নতুন বাসায় আমার রূম
যাদের উপর ভর করে আমাদের মধ্যবিত্তের সম্পদের আনা নেয়া
বাড়ীঅলি ১লা জানুয়ারী বাসায় ঢুকতে দেয়নি কেননা সময় হয়েছিল রাত ১২:১০, ব্লগারদের সাথেই এক আড্ডা শেষ করে আসতে দেরী হয়ে গিয়েছিল। পুরো এক ঘন্টা ঠান্ডায় দাঁড়িয়ে ছিলাম, তখনো দরজা খোলেনি। এরপর বাধ্য করেছিলাম। বাধ্য হয়েছিলেন। ৩ দিনের মাথায় বাসা পরিবর্তন করি। এরপর যেটা নেয়া হয় সেটির পরিকল্পনা ছিল পারিবারিক যৌথ প্রযোজনার। অর্থাৎ আমার বোন আর আমি মিলে বেশ এটা বড়সর বাসা। বোন কথা রাখেননি, মায়ের কারণে বোনকে বাধ্য করা যায়নি। ৫ মাস হাতি পুষে অবশেষে নিজেই সিদ্ধান্ত নিয়ে থিতু হতে চেয়েছি আয়ের সাথে ভারসাম্য রাখা যায় এমন একটা বাসায়। সেটিও এক মাস আগে বিক্রী হয়ে গেছে, নতুন ক্রেতা তার বাসায় উঠতে চান। ফলে এই বাড়ীওয়ালার অনুনয়, ভাই বাসাটা যদি একটু ছেড়ে দিতেন। এবার আরেক বাসায়, ৪র্থতম। আমি বাসায় থাকি, যদিও জানি আমি গৃহহীন। আমি খাটে ঘুমাই যদিও জানি আমি রাস্তায় ঘুমুচ্ছি।
এসবই মধ্যবিত্তের কষ্ট, হাহাকার, না পাওয়া। এদেশের শত শত মানুষ রাস্তায় ঘুমুচ্ছেন প্রতিদিন। বিত্ত আর বেড়ে ওঠার কাঠামোয় অংকিত আমাদের মানস গঠন, আমাদের অনুভূতি, তাই হয়ত কষ্ট হয়, বাস্তুহীনতার তেতো স্বাদে মধ্যরাতে ঘুম ভেঙ্গে যায়।
আমি অন্য রাস্তায় হাঁটি, যতদিন প্রাণশক্তি আর সৎ আয়ের শক্তিটুকু আছে, বাসা পরিবর্তন করে যাব, মর্যাদার সাথে আপোষ করবো না। মর্যাদাও শ্রেণী নির্মিত নাকি?
বাস্তুহীনের এত বোঝার দরকার কী?
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে আগস্ট, ২০১০ দুপুর ১:৩৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



