somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঈশ্বর ও ‍শারিবাদী শালশার গুনাগুন

০৪ ঠা জুলাই, ২০০৭ দুপুর ২:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

”আমি কি একটি মাত্র প্রত্যঙ্গ লইয়া পাড়ি দিতে পারিব এই বিপুলা তথ্যরসে সম্মৃদ্ধ নারীর ত্রিভুজক্ষেত্র? তাহার আমাজান বনে কি হইতে পারিব এক আধজন আমজনতা?” এই প্রশ্ন শুনিয়া কিছুক্ষণের জন্য ঈশ্বর নির্বাক রহিলেন। মুখের ভেতরে শারিবাদী শালশার লোকমাটুকু তখনও কন্ঠ দিয়া নামিতে পারে নাই। তাহার পূর্বেই এমন আচানক প্রশ্নে তিনি খানিকটা ভীমরি খাইলেন; যদিও পরমূহুর্তে নিজেকে সামলাইয়া নিয়া বলিলেন, “বন্দনা কর, তাহলে সবই পাইবা”। অপেক্ষমান এমনি শতেক ছানাপোনাকে পার করিয়া যে নিছক বান্দা লাফাইয়া দাবড়াইয়া হাঁপাইয়া ঈশ্বরের উত্তরের জন্য ছুটিয়া গিয়াছিল সে খানিকটা বিমর্ষ হইল কিন্তু পুরোপুরি নিস্তেজ হইল না।
এদিকে ধরাধামে বিচরণশীল বিভিন্ন জ্ঞানীগুনি ব্যাক্তিগণ, যাহারা ইতমধ্যে ঈশ্বরের গুপ্তকেশের রহস্য বুঝিতে পারিয়া তাহা দিয়া পরশ পাথর তৈরীর নিমিত্তে ব্যাস্ত ছিলেন, তাহাদের আশু অভিযোগ ঈশ্বর ‍”আর আগের মত নাই, তিনি পুরুষ হইয়া উঠিতেছেন”। ঈশ্বর যতই তাহাদের হাতে ‌”লিচি” আর “জুসপ্যাক” ধরাইয়া দিয়া বুঝানোর চেষ্টা করিতেছেন যে তিনি আঁটিবান্ধা নহেন, ঘটনা ততই উল্টা দিকে বহিতেছে। তাই ঈশ্বরের কিঞ্চিত দুশ্চিন্তা এবং “হিক্কা” ব্যাধির লক্ষণ দেখা দিয়েছে। আর তাই ঈশ্বরের একান্ত সচিব জাজ্ঞানিক জামাল তার বাড়ীর পাশের “অকলবম পীরের” কাছে অনেক ধর্ণা দিয়া নিয়া আসিয়াছে এই শারিবাদী শালশা। কিন্তু শালশার ভেষজ গুনও দেখি উল্টা হইয়া যাইতেছে..পূর্বের পুরানা এডিশনের যে বইগুলোতে তিনি চন্দ্রগুপ্তকে দিয়া লেখাইছিলেন; তিনি নিরাকার তিনি অ-লৈঙ্গিক তিনি সর্বত্র কিন্তু কদাপী একগামী নহেন তাহা বোধহয় মিথ্যা হইতে চলিল। এইবার বোধহয় তার গোপন অভিসার সবই ফাঁস হইয়া যায় যায়। কেননা যতবারই তিনি কথা বলিতে যান ততবারই তার দুই উরুর মাঝখানের প্রত্যঙ্গটি ফাল দিয়া ওঠে। তিনি অনুভব করেন এর সবই প্রাণী গমনের ফলাফল। কিছুদিন আগেও তাঁর কোন নির্দিষ্ট অঙ্গ ছিল না কিন্তু যেদিন থেকে তিনি ফোসেনের চাটুকারিতায় নিজেকে ভাসাইয়া দিয়াছেন সেদিন থেকেই তার এই হাল।
