somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মেয়ে পাগল হইলি জাফর ইকবাল স্যারের প্রেমে পড়ে- পোলাপান দোষ দিল আমার ঘাড়ে :(:(

০৪ ঠা অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ১০:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ক্যাম্পাসে নতুন ব্যাচের আগমনে সব সময়ই পুরোনেদের মাঝে এক ধরনের ভাল লাগার পুলক নিয়ে আসে। নানা জন নানা চিন্তায় মশগুল হয়। প্রেমিক মনের তরুনরা নতুন আশায় বুক বাঁধে। আর আমার মত টংবাজরা টং এর আড্ডা সরগরম করে নতুন আগত ব্যাচটা নিয়া কোন প্রেমিক কেমন মাতা মাতি করছে তা নিয়া, কোন বড় ভাই কেমন লুল আচরন করতাছে এবং এর জন্য তারে কিভাবে ছিলা দেয়া যায় তা নিয়া।

সিএসই সোসাইটির এজিএস হওয়াতে সবার আগেই নতুন আগত ব্যাচের ওরিয়েন্টেশনে ওদের সাথে আমরা পরিচয় হয়ে গেল। ফলাফল সিড়ি দিয়ে উঠতে নামতে হাই হ্যালো এতটুকুই। খেলাধুলা বা হইহল্লায় আমার কাছে যে কেউ স্বাগতম হইলেও বইখাতা বা লেখাপড়া বিষয়ক আলোচনায় ততই দূরতম। দু পক্ষেরই এ ব্যাপারে দূরে থাকা মঙ্গল।

আড্ডায় জানা গেল নতুন ব্যাচের এক কন্যা সর্বত্র বড়ই ফাল পাড়তাছে। বান্ধবীকূলের বরাতে জানলাম হলেও সে সবাইরে ব্যাপক তাং করতাছে। সবাই ত্যক্ত বিরক্ত। হইহই রইরই তার স্বভাব। আরও শুনিলাম ইভটিজাররা দ্বিগুন উৎসাহে তার প্রতি মনোনিবেশ দান করতেছে।

যাই হউক এই সব ব্যাপারে নাক গলানোর মত পর্যাপ্ত সময় আমার নেই। তাহার প্রতি আগ্রহ দেখানোর ও কোন কারণ নাই। টংবাজি এবং হইহল্লা করিয়া আমার দিন কেটে যায়।

এই পর্যন্ত হলে ঘটনা স্বাভাবিক ই ছিল। সমস্যা শুরু হল তারপর। ঐ মেয়ে হলে সবাইরে নাকি বলে বেড়াচ্ছে সে জাফর ইকবাল স্যারের প্রেমে পড়েছে। সে স্যারকে বিয়ে করবে। :-*

মাত্র তার কয়দিন আগে হুমায়ুন আহমেদ তাহার দ্বিতীয় বিবাহ করিয়াছেন। ছোট ক্যাম্পাসে বান্ধবীকূলের বদৌলতে প্রায় সব ছেলেই এই ঘটনা জেনে গেছে। ইভটিজারদের উৎসাহ আর বেড়ে গেছে। টং এ যখন এ খবর পৌঁছাল তখন পাত্রী কে তা দেখার জন্য আমাদের আগ্রহ তৈরি হল।

জাফর ইকবাল স্যার এর প্রেমে ছাত্রীরা পড়ে- ক্যাম্পাসে ইহা আমাদের কাছে অত্যন্ত স্বাভাবিক ঘটনা হিসাবেই বিবেচিত হয়। বান্ধবীকূল ঐ কথা আমাদের বলেই ক্ষান্ত হয়। কিন্তু এই মেয়ের ক্ষেত্রে ঘটনা তা নয়। সে পুরো রাজ্য জুড়ে তা প্রচার করিয়া বেড়াতে লাগল। তাহার মাথায় সমস্যা আছে এ কথা রটে যেতেও খুব একটা সময় লাগলনা।

