সম্মান এবং সুনিশ্চিত ভবিষ্যতের জন্য বর্তমান সময়ে আইন পেশার প্রতি সবার আগ্রহ আরও বাড়ছে। আইন পেশার সুযোগ এখন নতুন নতুন মাত্রা ও সম্ভাবনা যোগ করছে। প্রাচীন আমল থেকেই আইনজীবীদের দেখা হয় মর্যাদার চোখে। আগে এ পেশায় ছেলেরাই আসতেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মেয়েরাও এ পেশায় আসছেন।
স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠা হওয়ার ফলে বিচার অঙ্গনে বেড়েছে আইন পেশার কদর। নিম্ন আদালতে বিচারক ও আইনজীবী হিসেবে তো কাজের সুযোগ আছেই, সর্বোচ্চ আদালতের একজন বিজ্ঞ আইনজীবী কিংবা বিচারপতি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। নিম্ন ও উচ্চ আদালতে সরকার-নিয়োজিত আইনজীবী হিসেবেও কাজের সুযোগ রয়েছে। আছে নোটারি আইনজীবী হওয়ার সুযোগ। বিচার বিভাগ ছাড়াও নির্বাহী আদালতগুলোতে আইনজীবীরা মামলা পরিচালনা করতে পারেন। তবে আইনজীবী হতে হলে আইনের ওপর স্নাতক ডিগ্রি নেওয়ার পর বার কাউন্সিল থেকে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী হতে হলে নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত নিম্ন আদালতে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে আবার বার কাউন্সিলের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। বিচারক হতে হলে জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের সহকারী জজ নিয়োগের পরীক্ষায় পাস করতে হয়। বর্তমানে সহকারী জজ নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হলে আইনজীবী হিসেবে তাঁর সনদ থাকতে হবে। বিচারক আর আইনজীবী হিসেবে কমপক্ষে ১০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকলে নেওয়া যায় বিচারপতি হওয়ার সুযোগ। বর্তমান সময়ে আইনজীবীরা আদালতে ও বাইরে বিভিন্ন আইন চেম্বার ও ফার্মে ইন হাউস আইনজীবী হিসেবেও কাজ করতে পারেন।
আইন পেশায় বিভিন্ন বিষয়ে অভিজ্ঞ হয়ে ওঠা যায়; পারিবারিক, জমিজমা, ফৌজদারি, রিট, কোম্পানিবিষয়ক, অ্যাডমিরালিটি, শ্রম আইন কিংবা আয়কর প্রভৃতি বিষয় নিয়ে কাজ করা যায়। কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন, ট্রেড লাইসেন্স রেজিস্ট্রেশন, বিনিয়োগ বোর্ডে বিনিয়োগকারীদের কাজের অনুমতি প্রভৃতি বিষয় এখন আইনজীবীদেরই পরিচালনা করতে হয়। সাধারণত একেকজনকে একদিকে ঝুঁকতে হয়। তবেই কাজের দক্ষতা আসে, সহজেই প্রতিষ্ঠা পাওয়া যায়। এসব ছাড়াও বর্তমানে আরও নতুন কয়েকটি ক্ষেত্র বেড়েছে আইন পেশায়। যেমন বুদ্ধিবৃত্তিক ও মেধাস্বত্ব, ট্রেডমার্কস, পেটেন্ট ও ডিজাইন বিষয়ে কাজের সুযোগ বাড়ছে। পরিবেশ আইন নিয়েও কাজের পরিধি বিস্তৃত হয়েছে সারা দেশে। অর্থঋণসংক্রান্ত মামলার পরিচালনাও বেড়েছে। এ ছাড়া প্রেস কাউন্সিলে সাংবাদিকদের মামলা পরিচালনা, কাস্টমস ও ভ্যাট-সংক্রান্ত মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রও বাড়ছে। বিদ্যুৎ ও পল্লী বিদ্যুৎ আদালত হয়েছে। এখানে আইনজীবীদের সংখ্যা কম, তাই এ বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করলে প্রতিষ্ঠা পাওয়া যায় সহজেই। আমাদের দেশে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর মামলা ও অভ্যন্তরীণ আইনি বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করার সুযোগ বেড়েছে। আমাদের দেশে অনেক ল ফার্ম করপোরেট বিষয়গুলো নিয়েই কাজ করে।
বর্তমানে আমাদের দেশে বেশির ভাগ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, বেশ কটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং অনেক কলেজে আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া দেশে বসে দূরশিক্ষণ পদ্ধতিতে যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আইনের ডিগ্রিও নেওয়া যায়। ডিগ্রি নেওয়ার পর বার-অ্যাট-ল করা যেতে পারে যুক্তরাজ্য থেকে।
মানবাধিকারকর্মী হিসেবে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থায় কাজের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে আমাদের দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক-বিমা প্রতিষ্ঠানে আইন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। প্রতিরক্ষাসংক্রান্ত বিচারক ও আইনজীবী হিসেবে কাজেরও সুযোগ আছে।
দেশে আইন সাংবাদিকতার সুযোগ এখন বেড়েছে। বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে আদালত প্রতিবেদক হিসেবে আইনজীবীদের নিয়োগ দিয়ে থাকে।
আইন হচ্ছে মুক্ত পেশা। এখানে নিজের স্বাধীনতা থাকে। নিজের পছন্দ অনুযায়ী ক্ষেত্র নিয়ে কাজ করা যায়। এ পেশায় সামাজিক দায়বদ্ধতা অনেক বেশি। তবে একজন আইনজীবীকে বার কাউন্সিল থেকে প্রণীত আচরণবিধি মেনে চলতে হবে। নইলে বার কাউন্সিল সনদ বাতিল করতে পারে।
আইন পেশায় যাঁরা আসতে চান এবং যাঁদের স্বপ্ন এ পেশাকে ঘিরে, তাঁদের এখন থেকেই মানসিক প্রস্তুতি নিতে হবে। কারণ, এ পেশা অন্য সেবামূলক পেশা থেকে একটু ভিন্ন। এ পেশার শুরুটা একটু চ্যালেঞ্জের, একটু দুর্গম। তাই শুরু থেকে কঠিন পরিশ্রম এবং একাগ্রতা নিয়ে কাজ করার প্রস্তুতি নিতে হবে। বিচারপ্রার্থীদের সমস্যার কথা মন দিয়ে শোনার মানসিকতা থাকতে হবে। এ পেশার শুরুটা হয় একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবীর সঙ্গে কাজ করে। প্রথমে আয়-রোজগারের দিকে না তাকিয়ে কাজের প্রতি মনোযোগী হতে হয়। এখানে একাডেমিক ফলের চেয়ে পেশাজীবনে তাঁর মেধা, পরিশ্রম ও ধৈর্যই তাঁকে এনে দেবে এক উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। এ পেশার সম্ভাবনাকে উপলব্ধি করেই এগিয়ে যেতে হবে আগামীর সাফল্য পেতে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


