somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আজকের শেয়ার বাজার বিপর্যয় এবং আমার বিশ্লেষণ।

০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আজকের ডিএসসি ইনডেক্স এর গ্রাফ।

ঢাকা শেয়ার বাজারের আজ লেনদেন শুরু হওয়ার প্রথম ২ ঘণ্টার মধ্যে ইতিহাসের সবচে ভয়াবহ সূচক পতনের স্বাক্ষী হলো বিনিয়োগকারীরা। এরপর বিনিয়োগকারীদের বিক্ষোভ ও ভাংচুর দেখতে হয়েছে। এটা কারো কাম্য ছিল না। কিন্তু কেন ঘটল এই ঘটনা গুলো? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে আমার এই লেখা।

শেয়ার বাজারের স্বাভাবিক ধর্ম হলো উত্থান ও পতন। বাজারে যখন শেয়ার মূল্যের কিছুদিন উত্থান হবে এরপর কিছুদিন পতন হবে এটাই নিয়ম। এই উত্থান ও পতনের মাঝখান দিয়েই বিনিয়োগকারীকে তার লাভ তুলে দিতে হবে। কিন্তু আমাদের বাজারটি গত বছর খানেক থেকে এই স্বাভাবিক আচরণটি করছিল না। গত এক বছরের চিত্র দেখলে শুধু উত্থানই দেখতে পাবেন। পতন খুব একটা দেখা যাবে না। বলা যায় বাজার তার স্বাভাবিক ধর্ম হারিয়ে ফেলেছিল। সুতরাং একটি বড় ধরনের কারেকশন কাম্যই ছিল। আমি আমার অনেক বন্ধুদের বলেছি বর্তমানে যদি বাজার ২/৩ হাজার পয়েন্ট পড়ে তবে আমি খুব খুশী হবো। এতে যদি আমার কিছু লস হয় হোক। কারণ গত কিছুদিন ধরে বাজারের এমন অবস্থা আমি নিজে আমার জন্য শেয়ার কিনতে গিয়ে একটি ভাল নিরাপদ শেয়ার খুঁজে পাচ্ছিলাম না। এমনও হয়েছে আমার একাউন্টে কয়েকদিন ধরে টাকা পড়েছিল, কিন্তু আমি কোন শেয়ারটি কিনবো তার সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি।

আমাদের শেয়ার বাজারে যারা ব্যবসা করে তাদের বড় একটি অংশকে আমি বিনিয়োগকারী বলতে নারাজ। আমি তাদেরকে স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই তারা ফটকাবাজ। আমি আমার ব্রোকারেজ হাউজের অভিজ্ঞতায় বলতে পারি বর্তমানে যারা ব্যবসা করছে তাদের শতকরা ৮০ ভাগ লোক শেয়ারের কিছুই বুঝে না। আর এই লোকগুলোই আজকের শেয়ার বাজারের পতনের জন্য দায়ী এবং এরাই ভুক্তভোগী। এরাই বাজার পড়লে রাস্তায় নামে মিছিল করে। এরাই কোন কিছু না বুঝে, কোন বিশ্লেষণ না করে শুধু লাভের আশায় বেশী দামে শেয়ার কিনেছে এবং এরাই শেয়ার বাজারকে অতিমূল্যায়িত করেছে। তারা আশা করে তারা শেয়ার কিনবে আর দাম বাড়তেই থাকবে। শেয়ারের দাম যে পড়তে পারে এই চিন্তাই তাদের মাথায় আসে না। তারা ভাবে না যে শেয়ারটি দুই মাস আগে ৫০০ টাকা দিয়ে কিনেছে সেই শেয়ারটি ১০০০ টাকা দিয়ে কিনা ঠিক না। কারণ সেই শেয়ার আবার আগের দামে ফিরে যেতে পারে। তাদের মাথায় কাজ করে ৫০০ টাকার শেয়ার যেহেতু ১০০০ টাকা হয়েছে সুতরাং এটা ১৫০০ টাকাও হবে। এই ফটকাবাজরা সাধারণত এই ভুলটিই করে থাকে এবং তারাই ধরা খায়। আর তাদের এই ফটকাবাজির জন্য শেয়ার মার্কেট কারেকশন হওয়ার সুযোগই পায় না।