এ পর্যন্ত ও ঘটনা স্বাভাবিক ছিল। কারন আমার সাথে কোন সংশ্লিষ্টতা ছিলনা।

পরিস্হিতি অস্বাভাবিক হয়ে গেল এক আগুন লাগা বিকালে। কোন দুঃখে ঐ সময় ডিপার্টমেন্টের সামনে আমি ছিলাম আজও বুঝতেছিনা। কারন ব্ন্ধু বান্ধব কেউ সাথে ছিল বলে মনে পড়ছেনা। সবার সাথে দেখা হয় আরও পড়ে।

স্যারের প্রেমে পড়া কন্যা একাকী ডিপার্টমেন্টের সামনে এসে হাজির না শুধ, একেবারে আমার সামনে এসে হাজির। ইসমার্ট কন্যা বলে বসল ভাইয়া আপনার আমার একটা উপকার করতে হবে। কি উপকার জানতে চাইবার পর বলল তাকে ছাত্রী হলে পৌঁছে দিতে হবে। কপালে একগাদা দুঃখ তখনই দেখতে পেলাম। জানতে চাইলাম কেন ?
তার উত্তর সে একা একা গেলে লাইব্রেরীর সামনে বসে থাকা ছেলেরা টিজ করবে। আমি যদি সাথে যায় তাহলে তা করবেনা। এ বিশ্বাস আমার ও ছিল। ক্যাম্পাসে অন্তত আমি কোন মেয়ের সাথে হেঁটে গেল ঐ সময় কেউ টিজ করবেনা। কি আর করা, শত হলেও ডিপার্টমেন্টের জুনিয়র। মনে মনে ভাবছি তোমারে না হয় এ যাত্রা কিছু বলবেনা কিন্তু আমারত টং এ খবর পৌঁছার পর পোলাপান ছিল্লা ফেলাইব।

তারে নিয়া আমি হাইটা যাইতাছি। পাশাপাশি, দু একটা কথাও হইতাছে। বন্ধুবান্ধব পোলাপান এতক্ষন কাউরে দেখি নাই। এখন দেখি দু এক জনরে দেখা যাইতাছে। আমি ভাবতাছি আজকের আড্ডায় আমার খবর আছে।:((

যাই হ্উক লাইব্রেরীর সামনে দিয়ে যাবার সময় প্রতি দিনকার মত পোলাপান আজকে কোন টিজ করলনা। সে বলে ভাইয়া দেখছেন, আজকে কেউ কোন টিজ করেনাই। বললাম টিজ করলেও তুমি কোন পাত্তা দিওনা, ওদেরকে যে যায় বলুক ওরা এসব করবেই। হলের রাস্তায় কিছুদূর গিয়ে বললাম এদিকেত কোন ছেলে নাই, তুমি এখন একা যেতে পারবে। সে ও একা রওয়ানা দিল।

পোলাপান আমারে যা জ্বালাতন করল ওটা মেনে নিতে হল। ঘটনা আরও খারাপ হল কয়েকদিন পর। ঐ মেয়ে হলে চিল্লা ফাল্লা শুরু করেছে সে জাফর ইকবাল স্যারকে বিয়ে করবেই। হলের সবাইরে সে এই এক কথায় বলে বেড়াতে লাগল। তার পাগলামি সহ্যের সীমা ছাড়ানোর পর বাকি মেয়েরা কমপ্ল্যান করে বসল। হলের প্রভোস্ট তখন জাফর স্যারের বউ ইয়াসমীন ম্যাডাম :-/

এই ঘটনা ডিপার্টমেন্টে আসার পর ফাহমী ভাই (স্যার) ছাত্রী হলে গেলেন ঐ মেয়ের সাথে কথা বলার জন্য। ফল হল উল্টা। মেয়ে এবার সবাইকে বলে বেড়ানো শুরু করল ফাহমী ভাই তার প্রেমে পড়েছেন। কিন্তু সে জাফর স্যারকে বিয়ে করবেই, স্যারের এক বউ আছে এটা কোন ব্যাপারনা।

