somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তোমাদের হাতে ছিল বিজ্ঞাপন - আমার হাতে রিমোট, সপ্তাহব্যাপী ঈদ আয়োজন !!!!

০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ সকাল ১১:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


টিভি চ্যানেলগুলোর মাঝে নিশ্চিত মিউচুয়াল কোন একটা বন্দোবস্ত হয়েছে না হলে সব চ্যানেলে একই সময়ে বিজ্ঞাপন শুরু হওয়া প্রত্যেকবার নিছক কাকতাল মাত্র বলে মেনে নেয়া যায়না। টিভি দেখার প্রতি ফ্যাসিনেশন হারিয়েছি সেই অনেক আগে এখন হঠাৎ কোন মুভী অতঃবা ডিসকভারী বা জিওগ্রাফী চ্যানেলে সময় কাটানো হয় মাঝে মাঝে আর ঈদে টিভি দেখা হয়নাত সেই বহুকাল ধরে। এই ঘটনার ব্যতিক্রম হিসেবে এইবার বেশ কয়েকটি টিভি অনুস্ঠান গিলে ফেলেছি।

তবে টিভি জুড়ে যে জিনিসটির মহাধিক্য দেখলাম সেটা হল এ্যারোমা নামক রুপচর্চার মালমসলা।নানা নামে এই জিনিসে দেখলাম সয়লাব টিভি পর্দা। /:)

ঈদের পরের দিন টিভির সামনে বসার পর আব্বু ইত্যাদি দেখতে চাইলে দেখি বাসার টিভিতে বিটিভিই টিউন করা নাই । অনেকদিন পর ইত্যাদি দেখলাম আর শেষে আব্বুর মন্তব্য হানিফ সংকেত আর আগের মত হাসাতে পারেননা। আসলেই একই টাইপের সেই জ্ঞান বিতরন মূলক কৌতুক যা থেকে জাতি কোনদিনও কিছু শিখেনি আর অদূর ভবিষ্যতেও শিখবে বলে মনে হয়না। তুতু তু তুতু তারা মর্জিনার বাপ মার্কা মারা - এই গানের মতই হানিফ সংকেতের মার্কার ও কোন পরিবর্তন হয় নাই। সেই আগের সব অভিনেতা, দর্শক ডেকে আগের মতই আজাইরা কাজ কারবার আর সবার শেষে আলী আকবর রপুর গান..........বাংলাদেশ যেমন একটুও বদলায়নি তেমনি বদলায়নি ইত্যাদি আর হানিফ সংকেত ও !!!!

ঈদের তৃতীয় দিন :):) দুপুরে অতিথী আসার অপেক্ষায় বসে আছি এমন সময় একটা চ্যানেলে শুরু হল মোশাররফ করিমের নাটক, পোলাটার অভিনয় বেশ ভাল লাগে তাই আর ব্যাঙের মত না লাফিয়ে ঐ চ্যানেলেই থিতু সবার ডিসিশান নিয়ে বসলাম। মুদ্রাদোষ - নাটকের নাম, কথায় কথায় করিম ভাই সামনে দাঁড়ানো মানুষের শার্টের বোতাম ছেড়া শুরু করেন, আর তার সাথে দেখা হলে টাকা ধার চেয়ে বসেন & নানা অজুহাতে টাকা সে আদায় করে ছাড়বেই। এই ধরনের লোক সাধারনত মদ গাজা খাবার জন্য টাকা ধার করলেও রচয়িতা একটু ব্যতিক্রম দেখানোর জন্য মায়ের অসুখ আর বিধবা বোনের গল্প হাজির করলেন, মোটামুটি ভালই, কিন্তু ঘটনা হল চল্লিশ মিনিটের এই নাটক দেখতে আমার আড়াই ঘন্টা লাগছে। মেজাজ এত খারাপ হয়ে যাচ্ছিল, সামনে মেহমান বসা, কিন্তু নাটকটা বহু কস্টে আমাকে শেষ করতে হইছে, কারন তা না হলে মাথার ভিতরে একটা অস্বস্তিকর অনুভূতি থেকে যেত যদি অর্ধেক দেখে আর না দেখতাম। বিজ্ঞাপন জিনিশটা যন্ত্রনার পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে মনে হল, ভাগ্য ভাল ইন্ডিয়া চারিদিকে কাঁটাতারের বেড়া দিলেও আকাশটা আমাদের জন্য উন্মুক্তই রেখেছে, আর তাই বিজ্ঞাপন বিরতীগুলো খুব একটা খারাপ কাটেনি।

