এক চুড়িওয়ালিকে ধর্ষনের অপরাধে সুনামগঞ্জে তিন ধর্ষককে ৫ হাজার টাকা জরিমানা ও ধর্ষিতার পা ধরে মা প্রার্থনার মাধ্যমে বিচার সম্পন্ন করেছে গ্রাম্য শালিস। শুক্রবার সন্ধ্যায় সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার জয়নগর বাজার পরিচালনা কমিটি ধর্ষকের উপর এই জরিমানা ধার্য্য করে এবং ধর্ষিতার পা ধরে তার কাছে মা প্রার্থনার মাধ্যমে ধর্ষন অপরাধের বিচার করে। বিচারের রায়ে অপরাধী মোহনপুর ইউপির নুরুল্লা গ্রামের কাশেম মেম্বারের ভাই ও তার দুই সহযোগী জরিমানার নগদ ৩হাজার টাকা দেয় এবং বাকি ২ হাজার টাকা আগামী মঙ্গলবার দিবে বলে বিচারকদের কাছ থেকে সময় চেয়ে নেয়।
প্রায় তিন মাস আগে ধরমপাশা উপজেলার বেতারিয়া গ্রামের কাশেম ও তার স্ত্রী তাদের নৌকা বহরের সঙ্গে ফেরি করে চুড়ি ফিতা বিক্রির জন্য জয়নগর বাজার ঘাটে নোঙ্গর গাড়েন। গত ২৯ নভেম্বও কাশেমের স্ত্রী চুড়ি ফিতা নিয়ে মোহনপুর ইউনিয়নের নরুল্লা গ্রামে যান। চুড়ি ফিতা বিক্রি করে তিনি বিকেলে বাজারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলে মোহনপুর ইউনিয়নের নরুল্লা গ্রামের মেম্বার কাশেম মেম্বারের ভাই বিল্লাল ও একই গ্রামের শুকুর আলীর ছেলে আলী হোসেনসহ তিন বখাটে তাকে নির্জন স্থানে (আমন ধানী েেতর ভেতর) জোড়পূর্বক তুলে নিয়ে ধর্ষন করে। ধর্ষিতা কেঁদেকেটে বাজারে এসে তার সঙ্গীদের এ বিষয়টি বললে তারা ঘটনাটি মোহনপুরের ইউপি মেম্বার আবুল হাসনাত মঞ্জু ও চেয়ারম্যান আঞ্জব আলীকে অবগত করেন। তারা বিষয়টি দেখে দিবেন বললেও এই ঘটনার সঙ্গে ইউপি পরিষদের ভাই জড়িত থাকার কারণে বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে দেখে দিবেন বলে সময় পেন করেন। এঘটনায় বিচার চাইলে ধর্ষকের ভাই ুব্ধ কাশেম মেম্বার চুড়িফিতাঅলাদের এখান থেকে তাড়িয়ে দিবেন বলে হুমকি দেন। পরে এলাকার সচেতন যুবকদের সহায়তায় ধর্ষিতা তার স্বামীকে নিয়ে গত ৫ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জ মহিলা পরিষদে যান। সেখান থেকে তাদের থানায় পাঠিয়ে দেয়া হলে তারা স্বামী স্ত্রী থানায় লিখিত অভিযোগ করে যান। কিন্তু থানা পুলিশ এই গুরুতর অভিযোগটি আমলে না নিয়ে ড্রয়ারে ফেলে রাখে।
গত ১২ ডিসেম্বর শুক্রবার সন্ধ্যায় জয়নগর বাজার পরিচালনা কমিটি এলাকাবাসীদের নিয়ে শালিসে বসেন। শালিসে ধর্ষক বিলাল, আলী হোসেন ও তার অপর সহযোগীর উপর ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এর মধ্যে তিন হাজার টাকা ধর্ষিতার হাতে তুলে দেয়া হয়। বাকি ২ হাজার টাকা মঙ্গলবার দেয়া হবে বলে তাদেও জানিয়ে দেন রায় প্রদানকারী বিচারকরা। বিচারে উপস্থিত ছিলেন ইউপি মেম্বার আবুল হাসনাত মঞ্জু, বাজার কমিটির সভাপতি হাফিজ আব্দুল হান্নান, নূরুল হক প্রমুখ।
ধর্ষিতা জানান, কাশেম মেম্বার হুমকি দিয়ে তাকে এই বিষয়টি না ঘাটানোর জন্য বলেছে। শালিসের এই বিচারের প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, তার এই এলাকায় কেউ নেই। তাই ভয়ে তিনি আপস করতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি বলেন, থানায় অভিযোগ করের যখন কোনো সাড়া পাইনি তখন আর কি করব? তবে ইজ্জত খোয়ানোর মূল্য ৫হাজার টাকা জরিমানায় সন্তষ্ট নন তিনি। তিনি বলেন, টাকা দিয়ে ইজ্জত কেনা যায়না।
অভিযোগের আইও এসআই হাদী জানান, অভিযোগের পর খোজ খবর নিয়েছি। ঘটনা সত্য। তবে থানায় এই গুরুতর অভিযোগের পর কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা বলতে পারেননি তিনি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



