ভাগ্নের আত্মসম্মানবোধ
০৮ ই জুন, ২০০৯ দুপুর ২:৫৪
ভাগ্নের যখন মাত্র তিন মাস বয়স, তখন থেকেই সে বুঝে গিয়েছিল সে বাসার একজন ভি আই পি। তার নানাকে সে খুবই পছন্দ করত। নানা মসজিদ থেকে আসলেই তার কোলে যাবার জন্য অস্থির হয়ে যেত। হঠাৎ একদিন দেখা গেল সে নানার কোলে যাওয়াতো দূরের কথা, নানার দিকে তাকিয়েও দেখছে না। এমন কি নানা তার সাথে কথা বলতে গেলে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। নানা মনে করতে পারলেন না এমন কী করেছেন যার জন্য নাতী তার মুখও দেখতে চায় না। পরে অনেক চিন্তা করে বের করলেন যে আগের দিন সে বিছানায় শুয়ে ছিল আর নানা তার পাশে বসে তার সাথে কথা বলছিলেন, এক সময় নানার নামাজে যাবার সময় হয়ে যাওয়ায় নানা "আচ্ছা আমি যাই" বলে বালিশটা তার গায়ের উপর ফেলে চলে গিয়েছিলেন, এতেই নাতী বড় অপমানিত হয়েছেন।
হাঁটতে শেখার পর তার কাজ ছিল সারাবাড়ি টুকটুক করে হেঁটে বেড়ানো। বিশেষ করে অন্য কেউ হাঁটতে থাকলে তার পেছন পেছন চুপ করে হাঁটা তার একটা অভ্যাস ছিল। চুপচাপ হাঁটত বলে যার পেছন পেছন হাঁটছে সে টের পেতনা কিছুই, যার ফলে প্রায়ই পিচ্চিকে ধাক্কা দিয়ে বসত। আর পিচ্চি ধপাস্। ব্যথা যে পেত তা না, কিন্তু এত অপমানিত হত সে যে চিৎকার করে কান্না জুড়ে দিত। তার যে একটা অস্তিত্ব আছে সেটা ভুলে গিয়ে সবাই কেন তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়।
কথা বলতে শিখছে যখন, তাকে কোন একটা কথা শিখিয়ে দিলে কখনই সেটা হুবহু পুনরাবৃত্তি করতনা, সাথে নিজেও কিছু যোগ করে দিত। যেমন একবার একটা ঔষধের বোতলের মুখ খুলে দেবার জন্য তার খালাকে দিল, কিন্তু সেটা তাকে দেয়া হবেনা, তাই খালা তাকে বলল, পারিনা খুলতে, অনেক কষ্ট। তার নানা আবার তাকে শিখিয়ে দিল, বল, চেষ্টা করে দেখ। সে বলল, চেষ্টা করে দেখ, খুলে কিনা।
এখন তার একটা একটা করে দাঁত পড়ছে, সে এটা নিয়ে খুবই অস্বস্তিতে আছে। আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, দাঁত ফেললে কাঁদো নাকি। সে গম্ভীর হয়ে বলে, না কাঁদিনা, কারণ আমি চাইনা কেউ জানুক আমার দাঁত পড়েছে।
আমার এই ভাগ্নেটা খুবই ওজনদার মানুষ। ওজন তার সহজে বাড়তে চায়না। প্রতিদিন একটু একটু করে কিভাবে স্বাস্থ্য কমানো সম্ভব সেটা ওকে দেখলে বোঝা যায়। ওজন মাপার মেশিনে উঠলেই তাকে এটা নিয়ে খুব ক্ষেপানো হয়। সে এজন্য ওজন মাপার আগে দুই হাতে দুইটা দুই লিটারের পানির বোতল ধরে নেয়, তাতে অন্তত চার কেজি ওজন বেশী দেখা যায়। তবু খাওয়া দাওয়া বাড়ানোর কোন ইচ্ছা নাই, কারণ মোটা হয়ে গেলে তো চিপা রাস্তা দিয়ে যেতে পারবেনা।
তবে মাঝে মাঝে ভাগ্নে নিজেই নিজের আত্মসম্মানের বারোটা বাজায়। আমার ২য় ভাগ্নেটা যখন পৃথিবীতে আসি আসি করছে, তখন তাকে বলা হয়েছিল তুমি তোমার ছোট ভাইকে আদর করবে তো, তাইনা? সে বলে, হ্যাঁ, আমার ছোট ভাইটা যখন বড় হবে তখন আমি ওর কোলে চড়ব।![]()
![]()
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): ভাগ্নে ;
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ২:৩১ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
রাজ মো, আশরাফুল হক বারামদী বলেছেন:
চরম হইছে। এইবার কোলে চড়ার পালা।+++++
লেখক বলেছেন: এখনও মাঝে মাঝে আমার কোলে চড়ে বসে থাকে গুটিসুটি মেরে।
অনেক ধন্যবাদ।
রোডায়া বলেছেন:
চমৎকার৷
লেখক বলেছেন: ধন্য ধন্য।
অনন্ত দিগন্ত বলেছেন:
""সে বলল, চেষ্টা করে দেখ, খুলে কিনা""হা হা হা .... ভাগ্নেটা তো সেই রকম পাক্না দেখা যাচ্ছে ... ও এখন কত বড় হয়েছে আপি ?
