ভাষা চিন্তুকদের মধ্যে গত শতকের সবচেয়ে প্রভাবশালী ভাষাবিদ সম্ভবত ফার্দিনান্দ সস্যুখ। তিনি ভাষারে দেখছেন একটা চিহ্ণ ব্যবস্থা হিসেবে এবং চিহ্ণকে ব্যাখ্যা করছেন চিহ্নকারী (সিগনিফায়ার) চিহ্নিত (সিগনিফাইড) এই দুই ধারণা দিয়ে। তার কাছে চিহ্নকারী হইল ওয়ার্ড ইমেজ আর চিহ্নকারী হইল মনোগত প্রত্যয়। তিনি এও বলছেন যে ভাষার কোন ঐক্য নাই, এইটার ঐক্য দান করে ভাষা কাঠামো। সাধারণত মনে করা হয় যে মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি হইল ভাষা। তিনি বলেন ভাষা নয় বরং ভাষা-নির্মাণের ক্ষমতা মানুষের সহজাত প্রবণতা।
ভাষা ব্যাবস্থা/ভাষা ক্ষমতা ইত্যাদি নিয়া তিনটা এপ্রোচ দেখা যায়। একটা হইল রিফ্লেকটিভ। যা বলে বস্তুর গুনাবলী থেইকাই তাদের নামকরণ হইছে, যেমন গোলাপের গুণ থেইকাই গোলাপ নাম, ঈশ্বরের গুন বা বৈশিষ্ট্য থেইকা ঈশ্বর। আরেকটা হইল ইন্টেনশনাল। যা কয় যে বস্তু না বরং যে বলে বা ভাষা ব্যবহার করে সে শব্দের উপর তার অনন্য অর্থ দাঁড় করায়। ফলে ভাষার গল্পে ব্যবহারকারীই কর্তা।
আরেক হইল কন্সট্রাকশনিস্ট। তারা বলে বস্তু নিজে বা ব্যাক্তি ব্যবহারকারী কেউই ভাষার অর্থ নির্দিষ্ট (ফিক্স) করে না। বস্তু বা ধারণা নিজেরাই নির্মিত হয় না মানুষজন পরিবেশন ব্যবস্থা (এক্ষেত্রে ভাষা) ব্যবহার করে ধারণা এবং চিহ্ন তৈরী করে।
সস্যুখ বলেন যে চিহ্নের চিহ্নকারী ও চিহ্নিত এই দুয়ের সর্ম্পক অবধারিত না বা শেষ কথা কওন যায় না। এই প্রক্রিয়া সর্বদা নির্মিয়মান। ফলে খোদ বস্তু বা উপলব্ধি জগৎ না এইটাকে রেপ্রিজেন্টশনের প্রক্রিয়া তার অস্তিত্ব তৈরী করে। কেননা প্রক্রিয়া ঘটে মানুষের মধ্যে। চিহ্ন মূর্ত বিমূর্ত সবকিছুই বোঝানোর জন্য কাজ করে। কিন্তু বুঝাইতে পারে ততটুকুই যতটুকু একটা ভাষা কাঠামো বা শব্দ পারমিট করে। ফলে চিরুনীরে ল্যাম্পপোষ্ট কইলে এই ভাষাকাঠামোর কেউ কিছু বুঝবো না।
এখন যদি ঘটনা এরকম হয় যে প্রেম ভালোবাসা আবেগ অনুভূতি ইত্যাদি তো বিমূর্ত উপলব্ধির বিষয়। কিন্তু সবসময় সবক্ষেত্রে সবার জন্য এই শব্দগুলা তো একই অর্থ তৈরী করে না। যেমন ছ্যাকা খাওয়ার আগে ও পরের উপলব্ধি বিচার করেন। আবার এই ভাষা কাঠামোয় প্রেমের একটি সাধারণ অর্থও আছে, যেইটা সামাজিকীকরণের মধ্য দিয়া এর ব্যবহারকারীরা বুঝে।
তাইলে প্রশ্ন হইল ঈশ্বর, আল্লাহ, ভগবান ইত্যাদি বিমূর্ত ধারণায়ণের শব্দগুচ্ছো যদি কোন ভাষায় না থাকতো তাইলে তারা ক্যামনে অস্তিত্বমান হইতেন? কারণ চিন্তা খোদ ভাষা শাসিত। আবার একটা উৎসবাদী প্রশ্ন কিভাবে এইসব শব্দগুলা ভাষায় থাকলো? যদি ভাষায় থাকে তাইলে তো তাদের নিয়া ভাবনা চিন্তা আছে; বিশ্বাসীরা সহজে কইব, তাইলেই তারা আছে। কিন্তু আমার প্রশ্ন আরেকটু আগায়া, এই ধারনা সমূহের প্রতিটাই যদি মানুষের ভাষা ক্ষমতা আর উপলব্ধি প্রকাশের ভাষা আছে বলেই সম্ভব হয় তাইলে এইটাও মানবীয় নির্মাণ না? এইখানে পরম-পারঙ্গমের অস্তিত্ব বিশ্বাসবোধ ছাড়া ক্যামনে দাঁড়ায়। আর গল্প যদি বিশ্বাসবোধের উপরই প্রতিষ্ঠিত হয় তাইলে বিশ্বাসবোধ কি সমাজের বাইরে? এইটা স্বয়ং ভাষা নির্মিত না?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

