ইংরেজীতে তিনটি শব্দ আছে Values, ethics আর morality। ডিকশনারিতে তিনটার বাংলা অর্থ ঘুইরা ফিরা একই। অর্থাৎ শাব্দিক অর্থের দিকে তাকাইলে পুরাই টাশকি খাইয়া কট খাইবেন আর তিনটা শব্দরে সিনোনেইম ভাইবা পল্টি লইতে গিয়া ধরা খাইলে তো কথাই নাই। ইংলিশ ডিকশনারিতেও সেইম। ঘুইরা ফিরা একই অর্থ। যাউক গা। স্বভাবগত ভাবে আমরা বাঙ্গালীরা এক লাইন পরাই চৌদ্দ লাইন বুইঝা ফালাই। এদিক দিয়া আমাগরে incredibly talent কইলে মাইন্ড খাওনের কুনো কাম নাই। কারন তেল দিলে কার না ভালো লাগে।
যাই হোক, আসল কথায় আসি, আসলে ডেফিনেশানের দিক দিয়া এইগুলান অনেক অনেক ভিন্ন জিনিস। রাজ মিস্ত্রীরা যখন দেয়াল তৈরী করেন তখন তারা প্রতিটি ইটের চার পাশে সিমেন্ট বালীর মিস্রনের উপস্থিতি নিশ্চিত করেন, যার ফলে কাজ শেষে একখান নির্ভর যোগ্য দেয়াল তৈরী হয়। ঠিক তেমনিভাবে এই তিনটা একই অর্থের জিনিস যেন সমাজের ব্যাক্তি একক থেকে শুরু করে একযোগে সবার কাছে বিদ্যমান থাকে সেজন্য তিনটি শব্দের ভিন্ন ভিন্ন সঙ্গা দেয়া হয়েছে।
Values
Values হলো যেসকল নিয়ম যার দ্বারা আমরা সঠিক বা বেঠিক, উচিৎ আনুচিৎ, ভালো মন্দ সম্পর্কীয় সিধ্যান্ত নেই। এই নিয়মগুলোর মাধ্যমে কোনটা কতটুকু গুরুত্বপুর্ন তাও নির্ধারিত করা হয়, যেটা কোন জিনিসের উপর অন্য জিনিসের প্রনিধানযোগ্যতার গুরুত্ব বিচারে সহায়ক।
Morals
Morals হলো ভালো-মন্দের চেয়ে বেশী কিছু, ব্যক্তি পর্যায়ের ভালো মন্দের পার্থক্যি করন এবং তার প্রয়োগই হলো মোরালিটি। মোরালিটি ব্যক্তিগত চরিত্রকেই ইঙ্গিত করে।
Ethics
ব্যক্তি পর্যায়কে ছাপিয়ে ভালো-মন্দ, উচিৎ-অনুচিৎ, সঠিক-বেঠিকের প্রশ্ন যখন সামাজিক জীবনে বা সামষ্টিক জীবনে চলে আসে তখন সেটা হয় এথিক্স।
উপরে দেয়া তিনটি সঙ্গার যথোপযুক্ত প্রয়োগের মাধ্যমেই সমাজে শান্তি সৃংখলা বিরাজ করে। তাছাড়া কোনও সুখ শান্তির সম্ভাবনা নাই। এখন যারা সরকারের দিকে তাকাইয়া সুখ দে, শান্তি দে, নিরাপত্তা দে, হেন দে তেন দে কইয়া গলা ফাটাইতাসেন তাগরে কই চুপ করেন। আপনের একটা পায়ে বিষ ফোড়া থাকলে আমি যদি আপনেরে হাজার টনের স্বর্ন এনেদেই তাইলে কি সুখ পাইবেন? বরং চিল্লাইয়া চিল্লাইয়া কইবেন পারলে আমার পা টা কাইটা ফালাইয়াদে!! কারও যখন ক্যান্সার হয় তখন কি সারা শরিরে হয় ? শরীরের যে কোন স্থানে ক্যান্সার হইলেই হইসে কবরে যাওনের লাইগা প্রস্তুতি নিতে শুরু করে মানুষ। তার মানে হল, মানুষকে অসুস্থ হতে হলে যেমন সারা শরীর নিয়ে অসুস্থ হতে হয় না তেমনি সমাজে অস্থিরতা বিরাজ নৈতিকতার অবক্ষয়, চারিত্রিক ধশের জন্য নেতা নেতৃত্ব নয় বা রাজনৈতিক দল নয় আপনি আপনার নিজের দিকে তাকাইয়া দেখেন, সময় সময় আপনি আমি রাজনোইতিকদের থেকেও অধম, পশুর চেয়েও অধম। কিন্তু হুদাই রাজণৈতিকদের নিয়া চিল্লাই। আপনি আমি যদি সমাজে দেদারসে আকাম করি তাইলে আমরা কেমনে আশা করি এই সমাজ থেকে সৎ চরিত্রবান নেতার তৈরী হবে??
