somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কলেজিয়েট স্কুল চট্টগ্রাম- ১৭৫ বছরের গৌরবময় পথ চলা ।

২৮ শে ডিসেম্বর, ২০১১ সকাল ১১:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলের ছাত্র ডঃ মুহম্মদ ইউনুস নোবেল পুরষ্কার পেয়েছেন আর নোবেল বিজয়ী ডঃ মুহম্মদ ইউনুস এর স্কুলের নাম চট্টগ্রাম কলেজিয়েট - দুটো বাক্যের মানে অবশ্যই দুরকম এবং নিঃসন্দেহে চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলের ছাত্রদের কাছে প্রথম বাক্যটিই বেশী গ্রহনযোগ্য। ডঃ মুহম্মদ ইউনুস নিজেও প্রথমটিতেই বেশী গর্ববোধ করবেন নিঃসন্দেহে !!!! পরপর দুদিন নিজের মূল্যবান সময় তিনি কাটিয়েছেন অতীত রোমন্হন করে, সবার সাথে গল্পগুজব করে। হুমায়ুন আহমেদ, জাফর ইকবাল, আবুল হায়াত, আবদুল্লাহ আল মুতী শরফুদ্দীন, জামাল নজরুল ইসলাম, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আফসারুল আমীন, জিল্লুর রহমান- এইসব সুপরিচিত নামগুলোর পাশাপাশি নিজ নিজ ক্ষেত্রে সফল আরো হাজারো মানুষের পদচারনায় একসময় মুখর ছিলো এই কলেজিয়েটস প্রাঙ্গন।



আর মজার ব্যাপার হচ্ছে সে পুরোটা সময় আমি, জামিল, মিঠু, বেনজির আর আফজাল কাটিয়েছি বাসে বসে কখন গিয়ে পৌঁছাব সে চিন্তা করে। দীর্ঘ ১৬ ঘন্টা জার্নি করে যখন পৌঁছালাম এক নিমিষেই সব ক্লান্তি উধাও প্রিয় মুখগুলোর উষ্ণ আলিঙ্গনে।তিনদিনের অনুষ্ঠানে আমরা গেলাম ২য় দিনের শেষ বেলায়।



কেউ নেই করিডরে , ক্লাশরুম গুলো ফাঁকা
নেই সেই মুখ খানা, প্রিয় হাসি মাখা ...........

সেই করিডরে আবারও উদ্দাম আড্ডায় মেতে উঠা কিছু সময়। সামনের দিকে নানা রথিমহারথি আর একগাদা মন্ত্রী উপদেস্টার আনাগোনা, সেখানে নজর দেয়ার কারো খুব একটা আগ্রহ বা ইচ্ছা কোনটাই ছিলনা। ৯৭ ব্যাচের আমরা সবাই যথারিতী পেছনের এক কোনায়, পুরোনো দিন গুলো যেন একে একে উঠে আসছিল নিজেদের মাঝে চলা স্মৃতিচারণে, আর সামনে মঞ্চে চলছে স্কুলের ১৭৫ বছরের নানা সময়ের নানাজনের স্মৃতিচারণ । নিজেদের স্মৃতির কি আর শেষ আছে.........

রাতে ডিনারের সময় যেন স্কুলের সেই মিলাদের দিনে ফিরে যাওয়া , সেই একই রকম হুড়াহুড়ি করে কে কার আগে খেতে বসবে সেই নিয়ে ঠেলাঠেলি.........মিলাদের সময় স্কুলে দুটো আয়োজন থাকত বীফ আর নন বীফ, ইচ্ছা করেই তখন নন বীফের কূপন যোগাড় করে সেখানে চলে যেতাম, সেটাই ছিল বড় মজা, এই দিন ও ঠিক সেভাবেই যেন অতীতে ফিরে যাওয়া। নন বীফের লাইনে গিয়ে হাজির হলাম আমরা সবাই, লাইনে দাঁড়িয়ে হইচই, আয়োজকরা চিল্লিয়ে বলছেন সবার জন্যই ব্যবস্হা আছে, আপনারা হুড়োহুড়ি করবেননা !!! আয়োজকদের কথা শুনে হুড়োহুড়ি বন্ধ করে দিলে কি আর চলে - নিজের কলেজিয়েট নামের একটা স্বার্থকতা আছেনা !!!! শুধু যে আমরা তাইনা, সব ব্যাচেরই যেন একই অবস্হা, নিজের নামের স্বার্থকতা রক্ষার তাগিদ !!!

সেই তুমি কেন এত অচেনা হলে- মাতাতে মঞ্চে যখন এলআরবি তখনও আমরা আড্ডায় খুজেফিরি কে কতটুকু বদলে গেল অচেনা হল, না সবাই যেন সেদিনগুলোতেই ফিরে গিয়েছিলাম। কাউকে একটুও অচেনা মনে হলোনা, সেই আগের মতই, এমনকি যার যে ব্যাচ নেম ছিল তাকে সে নামেই ডাকা, তারও সমান তালে সাড়া দেয়া, দেখে কে বলবে এরা স্কুল জীবন শেষ করেছে ১৪ বছর হয়ে গেছে। যেকজন ভাবী ছিল নিশ্চিত বিয়ের আগে তাদের জামাই এর এমন দশা দেখলে আরেকবার চিন্তা করত বৈকি, কিংবা হয়ত খুশী মনেই কাছে আসত- এটাইত এদের স্টাইল !!!!!

অনেকদিন পর আবার বাচ্চুতে মাতোয়ারা, চিটাগং এর ছেলে, সে ও যেন নিজেকে উজাড় করে দিল, আঞ্চলিক ভাষায় শুরু হল তার গল্প আর অনুরোধে ঢেকি গিলে চার লাইন চার লাইন করে শুনিয়ে গেল তার ৯০ এর দশকে জনপ্রিয় হওয়া প্রায়ই সব ট্র্যাকই । আগামী কাল আবার হবে- বন্ধু আড্ডা গান- নিজের মাঝেই হারিয়ে যান । বিদায় নিয়ে বাসায় ফেরা, এও যেন আরেক রিইউনিয়ন। আমি রায়হান, জামিল , মিঠু চারজনই আমাদের বাসায় , একসাথে চারজনের এই প্রথম থাকা, ফোর ইডিয়টস মিলে আমরা শুরু করলাম থ্রী ইডিয়টস দেখা !!!!! একসাথে জেলে না গেলে এমন এক কামড়ায় আবার কখনো কাটানোর সুযোগ আসে কিনা আল্লাহই জানে !!!!
বন্ধু আসিফের সাথে দেখা হল ১৪ বছর পর !!!! আরো কয়েকজনের সাথেও একই অবস্হা। লাবলু হঠাৎ করে মনে করল লালদীদিতে সাঁতার শিখতে যাওয়া সেই দিনগুলোর কথা, ক্লাশ ফাঁকি দেয়ার এই একটায় উপায়, প্রতিদিন সকালে প্রেজেন্ট দিয়ে আমরা চলে যেতাম সাঁতার প্রশিক্ষন ক্যাম্পে, সেখানে গিয়ে পড়েছিলাম আরেক দুর্দশায়-শীতের সকালে আমাদের নামিয়ে দেয়া হল পানিতে !!!!

কে কোন স্যারের হাতে মার খেয়েছিল, কেমন ছিল সে মারের জোড় আর সে স্যাররা এখন কোথায় - স্যারদের মারের জোড়ে আর নিজগুনে বন্ধুরা সবাই ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে নানা জায়গায়, আবিষ্কার হল কেবল পুলিশ আর আর্মিতে আমাদের ব্যাচের কোন বন্ধু নেই !!!!
লাল ইটের এই দালানের পরতে পরতে নানা স্মৃতি, ক্লাশ রুমগুলো আজও আছে একই রকম শুধু চক আর কালো বোর্ড এর পরিবর্তে শুভ্র বোর্ড, চক উঠে গিয়ে মার্কার পেন বদলে যাওয়া দিনের সাক্ষী ।

আবারও আড্ডা, হইচই, মঞ্চে দল বেঁধে ছবি তোলা, তিনটার ট্রেনে ফিরব বলে আমার তাড়াহুড়া। এক বন্ধু বলল তুই থাক, তোকে রাতের ট্রেনের টিকেট যোগাড় করে দিচ্ছি। আমি রাজি হতে ভয় পাচ্ছি, কারন তিনদিনের ছুটি শেষে বাস ট্রেন কোথাও সিট খালি নেই জানি, ভরসা পাচ্ছিনা। একটু পরেই সে জানাল তোর টিকেট কনফার্ম, ট্রেন ছাড়ার আগে স্টেশনে গেলেই হবে , তার বদৌলতে পেয়ে গেলাম অসাধারন আরো কয়েকটি ঘন্টা ।

কথায় আছে ট্রেন একবার চলতে শুরু করলেই হল- এখানেও তাই হল সবাই মিলে ৩১শে ডিসেম্বর রাতে আরেকটি গেট টুগেদারের ডেট ঠিক করে ফেলল, চাঁদাও তোলা শেষ !!!
ভরা থাক স্মৃতি সুধায়- এই স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত ১৭৫ পূর্তি উৎসব , স্মৃতির পাতায় মনে রাখার মত আরো অনেক গুলো পৃষ্ঠা যোগ করে দিয়ে গেলো............


[এই ছবিটি উইকিপিডিয়া থেকে নেয়া ]

মমিন ভাই এর বিখ্যাত চটপটি ও হিমালয় গ্লাস আইসক্রীম:






১৯৬৫ সালের এসএসসি দেয়া কয়েকজন ছাত্র


১৯৬৩ সালের ম্যাগাজিনে লেখা স্হান পাওয়াদের ছবিতে হুমায়ুন আহমেদ ও জাফর ইকবাল :


জাফর ইকবালের লেখা একটা কবিতা (এত খারাপ লিখতেন তখন :) )



If he had not gained the opportunity to be admitted at Chittagong Collegiate School, his life could have turned out different, said Nobel Laureate Prof Muhammad Yunus yesterday.

Click This Link

উইকি লিংক:

Click This Link



বন্ধু জামিল রিইউনিয়ন উপলক্ষ্যে স্কুলের ছাত্রদের জন্য তৈরি করে ফেলেছে একটি ব্লগ , এর যাত্রা শুভ হউক।
http://collegiatesblog.com/


সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে ডিসেম্বর, ২০১১ দুপুর ১২:২২
৪৫টি মন্তব্য ৪৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×