শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান
১৪ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:৫৯
শব্দ দুটা শুনতে ভালোই লাগে, "শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান"। একটা লম্বা ছুটি নিয়ে বাড়িতে গিয়েছিলাম। ফিরে এসে দেখি আমার রুমে এক দল বিশিষ্ট মৌমাছিবর্গ আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের ভাবভঙ্গীতে মনে হল, এটা তাদেরই রুম, আমিই এসে তাদের আশ্রয়ে অবৈধ দখল নিচ্ছি। জানালার একটা গ্রিল আর পর্দার একটা অংশে তারা জরুরী মিটিং নিয়ে ব্যস্ত। কাছাকাছি গেলেই কয়েকটা মৌমাছি শিং নেড়ে তাড়া করে আসে। (শব্দটা শুঁড় হবে মনে হয়, শিং এর মতই লাগে)। জানালা খুলে দিলাম যাতে উড়ে যায়, নাহ কারও মধ্যে উড়ে যাওয়ার কোন লক্ষণ দেখলাম না। বুয়াকে বললাম ব্যবস্থা করতে। বুয়ার চোখে (সময় সময় কানেও) বড় ধরণের সমস্যা আছে মনে হয়, সে বলল, কই মৌমাছি আমি তো দেখি না। না দেখলে আর ব্যবস্থা করবে কী? টারজান বুদ্ধি দিল কয়েল জ্বালিয়ে তাড়ানোর। সাহস হল না। থাক না তার চেয়ে, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান করতে থাকি না, এখন পর্যন্ত দুই পক্ষই শান্তি বজায় রেখে চলেছি। ও আচ্ছা বলে রাখি, মৌমাছিগুলো দেখতে একটু অন্যরকম, সোনালী রঙের স্লিম ফিগারের অধিকারী। মনে হয় কোন কলোনীর প্রিন্স মৌমাছি, কোন কারণে দলছুট হয়ে গেছে (নিজস্ব বিদ্যা জাহির করলাম আর কি), মৌমাছিগুলো এখনও চাক বানায়নি দেখে মনে হল।
কয়েকদিন ধরে ডাইনিং স্পেস এ বেসিনে হাতমুখ ধুতে গেলেই একটা বোটকা গন্ধ নাকে আসছে। শুরুতে বুঝতে পারিনি কিসের গন্ধ। একদিন রাতে টের পেলাম ভেন্টিলেটরের মধ্যে থেকে পাখির ডানা ঝাপটানোর শব্দ আসছে। কোন পাখি বাসা বেঁধেছে এখানে। কী পাখি সেটা বোঝা গেল না। চড়ুই হবার সম্ভাবনা বেশী। কয়েকদিন পর শুনি চিঁ চিঁ শব্দ, বাহ, ডিম ফুটিয়েছে তাহলে। আজ সকালে হাতমুখ ধুতে গিয়ে শুনি বাকবাকুম শব্দ, ওহ তার মানে পায়রা। এজন্যই গন্ধটা এত বেশী আসে। যাক, না হয় একটু গন্ধ সহ্যই করলাম, থাকুক তারা, আমিও থাকি তাদের সাথে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রেখে।
ভোরবেলা ঘুম ভেঙে যায় শব্দে। আরে না না, বাকবাকুম শব্দে না, ওটা হলে তো ভালোই ছিল। পাখিদের কিচিরমিচিরেও না। ঠুস ঠাস, ধুম ধাম শব্দে। বিল্ডিং কনস্ট্রাকশনের কাজ চলছে হাসপাতালে। