বাদ পড়ে যাওয়া মিয়াঁওরা
২২ শে নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ২:১৯
আমার মিয়াঁও কাহিনী থেকে হোস্টেলের মিয়াঁও গুলো বাদ পড়ে গিয়েছিল। তাদের সাথে এই না-ইনসাফি করাটা ঠিক না। আজ তাদের কথা লিখব।
হোস্টেলে গিয়ে শুরুতেই একটা বাদামী রঙের মোটকা হুলো বিলাই চোখে পড়ল। এরকম সাহসী আর ড্যাম কেয়ার বিলাই খুব কমই দেখেছি। হুস হুস করলে অন্য বিলাইরা পালিয়ে যায় বা একটু হলেও চমকায়। আর এই বিলাই ফিরেও দেখে না। বাথরুমে ময়লার ঝুড়ি প্রতিদিন উল্টে রাখা পবিত্র দায়িত্ব বলে মনে করে। একদিন আমি বেসিনে হাত ধুতে গিয়ে দেখি সে আরামে বসে বসে হাড় চিবুচ্ছে। তা চিবুক, আমার সমস্যা নেই। কিন্তু এমন জায়গায় বসেছে যে আমি হাত ধোয়ার জন্য দাঁড়াতে পারব না। এমনিতে আমার বিলাইতে এলার্জি নেই (সেটা তো জানা কথাই), কিন্তু এই বিলাইটা এত্ত নোংরা যে বিচ্ছিরি লাগে। গোসলখানায় হাত ধুয়ে নিলাম। মেজাজটা একটু গরম হল। হুস হুস করে তো লাভ নেই, গায়ে পানির ছিটা লাগলে সব বিলাই পালায়। হাতে পানি নিয়ে দিলাম বিলাইটারে পানির ছিটা। সে কোন পাত্তাই দিল না। কিছুই হয়নি এমনভাবে খেতে থাকল। কয়েকবার পানির ছিটা দিয়েও কোন কাজ হল না। এবার আজলা ভরে পানি নিয়ে পুরো ভিজিয়ে দিলাম। অন্য কোন বিলাই হলে এতক্ষণে দৌড় দিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে গিয়ে গা চাটতে থাকত। এই বিলাইটা শুধু এক পা সরে দাঁড়াল, তারপর আবার খেতে থাকল মনোযোগ দিয়ে। আমি ব্যর্থ হয়ে চলে গেলাম।
একটা সুন্দরী বিলাই ছিল, সাদার উপর ছাইরঙা ছোপ ছোপ, টানা টানা চোখ। হোস্টেলের সব হুলো বিলাইয়ের নজরে ছিল সে। শিগগিরই চারটা ফুটফুটে বাচ্চা দিল। বাপটা যে কে ধরতে পারলাম না, বাচ্চাগুলো সবাই মায়ের রুপ পেয়েছে। হোস্টেলের সবার খুব প্রিয় হয়ে গেল বাচ্চাগুলো। সবার পায়ে পায়ে ঘুরত। সবাই আদরও করত। তবে খুব মা ঘেষা ছিল, একটু বড় সড় হয়ে যাবার পরও মায়ের দুধ খেতে চাইত। মা বিলাই অবশ্য এই ব্যাপারে কঠোর ছিল। সে এমনিতে বাচ্চাদের খুব আদর করত, কিন্তু দুধ খেতে চাইলেই কামড়ে দিত।
পরে আরও কয়েকবার বাচ্চা দিয়েছিল এই সুন্দরী, তবে পরের বাচ্চাগুলো আর তেমন জনপ্রিয় হতে পারেনি। একবার 'হবু মা' অবস্থায় আমার এক বান্ধবীর রুমের সামনে বসে সে মিয়াঁও মিয়াঁও করছিল খাবারের আশায়, ঐ রুমে তখন রান্নাবান্না চলছিল। সেই বান্ধবী বিরক্ত হয়ে বলে উঠল, আমার কাছে আসছিস কেন? যে তোকে প্রেগনেন্ট করেছে তার কাছে যা।
একটা কালো কুচকুচে বিলাই ছিল যার পায়ের নিচের অর্ধেক সাদা, মনে হত পায়ে মোজা পরে আছে। এই বিলাইটা ভীষণ ভীতু ছিল। আমি অনেক ভীতু বিলাইয়ের ভয় ভাঙিয়েছি, কিন্তু এই বিলাইয়ের ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছি। এটাকে আমি হুলো বিলাই মনে করতাম, কিন্তু একদিন দেখি বাথরুমের জানালার পাশে তিনটা কালো কুচকুচে বাচ্চা নিয়ে শুয়ে আছে। তখনও তার ভয় কাটেনি, কিন্তু বাচ্চা ফেলে পালিয়েও যায়নি। মা হলে কত কিছুই না করতে হয়।
