somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যেভাবে কাটালাম নববর্ষের প্রথম দিন..............

০৫ ই জানুয়ারি, ২০১১ রাত ১:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


রেডিসনের সামনে যানজট বেশ লম্বা আকার ধারন করেছে। কিছুটা অবাক হয়ে ভাবছি, তাহলে আমরা একা না, এই দেশের প্রচুর লোকই নববর্ষ উদযাপন ব্যাপারটাকে আপন করে নিয়েছে। জাতে উঠতে হলে এমন করে গা ভাসাতে না পারলে কি চলে। এমনিতেই অনেক পিছাইয়া আছি, আর কত। এমন ভাবনা থেকেই এই আয়োজনে ছুটে চলা।

ঢুকতেই কিছুটা ভিমরি খাবার জোগাড়, আমাদের ড্রেসআপ আপ টু দা মার্ক মনে হইলনা। আমাদের জিন্স সাদামাটা, আর যারা নামতাছে ওগো কত জোড়াতালি দেয়া, গায়ে জ্যাকেটের সাথে নানা ফিতা ঝুলছে, হাতে ব্রেসেলেট গলায় চেইন !!!!

যাই হউক এসব ভাবলে চলবেনা, আগে দলে ঢুকে যেতে হবে, তারপর দলের নিয়ম অনুযায়ী নিজেকে বদলাতে হবে। গাদাগাদি করে গাড়িতে বসা ছিলাম। পার্কিং এ গিয়ে নামতে অনেক দেরী হবে তাই আগেই নেমে গেলাম। অল বয়েজ টীম - অন্যথা হবার উপায়ও নেই !!!

অল্পতেই টাসকি খাবার অভ্যাসটা এখনও ছাড়তে পারিনাই। সামান্য স্খলন দেখলেই কেমন জানি লাগে, একজন আরেকজনের হাত চাইপা ধরে বলি দেখ দেখ !!!! তখনও বুঝি নাই আরো কত কি বাকি......

ললনাদের দেখে আমরা কি মুগ্ধ হয়ে লোলুপ দৃষ্টিতে তাকাব কিনা- এইটা নিয়ে নিজেদের মাঝে এক দফা বাকবিতন্ডা হয়ে গেল। শেষে ডিসিশান হল - এমনতর জিনিস যে আমরা প্রথম দেখছি এইটা কোন ভাবেই বুঝতে দেয়া যাবেনা। ভাব দেখাতে হবে এই সব কোন ব্যাপারইনা।

এক্সটাসি সহ গুলশান বনানির অনেক দোকানে ডিসপ্লেতে থাকা ঐসব ছোটছোট কম কাপড়ের বেশী দামের ড্রেসগুলো কারা কিনে তা এখন বুঝতে পারলাম। সানগ্লাসটা না আনার জন্য আফসোস হল। চোখের মাঝে তাকলে যে কেউ টের পাবে কি অশ্লীল ভাবে উপভোগ করছি স্বল্প বসনা ললনাদের- ডানে বামে সামনে পিছে তাকিয়ে।

জনস্রোতে পড়ে একসময় আমরাও মূল অনুস্ঠান স্হলে চলে আসলাম। চারদিকে রমরমা হইচই আর আলো আঁধারির নাচন। নিজেদের কেমন জানি অনাহুত মনে হল। পরক্ষনেই আমরা সামলে নিলাম- আমাদেরকে সামনে এগিয়ে যেতে হবে, আর নয় পেছনে পরে থাকা । তারউপ্রে টাকা খরচ করে আসছি- পুরা উসুল করেই যেতে হবে।

যাই হউক অত ভাবা ভাবির কাজ বাদ । ভেবে কে কবে কি করছে। আমরা উচ্চ ভলিউমের গানের তালে তালে হলকা দোল খেতে লাগলাম নিজেরাই। যদিও আমাদের দলটাকে কিছুটা ইমব্যালেন্স মনে হচ্ছে। সব গ্রুপে ছেলে মেয়ের সংখ্যা সমানুপাতিক হলেও আমাদের দলে একেবারেই অনুপস্হিত। কিছুটা হতাশ আমরা এদিক ওদিক তাকায়, নিজেদের এমনতর ভাগ্যের জন্য আফসোস হয়, বিধাতার উপর রাগ হয়, আমাদের উপ্রে একটু সদয় হলে পৃথিবীর কি খুব বেশী ক্ষতি হত ।