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে বিকট শব্দ। রোগীরা কিভাবে আছে এর মধ্যে তাই ভাবি। বিকালের দিকে শুরু হয় ছাদ পিটানোর শব্দ, সুরে সুরে তালে তালে চলতে থাকে সন্ধ্যা পর্যন্ত। দুপুরের আরামের ভাতঘুমটা ভাঙে এই শব্দে। প্রথম প্রথম খুব বিরক্ত লাগত। একদিন শুয়ে শুয়ে ওদের গানের তালে তালে মাথা দোলানো শুরু করলাম। ভালোইতো গানটা, কথা বোঝা যায় না এখান থেকে। তবে তালটা খারাপ না, সুরটা একঘেয়ে হলেও একটা মাদকতা আছে। সাঁওতালদের গানের কথা মনে পড়ে যায়। তবে পার্থক্য হল সাঁওতাল গানের মত লয়টা বাড়তে থাকে না, একই লয়ে পুরোটা সময় গান চলতে থাকে। এটা আবিষ্কার করার পর ভোরবেলার ঠুসঠাস শব্দের সাথেও মাথা দোলানো শুরু করে দিলাম। এটা অবশ্য সেরকম ভালো লাগাতে পারলাম না, তবে সহ্যের সীমায় চলে আসল। ভালোইতো, চলুক শব্দের সাথে আমার শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান।
শব্দের কথা তুললামই যখন আরেকটা শব্দের কথা যোগ করে দিই। এটা অবশ্য খুব একটা সমস্যা করে না। বাসার পিছনে মাঠে লাইট জ্বালিয়ে ব্যাডমিন্টন খেলা চলে। শব্দ শুনে মনে হয় খেলার চেয়ে কাউমাউ বেশী হয়। এটার আবার কয়েকটা ধাপ আছে। শেষ বিকালে খেলে শুধু পিচ্চিরা। পিচ্চিদের কাউ কাউ শোনা যায় তখন। সন্ধ্যার পর কারেন্ট গেলে একটা বিরতি হয়। এরপর শুরু হয় বড়দের খেলা। বড়দের হাউ কাউ শুরু হয়, সাথে আবার পিচ্চিদেরও শব্দ আসে, ওরা মনে হয় চিয়ার লিডারের দায়িত্ব পালন করতে থাকে। একটু রাত হলে পিচ্চিরা ইস্তফা দেয়, শুধু বড়দের শব্দ আসতে থাকে তখন। রাত বারোটা পর্যন্ত চলে, এরপর সব হঠাৎ করে ঠান্ডা হয়ে যায়। এই শব্দের সাথে শুরু থেকেই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে আছি। আনন্দের শব্দ সবসময়ই শান্তির।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): অগোছালো, হাবিজাবি ;
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
রাতমজুর বলেছেন:
ছাদপিটানির গান ভালোই লাগে আমার।
লেখক বলেছেন: আসলেই শুনতে খারাপ না।
নীল ভোমরা বলেছেন:
ধর্ম-বর্ণ-শব্দ-পাখি-মৌমাছি নির্বিশেষে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান! এটা-তো আমাদের সংবিধানের একটি মূলনীতি!!!
লেখক বলেছেন: সংবিধানে পাখি-মৌমাছিও আছে?
আমি কি তাহলে অতি সুনাগরিক?![]()
পল্লী বাউল বলেছেন:
এতদিন জানতাম বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা এখন দেখছি বাঘের ঘরে মৌমাছির বাসা....... ভালু।
লেখক বলেছেন: বাসা করেনি কিন্তু। শুধু মিটিং করে।
আমিন আসিফ বলেছেন:
হে: হে: হে: হে: কি শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান!!! বাঘ, বিলাই, টারজান, চরুই, শান্তির পায়ড়া, মধু-লোভী মৌমাছি, সাওতাল উপজাতি, মানুষ,খেলুরে, চাকর-মালকীন, রোগী-কবরেজ. . . . কি নাই?!
