somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আসেন আমরা নিজের চর্কায় তেল মারি

০৯ ই জুলাই, ২০১০ রাত ৩:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইংরেজীতে তিনটি শব্দ আছে Values, ethics আর morality। ডিকশনারিতে তিনটার বাংলা অর্থ ঘুইরা ফিরা একই। অর্থাৎ শাব্দিক অর্থের দিকে তাকাইলে পুরাই টাশকি খাইয়া কট খাইবেন আর তিনটা শব্দরে সিনোনেইম ভাইবা পল্টি লইতে গিয়া ধরা খাইলে তো কথাই নাই। ইংলিশ ডিকশনারিতেও সেইম। ঘুইরা ফিরা একই অর্থ। যাউক গা। স্বভাবগত ভাবে আমরা বাঙ্গালীরা এক লাইন পরাই চৌদ্দ লাইন বুইঝা ফালাই। এদিক দিয়া আমাগরে incredibly talent কইলে মাইন্ড খাওনের কুনো কাম নাই। কারন তেল দিলে কার না ভালো লাগে।

যাই হোক, আসল কথায় আসি, আসলে ডেফিনেশানের দিক দিয়া এইগুলান অনেক অনেক ভিন্ন জিনিস। রাজ মিস্ত্রীরা যখন দেয়াল তৈরী করেন তখন তারা প্রতিটি ইটের চার পাশে সিমেন্ট বালীর মিস্রনের উপস্থিতি নিশ্চিত করেন, যার ফলে কাজ শেষে একখান নির্ভর যোগ্য দেয়াল তৈরী হয়। ঠিক তেমনিভাবে এই তিনটা একই অর্থের জিনিস যেন সমাজের ব্যাক্তি একক থেকে শুরু করে একযোগে সবার কাছে বিদ্যমান থাকে সেজন্য তিনটি শব্দের ভিন্ন ভিন্ন সঙ্গা দেয়া হয়েছে।

Values
Values হলো যেসকল নিয়ম যার দ্বারা আমরা সঠিক বা বেঠিক, উচিৎ আনুচিৎ, ভালো মন্দ সম্পর্কীয় সিধ্যান্ত নেই। এই নিয়মগুলোর মাধ্যমে কোনটা কতটুকু গুরুত্বপুর্ন তাও নির্ধারিত করা হয়, যেটা কোন জিনিসের উপর অন্য জিনিসের প্রনিধানযোগ্যতার গুরুত্ব বিচারে সহায়ক।

Morals
Morals হলো ভালো-মন্দের চেয়ে বেশী কিছু, ব্যক্তি পর্যায়ের ভালো মন্দের পার্থক্যি করন এবং তার প্রয়োগই হলো মোরালিটি। মোরালিটি ব্যক্তিগত চরিত্রকেই ইঙ্গিত করে।

Ethics
ব্যক্তি পর্যায়কে ছাপিয়ে ভালো-মন্দ, উচিৎ-অনুচিৎ, সঠিক-বেঠিকের প্রশ্ন যখন সামাজিক জীবনে বা সামষ্টিক জীবনে চলে আসে তখন সেটা হয় এথিক্স।
উপরে দেয়া তিনটি সঙ্গার যথোপযুক্ত প্রয়োগের মাধ্যমেই সমাজে শান্তি সৃংখলা বিরাজ করে। তাছাড়া কোনও সুখ শান্তির সম্ভাবনা নাই। এখন যারা সরকারের দিকে তাকাইয়া সুখ দে, শান্তি দে, নিরাপত্তা দে, হেন দে তেন দে কইয়া গলা ফাটাইতাসেন তাগরে কই চুপ করেন। আপনের একটা পায়ে বিষ ফোড়া থাকলে আমি যদি আপনেরে হাজার টনের স্বর্ন এনেদেই তাইলে কি সুখ পাইবেন? বরং চিল্লাইয়া চিল্লাইয়া কইবেন পারলে আমার পা টা কাইটা ফালাইয়াদে!! কারও যখন ক্যান্সার হয় তখন কি সারা শরিরে হয় ? শরীরের যে কোন স্থানে ক্যান্সার হইলেই হইসে কবরে যাওনের লাইগা প্রস্তুতি নিতে শুরু করে মানুষ। তার মানে হল, মানুষকে অসুস্থ হতে হলে যেমন সারা শরীর নিয়ে অসুস্থ হতে হয় না তেমনি সমাজে অস্থিরতা বিরাজ নৈতিকতার অবক্ষয়, চারিত্রিক ধশের জন্য নেতা নেতৃত্ব নয় বা রাজনৈতিক দল নয় আপনি আপনার নিজের দিকে তাকাইয়া দেখেন, সময় সময় আপনি আমি রাজনোইতিকদের থেকেও অধম, পশুর চেয়েও অধম। কিন্তু হুদাই রাজণৈতিকদের নিয়া চিল্লাই। আপনি আমি যদি সমাজে দেদারসে আকাম করি তাইলে আমরা কেমনে আশা করি এই সমাজ থেকে সৎ চরিত্রবান নেতার তৈরী হবে??