সবচেয়ে ভাল লেগেছে ঐদিন রাতে আর টিভিতে শমী কায়সারের উপস্হাপনার মমতাজের লাইভ গান। যেমন চমৎকার ছিল গানের সিলেকশন তেমন চমৎকার ছিল পরিবেশনা। ভাল গীতিকার আর পরিচালকের হাতে পরলে যে মমতাজ একজন চমৎকার গায়িকা তা তার গুনেই বোঝা গেল, আরো ভাল লাগা যোগ করেছিল পালা গানগুলো ঠিক পালা গানের মত করেই ইতিহাস বর্ণনা সহ পরিবেশনা। দেশে আসলে বিনোদনের কোন অভাব নাই। এক দর্শক ফোন করে বলল আপা আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক আপনার মত, এখন ও পুরা সৈনিক হতে পারিনি দোয়া করবেন যাতে পুরাপুরি সৈনিক হতে পারি- মমতাজ হালকা একটা হাসি দিলেন। এরপর আরেক দর্শক ফোন করে বললেন আপা আপনি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে যে গানটি গেয়েছেন সেটা একবার গেয়ে শোনাবেন, অসাধারন একটা গান। এইবার আমি হাসি- ইচ্ছা করছিল ফোন দিয়ে বলি আপা তারেক জিয়াকে নিয়ে গাওয়া আপনার গানটাও অসাধারন ছিল , পারলে সেটাও একবার গেয়ে শোনাবেন ;)

হায়দার এর গান চলছিল আরেকটা চ্যানেল এ, বরাবরের মতই বাস্তববাদী লিরিকস আর গায়কী , আগে শুনেছি বলে আর আগ্রহ বোধ হলনা। তবে কেমনজানি বেমানান লাগল জেমসের পরিবেশনা। একসময় সুলতানা বিবিয়ানা সাহেব বাবুর বৈঠক খানা- এই গানের তালে কনসার্ট গুলোতে কত নেচেছি আর সেদিন টিভিতে দেখে মনে হল এই গান পরিবেশনের জায়গা টিভি না এই জিনিসটা বেটা বুঝতেছেনা.........

ঈদেরই কোন এক দিন চ্যানেল ঘুরাতে গিয়া দেখি কোন এক চ্যানেলের নাটকে শুমাইয়া শিমু মায়ের ভূমিকায় আর তার টিন এজ এক মেয়েও আছে। বেড রুমে কথা বলার সিন দেখানোর জন্য মেয়েকে নিজের বাসার বেড রুমে যেসব ড্রেস পরে তাই পরে টিভিতে অভিনয় করতে হবে এমন কোন শর্ত জুড়ে দেয়া ছিল কিনা জানিনা । ইদানিং টিভি নাটকগুলো সত্যিকার অর্থেই ভালগার হয়ে যাচ্ছে। মূল্যবোধের কথা বাদ দিলাম, কিন্তু শালীনতা নামক বিষয়গুলো সেটা পোশাক আশাকে হউক আর ডায়ালগেই হউক অনেকাংশেই অনুপস্হিত । অবশ্য আজকাল যারা নাটক বানান তাদের অধিকাংশই নাকি চরম ভাবে চরিত্রহীন আর এই নাটক বানানো নাকি তাদের মেয়ে শিকারের একটা মাধ্যম। সো সব হারানো মেয়েটার শালীনতা বোধ অক্ষুন্ন থাকবে সেটা আশা করাই অন্যায়। আর তাই প্রভার জীবন অঙ্গার হলেও নোভার নিত্য উপস্হিতি টিভি পর্দায়- একটু নতুন করে দেখলে যা হয় আরকি !!!!আমারতো মনে হয় বলিউডের চেয়েও সাহসী দৃশ্যে অভিনয় করার জন্য আমাদের মেয়েরা প্রস্তুত ।