মজা লাগলো!! +
লেখক বলেছেন: বিরাট গবেষণা করে ফেললেন দেখি এরই মধ্যে। কারও নাম বাদ পড়েনি।![]()
অনেক ধন্যবাদ।
হোদল রাজা বলেছেন:
+
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: কষ্ট লাগলে টাইপ না করে খালি + বাটনে চাপ দিবেন। ![]()
লেখক বলেছেন: সবাই শান্তিতে থাকুক।
সাধারণমানুষ বলেছেন:
আমাদের বাসার চড়ুই বাসা বানাইতো এবং আমি চড়ুইএর বাচ্চা পালার জন্য বাসা থিকা বাচ্চা কিডনাপ করতাম সাহায্যকারী ছিল আমার ফুপাতো ভাই । ফলাফল পরের দিন সকালে বাচ্চাটার মৃত্যু আর আম্মার কাছে সান্টিং ...। এখন খারাপ লাগে কত যে বাচ্চা মরছে আমার হাতে...লেখক বলেছেন: আহারে, ছোটবেলায় আসলে এগুলো বোঝা যায় না।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ ভাই। আপনার ছবিটা দেখলে কেন জানি ঘুম পেয়ে যায়।
একরামুল হক শামীম বলেছেন:
এই ছবি প্রোফাইল পিক হিসেবে লাগানোর পর থেকে রাতে আমি খুব কম ঘুমাই। প্রায় সময়ই রাত জাগি।আমার একটা সত্ত্বাতো সবসময়ই ঘুমাচ্ছে, তাই না?
লেখক বলেছেন: ঠিক ঠিক। পজিটিভ দৃষ্টিভঙ্গী।![]()
হাসান মাহবুব বলেছেন:
মৌমাছি নিয়া বিড়াট বিপদে পর্সিলাম একবার। হোস্টেলের রুমে মৌমাছি চাক বানসিলো, ওদের ভয়ে দিনের বেলায় মশারী টানায়া ঘুমাইতে হৈতো। তারপরেও ফুটাফাটা দিয়া ঢুইকা পরতো। কোন একদিন হয়তোবা ঘুম ভাইঙ্গা যাইতো কামড়ের সুতীব্র ব্যথায়।এই যন্ত্রনামুখর দিনগুলা নিয়া আস্ত একটা পোস্ট দিতে পারি! রক্ষা পাইসিলাম অনেক কষ্টে। রীতিমত রিস্কি ব্যাপার ছিলো। এখনও মনে পড়লে গায়ে কাঁটা দেয়
লেখক বলেছেন: কিভাবে রক্ষা পাইছিলেন বর্ণনা দিলে ভালো হয়। আমিও প্রায় সারাদিন মশারীর ভিতরে কাটাই।
হাসান মাহবুব বলেছেন:
ঐটা করতে পারবেননা মনে হয়। চাকটা ছিলো ছোট। খুব বেশি মৌমাছি ছিলোনা। তখন ছিলো শীতকাল। আমি চোখমুখ ঢেকে একটা মাংকি ক্যাপ উল্টা করে হাতের মধ্যে জড়ায় নিলাম। তারপর ঐটা দিয়ে চাকটারে চাইপা ধরলাম। ওখানে যতগুলা মৌমাছি ছিলো সব একসাথে কট খায়া গেলো। অনেকক্ষণ চাইপা ধৈরা রাখসিলাম। ছাড়ার পরে দেখি সব মারা গেসে।তবে এই ঘটনার আগে এক সপ্তাহ ওদের সাথে সিঙ্গল খেলতে হৈসে। ওরা একটা একটা করে উড়ে আসতো, আর আমি চিরুনি দিয়া বাইড়াইয়া মারতাম। এইভাবে অনেকগুলা মারসি। তবে কামড়ও খাইতে হৈসে বেশ কয়েকবার।
লেখক বলেছেন: আমার রুমের মৌমাছিগুলো তো চাক বানায়নি, মিটিং এ হাত দেয়ার সাহস নাই।
ভেবে ভেবে বলি বলেছেন:
আফাগো, আমি একবার কুটিকালে একটানা কয়েক ঘন্টা উপুর্যপুরি মৌমাছির কামড় খায়া শ্যাষ হয়া গেসিলাম। মৈরাই যাইতাম হয়তোবা, যদি না কেউ আইসা উদ্ধার করতো।পুস্টের কথাগুলান ভালা লাগলো। আমিও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ভালা পাই।
লেখক বলেছেন: মৌমাছির কামড় ভয়াবহ জিনিস, যে না খেয়েছে বুঝবে না। আপনার জন্য সমবেদনা।
লেখক বলেছেন: বিড়াল এই মুহূর্তে নেই। টিকটিকি, তেলাপোকা, মাকড়সা, চামচিকা, জোনাকী এদের কথা আগের একটা পোস্টে দিয়েছিলাম। Click This Link
সাইফুর বলেছেন:
আমাদের সরকারী বাসার ভেন্টিলেটরে চড়ুইএর বাসা ছিলো..বাসা ভেতর দিয়েই চলাচল করতো..পোষা পাখির মতোই..
