এই দিনটা এলেই ভেতরে ভেতরে জাতিগত পঙ্গুত্বের শোকটা দাবড়ে বেড়ায় দপদপিয়ে। পরিকল্পিতভাবে একটি দেশের মেধা ও হৃদয়কে হত্যা করার রাজনৈতিক চালটা যে কত সুদূর প্রসারী প্রভাব রেখেছে তা টের পাই হাড়ে-মজ্জায়। যারা রাজাকার গোষ্ঠীকে একটি ভোঁতা মাথামোটা অস্তিত্ব হিসেবে প্রমাণ করার চেষ্টা করেন এই বাহানায় যে হয়ত এতে তাদের প্রতি ক্রোধের ধরণ কিছুটা পাল্টে যাবে তাদের কূটচালগুলো বারবার এই হত্যাকান্ডের কথা মনে করিয়ে দেয়। মনে পড়ে এদের সহায়তাতেই বাংলাদেশের হৃদয় আর মেধাকে গুড়িয়ে দেয়া হয়েছিল।
অবশেষে রায়ের বাজার বধ্যভূমিতে যখন পৌছলাম তখন বিকেল সন্ধ্যা ছুঁই ছুঁই....। মাইকে ক্ষমতাসীনের আহাজারী বড়ই ক্লিশে শোনালো...সমস্ত দিবসকে নিজ দলীয় করে তোলার যে মূর্খ বাসনা তা দেখে খুবই বিরক্তও হল। ক্ষমতার পালাবদলে আওয়ামীবিএনপির এই খেলা এবং মাঝখানে জামাতের শক্তিমান হয়ে ওঠা শুধু কষ্টের কথা মনে করালো।
এসবের পরেও আমি আশাবাদী হলাম; গণমানুষের স্বতস্ফূর্ততা দেখে। অনেকেই এই ফোঁড়ন কাটতে পছন্দ করেন যে পাবলিক সবকিছুকে উৎসব বানিয়ে ফেলে..আমি এটাতে দোষের কিছু দেখিনা আমি দেখলাম শহীদ বুদ্ধিজীবি দিবসকে তারা মনে রেখেছেন এবং ছড়িয়ে দিচ্ছেন প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের মধ্যে। আর এসব ঘটনা নিয়েই এই ফটো সিরিজ।
মানুষের শ্রদ্ধায় ভরে গেছে বেদী।
শোকের রেশ হয়ত কোনভাবে সঞ্চারিত করেছে এই শিশুকেও।
একটুখানি দূর থেকে
আমরা কি করে ভুলি কত রক্তের বিনিময়ে এই স্বাধীনতা
কি করে ভূলি স্বাধীনতার এই পথ কখনোই সহজ ছিলনা, ছিল কন্টকময়।
আমাদের স্বাধীনতা এখনো কৈশোরে, আমাদের এগিয়ে যেতে হবে সতর্ক হয়ে, একসাথে। আমাদের আছে সোনালী ঐতিহ্য।
এমন ওল্টানো ইতিহাস আপাত সঠিক মনে হতে পারে..কিন্তু সতর্ক থাকতে হবে
জানতে হবে সামষ্টিক সঠিক ইতিহাস।
মনে রাখতে হবে এই হাসি কত কষ্টের অর্জন।
এই আনন্দ এই স্বাধীনতা অনেক ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত।
দ্বান্দিক প্রজন্মের দ্বন্দ দূর করতে হবে।
আত্মপরিচয়ের নতুন বিন্যাসে একত্র হতে হবে, মুছে ফেলতে হবে সকল ক্লিশে অনুমান
মুখোমুখি হতে হবে সত্যের
অনুভব করতে হবে ত্যাগ
বেড়ে উঠবে, ছড়িয়ে পড়বে দেশপ্রেম।
তাহলেই সুগঠিত হবে আমাদের ভবিষ্যৎ
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



