ড. মুহাম্মদ উইনুসের বিরদ্ধে কতিথ অভিযোগের ব্যাপারে আওয়ামী লীগ ও ছাত্র লীগ নেতাদের আক্রমনাত্মক বক্তব্যের পর এবার প্রতিক্রিয়া জানালেন খোদ প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং। একজন সরকার প্রধানের প্রতিক্রিয়ার ভাষা নিয়ে ইতিমধ্যে সমালোচনাও শুরু হয়েছে। অন্যায় কিছু হয়ে থাকলে সরকার অবশ্যই তদন্ত করবে, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু তদন্তের আগে সরকার প্রধানই যখন অভিযোগ সঠিক বলে ঘোষনা করে দেন তখন নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক। একই সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে ৯৬ এর শেয়ার কেলেংকারির অন্যতম হোতা সালমান রহমানের প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারিখাত বিষয়ক উপদেষ্টা হওয়া নিয়েও। শেয়ারবাজারে কারসাজির দায়ে সালমানসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিলো তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে। নিম্ন আদালতে তার বিরুদ্ধে চার্জও গঠিত হয়েছিলো। শেয়ারবাজারে কারসাজির হোতাকে উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দূর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলা শোভন কী না এ নিয়েও গুঞ্জন হচ্ছে।
মজার ব্যাপার হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামীলীগ নেতারা ইউনুসের বিরুদ্ধে আক্রোশ ঢেলে দিলেও সরকারেরই অর্থমন্ত্রী কিন্তু বলছেন ভিন্ন কথা। এখানে দৈনিক প্রথম আলো থেকে প্রধানমন্ত্রী এবং অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য তুলে ধরছি।
মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত হওয়া উচিত: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে গ্রামীণ ব্যাংকের তহবিল সরানোর অভিযোগ তদন্ত হওয়া উচিত। তিনি বলেন, দারিদ্র্য বিমোচনের নামে ঋণ দিয়ে গরিব মানুষের রক্ত চুষে খাওয়া হচ্ছে। কোথাও গরিব মানুষের উন্নয়ন হয়নি। কীভাবে জনগণের টাকা নিয়ে ভোজভাজি হয়, এটাও একটা দৃষ্টান্ত।প্রধানমন্ত্রী রোববার তাঁর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন। রাশিয়া, বেলজিয়াম ও জাপান সফর শেষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দরিদ্র মানুষকে দেখিয়ে শুধু টাকা আনা হলেও কোথাও তাদের উন্নয়ন হয়নি। মানুষকে ঋণ দিয়ে অর্থ চুষে খাওয়া—আমি এটা কখনোই সমর্থন করিনি। প্রতিবাদ করেছি।’ তিনি বলেন, গ্রামীণ ব্যাংককে এমনভাবে কবজা করা হয়েছে, যেন এটা ব্যক্তিসম্পত্তি। এরও তদন্ত হওয়া উচিত। গরিব মানুষ নিঃস্ব হচ্ছে। ভালো ভালো কথা বলে গরিব মানুষের রক্ত চুষে খাওয়া হচ্ছে। এখন অনেক কিছুই বেরিয়ে আসছে। সেনানিবাসের বাড়ির প্রতি খালেদা জিয়ার যে ভালোবাসা, ড. ইউনূসেরও গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতি সে রকম ভালোবাসা। তিনি বলেন, গ্রামীণ ব্যাংক জনগণের সম্পত্তি। কিন্তু গ্রামীণ ব্যাংককে ভালোবেসে নিজের করা হচ্ছে। ইউনূস সাহেব গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতি ভালোবাসায় পড়ে গেছেন।
সূত্র: প্রথম আলো
‘আমাদের মধ্যে খালি ইঁদুরের মতো অন্যের দোষ খোঁজার প্রবণতা।’- অর্থমন্ত্রী
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, গ্রামীণ ব্যাংককে দেওয়া তহবিল স্থানান্তরে অন্যায় কিছু হয়েছে বলে তিনি মনে করেন না।সাংবাদিকেরা শনিবার এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘যারা (গ্রামীণ ব্যাংক) করেছিল, তাদের একটা আন্ডারস্ট্যান্ডিং ছিল, নরওয়েরও একটা আন্ডারস্ট্যান্ডিং ছিল। পরে তাদের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। সুতরাং এখানে অন্যায় কিছু হয়েছে বলে মনে হয় না।’জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে জাতীয় উন্নয়ন সমন্বয় ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘কৃষি খাতের ভর্তুকি সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভা শেষে তিনি এসব কথা বলেন।আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকেরা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে তহবিল স্থানান্তরের অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি প্রথমে বলেন, ‘আমাদের মধ্যে খালি ইঁদুরের মতো অন্যের দোষ খোঁজার প্রবণতা।’ এই বক্তব্যের পরও সাংবাদিকেরা অর্থ সরানো নিয়ে প্রশ্ন করলে এর মধ্যে অন্যায় কিছু হয়নি বলে মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী।
সূত্র: প্রথম আলো
এবার আপনারাই মন্তব্য করুন।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১০ রাত ২:১৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


