ঘটে গেল সেই অবিশ্বাস্য ঘটনা। আমার পাশের বাসার ছাদে ল্যান্ড করল তিনকোণা শেইপের স্পেস শিপ। আর হুড়মুড় করে নেমে এল এলিয়েনরা। তারপর হুটোপুটি করে ছাদে লাগানো সব গাছের পাতা খেয়ে ফেলল। ওমা ওরা দেখতেও ছাগুর মত। শুধু লেজ দুইটা। আমাকে বারান্দায় বিড়ি টানতে দেখে দুটো লেজ উচু করে বিচিত্র ভাষায় জানালো আমাদের টেলিভিশনের স্যাটেলাইট ফ্রিকোয়ন্সীতে নির্বাচন কমিশনের এ্যাড দেখে তারা আকৃষ্ট হয়েছে। কিন্তু খাবারের উৎস খুঁজে না পাওয়ায় ক্ষুধার তাড়ণায় ছাদেই ল্যান্ড করেছে। তারা আমার কাছে সেই এ্যাড সম্র্পকে বিস্তারিত জানতে চাইল। তারা একই প্রজাতির লিংক খুঁজতে এতটা পথ এসেছে, স্পেসিমিন পেয়ে গেলে তারা নিজেদের জাদুঘরে নিয়ে যাবে।
তাদের কষ্ট দেখে আমার দয়া হল। আমি তাদের কে প্রথমালোর. সামইনের. গুগলের লিংক দিয়ে চোখ রাখতে বললাম। ভাবলাম লিংক নিয়ে খুশি মনে চলে যাবে আর ফিরবে না। কিন্তু না!!! কয়েকদিন পর তারা আবার ফিরে এল, এবং বলল স্পেসিমিনের সাথে তাদের আলাপ হয়েছে, তারা নির্বাচনে অংশ নেবে। নির্বাচনের তিনকোণা মার্কাও তাদের জন্য ঠিক করেছে স্পেসিমিন। নিজেদের জগতে কাঁঠাল পাতা শেষ হয়ে যাবার কারণে, এ অঞ্চলের কাঁঠাল পাতা হাতিয়ে নেবার জন্য তারা দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। স্থানীয় ছাগ প্রতিপালন কেন্দ্রের দোসরদের সাথে তাদের আঁতাতও করেছে গোপনে গোপনে। তবে এবার আর গোপন আঁতাত নয় এইবার সরাসরি রাষ্ট্রদখল।
মণ মণ লাদির বিনিময়ে তারা তাদের নির্বাচনে দাঁড়াতে সহায়তা করবে। এই লাদি গায়ে মাখলে বলে অর্শ গেজ খোঁসা পাচড়া সব ঠিক হয়ে যায়। যৌন সক্ষমতা ফিরে আসে, বক্ষ উন্নত হয়, পশ্চাৎ দেশ সুডৌল হয়, চুলের রং ঠিক হয়, কানে শোনা যায়.....আরো কত কি!!! তারা আমাকে লাদির প্রলোভন দেখালো।
আমি ধন্দে পড়ে গেলাম। তারা আমাকে কাঁঠাল পাতা সংগ্রহাক হবার প্রস্তাব দিল। আমি স্পষ্ট না করলাম।
রাগে গজ গজ করতে করতে তারা স্পেশ শিপের দিকে এগিয়ে চলল আর বলল একবার নির্বাচনে জিতি তারপর দেখি তুমি ক্যামনে না কর। তুমরার সবাইকে লাদি দিয়ে স্নান করিয়ে কিছুদিন যৌবন উপভোগ করতে দিয়ে তারপর তোমাদের মগজগুলো খাব। কাঁঠাল পাতার সাথে মগজ কিন্তু দারুন ব্লেন্ড। আমি শিউরে উঠলাম।
তিনকোণা স্পেস শিপ উড়ে যেতেই দেখলাম যে পাশের ছাদে জ্বলজ্বল করে কি যেন জ্বলছে। একটু খেয়াল করতেই লক্ষ্য করলাম, এলিয়েন নাতী ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে আর আলো ছড়াচ্ছে।
সকালে উঠে দেখি পাশের বাসার বুড়ো তার ফুলের গাছের পানি দিতে গিয়ে সাদা সাদা কি যেন স্পর্শ করে উঠল আর সাথে সাথেই এক দৌড়ে নীচে নেমে ঘরের দরজা জানালা বন্ধ করে দিল। তারপর সারাদিন আর সেই বাসার জানালা খুলল না। সন্ধ্যায় আড্ডা মেরে বাসায় ফিরতে ফিরতে দেখি পাশের বাসা সুন্দর করে সাজানো আর ভেতর থেকে উৎসবের শব্দ আসছে। খবর নিয়ে জানলাম, সকালের সেই বন্ধা বুড়ো অবশেষে বাবা হতে চলেছেন।বন্ধা দম্পতি নাকি শেষ বয়সে এক জাদুকরী রসের দৌলতে আবার যৌবন প্রাপ্ত হতে চলেছেন। এবং তারা সবাইকে নতুন সন্তানের আগমন বিষয়ে সবাইকে অবগত করেছেন। এই আচমকা আনন্দ সংবাদে অনেককেই কিছুটা কনফিউজড দেখলাম। তবে এদের মধ্যে অনেকেই জড়ো হয়েছেন একচিমটি হলেও সেই জাদুকরী রস সংগ্রহের জন্য।
প্রচন্ড ঘাম দিয়ে আমার ঘুম ভেঙ্গে গেল, যাক একক্ষণ তাহলে দু:স্বপ্ন দেখছিলাম। রিলাক্স হবার জন্য আমি টিভি খুললাম।
টেলিভিশন খুলে আমি দেখতে পেলাম কোন চ্যানেলে কোন খবর নাই সবখানেই বারবার একটা এ্যাড দেখাচ্ছে। টেলি ব্র্যান্ড শো তাদের সব প্রোডাক্ট বাদ দিয়ে এই এ্যাডটাই দেখাচ্ছে। সবগুলো এ্যাড এক আশ্চর্য্য বস্তু নিয়ে; যা গায়ে মাখলে বলে সব রোগ দূর হয়ে যায়, যৌবন ফিরে আসে। টিভি বন্ধ করে আমি ভয়ে ভয়ে খাবার টেবিলে গিয়ে বসলাম, নিশ্চয়ই আমি ভুল দেখছি, নিশ্চয়ই এটাও একটা স্বপ্ন। এমন সময় দরজা খুলে বাসার কাজের মেয়েটা ঢুকল। বাজারের ব্যাগ নামিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে বলল, ভাইজান একটা সুন্দর সুনু কিরিম পাইছি আসেন আপনারে লাগায়া দেই....দ্যাখবেন খালি সুখ আর সুখ। আমি ভীষণ চমকে উঠলাম নয় বছরের শিশুটা কিভাবে এমন রাতারাতি বদলে গেল????

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


