দয়া করে লেখাটি পড়ার আগেই মাথা গরম করে রেটিং দিয়ে বসবেন না।
আমরা সবাই জানি, সারা পৃথিবী জানে ডঃ ইউনুচ ক্ষুদ্র ঋণ এর মাধ্যমে দারিদ্র বিমোচনের জন্য নোবেল প্রাইজ পেয়েছে। গ্রামীন ব্যাংকের ক্ষুদ্র ঋণের সিসটেমটিকে সারা পৃথিবী মডেল হিসেবে নিয়েছে। কিন্তু এই কথাটার মধ্যে একটি বড় ধরণের ভুল আছে।
ডঃ ইউনুচ ও গ্রামীন ব্যাংক নোবেল পেয়েছে এমন একটি ব্যবস্থা আবিষ্কার করার জন্য যে ব্যবস্থাটির মাধ্যমে দরিদ্র লোকদেরকে ব্যবহার করে নিজের পকেট ভারি করা যায়। এটি ছিল একটি অসাধারণ সিসটেম। ইউনুচ সাহেব অসাধারণ কিছু বুদ্ধি বের করেছিলেন যেগুলো পৃথিবীর কোন মানুষের মাথায় কোনকালে আসেনি। অন্য ব্যাংকগুলো সাধারণত ধনী লোকদের লোন দিয়ে থাকে। সেই ধনি লোকেরা যদি কোন কারণে লোন পরিশোধ করতে না পারে সেই লোন আদায় করা কিন্তু চাট্টিখানি কথা নয়। অনেক আইন প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে যেতে হবে, তাকে সময় দিতে হবে, কারণ দর্শানোর নোটিশ দিতে হবে এরপর কাজ না হলে মামলা করতে হবে। দিনের পর দিন সেই মামলা চলতে থাকবে। ঋণ গ্রহীতা তার বড় বড় মামাদের দিয়ে ফোন করিয়ে সব ঝুলিয়ে রাখবে। ঋণ গ্রহীতা যদি দুর্ভাগা হয় তবে তার হয়তো কিছু শাস্তি হবে। আর শাস্তি হওয়া এই দেশে খুবই ব্যাতিক্রম ঘটনা।
আর গ্রামীণ ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে কিস্তি দিতে না পরলে কি হবে? কোন কারণ দর্শানোর চিঠি দেয়া হবে না, কোন মামলা দেয়া হবে না কিচ্ছু করা হবে না। ঋণ গ্রহীতা যদি ঋনের টাকা দিয়ে গরু কিনে থাকে তবে তার গরুটি নিয়ে যাওয়া হবে। তার যদি কিছুই না থাকে তবে ঘরের চাল খুলে নেয় হবে। লোকটি যেহেতু অনেক গরিব সেহেতু এই নিয়ে কেউ কোন উচ্চবাচ্য করবে না, কোন পত্রিকার রিপোর্টার তা জানবে না, জানলেও নিউজ হবে না। মোট কথা কোন প্রকার প্রতিরোধই গরিব লোকটির পক্ষ থেকে আসবে না। সুতরাং গরীব লোককে ঋণ দেয়ার মতো আরামদায়ক ব্যবসা আর কি হতে পারে?
গরীব লোককে ঋণ দেয়ার আরো একটি বড় ধরণে সুবিধা আছে। গরিব লোকটি যেহেতু অনেক দুঃখ কষ্টের মাঝে আছে সে চাইবে একটু সচ্ছলতা। আপনি যখন গরিবের প্রতিনিধি সেজে তার কাছে নিজে থেকে লোন দিতে যাবেন সে আপনাকে দেবতার আসনে বসাবে। ভাববে ইশ্বর স্বয়ং আপনাকে তার কাছে পাঠিয়েছেন। আপনি যখন ঋণ নিয়ে ধনি হওয়ার লোভ তাকে দেখাবেন সে টুপ করে আপনার লোভের টোপ গিলে ফেলবে। আপনার টোপ গেলার পর সে আপনার থেকে উচ্চসুদে ঋণ নিতে রাজি হবে। সেতো আর জানবে না যে আপনিই দেশের সবচে বেশী সুদখোর। সে গরিব, অশিক্ষিত। সে কি আর সুদের এত হিসেব বুঝে? কোন ব্যাংক কত হারে সুদ নেয় তা কি সে জানে? জানেনা বলেই আপনার পাতা ফাঁদে সে পা দেবে। সে তো আর জানবে না যে সে আপনার থেকে যত টাকা নিয়েছে ততটাকা দিয়ে ব্যবসা করে শুধু আপনার কিস্তির টাকাই বড়জোর উঠানো যাবে। এর থেকে বেশী কিছু না। সুতরাং সে আপনার টাকা দিয়ে ব্যবসা করবে আর লাভের টাকা গুলো আপনাকে কিস্তি হিসেবে দিয়ে যাবে। আর যদি দিতে না পারে তবে কোন সমস্যা নাই, তার ব্যবসার সব মালামাল তুলে নিয়ে আসুন। মালামাল না থাকলে ঘরের চাল খুলে নিয়ে আসুন।
এখন আপনারাই বলুন, যে এত সুন্দর একটি ব্যাবস্থা অবিষ্কার করেছে সে কেন নোবেল প্রাইজ পাবে না? আর যারা এই ব্যবস্থাটিকে ব্যবহার করে নতুন একটি ব্যবসার উপায় খুঁজে পেল তারা কেন নোবেল দেবেনা অথবা নোবেল দেয়ার জন্য সুপারিশ করবে না? আজ সারা পৃথিবীতে এই ব্যবসা করে যারা ধনি হচ্ছে তাদের কাছে ইউনুচ অবশ্যই মডেল।
সুতরাং এটা পরিষ্কার যে ডঃ ইউনুস আসলে দারিদ্র্যবিমোচনের জন্য নোবেল প্রাইজ পাননি। পেয়েছে দারিদ্র্যবিমোচনের নামে ব্যবসার একটি নতুন ধরণ অবিষ্কার করার জন্য।
বিঃদ্রঃ যারা মনে করেন গ্রামীণ থেকে লোন নিয়ে আসলেই ধনি হওয়া যায় তারা দয়া করে কোন লোক গ্রামীন থেকে লোন নিয়ে একটি গরু কিনে এখন পাঁচটি গরুর মালিক হয়েছে, একটি ব্যবসা শুরু করে আরো দুটি ব্যবসা বাড়াতে পেরেছে এমন জানা থাকলে আমাকে জানান।আমি সাথে সাথে লেখাটি মুছে দেব। ওক্কে?
ইউনুস সাহেব, বিশ্ববাসির কাছে আমাদের যে ভাবমূর্তিটুকু ছিল তাও আপনি খেতে বসেছেন?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