লেখক বলেছেন: চড়ুই এর কিচির মিচির শুনতেও ভালোই লাগে। তবে খারাপ লাগে যখন বাচ্চাগুলো বড় হয়ে উড়ে চলে যায় আর মা পাখিটা কয়েকদিন ধরে তাদের জন্য কান্নাকাটি করে।
এস বাসার বলেছেন:
প্লাস।
লেখক বলেছেন: থাংকু।
লেখক বলেছেন: অ্যাহেম অ্যাহেম, আমি বড় বিলাই, মিঁউ মিঁউ না, হালুম করি।
লেখক বলেছেন: টিকটিকি মিস করছেন মনে হয়। আমার জঙ্গল থেকে কয়েকটা পাঠিয়ে দিব?
নীল-দর্পণ বলেছেন:
বর্ননা শুনে মনে হল ওটা মৌমাছি না আমাদের জেলায় ওটাকে বলে ভেংগুর। অনেক বিষাক্ত। কামড় দিলে নাকি খবর আছে.......
লেখক বলেছেন: বলেন কী? মশারী থেকে আর বেরই হব না তাহলে।
লেখক বলেছেন: মানিয়ে নিলে কিছুই খারাপ লাগে না আপু।
লেখক বলেছেন: ব্যাডমিন্টন ২ দিন ধরে বন্ধ আছে দেখছি। কেউ কমপ্লেইন করেছে কি না কে জানে? করে থাকলে কাজটা ঠিক করেনি।
হয়ও যদি ইচ্ছে করে দেই নি কিন্তু
লেখক বলেছেন: ওটা মনে হয় সামুর ভূতের কাজ। মাইনাস আপনি দেননি, এটা নিয়ে কোন চিন্তা করবেন না।
লেখক বলেছেন: আপনার দোয়া কবুল হোক।
রাতমজুর বলেছেন:
আন্টি, আজকে বিকেলে গুলশানে এই দুইটারে দেইখা মন খুব খারাপ হৈছে। বেচারে বিল্লিবাবু দুইটা জানেও না কখন এসে কেউ এদের আলাদা আলাদা করে নিয়ে যাবে কিনে। পাশের খাঁচায় একটা ঘাউবাবুও ছিলো - একলা।
লেখক বলেছেন: কেন যে ওদের সাথে মানুষ এমন করে।
লেখক বলেছেন: শান্তিতে থাকলে তো ভালোই। সবাইকে নিয়ে সুখে থাকুন।![]()
চানাচুর বলেছেন:
শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান!!!
লেখক বলেছেন: জ্বে হ।
এন এইচ আর বলেছেন:
ডাক্তার আপা তারাতারি আমার চোখের চিকিৎসা করেন........ভেবে ভেবে বলি আপায় কি জানি অ্যাকয়ুাস কি সব কইতছে.......।বিবরন আমার ব্লগে আছে। একটু দেইখা জান। প্লিজ লাগে।
লেখক বলেছেন: বিবরণ দেখছি। একবার ভাবছিলাম ঐ আপারে জ্ঞান দিয়া দেই মুফতে। আবার ভাবলাম থাক অত পন্ডিতি সব সময় ভালো না।
ব্যাপারটা হইল অ্যাকুয়াস হিউমার থাকে চোখের ভিতরে। চোখ দিয়া যে পানি পড়ে সেইটা ঐ পানি না। চোখের পানি আসে ল্যাক্রিমাল গ্রন্থি থেকে যেটা থাকে চোখের পাশে। আপনার ঐ গ্রন্থি মনে হয় ওভার ছেনছিটিব হইছে। এইটা নিয়া দুঃখ না কইরা বরং চউক্ষের পানি জমায়া বিক্রী করার চিন্তা করতে পারেন, ভালো দাম পাবেন, কে জানি এই ব্যবসা করবে কইছিল।
লেখক বলেছেন: বিলাই বইলা কি মানুষ না!!!!!!!!!