লেখক বলেছেন: সে এখন ক্লাস ওয়ানের বিজ্ঞ ছাত্র।
বায়লোজি বলে আমি নাকি ছেলে!! বলেছেন:
মাশেআল্লা!!আমারো য়েকটা ভাগ্নে আছে সে জন্মের ৪ মাস পর থেকে টানা পৌনে ২ বছর আমাদের বাসায় ছিল য়েবং রাজত্ব করে বেড়াইছে...
শুরুরদিকে ওর দুষ্টুমি মজা পাইতাম অনেকবেশি শেষের দিকে লাইফ হেল করে দিছিল...য়েমন খবিচ আমার জন্মে দেখি নাই..
ভাগ্নের য়েকটা ফটো ব্লগ দিয়েন।
লেখক বলেছেন: বেচারা আপনি।
ফটো দিতে হলে তো অনুমতি নেয়া লাগবে। সর্বসত্ব সংরক্ষিত।
লেখক বলেছেন: কোন সন্দেহ নাই।
আলঝেইমার ক্রিস্টোসান বলেছেন:
ভাগ্নের লগে কথা কইতে মন্চায়।তখন তাকে বলা হয়েছিল তুমি তোমার ছোট ভাইকে আদর করবে তো, তাইনা? সে বলে, হ্যাঁ, আমার ছোট ভাইটা যখন বড় হবে তখন আমি ওর কোলে চড়ব। হা হা হা
লেখক বলেছেন: ওর সাথে কথা বললে সবারই বারবার কথা বলতে মন চায়। এক নম্বরের চাপাবাজ হয়েছে।
শাহেদ রুবেল বলেছেন:
ভাল লাগলো++++++
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: ধইন্যা।
কালপুরুষ বলেছেন:
লেখা ভাল হয়েছে। ভাগ্নের বিয়ের সময় সময় ভাগ্নে বউকে বলে দেবে ভুলেও যেন ভাগ্নের গায়ে কখনো বালিশ রেখে চলে না যায়- তাহলে রাগে অপমানে ভাগ্নে বুয়ের সাথে কথা বন্ধ করে দেবে, বউকে ভুলেও বাপের বাড়ী থেকে আনতে যাবেনা। সাবধান......
লেখক বলেছেন: ঠিকই তো। বলে দিব বউকে।
ব্যাপারটা চিন্হিত করার জন্য ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: বেশী চললে তিতা হয়ে যেতে পারে। দেখি কী করা যায়।
ধন্যবাদ পড়ার জন্য।
লেখক বলেছেন: আপনারও এই মতলব। তার মানে আপনিও আর এক বডি বিল্ডার।
লেখক বলেছেন: আলবাৎ থাকবে, কে বলেছে থাকবে না।
ধন্যবাদ।
দূর্ভাষী বলেছেন:
এমন সোনার ভাগ্নে যেন প্রতি ঘরে একটি করে জন্ম গ্রহণ করে।
লেখক বলেছেন: শুধু একটি!!!!!!!!!!!!!
আমারতো অলরেডী দুইটা হয়ে গেছে।
দূর্ভাষী বলেছেন:
কমপক্ষে একটা চাই ই চাই, বেশী হলে ক্ষতি নেই।
লেখক বলেছেন: এইবার ঠিক আছে।
লেখক বলেছেন: আপনার ভাগ্নি? কে সেটা? কার বলার কথা ছিল? কিছুইতো বুঝলাম না রে ভাই।
অপরাজিতা ০০৭ বলেছেন:
দূর্ভাষীর ভাগ্নে একটা, ভাগ্নি একটা -- মাশাল্লা, চিজ দুইখান, তবে ভাইঝি দুইটা খুব ই ব্রিলিয়ান্ট আর একমাত্র ভাইপ যেমন মেধাবী তেমন দুষ্টু।
লেখক বলেছেন: ভালো ভালো, আসল তথ্য ভাবীজানের কাছেই পাবো বুঝলাম।
লেখক বলেছেন: এইভাবে দন্ত বিকশিত করে হেসে ভাগ্নের ইজ্জতের ফালুদা বানানোর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
বায়লোজি বলে আমি নাকি ছেলে!! বলেছেন:
ওমা য়েকি কথা?!!! আপনি ওর ছবি তোলেন নাই!!!আপনার তোলা ছবি আপনি দেবেন য়েতে অনুমতির কি আছে?!!