এখনতো কারও ব্যক্তিগত ভুল ত্রুটি নিয়ে কথা বললে ব্যাক্তিগত ব্যপারে হস্তক্ষেপের অভিযোগে অভিযুক্ত হতে হয়। সমাজের একজন যদি আরেকজনের কুকাম কে চোখে আঙ্গুলদিয়ে দেখিয়ে শুধরে দেয়ার মানষিকতা না রাখে তাহলে সেখানে ভালো মানুষ তৈরী হবে কেমনে? ধরেন আমি মাইয়া পটাইয়া বেড়াই (বেশী ডিপে গেলাম না) এখন যদি কেউ আমারে কয় “ভাই এইডাতো ভালা কাম না” তখন আমি ধমক দিয়া কই “ দেখেন ভাই এইডা আমার ব্যক্তিগত ব্যপার, আমি আপনেরটা খাইও না পড়িও না অতএব হুদাই আমার ব্যপারে নাগ গলাইতে আইসেন না, নইলে কইলাম থুতা বেরেক কইরা দিমু” এখন যখন জুনিয়র ভাইয়েরা ইভ টিজিং করে তখন আমার চান্দি গরম হইয়া যায়!!! কেন ?? আমি যদি ওই উপদেশ শুইনা ভালো হইতাম এবং আরও একজন রে ভালো পথে আনতাম তাইলে আমার চিল্লানোটা সার্থক হইত।
আসলে আমাগো নিজের দোষ আমরা নিজেরা চোখে দেখি না। এমনকি নিজেদের অধিনস্তদেরকেও আমরা নৈতিকতার শিক্ষা দেই না। আবার তাদের কাছে নৈতিক ব্যবহার আশাকরি!!! আপনি যদি সারা বিশ্ব্বের দিকে তাকান তাইলে দেখবেন সবখানেই নেতা-নেত্রী, আমলা, মন্ত্রী বা উচ্চস্তরের মানুষের নৈতিকতা নিয়া মাতামাতি করা হয় বেশী। নিন্তু এরা যেই সমাজ থেকে বড় হয়েছে সে সমাজের ব্যক্তি পর্যায়ের ক্ষেত্রে নৈতিকতা বা চারিত্রিক সৌন্দর্যের কথা কেউ চিন্তাও করে না। যার কারনে উচ্চপর্যায়গুলোতে এই সব ফালতু চরিত্রহীনরাই উঠে যাচ্ছে আর জনগন হুদাই চিল্লাইতাসে। কিন্তু ভালো লোক আর আসে না। চিল্লাচিল্লি, মারামারি, হানাহানী, হরতাল, অবরোধও আর থামে না। জনসাধারনও শান্তির দেখা পায় না।
আমাদের হুদাই প্যাচাল পারার আগে একটা জিনিস জানা দরকার আছে, যত নেতা নেত্রী আছে তারা আমাগ মত জনসাধারনের থেকেই তৈরী হইয়া নেতা হয়, তার মানে তারাও আমাদের মত জনসাধারন। তাই আমরা যদি নিজেরা চারিত্রিক ও নৈতিক দিক থাকে ঠিক থাকতাম তাইলে আমাদের মধ্য থেকে তৈরী হওয়া নেতারা এমন শয়তান হইতো না। তাই আসেন আমরা নিজের চর্কায় তেল মারি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