এদিকে জানা যায় যে, অ-পিশু ঈশ্বরের সর্গদ্যানকে পিশু করিয়া সম্মৃদ্ধ করিবার নিমিত্তে ছুটিয়া বেড়াইতে বেড়াইতে মেনকার শ্যামল অঙ্গেই একবার তা সারিয়া দিয়া ছিল। ফৌশিকও হা হা করিয়া সেদিন ছুটিয়া গিয়াছিল। যদিও পরে বেগতিকের সাথে নিবিড় আত্মীয়তার সূত্রে সে সব লইয়া আর তেমন ঝামেলা হয় নাই। যদিও ঈশ্বর জানিতেন নাটের গুরু হিসেবে লধস্ক শরৎকে কখনোই বিশ্বাস করা যায় না। অ-পিশুর বহুমূত্র রোগ সম্পর্কে পূর্বাপর সকলেই জ্ঞাত হইলেও লম্ফমান ছাগু তা জানিত না। সে ভাবিল ইহা তো বড়ই আনন্দের কাজ আমিও করিয়া দেখি। কিন্তু করিতে যাইয়াই বিপত্তি বাধিল, মেনকা যে ছাগুর আনুবীক্ষণিক প্রত্যঙ্গটিকে দুমড়াইয়া মুচড়াইয়া প্যাকেট করিয়া দিবে তাহা সে কল্পনাও করিতে পারে নাই। সে তাই নিজের প্রত্যঙ্গটি লইয়া গবেষণায় নিবিষ্ট হইল।
ঈশ্বর সবই লক্ষ্য করিতেছিলেন, কিন্তু কাহাকেও কিছু বলিতেছিলেন না, কেননা তাহার হিক্কা তখন উত্তরোত্তর বাড়িয়া চলিতেছিল। এছাড়া তাহার আরেকটি দুশ্চিন্তাও ছিল, গোপন সূত্রে তিনি খবর পাইয়াছিলেন যে খুব কাছেই আরেকটি ঈশ্বরের নির্মাণ চলিতেছে। ইহাও ভয়ানক সংবাদ কেননা পুরানা এডিশনের বইগুলোতে ইহাও লেখা ছিল যে একটি ঈশ্বর বর্তমান থাকিলে অন্য ঈশ্বরের কল্পনা করাও বিধি সম্মত নহে। এই কারণে তিনি একবার পন্পঞ্চের পুরা চৌদ্দগুষ্টিকে নিপাত করিয়াছিলেন। ইহা নিয়া তার ব্যাপক ইমেজ সংকটও দেখা দিয়াছিল।
তাই এইবার তিনি ভাবিতেছিলেন যে বই ঘাটিয়া দেখিবেন কিনা..কিন্তু অনভ্যাসে বিদ্যাহ্রাস। এখন একটি শব্দ সঠিকভাবে উচ্চারণ করিতেও তাহার যে সময় ব্যায় হয় তাতে ফোসেইন তিনবার প্রানীগমন করিয়া ফেলে, অ-পিশুর বড় বাথরুম পায়, ফৌশিক প্রেম বিহারে চলিয়া যায়, মুহি মন্দিরার বেদীতে ঘন্টা বাজায়, সন্ধ্যার বাতি ৭ বার জ্বলে ৩বার নিভে যায়, তেলাপোকার ৯বার মেটামরফোসিস হয়, যায়যুদ্দিন আলমের সাথে সমকামীতা শেষ করে, ডাক্তার ১৭ বার প্রেসক্রিপশন দেয়, ববিন ৫বার জেন কে উদ্ধার করে, কেমিকেল লোড আউট করে, অষ্টবক্র অপকথা বলে, মুখা মুখ মারে, কু চৌধুরী রেসিপি দেয়, গ্রে সানসেট বয়া নিয়া চাকরানীর জন্য সমুদ্রে ফাল দেয় আর লধস্ক শরৎ বেগানা বালের মত কবতে কবতে করে।
এমনি সংকট মুহূর্তে ঈশ্বরকে উদ্ধারের জন্য হাজির হইলেন শৌর্য্যবীর্জ চৌধুরী আর সুবাহ সাদিক। বিগ এফ টীমও বাদ যায়না; ঈশ্বরের খিদমতে বান্দা হিসেবে গায়ে মানে না আপনি হোঁদল সাজিয়া তারাও ঈশ্বরের ব্যাক আপ দেয়। তারপরও ঈশ্বর কিছুই কয় না, তেনার মনে পড়ে জিউসের যে গুপ্ত কেশ পরে ইন্দ্রের মধ্যে সঞ্চারিত হইয়াছিল সেইটার আউটকামের কথা। জনগন না থাকলে ঈশ্বর থাকবো না এই নীতিতে চইলা তারা এত পয়দা করছিল যে এখন জিউস আর ইন্দ্র সবার বাপ। কিন্তু ইহাতে প্রতিকার হয় নাই বরং সমস্যা আরো বাড়িয়াছে.....শৌর্য্যবীর্জ চৌধুরী আর সুবাহ সাদিক যতই তাদের মাল মশলার ভান্ডার উজার করিয়া দিতেছেন তাতেও ঈশ্বরের হিক্কা বন্ধ হয় না। শারীবাদী শালশা ধরাইয়া দিয়া জাজ্ঞানিক জামাল সেই যে হারায়ছে তাকেও আর খুঁজিয়া পাওয়া যাইতেছেনা।

