রঙীন সেই দিনটি
১০ ই জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:৩৫
দিনটির কথা নিশ্চয়ই সবার মনে আছে, রঙে রঙে সেজেছিল সমস্ত দেশের মানুষ। যেদিন বাংলাদেশ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে খেলার সুযোগ পেল, সেই দিনটির কথা বলছি।
আমি তখন কলেজে পড়ি। ক্লাস চলছিল। খেলার খবর জানার জন্য উদগ্রীব হয়ে ছিলাম সবাই। আমাদের মধ্যে থেকে একজন রেডিও এনেছিল। লুকিয়ে লুকিয়ে একটু পর পর খেলার ধারাভাষ্য শুনছিলাম। কিভাবে যেন টিচার'স রুমে খবর চলে গেল যে আমাদের ক্লাসে রেডিও এনেছে কেউ। এক কড়া ম্যাডাম এসে সবাইকে দাঁড় করিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, কে এনেছে রেডিও। আমরা সবাই চুপ। স্বীকারই করলাম না রেডিও আছে। এতগুলো মেয়ের ব্যাগ চেক করাও সম্ভব না, চেক করতে করতেই এদিক ওদিক পাচার হয়ে যাবে রেডিও। ম্যাডাম বললেন, কে রেডিও এনেছ বল, নইলে সবাইকে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। আমরা খুশিমনেই সবাই চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলাম। ভাগ্য ভালো যার রেডিও সে তখন বাইরে গিয়েছিল একটা কাজে, নইলে সে ভয় পেয়ে বলে দিতে পারত।
খেলায় জেতার খবর যখন পেলাম কেউ আর চিৎকার না করে পারলাম না। ম্যাডাম এসে আরেক দফা বকা দিয়ে গেলেন, যদিও রেডিও উদ্ধার করতে পারলেন না বা আমাদের আনন্দও কোন অংশে কমাতে পারলেন না।
কলেজ ছুটি হবার আগে আগে খবর আসল, কেউ রাস্তায় বের হলেই তাকে রঙে ভাসিয়ে দেয়া হচ্ছে। বাইরে দাঁড়ানো গার্জিয়ানরাও এর থেকে রেহাই পান নি। একজন আংকেলকে দেখলাম সবুজ রঙের টাক নিয়ে কলেজ ক্যাম্পাসে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। স্কুল কলেজের অনেক মেয়েই সাহস করে বের হল, প্রত্যেকেই রঙে ভেসে গেল। এর মধ্যে কয়েকজন কাঁদতে কাঁদতে প্রিন্সিপালের কাছে নালিশ দিতে এল, নালিশ দিয়ে আর লাভ কী। এর মধ্যে একজনকে এতই রঙ মাখানো হয়েছিল যে অনেকদিন পর্যন্ত তার এক কান সবুজ আর এক কান লাল হয়ে ছিল। সে নিজেই বলত, আমি বাংলাদেশের পতাকা হয়ে গেছি।
আমি অপেক্ষা করতে থাকলাম। প্রায় দেড় ঘন্টা পর বের হলাম। রাস্তা তখন অনেক শান্ত। রিকশা ঠিক করে রওনা দিলাম বাসায়। রাস্তায় কয়েকজন আমাকে তখনও ফ্রেশ অবস্থায় দেখে দৌড়ে আসল, কিন্তু তাদের স্টক শেষ হয়ে যাওয়ায় কিছুই করতে পারল না, শুধু একটু ভয় দেখাল খালি রঙের কৌটা ছুড়ে দেখানোর ভান করে। রঙে ভেসে যাওয়া রাস্তা দিয়ে সহি সালামতে বাসায় ফিরলাম। এসেই খোঁজ নিলাম কার কী অবস্থা। দেখলাম সেদিন বাসার সবাই বের হয়েছিল। আব্বা অফিসে গিয়েছিলেন, বয়স্ক মানুষ বলে হয়ত কেউ ঘাটায় নি। আম্মা ছোট ভাইটাকে নিয়ে স্কুলে গিয়েছেন আবার নিয়েও এসেছেন, ওদের কাউকেই রঙ দেয়া হয় নি। বড় দুইবোন ভার্সিটিতে গিয়েছিল। ঐরকম একটা জায়গা থেকেও তারা সম্পূর্ণ বে-রঙ অবস্থায় বাসায় ফিরেছে। বাকী রইল ছোটবোন। সে স্কুল থেকে বের হয়ে বাসায় আসা পর্যন্ত প্রতিটা রাস্তার মোড়ে একবার করে রঙে গোসল হয়েছে। মোট সাতবার তাকে সাত রঙে ভাসানো হয়েছে। বেচারীকে আর চেনা যাচ্ছিল না। আমাদের পরিবারের সাত সদস্যের রঙ সে একাই মেখেছিল সেই দিন।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): স্মৃতি, রঙীন, ক্রিকেট, স্মৃতি, রঙীন, ক্রিকেট ;
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:৩৫ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
লেখক বলেছেন: পিচ্চিটার তখন স্কুলে পড়ার বয়স হয়েছিল নাকি? ![]()
লেখক বলেছেন: এই ছবিটা আমার অনেক পছন্দ। আমার অনেক পুরনো একটা পোস্টে আছে।
হ্যামেলিন এর বাঁশিওয়ালা বলেছেন:
সেই দিন ছিল আরেক বিজয়ের দিন। দল-মত ভুলে এক হওয়ার দিন। সেদিনই সবাই নতুন করে জেনেছিল, আমাদের আবেগ কতটা। আমরা কতটা ভালবাসি দেশকে!"যারা স্বর্গগত তাঁরা এখনো জানে, স্বর্গের চেয়ে প্রিয় জন্মভূমি!"
অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে! দিনটি মনে করিয়ে দেয়ার জন্য!
লেখক বলেছেন: ঐ দিনটা আসলেই বাংলাদেশের জন্য একটা সুখের দিন। আর আমার ছোট বোনকে পচানোর জন্যও একটা ভালো স্মৃতি।
রেজোওয়ানা বলেছেন:
Oi din ronge vasteo valo lagechilo. Odvut akta abeg kaj kochilo, mone hochilo ami nijei jano kahle Bangladesh ke jitiyachi."Bangla font kano jano asche na."
লেখক বলেছেন: আপনিও ভেসেছিলেন? ![]()
মুহাম্মদ মামুনুর রশিদ বলেছেন:
আমি রংয়ের ভয়ে পুরোনো শার্ট পড়ে কলেজে গিয়েছিলাম।আর অনুভুতির কথা কি বলবো?আমার কান্না চলে এসেছিলো।আমরা আগের বারও যেতে পারতাম শেষে ১৩ রানে বোধহয় হেরে ছিলাম। খুব কস্ট লেগেছিলো।তবে ৮৫ সাল থেকেই আমার গভীর বিশ্বাস ছিলো কোন খেলায় যদি সারা প্ৃথিবীতে বাংলাদেশকে কেও চিনে বা বিশ্বকাপে যেতে পারে তা ক্রিকেট।
লেখক বলেছেন: এই অনুভূতির কোন তুলনা নেই।
মেয়েটা কিন্তু তাও কাদেনি। প্রতিবাদ করেছে। কিন্তু আমি হলে কেঁদে দিতাম। সব আনন্দেরই মানে এমন না যে অন্য কে কষ্ট দিবে। তাহলে আর সেটা আনন্দ থাকে না।
কিন্তু আমরাও খুব খুশি হয়েছিলাম নিউজ টায়।
লেখক বলেছেন: খুশি হয়েছিল সবাই। কিন্তু রঙের ব্যাপারটা সবার ভালো লাগেনি।
আহমেদ রাকিব বলেছেন:
বাচার কোনো চেষ্টাই করি নাই। যেই রঙ মারতে আসছে আনন্দ নিয়ে রঙ খাইছি। লেখক বলেছেন: আপনিই তাহলে আমার ছোট বোনটাকে রঙে ভাসিয়েছেন, দাঁড়ান বলছি ওকে।
