somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি বেযোগাযোগমূলক মৃত্যুর রিপোর্ট (উৎসর্গ পিটার বিকশেল)

২০ শে মে, ২০০৮ সকাল ১১:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যেহেতু আমি নিশ্চিত ছিলাম
তোমার মতই একদিন
আমিও নিহত হব কোন অদেখা আততায়ীর হাতে
তাই আমি সন্ত্রস্ত ছিলাম না
তবে উৎকণ্ঠায় ছিলাম
নিজের সন্তানের জন্য মানুষ যতটা উদ্বেগ আর শংকায় থাকে
তার ভূমিষ্ঠ হবার দিনক্ষণ যেভাবে
প্রতিদিনকার ওঠাবসাখাওয়া আর শোয়ায় খোদিত হতে থাকে
অনেকটা সেরকম
যদিও তীব্রতায় এর চেয়ে অনেকগুনে বেশি
খুবই অ-পরিমাপযোগ্য
আদতে পরিমাপের বাসনা বিহীন
তাই মুক্ত!!

অনেকটা প্রথমবার সমুদ্রস্নানের মত,
লোকমুখে যতটা শোনা যায় চার চেয়েও অভাবিত রকমের বেশি;
যেহেতু এই পঙ্গু নিস্তরঙ্গ জীবনে
এই একটি বিষয়ে আমি একেবারেই নিশ্চিত ছিলাম
তাই আমি সুখী বোধ করছিলাম
শৈশবের লাটিম ঘোরানোর স্বচ্ছন্দ্য অভ্যস্ততা
আর গোল্লাছুটের চক্রে হাত ছুটে যাবার পূর্ব মুহূর্তের মত টানটান উত্তেজনা
ধরফর করছিল বুকের ভেতর
এদিকে বয়সের সাথে বৃত্তটাও সংকুচিত হয়ে আসছিল কয়েক বছর ধরে
ভেতরের ঘূর্ণনে বেড়ে চলছিল কেন্দ্রাভীমুখী ভর
অনেক দিনের পরে আমার বিশ্বস্ত কোষগুলো উন্মুখ হয়ে ছিল
যেন সিনেমার ক্লাইমেক্স উপস্থিত
এরপর এরপর?

যদিও খুব ভেতরে আমি ফ্যান্টাসী পাঠক নই
প্রায় গুনে গুনে বলে দিতে পারি পরিণাম সমূহের তালিকা
মাপতে পারি থরথর আবেগের মাপ
মাপতে পারি আবেগীয় জ্বলন্ত বালিকা