এখনতো কারও ব্যক্তিগত ভুল ত্রুটি নিয়ে কথা বললে ব্যাক্তিগত ব্যপারে হস্তক্ষেপের অভিযোগে অভিযুক্ত হতে হয়। সমাজের একজন যদি আরেকজনের কুকাম কে চোখে আঙ্গুলদিয়ে দেখিয়ে শুধরে দেয়ার মানষিকতা না রাখে তাহলে সেখানে ভালো মানুষ তৈরী হবে কেমনে? ধরেন আমি মাইয়া পটাইয়া বেড়াই (বেশী ডিপে গেলাম না) এখন যদি কেউ আমারে কয় “ভাই এইডাতো ভালা কাম না” তখন আমি ধমক দিয়া কই “ দেখেন ভাই এইডা আমার ব্যক্তিগত ব্যপার, আমি আপনেরটা খাইও না পড়িও না অতএব হুদাই আমার ব্যপারে নাগ গলাইতে আইসেন না, নইলে কইলাম থুতা বেরেক কইরা দিমু” এখন যখন জুনিয়র ভাইয়েরা ইভ টিজিং করে তখন আমার চান্দি গরম হইয়া যায়!!! কেন ?? আমি যদি ওই উপদেশ শুইনা ভালো হইতাম এবং আরও একজন রে ভালো পথে আনতাম তাইলে আমার চিল্লানোটা সার্থক হইত।

আসলে আমাগো নিজের দোষ আমরা নিজেরা চোখে দেখি না। এমনকি নিজেদের অধিনস্তদেরকেও আমরা নৈতিকতার শিক্ষা দেই না। আবার তাদের কাছে নৈতিক ব্যবহার আশাকরি!!! আপনি যদি সারা বিশ্ব্বের দিকে তাকান তাইলে দেখবেন সবখানেই নেতা-নেত্রী, আমলা, মন্ত্রী বা উচ্চস্তরের মানুষের নৈতিকতা নিয়া মাতামাতি করা হয় বেশী। নিন্তু এরা যেই সমাজ থেকে বড় হয়েছে সে সমাজের ব্যক্তি পর্যায়ের ক্ষেত্রে নৈতিকতা বা চারিত্রিক সৌন্দর্যের কথা কেউ চিন্তাও করে না। যার কারনে উচ্চপর্যায়গুলোতে এই সব ফালতু চরিত্রহীনরাই উঠে যাচ্ছে আর জনগন হুদাই চিল্লাইতাসে। কিন্তু ভালো লোক আর আসে না। চিল্লাচিল্লি, মারামারি, হানাহানী, হরতাল, অবরোধও আর থামে না। জনসাধারনও শান্তির দেখা পায় না।

আমাদের হুদাই প্যাচাল পারার আগে একটা জিনিস জানা দরকার আছে, যত নেতা নেত্রী আছে তারা আমাগ মত জনসাধারনের থেকেই তৈরী হইয়া নেতা হয়, তার মানে তারাও আমাদের মত জনসাধারন। তাই আমরা যদি নিজেরা চারিত্রিক ও নৈতিক দিক থাকে ঠিক থাকতাম তাইলে আমাদের মধ্য থেকে তৈরী হওয়া নেতারা এমন শয়তান হইতো না। তাই আসেন আমরা নিজের চর্কায় তেল মারি।
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×