হয়তো অনেকেই প্রশ্ন করবেন আজকের এই পতন কি তবে স্বাভাবিক? আমি এক কথায় বলব ''না''। আজকের পতনের জন্য বেশিরভাগ দায় এসইসি কে নিতে হবে। কারণ তাদের ভুল সিদ্ধান্তের জন্য এই পতন। স্বাভাবিক নিয়মে বাজার যদি ১৫ দিনও পড়ত তবে কিছু বলার ছিল না। যদি প্রতিদিন ১০০ পয়েন্ট করে পড়ত তাও এটাকে স্বাভাবিক বলে ধরে নিতাম। কিন্তু ১৫ দিনে যে দাম বেড়েছে সেই দাম ২ ঘন্টায় পড়ে যাওয়া অবশ্যই অস্বাভাবিক। ১৫ দিনের উত্থানটি যদি ৭ দিনেও পতন হতো কিছু বলার ছিল না। তবে এমন হলো কেন? কারণ, বাজার এমনিতেই অনেকদিন ধরে কারেকশন মুডে ছিল। এর মধ্যে এসইসি বাজার চলাকালীন অবস্থায় ২/৩দিন আগে হঠাৎ করে নির্দেশনা দিলেন যে যারা চেকের মাধ্যমে টাকা জমা দেবে তারা টাকা ক্যাশ না হওয়া পর্যন্ত শেয়ার কিনতে পারবে না। যদিও এই নিয়মটি অনেক আগে থেকেই ছিল কিন্তু কার্যকর ছিল না। এর ফলে কি হলো? আমি চেকের মাধ্যমে টাকা দিলাম কিন্তু আমি শেয়ার কিনতে পারবো না। বাজার এমনিতেই কারেকশন মুডে ছিল। কারেকশন মুডে থাকার মানে হলো সেলার বেশী থাকবে বায়ার কম থাকবে। অর্থ্যাৎ শেয়ার বিক্রির চাপ বেশী হবে। এর সাথে এসএসসির নির্দেশনার কারণে যেহেতু অনেকেই চেক জমা দিয়েও শেয়ার কিনতে পারেনি সেহেতু বায়ারের সংখ্যা মারাত্মক ভাবে হ্রাস পেল। যার কারনে গত দু'দিনে ব্যপক দরপতন হয়েছে।
কিন্তু আজ তাহলে দরপতন এত বেশী হলো কেন? এর কারণ হলো চেক সমস্যার কারণে এমনিতেই বায়ার কম ছিল। সেই সাথে টানা দুইদিন দরপতনের কারণে অনেকেই আতংকিত হয়ে উঠেছিলেন। আর যারা ফটকাবাজ, শুধু লাভের চিন্তা করে বাজারে এসেছে, যারা শেয়ার ব্যবসা বুঝে না তারাও ভয়ে শুরু করলো শেয়ার বিক্রি করা। কেউ কেউ আবার ৯৬ সনের সেই বিপর্যয় হিসেবে নিয়ে নিলেন ব্যাপারটিকে। কাউকে কাউকে এমনও বলতে শুনলাম যে ৯৬ সলেও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল এখনও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে। সুতরাং দুয়ে দুয়ে চার। সুতরাং সব বিক্রি করে যা পাও পকেটে তুলে নাও। আর এর ফলাফল আজকের বাজারের এই বিপর্যয়। এর জন্য দায় যেমন এসইসির তেমনি যারা ফটকাবাজ, আজ শেয়ার কিনে কাল লাভ খেতে চায়, অন্যের কথা ধরে শেয়ার কিনে তাদেরও।

সুতরাং ভাংচুর করে ডিএসসি এসইসি এর মুন্ডুপাত করেই শুধু এর সমাধান হবে না। যারা না বুঝে শেয়ার কিনছেন আর লস হওয়াতে মিছিল করছেন তাকেও দায়টি নিতে হবে।

আজ যখন এসইসি দুদিন আগের নির্দেশনা তুলে নিল তখন বাজার আবার ঘুরে দাঁড়াল। কারণ বাজারের বায়ারের সংখ্যা বাড়ল। এসইসির এমন সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের ঘটনা এখন নিয়মে পরিনত হয়েছে। তারা ঘন ঘন সিদ্ধান্ত বদল করবে আর সাধারণ বিনিয়োগকারীরা কোটি কোটি টাকা হারাবে। এতে তাদের কিছু আসে যায় না। মাঝে মাঝে মনে হয় এসইসি নিজেই আসলে জুয়াড়িদের সাথে মিলে এসব করে। তারা একটি নির্দেশনা দিয়ে বাজারের পতন ঘটায়, আর এ সুযোগে একটি চক্র শেয়ার কিনে পোর্টফোলিও ভর্তি করে, কিছুদিন পরে এস্ইসি যখন সেই সিদ্ধান্ত বদল করে তখন শেয়ারের দাম আবার বাড়ে। আর সেই চক্রটি সেই শেয়ার বিক্রি করে প্রচুর মুনাফা অর্জন করে। এসইসি এটা কোন চক্রের সাথে হাত মিলিয়ে করে কিনা সেই তদন্ত হওয়া উচিত বলে মনে করি। সব মিলিয়ে এসইসিকে যেমন আরো অনেক বেশী বিচক্ষণ হতে হবে তেমনি ভাবে বিনিয়োগকারীদেরও শিক্ষিত হতে হবে। ব্যবসাটি করতে হবে যেনে, বুঝে। আপনার যদি আজ ইচ্ছে হয় একটি চা দোকান দেবেন। কিন্তু আপনি চা বানাতে পারেন না, তাহলে আপনার পক্ষে চা দোকান করাও সম্ভব না। আপনি একদিন হয়তো কাউকে ডেকে বলতে পারেন, ''এই যে ভাই, আমি দোকান দিয়েছি, আমি চা বানাতে পারি না, আমাকে একটু চা বানিয়ে দেবেন?'' কারো যদি মায়া হয় তবে আপনাকে হয়তো এক দুই দিন চা বানিয়ে দেবেন। কিন্তু এরপর? তেমনি ভাবে আপনি শেয়ার ব্যবসা করতে গেলেও অন্যের থেকে বুদ্ধি খাটিয়ে করতে পারবে না, হয় তো দুই একদিন করতে পারেন, এক সময় আপনাকে শিখতেই হবে।

শেয়ার ব্যাবসা শিখুন
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:২৭
১৭টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×