একবার একটা বিলাই তার একটা বাচ্চাকে ফেলে কোথায় যে চলে গেল কে জানে। বাচ্চাটা খুব ছোট আর দুর্বল ছিল। টিভি রুমে বসে সারাক্ষণ পিঁউ পিঁউ করত। একদিন আমার রুমে নিয়ে আসলাম। বিস্কুট খাওয়ালাম কয়েকটা। সন্দেহ ছিল খেতে পারবে কি না, কিন্তু দেখলাম ভালোই খেতে পারল। একটু পানিও দিলাম। খাওয়া শেষ হলে আবার বাইরে রেখে দিলাম। পরের দিন ঠিক একই সময়ে দেখি সে আমার রুমের সামনে বসে পিঁউ পিঁউ করছে। সেদিনও একইভাবে খাইয়ে দিলাম। এরপর আমি বাসায় গেলাম দুইদিনের জন্য। এসে শুনি রাতে খুব ঠান্ডা পড়েছিল, বাচ্চাটা সারারাত শীতে কাঁপতে কাঁপতে একসময় মারা গেছে। কষ্ট পেলাম, হয়ত সে আমাকে খুঁজেছিল। কেন যে মায়া করতে গিয়েছিলাম।
আরও অনেক বিলাই ছিল হোস্টেলে, সবার কথা লিখতে ইচ্ছা করছে না।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): মিয়াঁও, বিলাই ;
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
লেখক বলেছেন: হোস্টেল মানেই তো বিলাই এর বাজার। আপনি কখনও থাকেন নি হোস্টেলে?
লেখক বলেছেন: বড় বিলাই খুশী। ![]()
আন্ধার রাত বলেছেন:
কুকুর-বিড়াল খুব ঘৃনা করি। বাড়ীতে আমার দাবড়ানির কারনে কোন বিড়াল আশ্রয়-প্রশ্রয় পায়না। যত ক্লীন বিড়ালই হোক তবুও তাড়িয়ে দেই।...তবে মানুষের নাম বিড়াল হলে রি-আকিকার চিন্তা করবো
লেখক বলেছেন: সবাই সবকিছু পছন্দ করবে এমন তো কথা নেই। ![]()
অপরাজিতা ০০৭ বলেছেন:
আপু, বিড়ালে আমার সবসময় এলার্জি কিন্তু আপনার লেখা পড়ে সে এলার্জি দূর হয়ে যাচ্ছে বলে মনে হয়।
লেখক বলেছেন: এলার্জি থাকলে থাকুক, দূর করার দরকার নেই।
জন্মদিন কেমন কাটল, পরীক্ষা কেমন হয়েছে?
লেখক বলেছেন: যত মনে রেখেছি তার অর্ধেক লিখেছি, তাহলেই বুঝুন অবস্থা। আমি হোস্টেল থেকে বাসায় গেলে আমার বোনেরা খুব বিরক্ত হত, কারণ আমি খালি বিলাইয়ের গল্প করতাম। এখন আমার জানের জান ভাগ্নে সবাইকে বিলাইয়ের গল্প বলে বলে বিরক্ত করে।
লেখক বলেছেন: আমার জানা নেই।
অপরাজিতা ০০৭ বলেছেন:
পরীক্ষা পরীক্ষার মত হচ্ছে, আর জন্মদিন খুবই ঘরোয়া ভাবে উদযাপন, আমি, দূর্ভাষী, আমার শ্বাশুড়ি, ভাসুর আর আমার দুই বান্ধবী এই ছিল আয়োজন। দূর্ভাষী অবশ্য আর ও কিছু করতে চেয়েছিল কিন্তু আমার পরীক্ষার কথা মাথায় রেখে সব স্থগিত।
লেখক বলেছেন: কাছের মানুষদের নিয়ে সময় কাটাতে পেরেছেন, এটাই আনন্দের। ভালো থাকুন।
কালপুরুষ বলেছেন:
মন ভাল নেই। পরে পড়বো। মন্তব্য তোলা রইলো।
লেখক বলেছেন: ঠিক আছে ভাইয়া। মন ভালো হয়ে যাক, শিগগির।
........................
আফসুস, কোনদিন হোস্টেলে থাকি নাই
লেখক বলেছেন: জীবনের একটা মজার সময় মিস করেছেন রে ভাই।
হেমায়েতপুরী বলেছেন:
কি মন্তব্য করন যায় ভাবতাছি...