লেখক বলেছেন: ঐদিন পিচ্চি বুড়ো সবাই আনন্দ করেছিল।
লেখক বলেছেন: ভালোই তো বলেছেন। অবশ্য আমার সব পোস্টেই বাঘের ছবি পাবেন।
কালপুরুষ বলেছেন:
আমার মনে আছে। সম্ভবত পানিস্তানের সাথে বিশ্বকাপের এক খেলায় জেতার উৎসব করতে যেয়ে সেদিন রাস্তাঘাটে রঙ দেবার নামে ও আনন্দফূর্তির নামে মেয়েদের যেভাবে অপদস্ত ও নাজেহাল করা হয়েছিল তাতে অনেক মেয়েই ক্ষিপ্ত, বিরক্ত ও অপমানিত হয়ে মনে মনে চেয়েছিল এমন জয় যেন তাদের দেখতে না হয়। এর পরের ইতিহাস টানা টানা দুই বছরে ১৩/১৪ টা কিংবা তারও বেশী ম্যচ খেলে বাংলাদেশ কোন জয়ের মুখ দেখেনি।
লেখক বলেছেন: এগুলো আসলেই ভালো লাগে না। একটা আনন্দের সাথে কেন যে মানুষ কষ্টের স্মৃতি মিশিয়ে দেয়।
লেখক বলেছেন: কেনিয়ার সাথে আইসিসির ফাইনালে জিতেছিল। তার আগে সেমিফাইনালে জেতার পরই বিশ্বকাপে খেলা নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল, সেই দিনটার কথা বলছি।
আগেরদিন অর্ধেক খেলা হয়েছে। পরের দিন বাংলাদেশের ব্যাটিং!ধারাভাষ্য শোনার জন্য স্কুলেই যাই নি সেদিন!
শান্তর এক রান নেয়ার সাথে সাথে এক দৌড়ে রাস্তায়..............তারপর মিছিল আর মিছিল..........
কী স্বপ্নীল দিনই না ছিল...........
মনে করিয়ে দিলেন..........
লেখক বলেছেন: ঐ মুহূর্তের অনুভূতি ভুলবার নয়।
লেখক বলেছেন: তাই নাকি? আমি তো মনে করেছিলাম আপনি তখনও ডিম ফুটে বের হন নি।
লেখক বলেছেন: বলেন কী? আপনি তো বিরাট সৌভাগ্যবান।
জাফরিন বলেছেন:
আমি তখন অনেক পিচ্চি। খুব মজা লাগছিল কারণ একটা দিন বড়দের সঙ্গে নিয়ে ইচ্ছেমত বাঁদরামি করতে পেরেছিলাম। তবে আমার খুব প্রিয় একটা জামা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। আমার ছোট মামার দেওয়া। পরে মন খারাপ লাগছিল
লেখক বলেছেন: মন খারাপের কথা ভুলে গিয়ে আনন্দের কথাটুকুই মনে রাখুন।![]()
কী দিন গেছিল! কাউরেই ছাড়ি নাই। আপ্নে কোন দিক দিয়া পলাইলেন বুঝলাম না
লেখক বলেছেন: আমি ভাইগ্যবতী।![]()
ইজীটক বলেছেন:
কয় তারিখ জানি ছিল ? ভূইল্লা গেছি।
লেখক বলেছেন: মারছে, তারিখ তো আমারও মনে নাই।
মনপুরা বলেছেন:
ঐ দিন আমার এক আংকেল যেভাবে অফিস থেকে বাসায় এসেছিল অবাক হয়ে বাসার সকলে নাকি ওনার দিকে তাকিয়ে ছিলেন এই দেখে যে ওনার সারা গায়ে একটুও রং লাগেনি।ওনিও আনন্দের সহিত বাসায় ঢুকছে কিন্তু বাসার সামনের অংশ রং পড়ে এমনভাবে ভিজেছিল যে বাসায় ঢুকতেই আছাড় খেলেন রং ত লাগলই উপরন্তু প্রায় এক সাপ্তাহ বিছানায় কাটিয়ে দিতে হল।
লেখক বলেছেন: দুঃখজনক ঘটনা, তারপরও হেসেই ফেললাম।
লেখক বলেছেন: কি যে অদ্ভূত আনন্দের এক দিন ছিল!
