দলে দলে সপরিবারে ছুটে আসছে লোকজন। ব্যস্ত কৃষক গ্রামীণ ৗেরকারের কাছে নিজেকে সমর্পণ করে মনের আনন্দে নামমাত্র টাকায় চুলদাড়ি কামাচ্ছেন। বাচ্চারা দোলছে নাগরদোলায়। এটি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার সবচেয়ে বড় মেলা ঐতিহ্যবাহী ‘রৌয়াইল’ মেলার দৃশ্য।
প্রতি বছর ১৩ ফাল্গুন রৌয়াইল গ্রামের কুশিয়ারা নদীতীরে এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়। মেলা উপলে এলাকায় বিরাজ করে উৎসবের আমেজ। জানা গেলো, মেলার আনন্দ উপভোগ করতে সুদূর ইউরোপ থেকেও বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী এলাকার লোকজন ছুটে এসেছেন প্রাণের টানে।
রৌয়াইল গ্রামের প্রবীণ মুরব্বি তারিছ মিয়া (৯০) বলেন, ‘আমার বাপদাদারাও রৌয়াইল মেলার গল্প করতেন। আমি ছোটবেলা থেকেই কুশিয়ারা নদীর উভয় পাড়ে ফাল্গুনের ১৩ তারিখে মেলা অনুষ্টিত হয়ে আসতে দেখেছি। তিনি জানান, ঐতিহ্যবাহী ধলমেলার পর থেকেই এই মেলার প্রস্তুতি শুরু হয। ধলমেলায় যেসব দোকানপাট আসে সেগুলোই ফিরে আসে রৌয়াইল মেলায়। মূলত একদিন মেলা হলেও এর আমেজ থাকে প্রায় সপ্তাহব্যাপী। দোকানপাটও থাকে ততদিন পর্যন্ত।
মেলায় গ্রামীণ জীবনে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যর দোকানই বেশি। বিশেষ করে কাঠের ফার্নিচার, বাশবেতের উড়াদুছুন, দা লাটি কুড়ালসহ খাদ্যদ্রব্যের মধ্যে মিষ্টি মুড়ির দোকানই বেশি। এছাড়া বিভিন্ন ফলমুলেরও দোকান উঠেছে।
রৌয়াইল মেলা পরিচালনা কমিটির সভাপতি লন্ডন প্রবাসী এমএ নূর জানান, তিনি প্রতি বছরই মেলার আগে লন্ডন থেকে ছুটে আসেন। এবার প্রবাস থেকে মেলা উপলে এলাকার প্রায় ১০-১৫জন ছুটে এসেছেন। মেলায় ছুটে আসার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, শিল্প বিপ্লবের আগেই ইউরোপে লোকজ জীবন ও সংস্কৃতি মারা গেছে। তাই তাদের মধ্যে পারিবারিক ও সামাজিক ভাঙন বেশি। কিন্তু বাঙ্গালির লোকায়ত জীবন এখনো টিকে আছে। তাই এখনো পারিবারিক ও সামাজিক ভাঙন দেখা দেয়নি আমাদের সমাজে।
জগন্নাথপুর উপজেলার চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) মুক্তাদীর আহমদ কালের কণ্ঠকে বলেন, এখনো গ্রামের লোকজন ঘরে তৈরী মুড়ি মিষ্টি খেতে ছুটে আসেন মেলায়। ব্যস্ত কৃষক গ্রামীণ ৗেরকারের কাছে নিজেকে সমর্পণ করে খোঁজে নিখাদ আনন্দ। কিন্তু সেই লোকায়ত মেলা এখন পূজিবাদী চরিত্র ধারণ করছে। স্থানীয় পণ্যের বদলে বিভিন্ন কোম্পানির পণ্যই এখন মেলায় আধিক্য বিস্তার করছে।
ঐতিহ্যবাহী ‘রৌয়াইল মেলা’: প্রাণের টানে ছুটে এসেছেন ইউরোপ প্রবাসীরাও
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
পাখি মন

রাত গভীর হলে পাখিটা বারান্দায় এসে বসে। দূরের আকাশে তখনও কিছু আলো জ্বলজ্বল করে, কিন্তু পৃথিবীর কোলাহল ধীরে ধীরে স্তব্ধ হয়ে আসে। সেই নীরবতার মধ্যে বসে পাখিটার মনে হয়, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন
শৃঙ্খল মুক্তি আমার
শৃঙ্খল মুক্তি আমার

ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন
=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন
রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।