লেখক বলেছেন: আপনে আবার ভাবেনও নাকি।![]()
শাহারিয়ার আহমেদ বলেছেন:
কি অবস্থা...........এত বড় একটা বিলাই একটা হুলো বিলাইকে হুশ হুশ করেও তাড়াতে পারেনা। একটা গর্জন ছাড়লেই তো হয়। লেখক বলেছেন: বড় বিলাইটা তখনও বড় হয়ে উঠেনাই মনে হয়।
নীল-দর্পণ বলেছেন:
আপনার পোষ্ট পড়ে পড়ে মনে হয় একটা তুলতুলে সাদা/বাদামী বিড়াল হলে মন্দ হয় না। কিন্তু সম্ভব না। নানু বাড়ীতে নাকি বিড়ালটা দুইটা বাচ্ছা দিয়েছে। লেখক বলেছেন: বেশ বেশ, অনেক মজা করে আসুন। তারপর বিলাইগুলার কাহিনী বলবেন, সবাইকে না বললেও আমাকে বলতে হবেই।
রেজোওয়ানা বলেছেন:
আমাদের হলেও(জাবি) বিলাই রাজত্ব ছিল। আলইসার হাড্ডি বিলাই গুলো সারা দিন খালি ঘুমাতো। একটা ধুসর মোটকা বিলাই ছিল যেটা সবসময় বারান্দার সামনের কার্নিশে ঘুমাতো, আমরা ওনেক চেষ্টা করেছি ওটাকে নিচে ফলতে, কখনো পারিনি আর একবার একটা সাদা বিলাই হঠাৎ পাগলে হয়ে ওনেককে কামড়ে দিয়েছিল, পড়ে হলের গার্ড মামারা ওটারে বস্তায় ভরে ওটাকে দূরে ফেলে দিয়ে এসছিল।
লেখক বলেছেন: আহারে হোস্টেল জীবন। মিস করি।
........................
ভাবতেসি মিস করা মজা পুনরুদ্ধার করার লাইগা হোস্টেলে গিয়া ভর্তি হমু।
লেখক বলেছেন: বুদ্ধিটা খারাপ না।
আপনার বিলাই পোস্ট পড়তে মজা লাগে , বাট আমার মত পেইনে যদি থাকতেন, বিলাই এর জালায় জানালা লাগাইয়া ঘুমাতে হয়
লেখক বলেছেন: আপনার ব্যাপারটা আসলেই পেইনফুল।
এন এইচ আর বলেছেন:
বিলাইপু আপনারে হোস্টেলের বিলাইয়ের কথা শুনে আরেক কথা জানতে ইচ্ছে করছে খুব........আপনি তো অনেক বিড়াল ভালোবাসেন......তো কখনো কি এমন হয়নি, যে সবাই বাসার বাইরে যাবে বেশ কিছু দিনের জন্য বিড়ালটা কোথায় থাকবে কি খাবে? যাই বিড়াল আপুর কাছে রেখে যাই.............
লেখক বলেছেন: হা হা হা, ভালোই বলেছেন, এরকম হলে আমার কোন আপত্তি নেই। তবে এখন পর্যন্ত এমন হয়নি।
লেখক বলেছেন:
লেখক বলেছেন: বড়িবলাই টা কে? সেরা বিলাইয়ের সাথে পরিচিত হইতে চাই।
লেখক বলেছেন: ইঁদুরের গল্প বলব?![]()
সাইফুর বলেছেন:
এসে শুনি রাতে খুব ঠান্ডা পড়েছিল, বাচ্চাটা সারারাত শীতে কাঁপতে কাঁপতে একসময় মারা গেছে। কষ্ট পেলাম, হয়ত সে আমাকে খুঁজেছিল। কেন যে মায়া করতে গিয়েছিলাম। এমন হলে খারাপ লাগে
লেখক বলেছেন: মায়া খুব খারাপ জিনিস।
সহেলী বলেছেন:
শুনছি , আর দেখছি চোখের সামনে ....
