দিন দিন বেড়েই চলছে বেকারত্বের হার। বর্তমানে দেশে বেকারের সংখ্যা ২ কোটি ৪৪ লাখ। যা দেশের মোট জনসংখ্যার ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ। ১৯৯০ সালের তুলনায় এ সংখ্যা প্রায় ১১ শতাংশ বেশি। ২০০২ সালে বেকারত্বের হার ছিল ৮ শতাংশ। সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এমডিজি) ২০০৯ সালের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি)
এ প্রতিবেদন চূড়ান্ত করেছে। এমডিজি ২০০৯ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৯০ সালে দেশের বেকারত্বের হার ছিল মাত্র ২ দশমিক ৪ শতাংশ। অর্থাৎ ওই বছর একশ জনের মধ্যে বেকার ছিলেন তিন জন। ২০০০-০২ সালে বেকারত্বের এ হার বেড়ে দাঁড়ায় ৮ শতাংশে। অর্থাৎ ১০ বছরে দেশে বেকারত্বের হার বাড়ে ৫ শতাংশ। ২০০৮ সালে এমডিজির সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০০ সালে বেকারত্বের হার কমানোর লক্ষ্যে দেশে ১৫ বছর মেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। এখন পর্যন্ত পরিকল্পনার অর্ধেকেরও বেশি সময় পার হলেও বেকারত্বের হার কমেনি। উল্টো বেড়েছে। দেশে বেকারত্বের হার ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ। অর্থাৎ ১৮ বছরে দেশে বেকারত্বের হার কমার পরিবর্তে উল্টো বেড়েছে প্রায় ১১ শতাংশ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের বেকারত্বের হার ভারত ও ভিয়েতনামের চেয়ে বেশি। ভারতে বেকারত্বের হার ১১ শতাংশ আর ভিয়েতনামে ৫ শতাংশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে দরিদ্রের হার কমিয়ে আনা, বেকারত্ব দূর করা এবং সবার জন্য প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করাসহ এমডিজির ৮ লক্ষ্য বাস্তবায়নে উন্নত বিশ্ব বিপুল অর্থ বাংলাদেশকে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। উন্নত বিশ্ব তা রক্ষা না করার কারণেই দেশে বেকারত্বে হার কমিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে জিইডির সদস্য অধ্যাপক ড. শামসুল আলম বলেন, এমডিজি গ্রহণ করার সময় উন্নত বিশ্ব বাংলাদেশসহ সকল উন্নয়নশীল রাষ্ট্রকে তাদের মোট জাতীয় আয়ের (জিএনআই) দশমিক ৭০ শতাংশ অর্থ সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি দিলেও তারা এ পর্যন্ত কোনো বছরই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তহবিল সরবরাহ করেনি। তাই বেকারত্বের হার কমিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। তবে অন্যান্য সকল লক্ষ্য ব্যাপকভাবে সফলতার মুখ দেখেছে বলে মনে করেন তিনি।
জানা গেছে, সাধারণত প্রতি বছর ডিসেম্বর মাসে এমডিজির প্রতিবেদন তৈরির নিয়ম থাকলেও এবার অগ্রিম প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। কারণ, আগামী ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের বিশেষ অধিবেশনে এ বিষয়ে বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২৩ সেপ্টেম্বর এমডিজির ওপর বিশেষ সেশনে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করবেন তিনি।
(শীর্ষ নিউজ ডটকম/ এমএস/ এআই/ ০০.২০ঘ)
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ৮:০৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