এন এইচ আর বলেছেন:
ডাক্তার আপায় কয় কি এ জীবন আর রাখপো না...............। দাদী গো আমি বাচুমনা আমারে ছাইড়া দে। আমি সুসাইড খামু...............
লেখক বলেছেন: ভালা বুদ্ধি দিলাম, মনে ধরল না, আমি আর কী করবার পারি। অহন সুই লাগায়া সাইডে বইয়া থাকেন।
লেখক বলেছেন: আক্রমওওওওওওওওওওওওওওওওওণ!
একদিন অনেক গুলো ঢুকে গেলো ... আমি স্প্রে করে দরজা বন্ধ করে দিলাম। তারপর সবগুলো ডেড ...
লেখক বলেছেন: আপনে তাইলে মাছি মারা.......। আমি কিন্তু কিছু কইনাই।![]()
দূর্ভাষী বলেছেন:
শান্তিপূর্ণ সহবস্থান যদি সব জায়গায় হত!!!!!!!!!
লেখক বলেছেন: হয়ত সব জায়গায় সবকিছু মানায় না।
লেখক বলেছেন: গারফিল্ড, মাই ফেবারিট।![]()
শাওন৩৫০৪ বলেছেন:
একবার বারান্দার গ্রীলের ফাঁক দিয়া একটা কালা কাক ঢুইকা পড়ছিলো ঘরে...আমি ছিলাম রুমে, সারা ঘর ব্যাপক দাপড়াইলো...আমি মনে হয় তখন ক্লাস সেভেন বা এইটে পড়ি...রাইতে বেলা....কি কান্ড...লেখক বলেছেন: দাপড়াইলো খালি কাকটা? নাকি সাথে আপনেও? ![]()
ফ্রুলিংক্স বলেছেন:
মৌমাছি, চড়ুই, কবুতর, পিপড়া এগুলো তো ডালভাত।ছোটবেলায় ভিমরুলের বাসায় ঠিল দিয়ে দৌড় দিতাম। সাধারন ভিমরুল না কিন্তু। কামড় দিলে জীবনের বাত্তি নিবে যাবার সম্ভাবনা ছিলো। ঐগুলো কলসির মতো বাসা বানাতো। এখন ভাবলে ভয় হয়।
সব্বে সাত্তা, সুখীতা অন্ত।
লেখক বলেছেন: আপনি অনেক সাহসী, আমি ডালভাতেই সীমিত।
লেখক বলেছেন: ঐটা তো আমার প্রশ্নের উত্তরে চইলাই আসার কথা। আইচ্ছা কাইন্দেন না, জিগাইতাছি।
আপনি কিভাবে কাক মহাশয়কে দূর করলেন সেটা আমাদের জানাবেন, পিলিজ?
শাওন৩৫০৪ বলেছেন:
আমি দুর করিনাইতো।(আপনের এরপরের কুশ্চেন, কে দূর করলো? কিভাবে? ঐ কুশ্চেনটা করেন, আমিউত্তর দিতাছি...)
লেখক বলেছেন: দেখছতনি বিলাইডা আমার লগে দোসপানী লাগাইছে।
কাউয়ারে কেডা দূর করছে? কেমতে?
অগ্নিশিখা বলেছেন:
ওম শান্তি ওম।
লেখক বলেছেন: সিনেমার শুরুটা মজাই ছিল।
শাওন৩৫০৪ বলেছেন:
হ, কাউয়ার নাচানাচি আর দাপাদাপি দেইখা আচড়ের ভয়ে আমি ল্যাপের তলায় ঢুকলাম....আর আম্মায় একটা চটের বস্তা নিয়া দাপাইয়া ঝাপাইয়া কাউয়াটারে কোনঠাসা কৈরা বস্তায় ভৈরা গ্রিলের ফাঁকা দিয়া বাইরে ছাইড়া দিলো, আর আমারে বীরপুরুষ কৈয়া একটা গালি দিলো..লেখক বলেছেন: এত্ত বড় কথা? আপনের মত বীর বিলাইরে বীরপুরুষ কইয়া গালি দিছে?
