বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ে (সাবেক মেরিন একাডেমী) সিনিয়র ক্যাডেটদের নির্যাতনে নতুন ২৩ জন ক্যাডেট অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। শারীরিক নির্যাতনের শিকার এক শিক্ষার্থীর কিডনি ইতিমধ্যে নষ্ট হয়ে গেছে। নির্যাতন থেকে বাঁচাতে ছয় ক্যাডেটকে তাঁদের স্বজনরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রত্যাহার করে নিয়ে এসেছেন। তাঁরা বিষয়টি লিখিতভাবে বাংলাদেশ সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরে জানিয়েছেন।
জ্যেষ্ঠদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনে অসুস্থ হয়ে মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৭তম ব্যাচের ১১ জন নবাগত ক্যাডেট যোগদানের দুই সপ্তাহের মধ্যে একাডেমি ছেড়ে চলে এসেছেন। আরও অন্তত পাঁচ ক্যাডেট চট্টগ্রাম ও ঢাকার বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা নিচ্ছেন। কোনো ক্যাডেটের অভিভাবকই নাম-পরিচয় প্রকাশ করতে রাজি হননি।
মেরিন একাডেমির কমান্ড্যান্ট সাজিদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রত্যেক ব্যাচের কিছু ক্যাডেট প্রথম দিকে প্রশিক্ষণের ধকল সইতে না পেরে একাডেমি ছেড়ে চলে যায়। এবারও হয়তো কিছু যেতে পারে।’
উপড়ে দেশের দুটি প্রধান দৈনিকের সংবাদপত্রের খবর পড়ে অনেকেই শিহরিত হবেন ।
অনেকেই হয়ত ভাববেন এটা কেমন কথা । মেরিন একাডেমীর একজন সবেক সদস্য হিসাবে আমি কিছু বলতে চাই । কমান্ড্যান্ট সাজিদ হোসেন ঠিক বলেছেন । আমাদের সময়ও এরকম হয়েছে । অনেকে চলে গিয়েছে। আবার ফিরেও এসেছে । আর যারা চলে গিয়েছিল তারা অনেকেই জীবন যুদ্বে পরাজিত । ১৯৯৬ সালে নবাগত ক্যাডেট রাশেদের মৃত্যু হলে তখনও অনেক হৈ চৈ হয়েছিল । তার পর ঠাণ্ডা ।
যেহেতু ক্যাডেট রাশেদের মৃত্যুর সময় আমি ওখানে ছিলাম তাই ঐ ঘটনা দিয়ে শুরু করি । রাশেদ ছিল বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান । তার বাবা বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনে চাকরি করত । মেরিন একাডেমীর ক্যাডেটদের শারীরিক প্রশিক্ষন দেয় নেভাল একাডেমীর অফিসার এবং সিপিও রা । তাই এটা নিয়ে প্রশ্ন তুলে লাভ নেই । সবচেয়ে যোগ্য নেভির কর্মকর্তারাই এখানে আসেন । মেরিন একাডেমীর প্রশিক্ষন হয় অনেকটা নেভাল একাডেমীর মতই। তাই যারা এখানে আসেন তাদের শাররীক ও মানসিক ভাবে অনেক ফিট থাকতে হয় । কিন্তু এখানে আর্মি /নেভির মত কোন কঠিন পরিক্ষা হয় না । আর তাছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে মেরিন একাডেমীর ব্যাপক চাহিদা ও সুনামের কারনে অনেকেই চায় তার সন্তান এখানে পড়াশুনা করুক । আর এটাই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রতিষ্ঠানটির জন্য । প্রতিবছর উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা / রাজনৈতিক ব্যক্তি ( মন্ত্রীরা ) সরাসরি সুপারিশে অনেক অযোগ্য প্রার্থী ভর্তি করাতে হয় এখানে । যাদের না থাকে শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকে শাররিক ফিটনেস । সাধারণত এরাই প্রথম সপ্তাহে বাড়ি চলে যায় । তার পর হাসপাতালের ভুয়া রিপোর্ট দেখিয়ে বাসায় রেস্ট নিয়ে আসে । হাসপাতালে যাওয়া খুব সাধারন ব্যাপার । ক্যাডেট রাশেদ মারা যাবার পর প্রশাসন এই ব্যাপারে উদার । তারা কোন রিস্ক নিতে চায় না । একাডেমীর ডাক্তারের নিকট একটু ওভার এক্টিং করলেই বাইরে পাঠিয়ে দেয় । অনেকেই সুযোগটা নিয়ে থাকে । এবার আসা যাক ক্যাডেট রাশেদের ঘটনায় । যেদিন ক্যাডেট রাশেদরা জয়েন করেছিল , সিনিয়াররা তার পরের দিন খুব ভোরে শিক্ষা সফরে চলে যায় । তাই রাশেদের সাথে কোন সিনিয়ারের সাক্ষাত সম্ভব ছিল না । যখন সিনিয়ার ক্যাডেটরা ফিরে এসেছিল তখন সে চিটাগং হাসপাতালে । যেদিন সে মারা যায় শুনে সবাই বেশ আবাক হয়েছিল কারন সিনিয়াররা কেউ তার নামও শুনে নি । তার পরই শুরু হল আসল খেলা । পত্র পত্রিকা , রাশেদের পরিবার সবাই দায়ী করছিল সিনিয়ারদের । পুলিশ, সরকারি কর্মকর্তা তদন্তের নামে দিনের পর দিন হয়রান করেছিল সিনিয়ারদের । মোটামোটি কিলার ইমেজ নিয়ে বেরিয়েছিল ঐ সময়ের ক্যাডেটরা । রাশেদ সাতার জানত না । কিন্তু প্রথম শ্রেণীর সরকারি কর্মকর্তা দিয়ে সার্টিফিকেট নিয়েছিল খুব ভাল সাতারু বলে । তারপর জয়েন করার সময় সে ছিল টাইফয়েডে আক্রান্ত । যখন ট্রেনিং এর সময় তাকে সাতার কাটতে বলা হয়েছিল ভয়ে সে সুইমিং পুলে লাফ দেয় ।যেহেতু সে সাতার জানত না তাই হাবুডুবু খচ্ছিল । তার সহপাঠীরা তাকে উদ্দ্বার করে এবং একাডেমী থেকে হাসপাতালে পাঠান হয়েছিল । এটা আমার নিজের কোন কথা নয় । তদন্ত রিপোর্টের বক্তব্য । এখন বলুন রাশেদের মৃত্যুর জন্য কারা দায়ী ছিল ! আর আমাদের দেশের পত্রিকা গুলো কি ভুমিকা পালন করে ? সত্য বের করা নাকি শুনে রিপোর্ট লেখা । রাশেদের মৃত্যুর পর কোন সাংবাদিক একাডেমীতে যায়নি ।কিন্তু একের পর এক মিথ্যা রিপোর্ট ছাপিয়ে গেছে । আজও দেখুন বিভিন্ন পত্রিকায় বিভিন্ন ভাবে নিউজ করা হয়েছে। আমার কথা আন্যায় করলে তাকে শাস্তি পেতেই হবে । কিন্তু ভুয়া নিউজ দিয়ে নিরাপদ লোকের হয়রানি বন্দ্ব করতে হবে । রাশেদের মৃত্যুর পর থেকে সাতারের টেস্ট ভর্তি হবার আগেই নেয়া হয় । কিন্তু যে কর্মকর্তা রাশেদকে ভুয়া সার্টিফিকেট দিয়েছিল তার কোন শাস্তি হয় নি ।
সবশেষে ঘটনাটির দ্রুত ও সঠিক তদন্তের আশা করছি ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