আমি মনে মনে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করলাম।

তবুও মুক্তি মিললনা।

ঐ মেয়ের মানসিক অসুস্হতা বেড়ে যাবার পর তার পরিবারকে খবর দেয়া হলে তারা এসে তাকে নিয়ে গেলেন। সেই তার শেষ যাত্রা।

তারপর শুরু হল ঘনিষ্ঠ পোলাপানের আমারে পেইন দেয়া। আমার সাথে তারে দেখা যাবার পর থেকেই নাকি সে পাগল হয়ে গেছে। আমিত হায় হায় করি, এ কোন বিপদে পড়লাম। আমার কি দোষ। কে শুনে কার কথা।

আজও আলোচনায় কোন টপিক খুজে পাওয়া না গেলে শুরু হয় আমারে খোঁচানো।

হায়রে কপাল : মেয়ে পাগল হইলি জাফর ইকবাল স্যারের প্রেমে পড়ে- পোলাপান দোষ দিল আমার ঘাড়ে । :((
১০৫টি মন্তব্য ১০২টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ডায়োজেনিস সিন্ড্রম

লিখেছেন করুণাধারা, ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ রাত ১২:০১



ডায়োজেনিস সিন্ড্রমে আক্রান্ত মানুষের ঘর

আমার একজন ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের কিছু অদ্ভুত আচরণ দেখে বুঝতে চাচ্ছিলাম যে তার এমন আচরণ কোনো মানসিক সমস্যা কিনা। তার আচরণের বর্ণনা দেই ইন্টারনেটে, আর তখন জানতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-৩০)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ রাত ১:০৩



সূরাঃ ৩০ রূম, ৩২ নং আয়াতের অনুবাদ-
৩২। যারা নিজেদের দীনে মতভেদ সৃষ্টি করেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে।প্রত্যেক দল নিজ নিজ মতবাদ নিয়ে উৎফুল্ল।

সূরাঃ ৩০ রূম, ২৯ নং... ...বাকিটুকু পড়ুন

হামে শিশুদের মৃত্যুর দায় ডঃ ইউনুস গভার্নমেন্টের

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ রাত ১:০৪

ইউনিসেফ হামের টিকা কেনার জন্যে গত তত্তবধায়ক সরকার প্রধান ড' ইউনুসকে বারবার অনুরোধ করেছিলো। আমরা এখনো ইউনুস স্যারের উত্তর পাই নাই। কিন্তু, প্রশ্ন হচ্ছে, ইউনিসেফকে প্রধান উপদেষ্টা পর্যন্ত যেতে হলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহাশূন্যের অন্তহীন দিগন্তে: আগামীর মহাকাশ গবেষণা, মানবসভ্যতা এবং আল কুরআনের বিস্ময়কর দিকনির্দেশনা

লিখেছেন নতুন নকিব, ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ সকাল ৯:৫৫

মহাশূন্যের অন্তহীন দিগন্তে: আগামীর মহাকাশ গবেষণা, মানবসভ্যতা এবং আল কুরআনের বিস্ময়কর দিকনির্দেশনা

ছবি অন্তর্জাল থেকে সংগৃহিত।

ভূমিকা:

মানুষ যখন প্রথম আকাশের দিকে চোখ তুলে তাকিয়েছিল তখন সেই বিশাল নীলিমা তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

যুগে যুগে সারদা দেবী

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৯



নদীর নাম রুপসা।
জীবনানন্দ দাশ তার কবিতায়ও রূপসা নদীর কথা বলেছেন। এই নদীতে স্নান করেছেন- রবীন্দ্রনাথের মা এবং স্ত্রী। বর্ষাকালে রুপসা নদী যেন যৌবনে ফিরে যায়। কি তেজ! কি জলের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×