লেখক বলেছেন: এমন আত্মসম্মান সম্পন্ন মানুষের অনুমতি ছাড়া ছবি কেমনে দেই কন?
বায়লোজি বলে আমি নাকি ছেলে!! বলেছেন:
হু সেটা য়েকটা কথা তবে ফটো যদি আপনি তুলে থাকেন তবে য়ের সর্ব শর্ত আপনার।
লেখক বলেছেন: ভেবে দেখব।
বায়লোজি বলে আমি নাকি ছেলে!! বলেছেন:
দেখেন আর না দেখেন ফতো না পাইলে ব্লগে বিডিআর মিউটিনি হয়ে যাবে.....।
লেখক বলেছেন: আপনার এই মন্তব্য রিপুর্টিত হইল। সাবধান!!!!!!!!!!!!!!
লেখক বলেছেন: ভুলটা আসলে আমি করেছি। ছোট বিলাই বলতে ভাগ্নেকেই বুঝেছি।
আপনি কষ্ট করে নীচের এই পোস্টের ২ নং কমেন্টের রিপ্লাইটা আর একবার দেখবেন প্লিজ।
Click This Link
অনন্ত দিগন্ত বলেছেন:
ঐটাও দেখেছিলাম, কিন্তু আগের কমেন্ট রিপ্লাইটা মাথায় ঘুরছিলো তো, তাই ভেবেছিলাম নিজের একটা ভাগ্নী বুঝি বাড়লো .... স্যরি আপি লেখক বলেছেন: না ঠিক আছে। স্যরি বলার কিছু নেই।
আবদুর রহমান (রোমাস) বলেছেন:
ভাগ্নের আত্মসম্মানবোধ........নিয়ে আমি আগেই বলেছিলাম.....এখন দেখি পোষ্টও দিলেন.......যাক পড়ে ভালো লাগলো।............আমি আমার গ্রামের বাড়ীতে এসেছি........এখানে বাজারে এসে দোকান থেকে কোনরকম লগইন করলাম....... এবং পোষ্ট পড়লাম.।...... ভালো থাকবেন। ঢাকায় ফিরে আসবো খুব তাড়াতাড়ি।
লেখক বলেছেন: এত কষ্ট করেও আমার পোস্ট পড়লেন বলে অনেক ধন্যবাদ। আপনি বলার পরই আমি রিপ্লাই করেছিলাম যে এই বিষয়ে পরে পোস্ট দিব। সেটাই এটা।
পারভেজ বলেছেন:
আমার মনে হয় কোলে চড়ার ব্যাপারটার ভেতরে একটা রসিকতা আছে। আমাদের সেন্স অব হিউমার সেটা ধরতে পারেনি লেখক বলেছেন: তা হতেও পারে।
চিকনমিয়া বলেছেন:
ভাগিনা ভালা আচে নিকি? ভাগিনার একডা ফুডু দেন
লেখক বলেছেন: ফুডু মুডু দেওন যাইত না। ভাগিনা ভালাই আচে। আমারে মিচ করে। আমিও ওরে মিচ করি।
কালপুরুষ বলেছেন:
পর সমাচার এই যে......
লেখক বলেছেন: কী ভাইয়া। সমাচার কী জানতে চাই।
আমার পিচ্চিকে নিয়ে মশারির ভিতরে ঢুকেছি। ও মশারি তুলে ধরে আছে। ওকে বুঝানোর জন্য বললাম আসো মশা খূঁজি এতক্ষন মশারি তুলে ধরে রেখেছ। আমি বিছানায় বসে বলছি মশা তো পাচ্ছি না এখন কি করব?? ও খুব গম্ভীর ভাবে বলল শুয়ে পড়তো আম্মু।
লেখক বলেছেন: আপনার পিচ্চিগুলোর আরও কথা লিখুন না। খুব মজা লাগে এসব শুনতে।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...


