তাই এখানে কোন থলথলে আবেগ ছিল না
ছিল, বহুদিনের জমানো প্রতীক্ষা সমূহের নির্মোহ বাসনা
একটা সুতীব্র উন্মূখতা মাথা নিচু করে দৃঢ় পায়ে হেঁটে যাচ্ছিল বুকের ভেতর
দু-একবার পিছলে যাবার পর আমি কেবল অনুমান করতে চাইছিলাম কি ঘটবে নিহত হবার পর...
এটি ছিল তার লেখা শেষ কবিতা। লোকমুখে শোনা যায়, বৃহস্পতিবারের রাতগুলোতে মাতাল হয়ে তিনি চিৎকার করে বলতেন, ‍‍”অবশেষে আমি নিহত হয়েছি, অবশেষে আমি সত্যিকার অর্থেই নিহত হয়েছি।“ তার এরকম নিয়মিত চিৎকারে বিরক্ত প্রতিবেশীরা একদিন তাকে থামানোর সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু যেই রাতে তারা তাকে সতর্ক করতে যায়, সে রাতে তার কক্ষ পর্যন্ত যেয়েও তারা ফেরত আসেন। কেননা ঘরের কাছাকাছি যাবার পরই তারা বুঝতে পারেন যে ভেতরে শাহিন ফূপিয়ে ফূপিয়ে কাঁদছেন এবং কোন এক বিচিত্র ভাষায় কারো সাথে কথা বলছেন। তারা অনুমান করেন যে নিশ্চয়ই তার কাছের কেউ মারা গেছে’ যদিও কোন সুনির্দিষ্ট খবর তারা এখনো জানেন না। নি:সঙ্গ শাহিনের প্রতি তাদের দয়া হয় এবং তারা তার এই পাগলামীকেও শেষ পর্যন্ত মেনে নেন। কেননা সবকিছুর পরও শাহিনকে এতদিন তারা একজন নিরীহ মানুষ হিসেবেই চিনতেন। যদিও এরপর থেকেই তার সাথে দৈনন্দিন সাধারণ বিষয়গুলো নিয়েও যোগাযোগ করা অন্যদের জন্য দুরুহ হয়ে উঠতে থাকে। তিনি পেপারওয়ালাকে ডাকতে থাকেন টেলিফোনের লাইনম্যান এর নামে, দারোয়ানকে ডাকেন দুধওয়ালীর নামে। এক দিন পরিচিত দোকান থেকে মাসের বাজার করে ফেরার সময় পুলিশ তাকে সন্দেহভাজন লোক ঠাউরে আটক করে এবং জেলে নিয়ে যায়। পরে জিগ্গাসাবাদের সময় নিজের নাম ঠিকানা বলতে বললে তিনি; উল্টা পাল্টা জবাব দিতে থাকেন । সেসময়ের দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার এই সংবাদ প্রতিনিধিকে অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে জানান, ‌’এখানে নিয়ে আসার পর তিনি অনেক উল্টাপাল্ট কথা বলছিলেন, তবুও ওসি স্যার রাগ করেন নি। আমাদের থানার ইনচার্জকে তিনি ভাইস চ্যান্সেলর নামে ডাকছিলেন। কনেষ্টেবলকে তিনি ফকরুদ্দিন নামে ডাকছিলেন ইত্যাদি ইত্যাদি।‘ শেষ পর্যন্ত তার বুদ্ধিতেই ওসি তাকে সার্চ করার সিদ্ধান্ত নেন এবং একটা পুরোনো আইডি কার্ড দেখে তার সর্ম্পকে সঠিক তথ্য জানতে পারেন। সেই রাতেই তাকে তার ফ্ল্যাটে পৌছে দেয়া হয়। পত্রিকায় নাম না প্রকাশ করার শর্তে সেই পুলিশ অফিসার আরো জানান যে, আচার আচরণে শাহিনকে তার একেবারে বদ্ধ উন্মাদ মনে হয়নি বরং কিছুটা অদ্ভুত মনে হয়েছিল। যদিও পরে তিনি জানতে পারেন যে তিনি একজন পড়াশুনা জানা ডিগ্রীধারী লোক।
যেদিন শাহিন খুবই অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং বিদ্যুত পানি ইত্যাদি সমেত মাসের আনুষাঙ্গিক বিল নেবার জন্য দারোয়ান তার দরজা ধাক্কাতে থাকে তিনি সেদিন কেবল তার দরজাটা খুলে দিতে সমর্থ হয়েছিলেন এবং এরপরই পুরোপুরি এলিয়ে পড়েছিলেন, একটা আঙ্গুল নাড়ানোর শক্তিও তার ছিলনা । কেবল দারোয়ানকে অসুস্থতার উপসর্গ বোঝাতে বারবার মাথা ব্যাথার কথা বলছিলেন। যদিও পরবর্তীতে সুরতহাল রিপোর্টে জানা যায় তিনি স্ট্রোক করে মারা গেছেন। মৃত্যুর খবর পেয়ে তার শুভানুধ্যায়ীরা একেএকে ছুটে আসতে থাকেন। তারা শাহিনকে কিভাবে বাঁচানো যেত এই নিয়ে তর্কও করতে থাকেন। কিন্তু কারো কাছেই পরিষ্কার হয় না কেন তিনি বুকে ব্যাথার বিষয়টা বোঝাতে বারবার মাথার কথা উল্লেখ করেছিলেন।


৯টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ক্লাস ফাকি দিয়ে তারা আড্ডা মারছে। এই দিকে পিতা মাতা হয়তো মনে করবে যে আমার মেয়ে ক্লাস করতে গিয়েছে।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:২৫



ক্লাস ফাকি দিয়ে তারা আড্ডা মারছে। এই দিকে পিতা মাতা হয়তো মনে করবে যে আমার মেয়ে ক্লাস করতে গিয়েছে। এই স্থানটি খুবই নিরিবিলি। দেশের আইন-শৃঙ্খলার অবস্থা খুবই খারাপ। এমন ফাকা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

×