somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাঁচতে হলে জানতে হবে। ডঃ ইউনুস কেন নোবেল প্রাইজ পেয়েছিল তা কি আপনারা জানেন?

০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দয়া করে লেখাটি পড়ার আগেই মাথা গরম করে রেটিং দিয়ে বসবেন না।

আমরা সবাই জানি, সারা পৃথিবী জানে ডঃ ইউনুচ ক্ষুদ্র ঋণ এর মাধ্যমে দারিদ্র বিমোচনের জন্য নোবেল প্রাইজ পেয়েছে। গ্রামীন ব্যাংকের ক্ষুদ্র ঋণের সিসটেমটিকে সারা পৃথিবী মডেল হিসেবে নিয়েছে। কিন্তু এই কথাটার মধ্যে একটি বড় ধরণের ভুল আছে।

ডঃ ইউনুচ ও গ্রামীন ব্যাংক নোবেল পেয়েছে এমন একটি ব্যবস্থা আবিষ্কার করার জন্য যে ব্যবস্থাটির মাধ্যমে দরিদ্র লোকদেরকে ব্যবহার করে নিজের পকেট ভারি করা যায়। এটি ছিল একটি অসাধারণ সিসটেম। ইউনুচ সাহেব অসাধারণ কিছু বুদ্ধি বের করেছিলেন যেগুলো পৃথিবীর কোন মানুষের মাথায় কোনকালে আসেনি। অন্য ব্যাংকগুলো সাধারণত ধনী লোকদের লোন দিয়ে থাকে। সেই ধনি লোকেরা যদি কোন কারণে লোন পরিশোধ করতে না পারে সেই লোন আদায় করা কিন্তু চাট্টিখানি কথা নয়। অনেক আইন প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে যেতে হবে, তাকে সময় দিতে হবে, কারণ দর্শানোর নোটিশ দিতে হবে এরপর কাজ না হলে মামলা করতে হবে। দিনের পর দিন সেই মামলা চলতে থাকবে। ঋণ গ্রহীতা তার বড় বড় মামাদের দিয়ে ফোন করিয়ে সব ঝুলিয়ে রাখবে। ঋণ গ্রহীতা যদি দুর্ভাগা হয় তবে তার হয়তো কিছু শাস্তি হবে। আর শাস্তি হওয়া এই দেশে খুবই ব্যাতিক্রম ঘটনা।

আর গ্রামীণ ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে কিস্তি দিতে না পরলে কি হবে? কোন কারণ দর্শানোর চিঠি দেয়া হবে না, কোন মামলা দেয়া হবে না কিচ্ছু করা হবে না। ঋণ গ্রহীতা যদি ঋনের টাকা দিয়ে গরু কিনে থাকে তবে তার গরুটি নিয়ে যাওয়া হবে। তার যদি কিছুই না থাকে তবে ঘরের চাল খুলে নেয় হবে। লোকটি যেহেতু অনেক গরিব সেহেতু এই নিয়ে কেউ কোন উচ্চবাচ্য করবে না, কোন পত্রিকার রিপোর্টার তা জানবে না, জানলেও নিউজ হবে না। মোট কথা কোন প্রকার প্রতিরোধই গরিব লোকটির পক্ষ থেকে আসবে না। সুতরাং গরীব লোককে ঋণ দেয়ার মতো আরামদায়ক ব্যবসা আর কি হতে পারে?

গরীব লোককে ঋণ দেয়ার আরো একটি বড় ধরণে সুবিধা আছে। গরিব লোকটি যেহেতু অনেক দুঃখ কষ্টের মাঝে আছে সে চাইবে একটু সচ্ছলতা। আপনি যখন গরিবের প্রতিনিধি সেজে তার কাছে নিজে থেকে লোন দিতে যাবেন সে আপনাকে দেবতার আসনে বসাবে। ভাববে ইশ্বর স্বয়ং আপনাকে তার কাছে পাঠিয়েছেন। আপনি যখন ঋণ নিয়ে ধনি হওয়ার লোভ তাকে দেখাবেন সে টুপ করে আপনার লোভের টোপ গিলে ফেলবে। আপনার টোপ গেলার পর সে আপনার থেকে উচ্চসুদে ঋণ নিতে রাজি হবে। সেতো আর জানবে না যে আপনিই দেশের সবচে বেশী সুদখোর। সে গরিব, অশিক্ষিত। সে কি আর সুদের এত হিসেব বুঝে? কোন ব্যাংক কত হারে সুদ নেয় তা কি সে জানে? জানেনা বলেই আপনার পাতা ফাঁদে সে পা দেবে। সে তো আর জানবে না যে সে আপনার থেকে যত টাকা নিয়েছে ততটাকা দিয়ে ব্যবসা করে শুধু আপনার কিস্তির টাকাই বড়জোর উঠানো যাবে। এর থেকে বেশী কিছু না। সুতরাং সে আপনার টাকা দিয়ে ব্যবসা করবে আর লাভের টাকা গুলো আপনাকে কিস্তি হিসেবে দিয়ে যাবে। আর যদি দিতে না পারে তবে কোন সমস্যা নাই, তার ব্যবসার সব মালামাল তুলে নিয়ে আসুন। মালামাল না থাকলে ঘরের চাল খুলে নিয়ে আসুন।

এখন আপনারাই বলুন, যে এত সুন্দর একটি ব্যাবস্থা অবিষ্কার করেছে সে কেন নোবেল প্রাইজ পাবে না? আর যারা এই ব্যবস্থাটিকে ব্যবহার করে নতুন একটি ব্যবসার উপায় খুঁজে পেল তারা কেন নোবেল দেবেনা অথবা নোবেল দেয়ার জন্য সুপারিশ করবে না? আজ সারা পৃথিবীতে এই ব্যবসা করে যারা ধনি হচ্ছে তাদের কাছে ইউনুচ অবশ্যই মডেল।

সুতরাং এটা পরিষ্কার যে ডঃ ইউনুস আসলে দারিদ্র্যবিমোচনের জন্য নোবেল প্রাইজ পাননি। পেয়েছে দারিদ্র্যবিমোচনের নামে ব্যবসার একটি নতুন ধরণ অবিষ্কার করার জন্য।



বিঃদ্রঃ যারা মনে করেন গ্রামীণ থেকে লোন নিয়ে আসলেই ধনি হওয়া যায় তারা দয়া করে কোন লোক গ্রামীন থেকে লোন নিয়ে একটি গরু কিনে এখন পাঁচটি গরুর মালিক হয়েছে, একটি ব্যবসা শুরু করে আরো দুটি ব্যবসা বাড়াতে পেরেছে এমন জানা থাকলে আমাকে জানান।আমি সাথে সাথে লেখাটি মুছে দেব। ওক্কে?

ইউনুস সাহেব, বিশ্ববাসির কাছে আমাদের যে ভাবমূর্তিটুকু ছিল তাও আপনি খেতে বসেছেন?
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৫৩
২৫টি মন্তব্য ২০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×