টিভি চ্যানেলগুলোর মাঝে নিশ্চিত মিউচুয়াল কোন একটা বন্দোবস্ত হয়েছে না হলে সব চ্যানেলে একই সময়ে বিজ্ঞাপন শুরু হওয়া প্রত্যেকবার নিছক কাকতাল মাত্র বলে মেনে নেয়া যায়না। টিভি দেখার প্রতি ফ্যাসিনেশন হারিয়েছি সেই অনেক আগে এখন হঠাৎ কোন মুভী অতঃবা ডিসকভারী বা জিওগ্রাফী চ্যানেলে সময় কাটানো হয় মাঝে মাঝে আর ঈদে টিভি দেখা হয়নাত সেই বহুকাল ধরে। এই ঘটনার ব্যতিক্রম হিসেবে এইবার বেশ কয়েকটি টিভি অনুস্ঠান গিলে ফেলেছি।
তবে টিভি জুড়ে যে জিনিসটির মহাধিক্য দেখলাম সেটা হল এ্যারোমা নামক রুপচর্চার মালমসলা।নানা নামে এই জিনিসে দেখলাম সয়লাব টিভি পর্দা।
ঈদের পরের দিন টিভির সামনে বসার পর আব্বু ইত্যাদি দেখতে চাইলে দেখি বাসার টিভিতে বিটিভিই টিউন করা নাই । অনেকদিন পর ইত্যাদি দেখলাম আর শেষে আব্বুর মন্তব্য হানিফ সংকেত আর আগের মত হাসাতে পারেননা। আসলেই একই টাইপের সেই জ্ঞান বিতরন মূলক কৌতুক যা থেকে জাতি কোনদিনও কিছু শিখেনি আর অদূর ভবিষ্যতেও শিখবে বলে মনে হয়না। তুতু তু তুতু তারা মর্জিনার বাপ মার্কা মারা - এই গানের মতই হানিফ সংকেতের মার্কার ও কোন পরিবর্তন হয় নাই। সেই আগের সব অভিনেতা, দর্শক ডেকে আগের মতই আজাইরা কাজ কারবার আর সবার শেষে আলী আকবর রপুর গান..........বাংলাদেশ যেমন একটুও বদলায়নি তেমনি বদলায়নি ইত্যাদি আর হানিফ সংকেত ও !!!!
ঈদের তৃতীয় দিন
সবচেয়ে ভাল লেগেছে ঐদিন রাতে আর টিভিতে শমী কায়সারের উপস্হাপনার মমতাজের লাইভ গান। যেমন চমৎকার ছিল গানের সিলেকশন তেমন চমৎকার ছিল পরিবেশনা। ভাল গীতিকার আর পরিচালকের হাতে পরলে যে মমতাজ একজন চমৎকার গায়িকা তা তার গুনেই বোঝা গেল, আরো ভাল লাগা যোগ করেছিল পালা গানগুলো ঠিক পালা গানের মত করেই ইতিহাস বর্ণনা সহ পরিবেশনা। দেশে আসলে বিনোদনের কোন অভাব নাই। এক দর্শক ফোন করে বলল আপা আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক আপনার মত, এখন ও পুরা সৈনিক হতে পারিনি দোয়া করবেন যাতে পুরাপুরি সৈনিক হতে পারি- মমতাজ হালকা একটা হাসি দিলেন। এরপর আরেক দর্শক ফোন করে বললেন আপা আপনি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে যে গানটি গেয়েছেন সেটা একবার গেয়ে শোনাবেন, অসাধারন একটা গান। এইবার আমি হাসি- ইচ্ছা করছিল ফোন দিয়ে বলি আপা তারেক জিয়াকে নিয়ে গাওয়া আপনার গানটাও অসাধারন ছিল , পারলে সেটাও একবার গেয়ে শোনাবেন
হায়দার এর গান চলছিল আরেকটা চ্যানেল এ, বরাবরের মতই বাস্তববাদী লিরিকস আর গায়কী , আগে শুনেছি বলে আর আগ্রহ বোধ হলনা। তবে কেমনজানি বেমানান লাগল জেমসের পরিবেশনা। একসময় সুলতানা বিবিয়ানা সাহেব বাবুর বৈঠক খানা- এই গানের তালে কনসার্ট গুলোতে কত নেচেছি আর সেদিন টিভিতে দেখে মনে হল এই গান পরিবেশনের জায়গা টিভি না এই জিনিসটা বেটা বুঝতেছেনা.........
