somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নির্বাচন প্রসঙ্গে একটা দু:স্বপ্ন দেখলাম, ফ্লাইং সসার, এলিয়েন নেমে এল। আর এল সাদা লাদী

২০ শে নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ৯:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঘটে গেল সেই অবিশ্বাস্য ঘটনা। আমার পাশের বাসার ছাদে ল্যান্ড করল তিনকোণা শেইপের স্পেস শিপ। আর হুড়মুড় করে নেমে এল এলিয়েনরা। তারপর হুটোপুটি করে ছাদে লাগানো সব গাছের পাতা খেয়ে ফেলল। ওমা ওরা দেখতেও ছাগুর মত। শুধু লেজ দুইটা। আমাকে বারান্দায় বিড়ি টানতে দেখে দুটো লেজ উচু করে বিচিত্র ভাষায় জানালো আমাদের টেলিভিশনের স্যাটেলাইট ফ্রিকোয়ন্সীতে নির্বাচন কমিশনের এ্যাড দেখে তারা আকৃষ্ট হয়েছে। কিন্তু খাবারের উৎস খুঁজে না পাওয়ায় ক্ষুধার তাড়ণায় ছাদেই ল্যান্ড করেছে। তারা আমার কাছে সেই এ্যাড সম্র্পকে বিস্তারিত জানতে চাইল। তারা একই প্রজাতির লিংক খুঁজতে এতটা পথ এসেছে, স্পেসিমিন পেয়ে গেলে তারা নিজেদের জাদুঘরে নিয়ে যাবে।

তাদের কষ্ট দেখে আমার দয়া হল। আমি তাদের কে প্রথমালোর. সামইনের. গুগলের লিংক দিয়ে চোখ রাখতে বললাম। ভাবলাম লিংক নিয়ে খুশি মনে চলে যাবে আর ফিরবে না। কিন্তু না!!! কয়েকদিন পর তারা আবার ফিরে এল, এবং বলল স্পেসিমিনের সাথে তাদের আলাপ হয়েছে, তারা নির্বাচনে অংশ নেবে। নির্বাচনের তিনকোণা মার্কাও তাদের জন্য ঠিক করেছে স্পেসিমিন। নিজেদের জগতে কাঁঠাল পাতা শেষ হয়ে যাবার কারণে, এ অঞ্চলের কাঁঠাল পাতা হাতিয়ে নেবার জন্য তারা দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। স্থানীয় ছাগ প্রতিপালন কেন্দ্রের দোসরদের সাথে তাদের আঁতাতও করেছে গোপনে গোপনে। তবে এবার আর গোপন আঁতাত নয় এইবার সরাসরি রাষ্ট্রদখল।

মণ মণ লাদির বিনিময়ে তারা তাদের নির্বাচনে দাঁড়াতে সহায়তা করবে। এই লাদি গায়ে মাখলে বলে অর্শ গেজ খোঁসা পাচড়া সব ঠিক হয়ে যায়। যৌন সক্ষমতা ফিরে আসে, বক্ষ উন্নত হয়, পশ্চাৎ দেশ সুডৌল হয়, চুলের রং ঠিক হয়, কানে শোনা যায়.....আরো কত কি!!! তারা আমাকে লাদির প্রলোভন দেখালো।
আমি ধন্দে পড়ে গেলাম। তারা আমাকে কাঁঠাল পাতা সংগ্রহাক হবার প্রস্তাব দিল। আমি স্পষ্ট না করলাম।

রাগে গজ গজ করতে করতে তারা স্পেশ শিপের দিকে এগিয়ে চলল আর বলল একবার নির্বাচনে জিতি তারপর দেখি তুমি ক্যামনে না কর। তুমরার সবাইকে লাদি দিয়ে স্নান করিয়ে কিছুদিন যৌবন উপভোগ করতে দিয়ে তারপর তোমাদের মগজগুলো খাব। কাঁঠাল পাতার সাথে মগজ কিন্তু দারুন ব্লেন্ড। আমি শিউরে উঠলাম।

তিনকোণা স্পেস শিপ উড়ে যেতেই দেখলাম যে পাশের ছাদে জ্বলজ্বল করে কি যেন জ্বলছে। একটু খেয়াল করতেই লক্ষ্য করলাম, এলিয়েন নাতী ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে আর আলো ছড়াচ্ছে।

সকালে উঠে দেখি পাশের বাসার বুড়ো তার ফুলের গাছের পানি দিতে গিয়ে সাদা সাদা কি যেন স্পর্শ করে উঠল আর সাথে সাথেই এক দৌড়ে নীচে নেমে ঘরের দরজা জানালা বন্ধ করে দিল। তারপর সারাদিন আর সেই বাসার জানালা খুলল না। সন্ধ্যায় আড্ডা মেরে বাসায় ফিরতে ফিরতে দেখি পাশের বাসা সুন্দর করে সাজানো আর ভেতর থেকে উৎসবের শব্দ আসছে। খবর নিয়ে জানলাম, সকালের সেই বন্ধা বুড়ো অবশেষে বাবা হতে চলেছেন।বন্ধা দম্পতি নাকি শেষ বয়সে এক জাদুকরী রসের দৌলতে আবার যৌবন প্রাপ্ত হতে চলেছেন। এবং তারা সবাইকে নতুন সন্তানের আগমন বিষয়ে সবাইকে অবগত করেছেন। এই আচমকা আনন্দ সংবাদে অনেককেই কিছুটা কনফিউজড দেখলাম। তবে এদের মধ্যে অনেকেই জড়ো হয়েছেন একচিমটি হলেও সেই জাদুকরী রস সংগ্রহের জন্য।

প্রচন্ড ঘাম দিয়ে আমার ঘুম ভেঙ্গে গেল, যাক একক্ষণ তাহলে দু:স্বপ্ন দেখছিলাম। রিলাক্স হবার জন্য আমি টিভি খুললাম।
টেলিভিশন খুলে আমি দেখতে পেলাম কোন চ্যানেলে কোন খবর নাই সবখানেই বারবার একটা এ্যাড দেখাচ্ছে। টেলি ব্র্যান্ড শো তাদের সব প্রোডাক্ট বাদ দিয়ে এই এ্যাডটাই দেখাচ্ছে। সবগুলো এ্যাড এক আশ্চর্য্য বস্তু নিয়ে; যা গায়ে মাখলে বলে সব রোগ দূর হয়ে যায়, যৌবন ফিরে আসে। টিভি বন্ধ করে আমি ভয়ে ভয়ে খাবার টেবিলে গিয়ে বসলাম, নিশ্চয়ই আমি ভুল দেখছি, নিশ্চয়ই এটাও একটা স্বপ্ন। এমন সময় দরজা খুলে বাসার কাজের মেয়েটা ঢুকল। বাজারের ব্যাগ নামিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে বলল, ভাইজান একটা সুন্দর সুনু কিরিম পাইছি আসেন আপনারে লাগায়া দেই....দ্যাখবেন খালি সুখ আর সুখ। আমি ভীষণ চমকে উঠলাম নয় বছরের শিশুটা কিভাবে এমন রাতারাতি বদলে গেল????
১৬টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×