খবরটা পড়েছিলাম দৈনিক যুগান্তরে।‘মায়ের সঙ্গে কারাগারে ৩ বছর : অসুস্থ শিশু মোস্তফার মৃত্যু’ শিরোনামে এই খবরটি ঢাকার মিডিয়াওয়ালাদের কাছে তেমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়নি সম্ভবত। ফলে এটি প্রথম পাতায় জায়গা পায়নি। সব পত্রিকাতেও স্থান পায়নি এই খবরটি। ঢাকার পত্রিকাওয়ালাদের সেনসিটিভিটি যে কোথায় তা আমাদের মতো পাবলিকদের জানা কঠিন কাজ বৈ কি! দুএকটি পত্রিকা অবশ্য নিতান্তই দায়সারা গোছের করে খবরটি পরিবেশন করেছে। এটি নিয়ে কথা বলার আগে পাঠক আসুন খবরটি আপনাদের সঙ্গে একটু শেয়ার করে নেই।
‘মায়ের সঙ্গে কারাগারে ৩ বছর : অসুস্থ শিশু মোস্তফার মৃত্যু’
যুগান্তর রিপোর্ট
“জন্মের কয়েক মাসের মধ্যেই মায়ের সঙ্গে জেলে যেতে হয়েছে মোস্তফাকে। তখনও কিডনি ও হার্টসহ নানা রোগে আক্রান্ত ছিল শিশুটি। তিন বছরেরও বেশি সময় মায়ের সঙ্গে কারাগারে থেকে ধুঁকে ধুঁকে মারা গেছে মোস্তফা নামের চার বছরের শিশুটি। বুধবার রাত দেড়টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সে।
কারা সূত্র জানায়, দিনাজপুরের বোচাগঞ্জের ছন্দিপুর গ্রামের মোতাহার হোসেনের স্ত্রী রোজিনা বেগম একটি হত্যা মামলায় গ্রেফতার হয়ে ২০০৭ সালে রংপুর কারাগারে যান। তখন তার সঙ্গে কয়েক মাস বয়সী শিশু মোস্তফাও ছিল। কারাগারে থাকার কারণে সঠিক পরিচর্যা না পাওয়ায় দিন দিন মোস্তফার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার রাত দেড়টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম জানান, কিডনি ও হার্টের রোগসহ বিভিন্ন রোগ নিয়েই শিশুটি জন্মেছিল বলে কারা চিকিৎসক সেলিনা পারভিন তাদের জানিয়েছেন।”
ভাবা যায়, একটা নিরাপদ শিশু যে কী না আবার গুরুতর অসুস্থ ,তাকে জীবন কাটিয়ে দিতে হলো জেলখানায়! তাও আবার কোনো ধরনের অপরাধ না করেই। যেই রাষ্ট্রে এই ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে,সেই রাষ্ট্র ,রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের সভ্য বলে স্বীকার করতে হবে আমাদের? জাতি হিসেবে কতোটাই না দূর্ভাগা আমরা।
মানবাধিকার,নারী অধিকার, শিশু অধিকার নিয়ে বাংলাদেশে কতোই না চেচামেচি। কই তারা কেউই খবর পেলো না নিরাপরাধ একটি শিশু ভয়াবহ অসুস্থতা নিয়ে বিনা অপরাধে কারাগারে ধুকে ধুকে মরছে। হাজার হাজার টাকা খরচ করে যারা ফি বছর সেমিনার করে বেড়ায় তাদের গোচরীভূত হলো না কোনোভাবেই। এমনকি মিডিয়াও খবর পেলো না? কিংবা বিচারক যিনি এই অবোধ শিশুটিকে জেলে পাঠানোর অনুমতি দিয়েছেন তার বিবেক কি একবারের জন্যেও কেপে উঠে নি। বিচারকের বাইরে তিনিও তো একজন মানুষ। মানবিকবোধ দ্বারা তিনি পরিচালিত হবেন সেটাই তো স্বাভাবিক। তিনিও তো পারতেন রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারকদের নজরে আনতে বিষয়টি। আর কারা কর্তৃপক্ষ ? পুলিশ ? কারো মনেই সামান্য মানবতাবোধ,দয়া জাগ্রত করতে পারলো না এই শিশুটি?
পৃথিবীর যে কোনো সভ্যদেশে মোস্তফার এই ঘটনা সারা দেশে হৈ চৈ ফেলে দিতো। বাংলাদেশে সেটি হয় নি। মিডিয়ার কাছেই সংবাদমুল্য হয়ে উঠতে পারে নি মোস্তফা। আর কোথায় তার মূল্য হবে? খবরটি পড়তে পড়তে বারবার শুধু মনে হচ্ছে বাংলাদেশে কি তা হলে মানবতাবোধেরও মৃত্যু হয়েছে ?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