ঈদেরই কোন এক দিন চ্যানেল ঘুরাতে গিয়া দেখি কোন এক চ্যানেলের নাটকে শুমাইয়া শিমু মায়ের ভূমিকায় আর তার টিন এজ এক মেয়েও আছে। বেড রুমে কথা বলার সিন দেখানোর জন্য মেয়েকে নিজের বাসার বেড রুমে যেসব ড্রেস পরে তাই পরে টিভিতে অভিনয় করতে হবে এমন কোন শর্ত জুড়ে দেয়া ছিল কিনা জানিনা । ইদানিং টিভি নাটকগুলো সত্যিকার অর্থেই ভালগার হয়ে যাচ্ছে। মূল্যবোধের কথা বাদ দিলাম, কিন্তু শালীনতা নামক বিষয়গুলো সেটা পোশাক আশাকে হউক আর ডায়ালগেই হউক অনেকাংশেই অনুপস্হিত । অবশ্য আজকাল যারা নাটক বানান তাদের অধিকাংশই নাকি চরম ভাবে চরিত্রহীন আর এই নাটক বানানো নাকি তাদের মেয়ে শিকারের একটা মাধ্যম। সো সব হারানো মেয়েটার শালীনতা বোধ অক্ষুন্ন থাকবে সেটা আশা করাই অন্যায়। আর তাই প্রভার জীবন অঙ্গার হলেও নোভার নিত্য উপস্হিতি টিভি পর্দায়- একটু নতুন করে দেখলে যা হয় আরকি !!!!আমারতো মনে হয় বলিউডের চেয়েও সাহসী দৃশ্যে অভিনয় করার জন্য আমাদের মেয়েরা প্রস্তুত ।
ছেবলামো আর গতানুগতিক একই টাইপের ডায়ালগে ভরপুর প্রায়ই সব নাটক। কোথায় যেন দেখলাম ঈদে প্রতিদিন সব চ্যানেল মিলিয়ে গড়ে ৭৫ টি করে নাটক দেখানো হয়েছে এবং এই ঈদে মোট ৫০০টা নাটক দেখানো হয়েছে । কোয়ালিটি আর কোয়ান্টিটি দুটোর অবস্হান তাই বিপরীত মেরুতে যেতে বাধ্য ।পুরান ঢাকার ভাষায় নাটক থাকবে- এটা এখন ঈদের একটা কমন ফ্যাশনে পরিণত হইছে, প্রথমদিকে ভাল লাগলেও এখন অনেক ক্ষেত্রে মনে হয় জোড় করে হাসানোর ট্রাই দিতাছে।
প্রথম আলোতে দেখলাম তিশা বলল সে নাকি এবার ঈদে মাত্র সাতটা নাটক করছে, আর আমার কাছে মনে হইল যে চ্যানেলেই যাই সেখানেই তিশা আছে
আরেকটা জিনিস চোখে পরল, সেটা হল টাকাই আসলে সবচেয়ে বড় ধর্ম, জীবনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ- তাইত দিগন্ত টিভিতে বিরামহীন ভাবে লাইভ প্রোগ্রামগুলোতে দেশের সব নামী দামী শিল্পীর উপস্হিতিতে কোন বাঁধা নেই। আর দিগন্ত টিভির মত চরম নির্লজ্জ সম্ভবত আর কেউ নেই- খবর দেখাবি বোরকা পড়া মেয়ে দিয়ে আর সেই সাথে নাটক ও এ্যাড দেখাবি অন্য চ্যানেলের মত - ব্যবসায় আসলে আসল কথা -- তা ইসলামকে বেঁচে হউক আর...............!!!!!
ঈদের যেহেতু এখন সপ্তম অষ্টম পর্যন্ত দিন আছে তাই ঈদের সেরা বিনোদন পঞ্চম দিনে হাজির করেছিলো প্রথম আলো পেসার শাহাদাতের ব্যাপক ভয়ংকর রোমান্টিক এ্যাকশন ধর্মী সুন্দর সাক্ষাতকার । এইটা যে কি জিনিস ছিল তা বুঝতেই অনেক সময় লাগছিলো। এইখানে কে যে কারে নিয়া রঙ্গ করছে আমি এখনও বুঝতে পারি নাই।
তবে এক বন্ধু যে নিজেও ৬ ফুটের বেশী উচ্চতার, সে বলল দোস্ত আফসোস লাগতেছে রবীন্দ্রনাথের উচ্ছতাও ছিল ৬ ফুট তিন ইঞ্চি, এই ....... এর উচ্চতাও ৬ ফুট তিন ইঞ্চি !!!!!!!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

