স্মৃতি-বৃক্ষটা বেড়ে চলে মহাকাশের মত, অসীম এবং অনিয়ন্ত্রিত
এর পূর্বের কোন কিছু যেমন আমার নয়,
এর পরের কোন কিছুই যেমন আমার হবে না
হয়ত আমি হয়ে থাকব অন্য কোনো মহাবিশ্বের অনুজ্জ্বল গ্রহ
কেবলই কারো অসীম তালিকায় একটা ছোট্ট অর্ন্তভূক্তি;
তাই এসব নিয়ে বেদনা করিনা আজ
চোখের সামনে বহমান প্রগমণতা
দৃষ্টিসিক্ত স্রোতের জানান দেয় কেবল
কখনো ডুবি কখনো ভাসি
কখনো কাঁদি কখনো হাসি
কখনো ঘরে আটকা পড়া চড়ুই আর বাদুরের মত হুটোপুটি খাই
অথবা দূর থেকে হুটোপুটি দেখি
জট পাকিয়ে গেলে, আলগোছে ছাড়াই
স্মৃতির চেয়ে মহাকাব্যিক আর কিছুই নেই এই কালে
তাই বিস্মৃতির দিকে এত ঝুঁকে পড়া,
গিগাবাইটের কাছে তুলে দেয়া স্পর্শ গন্ধ আর স্বপ্নের বুনন
ডিস্ক আর ড্রাইভে ঢোকানো একেকটা জীবাষ্ম জীবন
যেন প্রয়োজনমত মর্গের হিমাগার থেকে টেনে দেখতে পারি
কোন প্রশ্ন থাকলে লাশগুলোর ব্যবচ্ছেদ করে, মিলিয়ে নিতে পারি
যদিও নিতান্ত নি:স্ব না হলে,
মানুষেরা মেলাতে চায় না
মানুষকে মেলানো যায় না
যেমনটা যায় মোহনপুর, ফুলবাড়ী, সুইহারী, সুক সাগর, চেহেলগাজী
যেমনটা যায় মডার্ন মোড়, কাঞ্চন, নিউ হোটেল, পাবনা সু্ইটস
তলাগুলো গুনে গুনে, দামগুলো মেপে মেপে.......
তাই গভীর এবং পুরোনো রোগক্ষতসুখগুলোর মাদক নিতে
স্মৃতির কাছে আসি.....
যা কখনো করব না বলে ভেবে রেখেছিলাম
ঠিক সেইগুলো করি...
এবং ভুল হয়ে উঠি এবং সুখী হয়ে উঠি....
অনেক অনেক দিনের পর মানুষ হয়ে উঠি.....
রাইটারস কনফেশন: কোনদিন ভাবি নি যে আবারো ফোন করা হবে। মোবাইলের চাতুর্য্যে নম্বরটা দগদগের সুখের মত রয়ে গিয়েছিল, একটু খুঁজতেই পাওয়া গেল। বিচ্যুতির/ বেযোগাযোগের (স্মৃতির নয়) ৫ বছর পর, ও বেশ কয়েকবারই যোগাযোগ করেছিল, যদিও সেটা কোন অর্থপূর্ণ যোগাযোগে দাঁড়ায়নি শেষ পর্যন্ত। ঠিক যেখান থেকে শুরু হয়েছিল বলা যায়, সেখানে পৌছে স্মৃতি ভাগাভাগির লোভ সংবরণ করতে পারলাম না। কৃষ্ণচূড়া আর বিস্তৃত মাঠে সকালের বাতাস পাগল করে দিচ্ছিল। আমি সম্পূর্ণ মধুবিষটুকু গ্রহণ করছিলাম, আর মনে হচ্ছিল অন্তত এই মুহূর্তে এর অংশীদ্বারকে জানান দেয়া আমার কর্তব্য। তাই সকাল সাড়ে সাতটায় ফোন। অনেকক্ষণ ধরে রিং হচ্ছে....কিন্তু কেউ ধরছে না। ওয়েলকাম টিউন হল আহা সিনেমার, মন চায় উড়তে উড়তে......। আমার গানটাও দারূন লাগছিল। তাই বারবার শোনার লোভটুকুও ছাড়তে পারছিলাম না। তাই কাঁচা ঘুম ভেঙ্গেই ওর ফোন ধরতে হল। কে জানতে চাইলে..আমি দ্বিতীয় সচেতন ভুলটা করলাম, নাম না বলে জোর দিয়ে বললাম, ‘আমি’। ও বুঝতে পারল এবং ফোনটা, ‘বেইবি দেখতো কে বলে ওর পুরুষ সঙ্গীকে দিয়ে দিল’। আমি ফোনটা কেটে দিলাম। জানি ও প্রান্ত থেকেও আর ফোন আসবে না। ওর বিষয়ে আমার অনুমান কখনো ভুল হয়নি, যদিও আমার বিষয়ে ওর অনুমান ভুল হয়েছিল। আমার প্রচন্ড ঈর্ষা হল, অনেকদিন পর আমার তীব্র ভয়ংকর খুনী ঈর্ষা হল। আমি বুঝতে পারলাম নষ্টালজিয়ার শহরে সারাদিন একা চলার মত ঈর্ষা আমি সংগ্রহ করে ফেলেছি। মন চায় উড়তে উড়তে....মন চায় উড়তে উড়তে.........

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