আন্টিরে মাইনাস (+)
লেখক বলেছেন: বুদ্ধিটা কাজে লাগাবো বলছেন?
রাজ মো, আশরাফুল হক বারামদী বলেছেন:
মৌমাছি ব্যাপার না। বহুত কামড় খাইছি। হুল খুইটা খুইটা বাইর করছি। আমি যে ঘরে থাকতাম তার সামনের সিলিংয়েই একটা বিরাট চাক ছিল প্রায় টানা পাচ বছর। যেদিন প্রথম ওরা আসে আমরা সবাই খুব খুশীই হইছিলাম। পরে কামড় খাইতে খাইতে পাচ বছর গেছে। মধু হইত চাক থিকা প্রতিবছর প্রায় দুই আড়াই কেজির মত। পুরা চাক কখনই কাটতাম না যাতে ওরা থাকতে পারে। পরে একদিন কেন যেন পুরো দলটাই উড়ে যায় অন্য কোথাও। খারাপ লাগছিল সেই দিন। সমস্যা হইত চামচিকা নিয়া। রাতের বেলা ঘরে ঢুকে উলটা পালটা উড়াউড়ি শুরু করত। পরে কলম রাখার ঝুড়ি দিয়া ধরে বাইরে ছেড়ে দিতাম। অনেক আগে উপদ্রব ছিল গুই সাপের। একবার আমার কাধের উপর দিয়ে একটা লাফাইয়া আমার পায়ের কাছে পড়ছিল। খালি গায়ে ছিলাম। লেজের বাড়ি খাইলে আমার অবস্থা ঐদিনই গেছিল। আমাদের কারখানায় সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল সাপের। প্রায়ই বাবা কার্বলিক এসিড ছিটাতেন একটা বড় সিরিঞ্জে করে। কেউটে সাপের কাল বাচ্চা মারছি একসময় এসিডে ভিজিয়ে। এইটুকু কেচোর আকৃতির বাচ্চা কিন্তু তখনই ফণা তুলে ফোসফোস করে। আরো কত কাহিনী।
লেখক বলেছেন: আপনেরে ভাড়া করতে চাই আমার ভেংগুর, চামচিকা, ইন্দুর ভাগানোর জন্য। কবে আসতে পারবেন?
লেখক বলেছেন: ছুডুবেলায় সাহসী আছিলেন, অহন ডরপুক হইছেন।![]()
কালপুরুষ বলেছেন:
আমি দুইবার হলুদ রঙের বোলতা আর একবার মৌমাছির হুল ফোটানো সহ্য করছি। ছোট বেলায় বাসার পেয়ারা গাছে পাতার আড়ালে একটা ডাসা পেয়ারা বেশ বড় সাইজের (দেশী হিসেবে বেশ বড়) লুকিয়ে ছিল। গাছটাও বেশ বড় ছিল। আমি গাছ বেয়ে টিনের চালে উঠে পেয়ারাটা দেখতে পাই। পেয়ারাটা ডাল থেকে ছেঁড়ার পরেই একটা মৌমাছি কোথা থেকে এসে হুল ফুটিয়ে দিল। প্রচন্ড ব্যথা। আমি চিৎকার করে টিনের চাল থেকে সোজা পেয়ারা নিয়ে নীচে লাফ দিলাম। ভাগ্যিস পা মচকায়নি। তখন বেশ পাতলা রোগা ছিলাম। চাচী এসে হুল ফোটানো জায়গায় চুন লাগিয়ে দিল। হুল ফোটানো জায়গাটা কদিন ফুলে ছিল।
লেখক বলেছেন: এরকম ব্যথা পেয়েও পেয়ারাটা নিয়ে লাফ দিতে ভুলেননি। আপনাকে স্যালুট। পেয়ারাটা খেতে কেমন ছিল?
