somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সন্তু লারমার সাথে সাক্ষাৎকার

১৭ ই মার্চ, ২০১০ দুপুর ১২:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সন্তু লারমার সাথে সাক্ষাৎকার
শরীফ এ. কাফী

সম্প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা, যিনি সন্তু লারমা নামে সমধিক পরিচিত, এর একটি সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয় তাঁর রাঙ্গামাটির বাস ভবনে। সাক্ষাৎকারে দেশের পার্বত্য তিনটি জেলায় শান্তি স্থাপন এবং শান্তি ও সম্প্রীতি রক্ষায় তিনটি কাজের কথা তিনি উল্লেখ করনে।

তিনি বলেন, প্রথম কাজটি হ’ল ১৯৯৭ সালের ২রা ডিসেম্বর সাক্ষরিত পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির সকল শর্ত বিবেচনায় রেখে চুক্তিটি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করা। তাঁর মতে, পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন আওয়ামী লীগ সরকারের কেবল মাত্র প্রতিশ্রুতি নয়, এটি বাস্তবায়ন করা তাদের দায়িত্বও বটে।

দ্বিতীয় কাজটি হ’ল পার্বত্য জনগোষ্ঠির ভূমি অধিকার ও ভূমি মালিকানা সংক্রান্ত বিষয়গুলি দ্রুত সমাধান করা। এ জন্য সমতলের বাঙ্গালীদের এন নতুন নতুন বসতি স্থাপন অবশ্যই বন্ধ করতে হবে এবং পার্বত্য জেলা সমূহে ভূমি জরীপের নামে দখলদার বসতি স্থাপনকারীদের নামে জমি রেকর্ড করে তাদের মালিকানা প্রতিষ্ঠার যে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চক্রান্ত শুরু হয়েছে তাও অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে(কেননা এই ধরণের উদ্যোগ পার্বত্য জেলাগুলিতে প্রবল প্রতিরোধের মুখে পড়বে যা নতুন করে সশস্ত্র সংঘাতে রূপ নিতে পারে)।

তাঁর পরামর্থ হ’ল, পার্বত্য জেলা গুলিতে ভূমির মালিকানা জরিপের পূর্বে পার্বত্য আদিবাসীদের জমিগুলি চিহ্নিত করে সংরক্ষণ করতে হবে। যাতে অনিয়ম এবং জালিয়াতির মাধ্যমে পার্বত্য আদিবাসীদের মালিকানাধীন এবং/বা ভোগ-দখলাধীন জমি অন্য কেউ রেকর্ড করে নিতে না পারে।

তিন নম্বর কাজ হ’ল, সরকারের দিক থেকে পার্বত্য চুক্তিটির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা এবং চুক্তি স্বাক্ষরকারী পার্বত্য পক্ষকে অস্থায় রাখা। কেননা, চুক্তি অনুযায়ী পার্বত্যজেলায় সকল মন্ত্রণালয়ের কাজকর্ম পার্বত্য অঞ্চলিক পরিষদের সাথে আলোচনা ও পরামর্শক্রমে বাস্তবায়িত হওয়া উচিৎ। তিনি মনে করেন এই শর্তটি পালিত হচ্ছে না। সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মত গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রীর রাঙ্গামটি সফরের কথা পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদকে অবহিত করা হয়নি। তিনি মনে করেন, পার্বত্য জেলাসমূহে বিদ্যমান সমস্যাদির সমাধান এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় পার্বত্য চুক্তিকে কাজে লাগাতে হলে অবিলম্বে পার্বত্য জেলাসমূহে একটি সঠিক ভোটার তালিকা প্রণয়ন করতে হবে এবং জেলা পরিষদের নির্বচন অনুষ্ঠান করে পার্বত্য চুক্তি অনুযায়ী নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে প্রশাসন পরিচালনা করতে হবে। তিনি আরও মনে করেন, পার্বত্য জেলাসমূহে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও আইন-শ্রঙ্খলা রক্ষায় একটি মিশ্র পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করতে হবে, যেখানে ৫০% করে পাহাড়ী ও বাঙ্গালী পুলিশ সদস্য থাকবে। এই কাজটি করতে সময় লাগবে। তাই এখন পার্বত্য জেলার যে সমস্ত পুলিশ অফিসার ও কর্মকর্তা দেশের অন্য স্থানে নিয়েজিত আছেন, তাদেরকে জরুরী ভিত্তিতে পার্বত্য জেলায় পোষ্টিং দেয়া যেতে পারে।

পার্বত্য জেলার ছাত্র-ছাত্রীদের উচ্চ শিক্ষা প্রসঙ্গে তিনি মনে করেন, বর্তমানে চালু ডিগ্রী কলেজ গুলিতে স্নাতক সম্মান ও স্নাতকোত্তর কোর্স চালু করে এই সমস্যা সহজে সমাধান করা যায়। এজন্য এখনি একটি বিশ্ববিদ্যালয় খোলার কোন প্রয়োজন নাই। নিতান্তই যদি একটি বিশ্ববিদ্যালয় খুলতে হয় তাহলে একটি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় খোলা উচিৎ যেখানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়েও লেখাপড়ার সুযোগ থাকবে। একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন পার্বত্য জনগোষ্ঠী এ পার্বত্য ছাত্র-ছাত্রীদের চাহিদা ও আকাঙ্খার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। বরং একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন একটি চক্রান্ত, যে বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ভুল বুঝানো হচ্ছে এবং পার্বত্য জনগন ও ছাত্র-ছাত্রীদের মতামত ও অকাঙ্খাকে উপক্ষো করা হচ্ছে।

(চালু ডিগ্রী কলেজ গুলিতে স্নাতক সম্মান ও স্নাতকোত্তর কোর্স চালু করলে সরকারের ব্যয় কম হবে, পর্যাপ্ত সিট সংখ্যা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, সেখানে পার্বত্য জেলাসমূহের ছাত্র-ছাত্রীরা নিজ নিজ বাড়ীর কাছাকাছি তুলনামূলক যাতায়াত সুবিধায় এবং স্বল্প ব্যয়ে উচ্চ শিক্ষা লাভ করতে সমর্থ হবে। কিন্তু তিন জেলা মিলে একটি বিশ্ববিদ্যালয় চালু করলে ব্যয় বেশী হবে, চাহিদা অনুযায়ী সিট কম হবে এবং ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য যাতায়াত ও শিক্ষা ব্যয় অনেক বেশী হবে।)

সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই মার্চ, ২০১০ দুপুর ১২:৪৭
৯টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×