যাই হউক না পাওয়া নিয়ে আফসোস করে টাইম নস্ট করার টাইম নাই। আশে পাশের সবাই অলরেডী একটু একটু টলতে শুরু করেছে, আমাদের গলাও যে শুকিয়ে গেছে তার একটা ব্যবস্হাত করতেই হয়। টিকেটের সাথে একটা বীয়ার অথবা দুই পেগ কঠিন পানীয় ফ্রী। এটাত আর মিস করা যায়না !!! আমরা হলরুমের কোনায় বারের দিকে এগিয়ে যায়, সেখানেও লম্বা লাইন। স্বর্গে গিয়ে শরাবান তহুরা কোন সময় হাতে আসবে তার জন্য কে অপেক্ষা করে, এখানেই সবাই সেটা আগে টেস্ট করে যেতে চায়, সো আমাদেরকে লাইনেই দাঁড়াতে হল। মনে মনে ভাবলাম পাশে একটা ভড়ং দুধের কাউন্টার দিয়ে রাখলে খারাপ হতনা- লোকজনের সাইকোলজির একটা টেস্ট নেয়া যেত !!! অবশেষে কঠিন পানীয় হাতে আসল। অভাবে স্বভাব নস্ট- এই জিনিস নাকি সময় নিয়ে খেতে হয়, আমাদের অত সময় কই !!! এটা যে কোকাকোলা নয় তা টের পেলাম যখন কঠিন পানি পাকস্হলীর দিকে যাচ্ছিল তখন। জ্বলে পুড়ে ছারখার- কিন্তু আমাদেরতো মাথা নোয়ালে হবেনা। সোজা দাঁড়িয়ে থাকলাম।

আমরা কি টলছি। টললে টললাম, সেটা পরে দেখা যাবে-আগে চারপাশ দেখে নেই !!!

আমরা কিছুটা কি হীনমন্নতায় ভুগছি- এটা নিয়ে গবেষনা হতে পারে। কেউই ঠিকমত নাচতে পারছিনা, অথচ সবাই কি সুন্দর গানের তালে হাত পা ছড়িয়ে নেচে যাচ্ছে- হাত উপ্রে, হাত নিচে- কোমড় দুলিয়ে- কিছুক্ষন চেস্টা করে আমরা ক্ষান্ত দিলাম। সবাইকে দিয়ে সব হবেনা। দলে যোগ দিতে চাই আমরা- আধুনিক হতে চাই , সময়কে সামনে নিয়ে যেতে চায়- নাচ না জানা কি নেগেটিভ ব্যাপার হবে !!! মনে হয়না, দলের সবাইত আর সমান পারদর্শী হবেনা সব কাজে। উপভোগ করাটাই বেছে নিলাম।

ললনাদের কোমড় দুলানো নাচ আসলেই উপভোগ্য । এর বেশী লেখাটা সমীচিন হবেনা। সব কি আর লিখে দিলে চলে । হালকা টলতে থাকা মাথায় ঘুরছিল অন্য চিন্তা। আধুনিক হয়ে উঠতে পারছিনা। মাথায় ঘুরছে অন্য চিন্তা। আমি তোমার মনের ভিতর একবার ঘুরে আসতে চায়- গানটার মতই অবস্হা। উম্মাতাল ঐসব তরুন তরুনীদের মস্তিস্কের কোষগুলো একবার পড়তে ইচ্ছা হচ্ছে। জীবনটাকে এরা কিভাবে দেখে কি ভাবে- এই অশ্লীলতায় নিজেকে বিকিয়ে দিয়ে এরা কি মজা পায় খুব জানতে ইচ্ছা হয়।