মুসাফির... বলেছেন:
মধু খাওয়ার দাওয়াত সবাইকে... আমার মায়ের ইটের দেওয়াল সম্বলিত ছাপড়া টিনের ঘরে উত্তর পশ্চিম কোনে এক/দেড় বছর আগে বাসা বাধে মৌমাছিগুলো। সোনালী রঙয়ের ছোট্ট "মাছি মৌমাছি"। সুবিধা জনক স্থানে অবস্থান হওয়ায় একদিন সাহস করে মধু সংগ্রহ শুরু করলাম। মা পেছন থেকে চিল্লাচ্ছেন পুরোটা না ভাঙ্গার জন্য। কিন্তু আমি ভুল করলাম। পরদিন মাকে ফোন করে জিজ্ঞাস করি_ মা ... মৌমাছি কি এখনো আছে? না চলে গেছে? মা মন খারাপ করে জবাব দেন- নারে বাবা বাড়িটা মরা বাড়ির মত করে আজ দুপুর ১২টার দিকে চলে গেছে।
আমি মন খারাপ করলাম। মনে মনে শপথ নিলাম এমন ভুল আর করব না। নামাজ পড়ে দোয়া করলাম- আবার যেন ওরা ফিরে আসে। ৩ মাস পর ওরা একই জায়গায় আবার ফিরে এল। এখনো আছে- মাঝে মাঝে খুব সাবধানে মধু সংগ্রহ করি।
অতএব সবাইকে মধু খাওয়ার দাওয়াত করলাম ....
বড় বিলাই- ভাই আপনাকে ধন্যবাদ জানাই আমার ব্লগে আসায়-এবং সান্তনা দেওয়ায়। সহমর্মী মানুষটা (আপনি) মনে হয় ভাল মানুষদের মধ্যে একজন। ব্যাক্তিগত ভাবে পরিচিত হবার ইচ্ছা জাগে।
লেখক বলেছেন: আপনার প্রিয় সাথীটা ফিরে এসেছে শুনে শান্তি পেলাম। ভালো থাকুন।
লেখক বলেছেন: ছারপোকার বদদোয়ার জোর কত দেখলেন তো? আগেই বলেছিলাম শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে যেতে।
ঐ পোস্ট টা দেখেছি আগেই। মন্তব্য করার ভাষা খুঁজে পাইনি। ![]()
সমুদ্র কন্যা বলেছেন:
সব মানলাম কিন্তু মৌমাছির সঙ্গে সহাবস্থান করলেন কিভাবে? আমি হলেতো ঘরে ঢুকাই বন্ধ হয়ে যেতো। বাপরে...
লেখক বলেছেন: না চাইলেও বাধ্য হয়ে অনেক কিছুই করা লাগে।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ডিকশনারী ভাইজান। ![]()
লেখক বলেছেন: অনেক ধইন্যা রে হেমায়েতপুরের বাসিন্দা।
শাহানা বলেছেন:
ভাগ্য ভাল। ঘরে বাচ্চা নেই। না হলে আপনাকে আরও সাহসী হতেই হতো।
লেখক বলেছেন: ভাগ্যটা আসলেই ভালো।
লেখক বলেছেন: জঙ্গল রে চিড়িয়াখানা কইয়া অপমান করলেন? কামডা কি ঠিক হইল?
লেখক বলেছেন: ওটা আসলে মৌমাছি না, ভেংগুর। চাক বানায়নি তো।
মোহাম্মদ লোমান বলেছেন:
মতভিন্নতা সত্বেও মানুষে মানুষে যদি পারস্পরিক শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে পারতো .............পোস্ট পড়ে বেশ ভাল লাগল। ধন্যবাদ।
শাহানা বলেছেন: ..
লেখক বলেছেন: ভাগ্যটা আসলেই ভালো।??
লেখক বলেছেন: ভালোই তো। অনেক ভালো।
মুকুট বিহীন সম্রাট বলেছেন:
সরকারি চাকুরির এই এক গুন।সময় ফেরি করা যায়।তো লেখার দুই চরিত্র - বুয়া আর টারজান।
ডাক্তারের সেবা যে করে তার কানে চোখে সমস্যা হলে তো ডাক্তার ব্যর্থ,
আর টারজানটা কে?
লেখা পড়ে ভালোই লাগলো।
লেখক বলেছেন: এতদিন পর বলছেন টারজান কে?
নেন এইবার এইটা পড়েন।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...




