ছেবলামো আর গতানুগতিক একই টাইপের ডায়ালগে ভরপুর প্রায়ই সব নাটক। কোথায় যেন দেখলাম ঈদে প্রতিদিন সব চ্যানেল মিলিয়ে গড়ে ৭৫ টি করে নাটক দেখানো হয়েছে এবং এই ঈদে মোট ৫০০টা নাটক দেখানো হয়েছে । কোয়ালিটি আর কোয়ান্টিটি দুটোর অবস্হান তাই বিপরীত মেরুতে যেতে বাধ্য ।পুরান ঢাকার ভাষায় নাটক থাকবে- এটা এখন ঈদের একটা কমন ফ্যাশনে পরিণত হইছে, প্রথমদিকে ভাল লাগলেও এখন অনেক ক্ষেত্রে মনে হয় জোড় করে হাসানোর ট্রাই দিতাছে।

প্রথম আলোতে দেখলাম তিশা বলল সে নাকি এবার ঈদে মাত্র সাতটা নাটক করছে, আর আমার কাছে মনে হইল যে চ্যানেলেই যাই সেখানেই তিশা আছে :-/ ক্যারাম নাটকে দেখার পর থেইকা তিশার চটাং চটাং রঙ্গ গুলা বেশ ভালই লাগত :P;) কিন্তু এখন আমি আর তিশা কেউই আর ব্যাচেলর না , তাই একই রকম ঢেং ঢেং কথা আর ভাল লাগেনা !!!!

আরেকটা জিনিস চোখে পরল, সেটা হল টাকাই আসলে সবচেয়ে বড় ধর্ম, জীবনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ- তাইত দিগন্ত টিভিতে বিরামহীন ভাবে লাইভ প্রোগ্রামগুলোতে দেশের সব নামী দামী শিল্পীর উপস্হিতিতে কোন বাঁধা নেই। আর দিগন্ত টিভির মত চরম নির্লজ্জ সম্ভবত আর কেউ নেই- খবর দেখাবি বোরকা পড়া মেয়ে দিয়ে আর সেই সাথে নাটক ও এ্যাড দেখাবি অন্য চ্যানেলের মত - ব্যবসায় আসলে আসল কথা -- তা ইসলামকে বেঁচে হউক আর...............!!!!!

ঈদের যেহেতু এখন সপ্তম অষ্টম পর্যন্ত দিন আছে তাই ঈদের সেরা বিনোদন পঞ্চম দিনে হাজির করেছিলো প্রথম আলো পেসার শাহাদাতের ব্যাপক ভয়ংকর রোমান্টিক এ্যাকশন ধর্মী সুন্দর সাক্ষাতকার । এইটা যে কি জিনিস ছিল তা বুঝতেই অনেক সময় লাগছিলো। এইখানে কে যে কারে নিয়া রঙ্গ করছে আমি এখনও বুঝতে পারি নাই।

তবে এক বন্ধু যে নিজেও ৬ ফুটের বেশী উচ্চতার, সে বলল দোস্ত আফসোস লাগতেছে রবীন্দ্রনাথের উচ্ছতাও ছিল ৬ ফুট তিন ইঞ্চি, এই ....... এর উচ্চতাও ৬ ফুট তিন ইঞ্চি !!!!!!!
৩৮টি মন্তব্য ৩৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×