় অন্ধদের জন্য কিছুই অবশিষ্ট নেই আমার কাছে। ওদের জন্য পরিনতিই একমাত্র উপযুক্ত ঘুম ভাঙ্গানিয়া ফুৎকার।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