লেখক বলেছেন: কষ্টেরগুলো দেখার দরকার নেই, মজারগুলো দেখলেই হবে।
লেখক বলেছেন: জ্বী, কোন সন্দেহ নাই।
রাজ মো, আশরাফুল হক বারামদী বলেছেন:
+
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
শাহানা বলেছেন:
আহহা ওর কথা না লিখলে হয়ত আরও অনেকের কথা লিখার ধৈর্য থাকত...।
লেখক বলেছেন: আসলে সব বিড়ালের কথা লেখার মত না।
লেখক বলেছেন: হায়রে ‘মা’
লেখক বলেছেন: সবাই তো আর একরকম হয় না।
লেখক বলেছেন: আফসুস কাহিনী।
অন্ধ দাঁড়কাক বলেছেন:
একটা জায়গায় এতো বিলাই কোথ্থেকে আসে??? তাও নানান সাইজের বিলাই। আমি আমার পুরা লাইফে এত বিলাই দেখি নাই যতগুলা আপনার লেখা পড়ে জানতেছি।আপনি কি হ্যামিলনের বাঁশীওয়ালী (বিলাই ভার্সন)
লেখা জটিল হয়ছে, তাও মাঝেমধ্যে ইদুঁর, তেলাপোকা এইসব নিয়ে লেখেন.......
লেখক বলেছেন: মাঝে মধ্যে ইঁদুর, তেলাপোকা, মৌমাছি, ভেংগুর, চামচিকা আরও অনেক কিছু নিয়েই লিখি, মনে হয় খেয়াল করেন নি।
হযরত মামুন আব্দুল্লাহ্ বলেছেন:
চমৎকার লাগলো। আপনার গল্প বলার ভঙ্গির ভক্ত হয়ে গেলাম...
লেখক বলেছেন: হে হে, ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: লাল্টু বিলাই কই পাই। আমাদের পুতিকে একবার আলতা দিয়ে লাল্টু বানানো হয়েছিল, পুতির গল্প তো বলে ফেলেছি আগেই। ![]()
লালসালু বলেছেন:
বিলাই বেশি ভালো লাগে না
লেখক বলেছেন: সবার পছন্দ একরকম না হওয়াই স্বাভাবিক।
সাঁঝবাতি'র রুপকথা বলেছেন:
বিলাই ভালা পাই, কিন্তুক কখনো কাছে যাওয়া হয় নাই ...
লেখক বলেছেন: আইচ্ছা। না যাওনই ভালা, কাছে গেলে যদি পছন্দ পাল্টায়া যায়।
ত্রিনিত্রি বলেছেন:
আপু, সুন্দরী বিড়ালটাকে যে বড় চেনা চেনা লাগে! কিন্তু, দোতালার বিড়ালটাই নাকি?? হতে পারে। অবশ্য রঙটা ঠিক মিলছে না। আমি যে বিল্লির কথা বলেছি সে আরো বৈচিত্রপূর্ন রঙের অধিকারী।
জটিল লাগলো আপু। সময় করে এসে আপনার বাকি বিল্লি কাহিনীও পড়তে হবে। তবে কিনা আমি বিল্লি ভয়াবহ ভয় পাই।
লেখক বলেছেন: না রে, আমার ঐ বিড়ালগুলোকে পরে আর দেখিনি। মনে হয় সেই নিধন-যজ্ঞের মধ্যে পড়েছিল।
ভয় পেলে না হয় চিল্লা-পাল্লা নাচানাচি করে নিও, তবু পড়ো। (একটু বিজ্ঞাপন কইরা লইলাম চামে
)
ছোট ভাই বলেছেন:
আপু, ত্রিনিত্রি আপুর ব্লগে দেয়া লিংক দেখে এখানে বিড়ালের কাহিনী পড়তে আসলাম। বিড়ালের কাহিণী পড়ে অনেক অনেক মজা পেয়েছি আপু। এখুনী বাকি পোস্টগুলো পড়তে যাচ্ছি। লেখক বলেছেন: একটা ছোট টিপস দিয়ে রাখি। (এইটাও বিজ্ঞাপনের অংশ
)
আমার প্রিয় পোস্টের তালিকায় "নিজের পোস্ট" আছে। ঐখানে সব পোস্টের লিস্ট আছে। যেটা ইচ্ছা হয় পড়ে দেখবেন।
ছোট ভাই বলেছেন:
আপু, আমি কয়েকদিন আগে কলেজে ভর্তি হলাম। আমাকে তুমি করে বলবেন। লিংক দেখিয়ে দেবার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ আপু। আমিই আসলে লিংকটা চাইতাম।
এখুনি বিড়াল নিয়ে লেখা বাকি পোস্টগুলো পড়তে যাচ্ছি।
লেখক বলেছেন: আচ্ছা ঠিক আছে পিচ্চি, তোমাকে তুমি করেই বলব নে। ![]()
লেখক বলেছেন: এহ্ কইছে। বিলাই প্রীতি আমার ছুডুকালের অভ্যাস।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...























