যুগযুগ ধরে বিশ্বের সকল পর্যটকদের অত্যন্ত আকর্ষনীয় স্থানের নাম আলহামারা প্রাসাদ। স্পেনের গ্রানাডায় এই দুর্গ প্রাসাদের অবস্থান।এই দুর্গের পাচীল, দেয়াল আর সিলিং জুড়ে আরবী হরফে উতকীর্ণ আছে হাজার হাজার পংতিমালা।যাতে দুর্গ প্রাসাদের সৌন্দর্য্য আরও বেশী দৃস্টিনন্দিত হয়েছে দর্শকদের কাছে।তবে এইসব লেখা তথা পংতিমালার অর্থ অদ্যাবধী আবিস্কার করা হয়ে ওঠেনি যথাযথ ভাবে।সম্প্রতি স্পেন, জাপান, আমেরিকা, বৃটিশ এবং ইজিপ্সিয়ান বিজ্ঞানীরা একত্রিত হয়ে ত্রিমাত্রিক লেসার স্ক্যানার, মাল্টি ফাংশনাল ডিজিটাল ক্যামেরা সহ নানান অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির সাহায্যে আরবী পংতিমালার অর্থ আবিস্কারের চেস্টায় নেমেছে। আধুনিক যন্ত্রপাতির সাহায্যে নিবীর পর্যবেক্ষণে ইতোমধ্যেই বিজ্ঞানীরা প্রাথমিক সাফল্য লাভ করেছে। তারা আবিস্কার করেছেন-দেয়ালের লেখাগুলো পবিত্র কোরআনের আয়াত,আরবী ধ্রুপদী কবিতা ইত্যাদি।
আলহামারাকে বলা হয় ইউরোপে মুসলিম স্থাপত্যকলার সুপ্ত নিদর্শন।যদিও এতদিন যাবত এইসব আরবী লেখার অর্থ যথাযথভাবে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। স্পেনের উচ্চতর বৈজ্ঞানিক গবেষনা পরিষদের স্কুল অব হায়ার য়্যরাবিক স্টাডিজের প্রধান গবেষক জুয়ান কাস্তিলা বলেন-আমাদের পর্য্যবেক্ষণ সঠিক ভাবেই এগুচ্ছে-যদিও এখোন পর্য্যন্ত আমরা মাত্র ১০ ভাগ লেখার অর্থ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি।১২৩৮ সাল থেকে ১৪৯২ সাল পর্য্যন্ত গ্রানাডার শাসক নাসরিদ গোত্রের একটা আদর্শীক বাণী এতে উতকীর্ণ আছে যা শতাব্ধীর পর শাতাব্ধী পর্য্যটকদের রহস্যময় দৃস্টি আকর্ষন করে আসছে।এই লেখার সারমর্ম হচ্ছে-“আল্লাহ ছাড়া কেউ জয়ী নয়”।কাস্তিলা জানান-শুধু এই কথাটিই উতকীর্ণ আছে হাজার বার।তিনি আরো জানান-এই প্রকল্পের কাজ শুরুর পর এখন পর্য্যন্ত ১০ হাজার পংতি সনাক্ত করা হয়েছে এবং ৩, ১১৬ টি পংতির অর্থ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।এর মধ্যে সব চাইতে বেশীবার উতকীর্ণ করা হয়েছে “চিরন্তন শান্তি” শব্ধটি।এর মাধ্যমে সম্ভবত গ্রানাডা শাসকএর প্রতি মানুষের সদিচ্ছার কথাই প্রকাশ করা হয়েছে।সাধারন কিছু নীতিবাক্যও রয়েছে এসব লিখনের মধ্যে।যেমন আছে-“বাক্যে সংযত হও, সুখি হতে পারবে” এবং “আল্লাহ সহায় হলে তোমার ভাগ্য সুপ্রস্ন্ন হবে” ইত্যাদি।কাস্তিলা আরো জানিয়েছেন-মুসলিম শাসনামলের বিভিন্ন লেখা ছাড়াও ১৪৯২ সালে গ্রানাডা পুনরায় খৃস্টান শাসনে ফিরে যাবারপর শাসক ফার্দিনান্দ ও ইসাবেলার বেশকিছু উতকীর্ণ বাণী পাওয়া গিয়েছে-যার অর্থও এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।তিনি জানিয়েছেন-এসব দেয়াল/পাচীল এবং ছাঁদ লিখনীর অধিকাংশই এখন লোক চক্ষুর অন্তরালে ঢাকা পড়েছে গম্বুজ আর স্তম্ভের কারনে।তবে সব লেখারই পাঠোদ্ধার করা হবে অত্যাধুনিক মাল্টি ফাংশনাল লেসার স্কানারের মাধ্যমে।
মুসলিম শাসনামলে মানুষসহ প্রাণীর প্রতিকৃতি অংকন নিষিদ্ধ থাকায় দুর্গটির অভ্যন্তর ভাগ এসব আরবী লেখনীর মাধ্যমেই সজ্জিত করা হয়েছিল।গবেষকগণ আশা করেছেন, আগামী ২০১১ সাল নাগাদ উদ্ধারকৃত লেখনীর ৬০ ভাগ স্পানিশ ভাষায় অনুবাদ করা সম্ভব হবে।পরে এগুলো ইংলিশ এবং ফরাসি ভাষায়ও অনুবাদ করে বিশ্বব্যপী সাধারন মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া সম্ভব হবে।
১৯৯৪ সনে আলহামারা দুর্গ প্রাসাদ ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিয্যের তালিকাভুক্ত হবার পর ওখানে প্রতি বছরই পর্য্যটক সংখ্যা বেড়েই চলছে। গত বছর ৩১ লক্ষ পর্য্যটক আলহামারা প্রাসাদ ভিজিট করেছেন।কালের বিবর্তনে প্রাসাদের অনেক কিছুই ক্ষয় হয়ে গেলেও এখনো যা অবশিস্ট আছে-তার ব্যপক পুনর্গঠনের কাজ শুরু হওয়ায় বর্তমান বিশ্বের জ্ঞান পিপাসু মানুষের প্রাচীণ মুসলিম আমলের অনেক অজানা তথ্য জানতে সক্ষম হবে।
তথ্য সুত্রঃ ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ ওয়েব সাইট
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা মার্চ, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:৫৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