ঘটনা পরম্পরায় অবস্থা এমন হইয়া দাড়াইলো যে টান পড়িল স্বয়ং আয়তন লইয়াই। ধরাধামে বিচরণশীল বিভিন্ন জ্ঞানীগুনি ব্যাক্তিগণ, যাহারা ইতমধ্যে ঈশ্বরের গুপ্তকেশের রহস্য বুঝিতে পারিয়া তাহা দিয়া পরশ পাথর তৈরীর নিমিত্তে ব্যাস্ত ছিলেন তাহারাই পরশপাথর বাদ দিয়া নিজেদের আয়তন তৈরীতে নিযুক্ত করেছিলেন। তাহাদেরই এক পিতা ঘোষনা দিলেন নতুন আয়তনের। অনেক বন্দনা প্রতি বন্ধনা, গঞ্জনা প্রতি গঞ্জনা হইল। অনেক মেনকা পরিণিতা হইল....অনেক বৃষ পেরিপ্লানেটা হইল...অনেক পেইজ থ্রি হইল। একসময় ঈশ্বরের বান্দারা হাসিয়া ফেলিলেও..তবুও ঈশ্বর বেজার থাকিলেন কেননা তাহার হিক্কা বন্ধ হয় নাই।

যে নিছক বান্দা ঈশ্বরের কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করিয়া কোণায় বসিয়া ‌’বন্দনা’ করিতেছিল সে এইবার ঈশ্বরের ঘনিষ্ট হইয়া আসিল। সে দুলিয়া দুলিয়া ঈশ্বরের সামনে গিয়া কহিল, আমি তো ‌অনেক বন্দনা করিলাম, একটি মাত্র প্রত্যঙ্গ আশ্রয় করিয়া বিপুলা তথ্যরসে সম্মৃদ্ধ ত্রিভুজাক্ষেত্রায়তনের নিছক একজন সদস্যই হইতে চাহিলাম কিন্তু এখনো কেনো হইতে পারিলাম না? আপনি কহেন এই রাজত্বে আমার ব্লগার হইতে হইবে আর সেই ঈশ্বর কহেন আমার লেখক হইতে হইবে। আমি তো আপনাদের সকলের অনুসারী কিন্তু এখনো কোথাও আমার স্থান হইল না কেন? ঈশ্বর এইবার কোন কথা কহিলেন না, তিনি লক্ষ্য করিলেন তাঁর হিক্কা হঠাঁৎই বন্ধ হইয়া গিয়াছে। মনে মনে তিনি সেই নিছক বান্দার প্রতি অত্যধিক প্রিত হইলেন এবং প্রিত হইতেই থাকিলেন। কিন্তু শারীবাদী শালশার গুনে তার প্রত্যঙ্গটি বাড়িয়াই চলিতে থাকিল। ঈশ্বরের এই রূপ দেখিয়া নিছক বান্দা ভরকাইয়া গেল। ঈশ্বর তার দিকে স্মিত হাসি দিয়া বলিলেন, “নিকটে আস, আমি তোমাকে ঈশ্বর বন্দনার প্রকৃত রূপটি শিক্ষণ করাই।“
১১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাখি মন

লিখেছেন সামিয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১০



রাত গভীর হলে পাখিটা বারান্দায় এসে বসে। দূরের আকাশে তখনও কিছু আলো জ্বলজ্বল করে, কিন্তু পৃথিবীর কোলাহল ধীরে ধীরে স্তব্ধ হয়ে আসে। সেই নীরবতার মধ্যে বসে পাখিটার মনে হয়, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×