ধুর এইসব কি ভাবছি, কোথায় আমি সময়ের স্রোতে নিজেকে হারাব, তাল মিলাব- নতুন বছরের শুরুটা উম্মাদনায় কাটাব তা না করে কি করছি। একরকম জোড় করেই আবোলতাবোল চিন্তা ভাবনা মাথা থেকে দূর করে দিলাম।

উদ্ভীন্নযৌবনা ললনাদের ঝলকানি উপভোগ করাটায় বুদ্ধীমানের কাজ। লজ্জা পাবার তেমন কোন কারন নাই, আমাদের মত ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকা পোলাপানের সংখ্যা কম না। ললনাদের সাথের তরুনদের প্রতি কিছুটা না অনেক বেশী হিংসা হওয়াটাকে দোষের মনে করার কোন কারন দেখতেছিনা। কি সৌভাগ্য তাদের, এমনসব পাংখা মেয়েরা তাদের সাথী, নাচাইতেই কত উদার তারা- আর আমাদের কি ভাংগা কপাল !!!!

শুরুহয়ে গেছে ফাইনাল কাউন্টডাউন !!!! উন্মাদনায় যেন নতুন হাওয়া লাগল । সবাই তালগোল পাকিয়ে ফেলছে, যে যেভাবে পারছে, হা করে তাকিয়ে থাকা ছাড়া আর কিছু করার খুজে পাচ্ছিনা, নিজেকে কেমন ধিক্কার দিতে ইচ্ছা করছে- আর কবে মানুষ হব, স্মার্ট হব !!!!

নতুন বছরের শুরু, নতুন উন্মাদনায় উদযাপন শুরু হল। দ্বিগবিদিগ জ্ঞান শূন্য হয়ে সবাই নাচানাচি শুরু করেছে - আমরাও হাত পা ছোড়া শুরু করলাম, তাল মিলানোই বড় কথা, এভাবে একদিন ঠিকি আমরা মূল স্রোতে মিশে যাব, সেদিন বেশী দূরে নয়।

মাঝরাত পেরিয়ে ভোর হয়হয়। আমরা ক্লান্ত বোধ করি । ফ্রী কঠিন পানীয়ের সাথে পকেটের পয়সা দিয়ে আরো কয়েক পেগ গিলে ফেলি। ক্লান্ত বিধ্বস্হ বোধ হয়। তবুও অন্যদের থামতে না দেখে নিজেদের ধরে রাখার চেস্টা চলতে থাকে, টিকে থাকতে হবে, টিকে যেতে হবে এই বন্যায় !!!!

সবাই একসময় ক্লান্ত হয়, আয়োজকরাও থামিয়ে দেয় বাদ্যের ঝনঝন ঝঙ্কার। আমরা ফিরতি পথে ফিরে চলি। চমৎকার ভাবে নতুন বছরটাকে শুরু করতে পেরে নিজেকে ধন্যবাদ দিই, এমন আয়োজনে না এলে অনেক পিছিয়ে পড়তে হত। আর পিছিয়ে থাকা চলবেনা !!!

লেখাটা পড়ে যারা ভাবছেন কি বর্নিল রেডিসনের নববর্ষ উদযাপন- আমিও আসলে তাদেরই দলে। অমন সৌভাগ্য আসলে এখনও হয়ে উঠেনি- উন্মাদনায় বর্ষ উদযাপনের , জানিনা কি হয় পাঁচতারা হোটেলগুলোতে। শোনাকথায় ভর করে নিজের কল্পনার চোখে দেখে নিলাম কি কি হয়। কেউ জানলে জানাবেন আসলে কি হয়।

বছরের প্রথম দিনটা বন্ধ ছিল এটাতেই অনেক বেশী খুশি ছিলাম, নিজের প্রিয় শহরে বাবা মা ভাইবোনের সাথে কাটিয়েছি , এটাই সবচেয়ে বেশী আনন্দের মনে হয়েছে।

শুভহউক সবার পথচলা, নতুন বছরের শুভকামনা সবার জন্য । ।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জানুয়ারি, ২০১১ সকাল ১০:২০
৪৫টি মন্তব্য ৪৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×