somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিম

১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ অতিক্রম করছেন জীবন্ত কিংবদন্তি বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিম। শুক্রবার দুপুর থেকে সিলেটের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে তাকে লাইফ সাপোর্ট দিয়ে রাখা হয়েছে। তার এমন অবস্থায় দেশ-বিদেশের লক্ষ কোটি ভক্ত-অনুরক্তরা উৎকন্ঠিত হয়ে পড়েছেন। তাকে এক নজর দেখার জন্য সিলেটের সর্বস্তরের লোকজনসহ প্রবাসের বাউল সম্রাটের ভক্তরা ফোনে প্রতিনিয়ত তার খোঁজ খবর নিচ্ছেন। উদ্বিঘœ হয়ে পড়েছেন তার স্বজনরা।
শাহ আবদুল করিমের একমাত্র পুত্র শাহ নূর জালাল জানান, ২০০৬ সালের মাঝামাঝি সময় থেকেই বাউল সম্রাট বার্ধক্যজনিত কারণে ভোগছেন। ওই সিময় তিনি নিজে নিজে কিছুটা চলাফেরা করতে পারলেও ওই বছরের শেষ দিকে থেকে তিনি রোগের কাছে কাবু হয়ে বিছানায়ই দিন কাটাচ্ছেন। তারপর থেকে অন্যের সাহায্য ছাড়া চলাফেরা করতে পারছেন না। বেশি অসুস্থ হলেই তিনি সিলেটের নূরজাহান হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
শাহ নূর জালাল জানান, গত ৩ সেপ্টেম্বর বাউল সম্রাটের অসুস্থতা বেশি দেখা দিলে ওই দিনই তিনি পিতাকে নিয়ে সিলেটের নূরজাহান ক্লিনিকে ভর্তি করান। প্রথম দিকে অবস্থা কিছু ভালো হলেও গতকাল শুক্রবার থেকে তার শারিরিক অবস্থা খারাপ হতে থাকে। তাই শুক্রবার দুপুর ১ ঘটিকা থেকেই তাকে লাইফ সাপোর্ট দিয়ে রাখা হয়েছে।
শাহ আবদুল করিমকে লাইফ সাপোর্ট দিয়ে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে এই খবর ছড়িয়ে পড়লে সিলেটের মেয়র বদর উদ্দিন কামরানসহ স্থানীয় সাংবাদিক, সংস্কৃতিকর্মীসহ বিভিন্নশ্রেণীপেশার লোকজন তাকে এক নজর দেখার জন্য হাসপাতালে ভীড় জমান। এখনো হাসপাতালে ভীড় লেগে আছে। স্বজনদের ভীড় বাড়ছে হাসপাতাল এলাকায়।
চ্যানেল আই টেলিভিশনের সিলেট ব্যুরো প্রধান সাংবাদিক আল-আজাদ জানান, শাহ আবদুল করিমের অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন। তাকে একনজর দেখার জন্য হাসপাতালে ভীড় লেগেই আছে। পাশাপাশি দেশ বিদেশের বাইরে থেকেও অনেকে মোবাইল ফানে তার খোঁজ খবর নিচ্ছেন।
১৯১৬ সনের ১৫ ফেব্রুয়ারি প্রথম বিশ্বযুদ্ধের যঞ্চা বিক্ষুব্দ সময়ে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার হাওরবেষ্টিত গ্রাম উজানধলে শাহ আবদুল করিম জন্মগ্রহণ করেন অতি সাধারণ এক দরিদ্র পরিবারে। তার পিতার নাম ইব্রাহিম আলী। মাতার নাম নাইওরজান বিবি। তার স্ত্রী সরলার মৃত্যুর পর বাউল কবি মুষড়ে পরেন। ১৯৫৭সাল থেকে তিনি স্থায়ীভাবে নিজ গ্রামে বাস করছেন। তার একমাত্র পুত্রের নাম শাহ নূরজালাল।
বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিম দেহতত্ব, নিগূরতত্ব, বাউল তত্ব, মুর্শিদী গানসহ অসংখ্য গণসঙ্গীত রচনা করেছেন। তিনি কাগমারী সম্মেলনে গান করে মাওলানা ভাসানী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সান্নিধ্যে আসেন এবং তাদের শ্রদ্ধা আদায় করে নেন। হোসেন শহীদ সোহরাওয়াদীসহ অসংখ্য জাতীয় নেতা তার গানে বিমোহিত ছিলেন।
বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের ১৩৫৫ বঙ্গাব্দে প্রথম বই আফতাব সঙ্গীত বের হয়। গণসঙ্গীত ১৯৫৭, কালনীর ঢেউ ১৯৮১, ধলমেলা ১৯৯০, ভাটির চিঠি ১৯৯৮ ও কালনীর কূলে ২০০১ সালে বের হয়। চলতি বছরের মে মাসে তার রচনা সমগ্র বের করে সিলেটের খান বাহাদুর এহিয়া ওয়াকফ এস্টেট। ২০০১ সনে তাকে তার কালজয়ী সৃষ্টির স্বীকৃতির জন্য রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ পুরস্কার একুশে পদক প্রদান করা হয়। এছাড়াও ২০০৪ সনে মেরিল প্রথম আজীবন আলো সম্মাননা, ২০০৫ সনে সিটিসেল চ্যানেল আই মিউজিক এওয়ার্ড, ২০০৬ সনে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসে বাংলাদেশ জাতিসংঘ সম্মাননা, ২০০৬ সনে অভিমত সম্মাননা, ২০০৮ সনে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী সম্মাননা, ২০০৮ সনে খান বাহাদুর এহিয়া এস্টেট সম্মাননাসহ দেশ বিদেশে অসঙখ্য সংবর্ধনা দেওয়া হয় তাকে। এছাড়া তিনি ১৯৪৬, ১৯৮৫ ও ২০০৭ সনে বিলাত ভ্রমণ করেন।
নগরিক মরিচীকা শাহ আবদুল করিমকে কখনো আটকাতে পারেনি। তাই নানা হাতছানি থাকলেও তিনি সব সময় পড়ে রয়েছেন তার ধ্যানের নীলাআকাশ হাওর-বাওর, নদী বেষ্টিত উজানধল গ্রামে। বরং মেকি নগারিকরাই যখন হাপিয়ে উঠে তখন তার সৃষ্টি গিলে তৃপ্তির ঢেকুর তোলতে হচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের নাগরিক অনেক শিল্পিই অনেক ঘাটের পানি খেয়ে শেষমেষে শাহ আবদুল করিমের গান গেয়েই (অনমতি নিয়ে না নিয়ে) স্টার হতে হয়েছে তাদেরকে। তার গানকে বিকৃতি করায় অনেকের প্রতিই তিনি বিক্ষুব্দ ছিলেন।
##

সর্বশেষ এডিট : ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:০৭
১২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাখি মন

লিখেছেন সামিয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১০



রাত গভীর হলে পাখিটা বারান্দায় এসে বসে। দূরের আকাশে তখনও কিছু আলো জ্বলজ্বল করে, কিন্তু পৃথিবীর কোলাহল ধীরে ধীরে স্তব্ধ হয়ে আসে। সেই নীরবতার মধ্যে বসে পাখিটার মনে হয়, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×