somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভারত, ধর্ম ব্যবহার করে জবর দখল, শোষণ আর রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের দেশ

১০ ই জুলাই, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ভারত : ধর্ম ব্যবহার করে জবর দখল, শোষণ আর রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের দেশ

ভারত সরকার ও সে দেশের শাসক শ্রেণী কর্তৃক মধ্য ভারতের সাতটি প্রদেশের (অন্ধ্র প্রদেশ, উড়িষ্যা, ছত্তিশগড়, মধ্য প্রদেশ, পশ্চিম বাংলা, ঝাড়খন্ড এবং বিহার) ৩৪টি জেলায় গভীর জঙ্গলে প্রবেশ করে জঙ্গল নিধণ, জঙ্গলবাসী আদিবাসীদের উপর নির্যাতন, কাশ্মীরে জবর দখল, ধনী কর্তৃক গরীবের উপর শোষণ-নির্যাতন, ধর্মে ধর্মে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও সন্ত্রাস এবং আদিবাসী, দলিত ও নিম্ন বর্ণের মানুষের উপর শোষণ-নির্যাতন ও সন্ত্রাস চালিয়ে যাচ্ছে ধর্ম ও ধর্মীয় বিভেদকে কাজে লাগিয়ে।

মধ্য ভারতে অন্ধ্র প্রদেশ, উড়িষ্যা, ছত্তিশগড়, মধ্য প্রদেশ, পশ্চিম বাংলা, ঝাড়খন্ড এবং বিহার প্রদেশের ৩৪টি জেলায় জঙ্গল ধ্বংস ও আদিবাসীদের উপর নির্যাতন চলছে “মাওবাদী” দমনের নামে। সেখানে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস পরিচালনার জন্য ২০০৯ সাল থেকে “অপারেশন গ্রীণ হান্ট” নামে সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে আধাসামরিক বাহিনী সিআরপিএফ এর মাধ্যমে। “অপারেশন গ্রীণ হান্ট” এর নামে এই অঞ্চলে ভারতীয় আধা সামরিক বাহিণী আদিবাসীদের গ্রামগুলোতে খুন, ধর্ষণ, অপহরণ চালাচ্ছে বলে ব্যপক অভিযোগ উঠেছে।

বিহারে উচ্চ বর্ণের হিন্দুদের ভূমি সেনা দ্বারা নিম্ন বর্ণের হিন্দু, দলিত ও মুসলমানদের উপর নির্যাতন চলছে ধর্মকে ব্যবহার করে।

১৯৪৭ সাল থেকে কাশ্মীরে ভারতের জবরদখল, হত্যা, গুপ্ত হত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ, নির্যাতন সবই চলছে ধর্মের নামে, ধর্মকে ব্যবহার করে; একটি জাতির জাতিস্বত্বাকে অস্বীকার করে। অথচ ১৯৪৭ এ পার্টিশনের সময় ক্ম্মীর এটি পৃথক ভূখন্ডগত স্বত্বা ছিল। ভারত একটি ডমিনিয়ন হবে এই কথা বলে কাশ্মীর, মনিপুর, প্রভৃতি রাজ্যকে পৃথক চুক্তির ভিত্তিতে ভারতে যোগ দিতে উৎসাহিত করা হয়। কিন্তু ১৯৫৮ সালে ভারত সরকার বিশ্বাসঘাতকতা করে একক সিদ্ধান্তে ভারতকে একটি এককেন্দ্রিক রাষ্ট্র ঘোষণা করে। কিন্তু কাশ্মীরের জনগণ কোন দিন ভারতে যোগদান মেনে নেয় নি এবং এই সংক্রান্ত কোন চুক্তিকে স্বীকৃতি দেয়নি। তাদের মতামত প্রকাশের জন্য জাতিসংঘের পক্ষ থেকে একটি গণভোট অনুষ্ঠানের কথা ছিল। কিন্তু ভারত সেটা হতে দেয়নি। কাশ্মীরে ভারতের ভূমিকা একদম ফিলিস্তিনে ইসরায়েলী ভূমিকার মত।

২০০৮ সালে ভারতের উড়িষ্যা রাজ্যে উচ্চ বর্ণের হিন্দু কর্তৃক পুলিশের সহায়তায় নিম্ন বর্ণের মানুষের ঘর-বাড়ীতে আগুন দিয়ে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার ঘটনা ঘটেছে হিন্দু, খৃষ্টান বিভেদ সৃষ্টি করে।

১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর বাবরী মসজিদ ভাঙ্গা হয়েছিল ভারত সরকারের সমর্থনে বিজেপি, শিব সেনা আর রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ (আরএসএস)-কে দিয়ে “কর সেবার” নামে। সেখানেও মুসলিম বিরোধী বিদ্বেষকে কাজে লাগানো হয়েছিল।

লক্ষ্য করলে দেখা যাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ধনী শ্রেণী এবং শাসক শেণী তাদের রাজনৈতিক অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য কখনও কখনও ধর্মে ধর্মে, কখনও একই ধর্মের মযহাবে মযহাবে, আবার কখনও একই ধর্মের উচ্চ বর্ণ, নিম্ন বর্ণ ও দলিত বা অছ্যুৎ শ্রেনীর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে সেই বিভেদ কাজে লাগিয়ে সন্ত্রাস চালিয়ে যাচ্ছে। ভারত হ’ল তার সব চেয়ে বড় উদাহরণ।

ভারতে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস সম্পর্কে আরও জানতে হলে নীচের লিংকগুলি দেখুন।

মধ্য ভারতের সাত রাজ্যে আদিবাসীদের বিরুদ্ধে পরিচালিত অপারেশন গ্রীণ হান্ট

Click This Link

বিহারে ভূমি সেনাদের সন্ত্রাস

Click This Link


কাশ্মীরে রাস্টীয় সন্ত্রাস

http://ikashmir.net/atrocities/massacres.html


কাশ্মীরে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের পরিসংখ্যান

Click This Link


ভারতের উড়িষ্যা প্রদেশে খৃষ্টানদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস সম্পর্কে উইকিপিডিয়া

Click This Link


ভারতের উড়িষ্যা প্রদেশে খৃষ্টানদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস

Click This Link

বাবরি মসজিদ ও দাঙ্গার ছবি

Click This Link

সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুলাই, ২০১০ রাত ২:৫৭
৪টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×