ভারত সরকার ও সে দেশের শাসক শ্রেণী কর্তৃক মধ্য ভারতের সাতটি প্রদেশের (অন্ধ্র প্রদেশ, উড়িষ্যা, ছত্তিশগড়, মধ্য প্রদেশ, পশ্চিম বাংলা, ঝাড়খন্ড এবং বিহার) ৩৪টি জেলায় গভীর জঙ্গলে প্রবেশ করে জঙ্গল নিধণ, জঙ্গলবাসী আদিবাসীদের উপর নির্যাতন, কাশ্মীরে জবর দখল, ধনী কর্তৃক গরীবের উপর শোষণ-নির্যাতন, ধর্মে ধর্মে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও সন্ত্রাস এবং আদিবাসী, দলিত ও নিম্ন বর্ণের মানুষের উপর শোষণ-নির্যাতন ও সন্ত্রাস চালিয়ে যাচ্ছে ধর্ম ও ধর্মীয় বিভেদকে কাজে লাগিয়ে।
মধ্য ভারতে অন্ধ্র প্রদেশ, উড়িষ্যা, ছত্তিশগড়, মধ্য প্রদেশ, পশ্চিম বাংলা, ঝাড়খন্ড এবং বিহার প্রদেশের ৩৪টি জেলায় জঙ্গল ধ্বংস ও আদিবাসীদের উপর নির্যাতন চলছে “মাওবাদী” দমনের নামে। সেখানে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস পরিচালনার জন্য ২০০৯ সাল থেকে “অপারেশন গ্রীণ হান্ট” নামে সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে আধাসামরিক বাহিনী সিআরপিএফ এর মাধ্যমে। “অপারেশন গ্রীণ হান্ট” এর নামে এই অঞ্চলে ভারতীয় আধা সামরিক বাহিণী আদিবাসীদের গ্রামগুলোতে খুন, ধর্ষণ, অপহরণ চালাচ্ছে বলে ব্যপক অভিযোগ উঠেছে।
বিহারে উচ্চ বর্ণের হিন্দুদের ভূমি সেনা দ্বারা নিম্ন বর্ণের হিন্দু, দলিত ও মুসলমানদের উপর নির্যাতন চলছে ধর্মকে ব্যবহার করে।
১৯৪৭ সাল থেকে কাশ্মীরে ভারতের জবরদখল, হত্যা, গুপ্ত হত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ, নির্যাতন সবই চলছে ধর্মের নামে, ধর্মকে ব্যবহার করে; একটি জাতির জাতিস্বত্বাকে অস্বীকার করে। অথচ ১৯৪৭ এ পার্টিশনের সময় ক্ম্মীর এটি পৃথক ভূখন্ডগত স্বত্বা ছিল। ভারত একটি ডমিনিয়ন হবে এই কথা বলে কাশ্মীর, মনিপুর, প্রভৃতি রাজ্যকে পৃথক চুক্তির ভিত্তিতে ভারতে যোগ দিতে উৎসাহিত করা হয়। কিন্তু ১৯৫৮ সালে ভারত সরকার বিশ্বাসঘাতকতা করে একক সিদ্ধান্তে ভারতকে একটি এককেন্দ্রিক রাষ্ট্র ঘোষণা করে। কিন্তু কাশ্মীরের জনগণ কোন দিন ভারতে যোগদান মেনে নেয় নি এবং এই সংক্রান্ত কোন চুক্তিকে স্বীকৃতি দেয়নি। তাদের মতামত প্রকাশের জন্য জাতিসংঘের পক্ষ থেকে একটি গণভোট অনুষ্ঠানের কথা ছিল। কিন্তু ভারত সেটা হতে দেয়নি। কাশ্মীরে ভারতের ভূমিকা একদম ফিলিস্তিনে ইসরায়েলী ভূমিকার মত।
২০০৮ সালে ভারতের উড়িষ্যা রাজ্যে উচ্চ বর্ণের হিন্দু কর্তৃক পুলিশের সহায়তায় নিম্ন বর্ণের মানুষের ঘর-বাড়ীতে আগুন দিয়ে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার ঘটনা ঘটেছে হিন্দু, খৃষ্টান বিভেদ সৃষ্টি করে।
১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর বাবরী মসজিদ ভাঙ্গা হয়েছিল ভারত সরকারের সমর্থনে বিজেপি, শিব সেনা আর রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ (আরএসএস)-কে দিয়ে “কর সেবার” নামে। সেখানেও মুসলিম বিরোধী বিদ্বেষকে কাজে লাগানো হয়েছিল।
লক্ষ্য করলে দেখা যাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ধনী শ্রেণী এবং শাসক শেণী তাদের রাজনৈতিক অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য কখনও কখনও ধর্মে ধর্মে, কখনও একই ধর্মের মযহাবে মযহাবে, আবার কখনও একই ধর্মের উচ্চ বর্ণ, নিম্ন বর্ণ ও দলিত বা অছ্যুৎ শ্রেনীর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে সেই বিভেদ কাজে লাগিয়ে সন্ত্রাস চালিয়ে যাচ্ছে। ভারত হ’ল তার সব চেয়ে বড় উদাহরণ।
ভারতে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস সম্পর্কে আরও জানতে হলে নীচের লিংকগুলি দেখুন।
মধ্য ভারতের সাত রাজ্যে আদিবাসীদের বিরুদ্ধে পরিচালিত অপারেশন গ্রীণ হান্ট
Click This Link
বিহারে ভূমি সেনাদের সন্ত্রাস
Click This Link
কাশ্মীরে রাস্টীয় সন্ত্রাস
http://ikashmir.net/atrocities/massacres.html
কাশ্মীরে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের পরিসংখ্যান
Click This Link
ভারতের উড়িষ্যা প্রদেশে খৃষ্টানদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস সম্পর্কে উইকিপিডিয়া
Click This Link
ভারতের উড়িষ্যা প্রদেশে খৃষ্টানদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস
Click This Link
বাবরি মসজিদ ও দাঙ্গার ছবি
Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুলাই, ২০১০ রাত ২:৫৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