লেখক বলেছেন: ভাগ্যিস পিচ্চি ছিলেন।![]()
kisuna বলেছেন:
প্রথমেই বলি পোস্টে প্লাস। সেই স্মৃতি ভয়াবহ!! বোনকে স্কুলে নিয়ে যাচ্ছিলাম আমি, মাঝপথে রঙ মারা দস্যুদের খপ্পরে পড়ি। এরপর আমার বোন আতঙ্কে অনেকদিন রাস্তায় বের হলে চিৎকার করত। ওকে স্কুলে পাঠানোই দুষ্কর হয়ে পড়ে বহুদিন পর্যন্ত!
লেখক বলেছেন: হুমম আমার বোনটাও সেদিন খুব ভয় পেয়েছিল।
স্বপ্ন নীল বলেছেন:
বড়ই আনন্দের কথা মনে করায়া দিলেন । সেই দিন বিকেলে স্কুল থেকে বের হয়ে এমন একটা দৌড় দিছিলাম কেউ আমারে রঙ মাখাইতে পারে নাই । অনেকেই চেষ্টা করছিল, কিন্তু আমার সাথে দৌড়ে পারে নাইক্যা । মনে হয় অলিম্পিকেও সোনার মেডেল পাইতাম । অনেক আনন্দ হইছিল । তয় দৌড়াইতে গিয়া পায়ে বড়ই বেদনা হইছিল । পরের কয়েকদিন ঠিক মত হাটতেও কষ্ট হত.....লেখক বলেছেন: আপনেরে অলিম্পিকে পাঠাইলে আরেকটা রঙীন দিন আসত বাংলাদেশে।![]()
লেখক বলেছেন: ![]()
![]()
![]()
সাধারণমানুষ বলেছেন:
ঐ দিন স্কুল থেকে রাস্তায় বের হলে এক ভাইয়া এসে ২ হাত দিতে বলে পরে হাতে রং ঢেলে দেয় ব্যাস ঐ শুরু যখন বাসায় আসি তখন ইউনিফর্ম এর সাদা শার্ট বিভিন্ন রঙ্ এ রঙীন লেখক বলেছেন: শার্টের রঙ গিয়েছিল পরে?
জনৈক আরাফাত বলেছেন:
পালিয়েছিলাম সেদিন। শিহরণ পালায়নি বটে!
লেখক বলেছেন: সেটাই হল আসল কথা।
লেখক বলেছেন: উঠার কথা না।![]()
শাহানা বলেছেন:
khub haslam post pore. shotti ami janinah kivabe ze beche giyechiilam oi din
লেখক বলেছেন: সবার রঙ একজনেই মেখে ফেললে বাকীরা আর কেমনে মাখবে বলুন?![]()
ভোরের তারা বলেছেন:
তখন আমি কলেজে পড়ি, সেই দিন আমাদের ক্লাসেও এক মেয়ে রেডিও নি্য়ে এসেছিল। সবাইকে সে মাইকে রেডিওর ধারাভাষ্য শোনাচ্ছিল(ক্লাশ রুম বড় হওয়াতে মাইকের প্রচলন ছিল)। দুই তিন বারের চেষ্টায় ম্যাডাম রেডিও বের করে ফেলেন। কিন্তু খেলাটা তখন এত চরম মুহূর্তে ছিল যে ধরা পড়া ছাত্রীটা সবার প্রবল আগ্রহের কথা চিন্তা করে ম্যাডামের হাত থেকে মাইক কেড়ে নিয়ে রেডিওর স্পিকারে ধরে। আমি তার সাহস দেখে অবাক হয়েছিলাম। আব্বার সাফারি আর ভাইয়ার নতুন জিন্স সেইদিন রংস্নাত হয়েছিল মনে আছে।সুন্দর পোষ্ট।
লেখক বলেছেন: আপনার ঘটনাও খুব মজার। ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...




















পুরানা স্মৃতি মনে করায়া দিলেন, সেই খেলা টিভিতে দেখার সুযোগ ছিলোনা, রেডিওর সামনে আমি আম্মু আর বোন সারাক্ষণ বসে খেলার খবর জানছিলাম